All posts by jitu

তিতাসের বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি পালন

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাস :
কেন্দ্রীয় বিএনপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার তিতাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টায় উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে মাছিমপুর বাজার থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়ে মাছিমপুর টু আসমানিয়া, কলাকান্দি ও কাশিপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাছিমপুর বাজারে এসে শেষ হয়।

উক্ত পদযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার প্রাক্তন এপিএস-২ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জাদু মোল্লা, মো: আক্তারুজ্জামান, কলাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী মোহাম্মদ হানিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম মুন্সি, সহ-সভাপতি ওয়াসেক মিয়া, কামাল মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক ছাবিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বিএনপির নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এমরান হোসেন সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল সরকার, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল খান রাজ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, উপজেলা নবীন দলের সভাপতি জুয়েল খান, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হাবিব সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমআই টিপু, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান সরকার ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মীবৃন্দ।

কবিতা: বাংলা আমার মাতৃভাষা

রেজাউল করিম (সাকিব):

বাংলা আমার ভাষা
বাংলা আমার রক্তে মেশা
বাংলায় আমার আশা
বাংলা আমার হৃদয়ের কথা ।

বাংলা আমার চোখের ভাষা
দুয়েল, শালিক, টিয়ার ভাষা
বাংলা আমার রক্তে মেশা
বাংলা আমার মাতৃভাষা।

বইমেলায় শিব্বীর আহমেদ’র মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘একাত্তরের যোদ্ধা’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ এর মেলায় এসেছে কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ’র মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘একাত্তরের যোদ্ধা’। মেলার ১০ম দিনে বইটি মেলায় এনেছে তুর্য প্রকাশনী। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মশিউর রহমান। ৩শত টাকা মুল্যের এই বইটি বইমেলায় অনন্যা প্যাভিলিয়ন ২৮ এ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও বইটি মুক্তধারা নিউইয়র্ক স্টল নম্বর ৮৪৯-৮৫০ এ পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৭১ সাল বাঙালির জীবনে এক অবিস্মরণীয় বছর। এই বছরের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হাজার বছরের বাঙালির লালিত স্বপ্নকে চিরতরে দাবিয়ে দেওয়ার জন্য নেমে পড়েছিল ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে। আর এই পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে পড়ে মুসলিম লীগ ও জামায়াতের সহযোগীতায় এদেশীয় দেশদ্রোহী রাজাকার আলবদর। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার সাথে-সাথে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ইপিআর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে তার বিজয় ঘোষণা করে।

দীর্ঘ নয় মাসে সারা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার আলবদর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ধর্ষণসহ ঘটিয়েছে নানা বিভৎস ঘটনা। পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের দোসরদের হামলা থেকে বাদ পড়েনি একটি শ্যামল সবুজ ছোট্টগ্রাম পাঁচপুকুরিয়া। রক্তাক্ত হয়েছে এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় তান্ডবের একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে ‘একাত্তরের যোদ্ধা’। আশা করি মুক্তিযুদ্ধের এই উপন্যাসটি সবার কাছে পাঠযোগ্য ও গ্রহনযোগ্য হবে।

কুমিল্লায় নারী অভিবাসনের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে দুটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

বিদেশগনেচ্ছু, বিদেশগামী এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসী নারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩) কুমিল্লার সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে এবং বরুড়া উপজেলার বাঁশপুর গ্রামে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের আয়োজনে ২টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতি উঠান বৈঠকে ৪৫ জন করে মোট ৯০ জন নারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ আলোচনার মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নারী অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্নসংযোজন। তিনি নিরাপদ, নিয়মিত, সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার রোধ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ব নিরসন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, অভিবাসী কর্মীর অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জেনে বুঝে, প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে, অর্থ-সম্মান দুটোই পাওয়া যাবে। মিথ্যা তথ্যের উপর নির্ভর করে বা অন্যের প্রলোভনে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শদেন তিনি। তিনি নারী অভিবাসনের ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং সুবিধাসমূহ মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে নারী অভিবাসনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেন বিশেষ করে হংকং, ওমান, সৌদি আরব, ইউএই, লেবানন এবং জর্দানে নারী অভিবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

দেবব্রত ঘোষ বিদেশ ফেরত নারী অভিবাসীদের পূনরেকত্রীকরণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ ও সঞ্চয়ের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জচখ-এর মাধ্যমে কিভাবে প্রবাসফেরত কর্মীগণ তাদের দক্ষতাকে প্রতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া যায়, সে সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো,বোয়েসেল, এবং ওয়েজ আর্নার্সকল্যাণ বোর্ডের বিভিন্ন সেবা যেমন প্রবাসীর মেধাবী সন্তাদের শিক্ষাবৃত্তি, মৃত্যের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান, চিকিৎসা ভাতা,বীমা সুবিধা, শ্রম কল্যাণ উইং-এর মাধ্যমে আইনি সুবিধা, প্রবাস বন্ধুকল সেন্টার, প্রতিবন্ধি ভাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কোটা এবং বায়রার কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন তিনি।

এমআরসি বাংলাদেশের কাউন্সেলর গোলাম মোস্তফা অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের লক্ষ্য , উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি তুলে ধরেন। তিনি এমআরসি বাংলাদেশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কাজ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং অভিবাসন বিষয়ক যেকোন প্রয়োজনে এমআরসি বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের জন্য সকলকে আহবান জানান। অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র অভিবাসন সিদ্ধান্তে তথ্য সহায়তা। এছাড়াও বিদেশফেরদের পুনরেকত্রীকরণে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের পিপিপি-২ প্রকল্পে মাধ্যমে কিভাবে সহায়তা করা হবে তার বর্ণনা দেন কাউন্সেলর ইকবাল হোসেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (আইসিএমপিডি) পরিচালিত অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশ (এমআরসি) এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ ফর রিএন্টিগ্রেশন (চচচওও) প্রকল্পের আওতায় এটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন সূচনা নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রধান শাহানা বেগম।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেবব্রত ঘোষ অংশগ্রহণকারী সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনসাধারণের ভোগান্তি, প্রতারণা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হতে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা নাগরিক আটক 

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে কুমিল্লায় প্রবেশের পথে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড  হতে ৫ শত পিস ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯ টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপপরিদর্শক মোঃ মুরাদ হোসেন এর নেতৃত্বে  এ অভিযান পরিচালিত হয়।

আটক হওয়া রোহিঙ্গারা হলেন কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পের বালুখালী শরনার্থী ক্যাম্পের নুরুল আলমের ছেলে মো: ইউনুস (২২) ও নুরুল হকের ছেলে ইসমাইল (২৮) ।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মোঃ মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেন।

স্কুটি বাইক না পেয়ে কীটনাশক পানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নে স্বামীর কাছে স্কুটি বাইক বায়না ধরে না পেয়ে কীটনাশক পানে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত তাসলিমা আক্তার রিক্তা (২৮) উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুর রব মিয়ার বাড়ির সৌদি প্রবাসী ফখরুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী। রিতা দুই সন্তানের জননী ছিল।

বৃহস্পতিবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ার দিকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ ঘরে কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন মোল্লা জানান, দুই মাস আগে সৌদি থেকে দেশে আসেন প্রবাসী মাসুম। তিনি দেশে আসার পর স্ত্রী তার কাছে একটি স্কুটি বাইক কিনে দেওয়ার বায়না ধরে। গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় স্ত্রীর এমন আবদার অন্যায় ভেবে তিনি স্ত্রীকে স্কুটি বাইক কিনে দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে অভিমান করে রিক্তা পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, নিহতের ভাই লিখিতভাবে তার বোনের মুত্যুর সংবাদ থানায় অবহিত করেছেন। ওই লিখিত সংবাদে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেবিদ্বারে ইসলামী যুব আন্দোলনের সম্মেলন: সভাপতি জাকির, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ

স্টাফ রিপোর্টার:

আদর্শবান যুবকরা জাগলে জাগবে বাংলাদেশে এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দেবিদ্বারে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এর উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার উপজেলার একটি রেস্তোরার হলরুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী যুব আন্দোলনের দেবিদ্বার শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো.নুরুল ইসলাম উসমানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী যুব আন্দোলন কুমিল্লার উত্তর জেলার সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির।

যুব নেতা মাওলানা মো আনিছুর রহমানের সঞ্চলানায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী যুব আন্দোলন কুমিল্লা জেলা উত্তরের সহ-সভাপতি আ ম ম ওবাইদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আকরাম হোসাইন।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেবিদ্বার উপজেলা শাখার উপদেষ্টা এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মো. রাকিবুল হাসান মাহমুদী, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি দেবিদ্বার শাখার সাবেক সভাপতি ডা.মহসিন আলম, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মো. আকতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাওলানা আবদুল আহাদ মাহমুদী, যুব নেতা হাফেজ মাও মো কামরুল, মাওলানা সাইদুল ইসলাম কাশেমী,হাফেজ মো.ইব্রাহিম খলিল, মাও. বাছির উদ্দিন, মাও. নাহিদুল ইসলাম, মাও.আবুল হাসনাত আশরাফী , কারী ওমর ফারুক, মাও.ওরম ফারুক,মাও. রাশিদুল ইসলাম সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

পরে নব-নির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান অতিথি কে এম হুমায়ুন কবির।

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ দেবিদ্বার উপজেলা শাখার ২০২৩-২০২৪ সালের জন্য সভাপতি হয়েছেন প্রিন্সিপাল মো. জাকির হোসাইন, সহ-সভাপতি হয়েছেন মাও. মো. মামুনুর রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুফতি মো.সাঈদ বিন হাশেম।

বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যবোধ চর্চার কোনো ব্যবস্থা নেই। ব্যক্তি জীবনে যতটুকু ইসলাম আছে তাও ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোথাও মূল্যবোধ চর্চার কোনো ব্যবস্থা নেই। ধর্মের পাশাপাশি মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন , মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মুসলিম তরুণ-তরুণীদের আজ ধর্মীয় বিধি-নিষেধ যেভাবে মানার কথা ছিল সে ভাবে মানছে না। উল্টো বিজাতীয় কৃষ্টি-সভ্যতার উন্মাদনায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। ধর্মীয় অনুশাসন নেই বলেই আজ নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন ভীষণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা এখন মহামারির রূপ ধারণ করায় বর্তমানে সন্তানেরা পিতা-মাতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিত্রাণ চাইলে সর্বক্ষেত্রে ধর্মশিক্ষা ও ধর্মচর্চা প্রয়োজন।

কবিরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম ফারুক আর নেই

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
দৈনিক সোনালী বার্তার নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, কবিরহাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক এসএম ফারুক হোসেন (৪৯) শনিবার  ভোর ৫ টার ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগাহি, আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

শনিবার বিকেল বাদ আসর তার নিজ বাড়ির দরজায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুতে বৃহত্তর নোয়াখালীর সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন কবিরহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মচারীরা অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন না কিছুই, পাল্টা অভিযোগ

চাঁদনী আক্তার, কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদের ৮ জন ও চতুর্থ শ্রেণী থেকে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত একজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে বিভিন্ন শাস্তি দিয়েছে সমিতি৷ গত ২৩ জানুয়ারি (সোমবার) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো: মহসিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভুক্তভোগীরা শাস্তির বিষয়টি জানতে পারেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তদন্ত কমিটি কবে গঠিত হয়, এবং তদন্ত কমিটির সদস্য কারা এমনকি শাস্তি পাবার পূর্বে অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মচারীরা।

কর্মচারী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৩ জন সদস্যের মাঝে বিভিন্ন পদে থাকা ৭ জনের সাথে কথা বললে তাদের কেউই গঠিত তদন্ত কমিটি সম্পর্কে কোন সঠিক তথ্য কিংবা কারা কমিটির সদস্য বিষয়টি জানাতে পারেনি।

বরং বিষয়টি নিয়ে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কথা জানান। তারা বলেন, সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা জানি শাস্তি দিয়েছে। কাকে দায়িত্ব দিয়েছে সেটা তারা বলতে পারবেন।

বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংগঠনিক সকল কাজে বিশৃঙ্খলা ও মিথ্যা-গুজব ছড়ানো এবং একাধিক অপরাধের সাথে সরাসরি ও প্রত্যক্ষ জড়িত থাকায় সাংগঠনিক অপরাধে দণ্ডিত করে গণিত বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর (আপগ্রেড) ও কর্মচারী পরিষদের ২০১৮-১৯ কমিটির সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুল হাসানের সদস্যপদ বাতিল ও পরিষদের ২ টি নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

একই অভিযোগে রসায়ন বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (আপগ্রেড) নাছির উদ্দিন ও বাংলা বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর (আপগ্রেড) মো: জিয়াউর রহমানের সদস্যপদ স্থগিত ও পরিষদের ১টি নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

মার্কেটিং বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর ও ২০১৮-১৯ কমিটির কার্যকরী সদস্য মো: হাবিবুর রহমান ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম ডাটা প্রসেসর (আপগ্রেড) মো: আবদুল কাদেরের সদস্যপদ বহাল রেখে ১টি নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

এছাড়া উল্লিখিত অভিযোগে ইন্ধনকারী হিসেবে অভিযুক্ত ফার্মেসী বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (আপগ্রেড) মো. আবদুল আউয়ালকে সদস্যপদ বাতিল ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এস্টেট শাখার বাগান মালী ও ২০১৮-১৯ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সামছু মিয়াকে ভবিষ্যতে তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং পরিবহন শাখার ড্রাইভার (গ্রেড-২) ও বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: শাহিনুর হোসেন ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের ডেসপার্স ক্লার্ক মো: আবুল বাসারকে সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিরস্কার করা হয়।

যদিও কর্মচারী সমিতির গঠনতন্ত্রে সদস্য পদ বাতিলের কারণ হিসেবে বলা হয়, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ, পরপর ০৩ মাস মাসিক চাঁদা পরিশোধ না করা হলে, চাকুরি থেকে পদত্যাগ করলে, অবসর গ্রহণ করলে, বহিস্কৃত হলে, মৃত্যুবরণ করলে, মানসিক বিকৃতি ঘটলে কিংবা পরিষদের অর্থ ও সম্পত্তি তছরূপ কজরা প্রমাণিত হলে, তাঁর সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হয়।

তবে আলোচিত ৯ সদস্যকে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উপরের কোন বিষয় উল্লেখ করা হয়নি।

কিন্তু তদন্ত কমিটি কবে এবং কততম সভায় গঠিত হয় সে বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কল রিসিভ করেননি সমিতির সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার। অপরদিকে এ বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি খোদ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মহসিন।

সাধারণ সম্পাদক মো: মহসিন জানান, ‘আমরা যাই করেছি গঠনতন্ত্র মেনে করেছি। তবে গঠনতন্ত্রের কোন ধারা উপধারা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সেটি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করলে তিনি জানান, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধা আর আমাদের সুযোগ সুবিধা এক নয়। কাজেই তারা কি করবে কিংবা করবেনা সেটি আমরা জানতে চাই না৷
আবার তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য মো: হানিফ যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির  কর্মচারী। তবে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী হয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের অপরাধ তদন্তে কমিটিতে থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে মহসিন জানান, অবশ্যই পারে। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গঠিত কোন তদন্ত কমিটিতে প্রভাষক যদি থাকতে পারেন তাহলে এখানেও পারে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির এমন পদক্ষেপকে অবান্তর এবং গঠনতন্ত্র বিরোধী বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তবিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা। বিষয়টিকে ব্যাক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সভাপতি সরোয়ার মোর্শেদ বলেন, কর্মচারী সমিতি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন না। একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন। একইরকমভাবে কোন সদস্যকে তারা বহিষ্কারও করতে পারেন না। এটি নিয়মবহির্ভূত এবং গঠনতন্ত্র বিরোধী। সমিতির কোন সদস্যকে এভাবে বহিষ্কার করা যায়না। এটা নিয়মবহির্ভূত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাওলাদার জানান, সমিতির কোন সদস্যকে এভাবে বহিষ্কার করা যায়না। এটা নিয়মবহির্ভূত। একমাত্র রেজিস্ট্রার কোন তদন্ত কমিটি কিংবা শাস্তির পদক্ষেপ নিতে পারেন। সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হয়তো নিজেদের স্বার্থে এমন কাজ করছে।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো: সুমন জানান, কোন অভিযোগ ব্যাতীত, কোন সাধারণ সভা ব্যাতীত, কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ ব্যাতীত সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তি দেবার সুযোগ নেই। এমন কোন ব্যাবস্থা নিতে হলে কোন একজন বাদীর অভিযোগ থাকতে হবে। তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকার নিতে হবে। তার জন্য চিঠি প্রেরণ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এখানে যা হয়েছে সম্পূর্ণ মনগড়া ব্যাক্তিগত আক্রোশের স্বীকার কয়েকজন কর্মচারী।

আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বস্তর প্রশাসনিক ব্যাক্তবর্গ ব্যাতীত সমিতি থেকে এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন না। এটি বিধি বহির্ভূত।

আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, সদস্য পদ বাতিল করতে হলে সাধারণ সভায় সেটি পাস করিয়ে নিতে হবে। আবার শাস্তি প্রদান করতে হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে তিনবার। মনগড়া à¦