All posts by jitu

সদর দক্ষিণে বিশেষ অভিযানে ৭.৫ কেজি গাঁজাসহ একজন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে বিশেষ অভিযানে ৭.৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল গত ৯ জানুয়ারী বিকালে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৭.৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মধুঘর গ্রামের মোঃ হানিফ এর ছেলে মোঃ শিপন (২০)।

এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলার মাঠে যুবলীগ নেতা রুমি

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার তরুণ ও যুব সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে  ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন  বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের  সহ-সম্পাদক এহতেশামুল আরেফিন রুমি।

খেলার শ্লোগান হলো- কুইট ড্রাগস সেভ লাইফ।

খেলায় কোরপাই একাদশের বিপক্ষ টিম ছিল নয়কামতা একাদশ। কোরপাই একাদশ টসে জয়ী হয়ে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।  প্রথমে ব্যাট করে নয়কামতা একাদশ  ১৬ ওভারে  ৮ উইকেটে ১৭৪ রান করেন। জবাবে কোরপাই একাদশ ১৩.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান করে জয় তুলে নেন।


বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের  সহ-সম্পাদক এহতেশামুল আরেফিন রুমি  বলেন, অভিনন্দন কোরপাই একাদশ ও নয়কামতা একাদশের এর সকল খেলোয়াড় ও দর্শকদেরকে । বিশেষ ধন্যবাদ মাহবুব ভাইকে সুন্দর একটি আয়োজন এর মাধ্যমে তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহ প্রদান করার জন্য ধারাবাহিকভাবে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামে কোরপাই একাদশ ক্রিকেট নিয়ে হাজির হবে ইনশাআল্লাহ।
পরবর্তী খেলা কাকিয়ারচর একাদশ বনাম কোরপাই একাদশ।  তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার যে অঙ্গীকার আমরা ব্যক্ত করেছি তা সার্থক হবে ইনশাআল্লাহ্ , জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

নোয়াখালীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে সদর দল চ্যাম্পিয়ন

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে জেলা সদর দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহিদ ভুলু স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় জেলা সদর দল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দলকে ২-১ এ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

টুর্নামেন্টেসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন জেলা সদর দলের খেলোয়াড় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজিমুল হায়দার। টুর্নামেন্টে নোয়াখালী সদর উপজেলা দল কবিরহাট উপজেলা দলকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রিড়া সংস্থার সভাপতি দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজিমুল হায়দারের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাদেকুর রহমান, সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জু।

এ সময় খেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আমন্ত্রিত অতিথি ও রেফারীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান খেলায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দল, খেলোয়াড়, দর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী দিনে এ ধরণের আয়োজন চলমান রাখার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে নোয়াখালীর ৯ উপজেলা দল ও জেলা সদর দলসহ সর্বমোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি খেলায় দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, চাচাতো ভাই গ্রেফতার

নোয়াখালী  প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে চাচাতো বোনকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মো.জহিরুল ইসলাম রাফি (২০) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, তাকে পুলিশ উপজেলার উত্তর বীজবাগ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার রাফি উপজেলার উত্তর বীজবাগ গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আট মাস আগে কিশোরীকে তার চাচাতো ভাই রাফি কেউ ঘরে না থাকার সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি কিশোরীকে পুনরায় বিয়ের কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরে বিয়ের কথা বললে রাফি টালবাহানা শুরু করেন। বিয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ দেওয়া হলেও রাজি না হওয়ায় অবশেষে চাচাতো ভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সেনবাগ থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী কিশোরী।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, এ ঘটনায় নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, চাচাতো ভাই গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে চাচাতো বোনকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মো.জহিরুল ইসলাম রাফি (২০) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, তাকে পুলিশ উপজেলার উত্তর বীজবাগ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার রাফি উপজেলার উত্তর বীজবাগ গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আট মাস আগে কিশোরীকে তার চাচাতো ভাই রাফি কেউ ঘরে না থাকার সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি কিশোরীকে পুনরায় বিয়ের কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরে বিয়ের কথা বললে রাফি টালবাহানা শুরু করেন। বিয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ দেওয়া হলেও রাজি না হওয়ায় অবশেষে চাচাতো ভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সেনবাগ থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী কিশোরী।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, এ ঘটনায় নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদরের গাজীপুরে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ একজন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা সদরের গাজীপুর এলাকা হতে ৩৫ কেজি গাঁজা,৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২ ক্যান বিয়ার এবং নগদ সাড়ে ৫৬ হাজার টাকাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল ১০ জানুয়ারী সকালে কুমিল্লা সদরের গাজীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ কেজি গাঁজা,৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২ ক্যান বিয়ার এবং নগদ সাড়ে ৫৬ হাজার টাকাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লা সদরের গাজীপুর গ্রামের মৃত. আবুল মিয়ার ছেলে মোঃ মোহন (৩৫)।

এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিক কে প্রভাষক পদে পদাবনতি করা হয়েছে। এ সময়ে তিনি প্রমোশন,আপগ্রেডেশনের কোন আবেদন করতে পারবেন না এবং শিক্ষাছুটিতে যেতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা সহ–উপাচার্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে এ ধরণের কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে বলে জানানো হয় ওই অফিস আদেশে।

গত বছরের ১৪ ও ১৬ আগস্ট একটি বিভাগের ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রীরা শিক্ষক মুশফিকুর রহমান আশিকের বিরুদ্ধে নম্বর টেম্পারিং, যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীদের রাতে ডেকে নিয়ে নিজ অফিস কক্ষে বসিয়ে রাখা, পরীক্ষায় খেয়াল খুশিমতো নম্বর দেওয়া, নম্বর টেম্পারিং, পরীক্ষার আগে পছন্দের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বলে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং বিভাগটির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ওই সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মুশফিকুর রহমানের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শাস্তিগুলো হলো, আগামী পাঁচ বছরের জন্য ওই শিক্ষককে প্রভাষক পদে পদাবনতি করা হলো। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তাাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে। এই সময়ে তিনি পদোন্নতি কিংবা আপগ্রেডেশনের কোনো আবেদন করতে পারবেন না এবং শিক্ষাছুটিতে যেতে পারবেন না। বিভাগের বর্তমান যেসব ব্যাচের শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, ওই ব্যাচগুলোর কোনো একাডেমিক (ক্লাস ও পরীক্ষা) ও কোনো প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে পারবেন না। তবে বিভাগের নতুন ব্যাচে তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তার ক্লাস কার্যক্রম বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানার জন্য উপাচার্য মো. দিদার উল আলম ও রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আবদুল বাকীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসভি করেননি। তাই এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

অভিযুক্ত শিক্ষক এস এম মুশফিকুর রহমান আশিক বলেন , তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

নোয়াখালীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস : সনদ বাতিল হলেও থামেনি সভাপতির দাপট

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘুষ বাণিজ্য দুর্ণীতির আখড়াই পরিনত হয়েছে। এখানে ঘুষ ছাড়া হয়না কোনো দলিল রেজিস্ট্রি, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। এখানে ঘুষের বিনিময়ে জাল কাগজপত্রে জমির শ্রেণী অহরহ পরিবর্তন করা হচ্ছে। বাজারমূল্যের চেয়ে কম মূল্য (আন্ডার ভেল্যু) দেখিয়ে জমির দলিল করা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সাইফুদ্দিন বাবুল (সনদ নং-২৯৭১) এবং মাকসুদুর রহমান মামুনের (সনদ নং-৩৬০৭) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় এসব অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের দুজনের সনদ বাতিল করা হয়েছে।

সনদ বাতিল করা হলেও সাইফুদ্দিন বাবুল বঙ্গবন্ধু দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হওয়ায় এখানো তার দাপটে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। আর এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তরা যুক্ত থাকায় তারা সনদ বাতিল হওয়া এই লেখকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

নোয়াখালী জেলা রেজিস্টারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে বাজারমূল্যের চেয়ে কম মূল্য (আন্ডার ভেল্যু) দেখিয়ে জমির দলিল সম্পাদন করায় সাইফুদ্দিন বাবুল ও মাকসুদুর রহমান মামুন নামের দুই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদক মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধন অধিদপ্তরে ০০.০১.৭৫০০.৬২৪.০১.১৯৩.১৭/নোয়াখালী/১২৭৮, তারিখ-১০.০১.২০২৩ খ্রিঃ নং স্মারকে অভিযুক্তদের সনদ বাতিলের জন্য পত্র প্রদান করে। নিবন্ধন অধিদপ্তর ওই পত্রের আলোকে অভিযুক্ত সাইফুদ্দিন বাবুল ও মাকসুদুর রহমান মামুনের দলিল লেখার সনদ বাতিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় ঢাকা’কে অবহিত করার জন্য গত ১৬ জানুয়ারী নোয়াখালী জেলা রেজিস্টারকে নিদের্শ প্রদান করেন। ওই নিদের্শনা বাস্তবায়ন করে গত ৩১ জানুয়ারী জেলা রেজিস্টার অভিযুক্তদের সনদ বাতিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ে চিঠি প্রেরণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক জানান, বঙ্গবন্ধু দলিল লেখক সমিতির সভাপতির পদ নিয়ে সাইফুদ্দিন বাবুল দীর্ঘদিন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রভাব খাটিয়ে আসছে। তার একক আধিপত্য বিস্তারে সাধারণ দলিল লেখকরা অসহায়। অফিসের কর্মকর্তাদেরও সে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ম্যানেজ করে রেখেছেন। তার এবং তার সহকারীদের দলিল সম্পাদনের সময় অফিসের প্রধান সহকারী এবং সাব-রেজিস্টার কোন কিছুই দেখেন না। চোখ বন্ধ করে দলিল সম্পাদন করে দেন। অথচ সাধারণ দলিল লেখকদের ক্ষেত্রে বিন্দু পর্যন্ত দেখেন।

দলিল লেখকরা আরো জানান, বঙ্গবন্ধু দলিল লেখক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০১৬ সালে। ৩ বছর পর পর নির্বাচন হওয়ার কথা, কিন্তু সাইফুদ্দিন বাবুল বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলীয় প্রভাবে পুরো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে জিম্মি করে রেখেছেন। গত সপ্তাহে অনিয়ম-দুনীর্তির দায়ে তার সনদ বাতিল করা হলেও এখনো সেই আগের মতোই দাপটের সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছেন। শুধু পরিবর্তন হয়েছে দলিল লেখকের নাম, সনদ বাতিলের পর তিনি দলিলে তার সহকারীদের নাম ও সনদ নাম্বার ব্যবহার করছেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারী পত্রিকায় ‘নোয়াখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া রেজিস্ট্রি হয় না দলিল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের কাছে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে সম্পাদিত হওয়া একটি দলিল পৌঁছায় ভুক্তভোগীরা। ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর সম্পাদিত হওয়া দলিল নং-১১৬৮৩। ওই দলিলের মূল কাগজপত্রে জমির শ্রেণী ছিল নাল, কিন্তু দলিল সম্পাদন করার সময় দাতা-গ্রহিতা ও দলিল লেখক হাজী মো. আবুল হাসেম জমির শ্রেণী পুকুর দেখিয়ে বাজারমূল্যের চেয়ে কম মূল্য (আন্ডার ভেল্যু) দেখিয়ে জমির দলিল সম্পাদন করেন।

দলিল লেখকদের কল্যাণে গড়ে তোলা দলিল লেখক সমিতির নেতাদের চত্রছায়ায় এ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিনিয়তই ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে সরকারের রাজস্ব, লুটে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সনদ বাতিলের বিষয়ে আপনি জানেন কিনা এমন প্রশ্নে অভিযুক্ত সাইফুদ্দিন বাবুল মুঠোফোনে বলেন না, আমি কিছুই জানিনা। এসব বিষয়ে পরে কথা বলবো।

সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুদ্দিন বাবুলসহ দুইজনের দলিল লেখার সনদ বাতিল করা হয়েছে। সনদ বাতিলের পর তাদের কোন দলিল রেজিস্ট্রির জন্য আমার অফিসে আসেনি। সমিতিতে যদি তিনি প্রভাব খাটায়, সেটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা সনদ বাতিল হওয়া লেখকদের দলিল সম্পাদনের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি।

নোয়াখালী জেলা রেজিস্টার আবদুল খালেক মুঠোফোনে বলেন, জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল লেখায় দুদকের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাইফুদ্দিন বাবুলসহ দুইজনের দলিল লেখার সনদ আপাতত বাতিল করা হয়েছে। সনদ বাতিলের চিঠি দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।

অর্থ আত্মসাতের মামলায় নোয়াখালীতে ব্যাংক কর্মকর্তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ৩৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল লতিফ ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি এলাকার আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড লক্ষ্মীপুর জেলার পোদ্দার বাজার শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় প্রদান করেন। আসামি পলাতক থাকায় রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল লতিফ ভূইয়া ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক পোদ্দার বাজার শাখায় সেকেন্ড কর্মকর্তা (প্রিন্সিপাল অফিসার) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ওই ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে চার কোটি বাহাত্তর লাখ আটান্ন হাজার চুয়াত্তর টাকা আত্মসাৎ করেন। যার মধ্যে ২০০৪ সালে ৬২টি ভুয়া এন্ট্রির মাধ্যমে ত্রিশ লাখ বিশ হাজার আটশত ঊনপঞ্চাশ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তার বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে স্থানান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরুল হুদা আব্দুল লতিফকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

নোয়াখালী দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাশেম বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দন্ডবিধি ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে ১০ বছর কারাদণ্ড, দুটি ধারায় ৩৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন।