All posts by jitu

বিজয় দিবসে কুমিল্লা বিজিবির উদ্যোগে শীর্তাতদের মাঝে ৫ শত শীতবস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:

মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর উদ্যোগে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবায় মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং দুঃস্থ ও অসহায় জনসাধারণের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে ৫ শত কম্বল বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চৌদ্দগ্রাম, সাতঘরিয়া, গীতাবাড়ী ও নোয়াপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী দুঃস্থ ও অসহায়তা জনসাধারণের মাঝে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

এছাড়া চৌদ্দগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ডায়াবেটিক হাসপাতালে স্থানীয় গরীব ও দুঃস্থ জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ডাঃ মোঃ ফিরোজ কবির মন্ডল এর নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। উক্ত ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক সীমান্তবর্তী ১৯৬ জন মহিলা, ১১৫ জন পুরুষ এবং ৪৫ জন শিশুসহ সর্বমোট ৩৫৬ জনকে চিকিৎসা সেবা এবং বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি কুমিল্লা এবং কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মুহাম্মদ ইসহাক, পিএসসি চৌদ্দগ্রাম বিওপির আওতাধীন দুঃস্থ ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিদর্শন করেন।

চান্দিনায় বিজয় দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুন্তাকিম আশরাফ টিটুর অংশগ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার:

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলাজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুন্তাকিম আশরাফ টিটু (সিআইপি)।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত একটানা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এই রাজনীতিবিদ।

সকালে  মুন্তাকিম আশরাফ টিটুর নেতৃত্বে উপজেলা আ’লীগ, পৌর যুবলীগ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্প্তবক অর্পণ করা হয়। পরে চান্দিনা আসনের প্রয়াত সাবেক সাংসদ ও ডেপুটি স্পিকার  অধ্যাপক আলী আশরাফের প্রতিকৃতিতেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে চান্দিনা মহিলা কলেজে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্তাকিম আশরাফ টিটু্।

এ সময় চান্দিনার সাবেক পৌর মেয়রসহ আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সদর দক্ষিণের সুয়াগাজীতে ৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী এলাকা হতে ৬ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ১৬ ডিসেম্বর সকালে সুয়াগাজী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জয়নগর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে ইয়াসিন মিয়া (২১)।

এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্মৃতিসৌধে সংবাদকর্মীদের অসম্মান, প্রশাসনের সকল সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

মুরাদনগর প্রতিনিধি :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রিয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় যথাযথ সম্মান না পাওয়ায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সকল স্থানীয় সংবাদকর্মীরা প্রশাসনের সকল সংবাদ বর্জণ করার ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ ঘোষণা প্রদান করেন।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, মুরাদনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আলাউদ্দিন ভূঞা জনীর যোগদানের পর থেকে যথাযথ মূল্যায়ন না দেওয়ার বিষয় নিয়ে সংবাদকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। এরই অংশ হিসেবে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতির বিষয়ে গত মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থানীয় সকল সংবাদকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের ন্যায্য মূল্যায়ন দেওয়া ও একসাথে মিলেমিশে কাজ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করলে উপস্থিত সকলে একমত পোষন করেন।

পরবর্তীতে আজ শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্র্পণ করতে গেলে দেখা যায় প্রশাসনের করা তালিকায় সাংবাদিক সংগঠনের কোন নাম নেই। এ নিয়ে মূহুর্তের মধ্যে উপস্থিত সকল সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনিক সকল কার্যালয়, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনের রাস্তায় বসে সংবাদ সম্মেলন করে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীরা উপজেলা প্রশাসনের সকল অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন করার ঘোষণা প্রদান করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি বেলাল উদ্দিন আহম্মেদ, দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি আজিজুর রহমান রনি, দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা মোশাররফ হোসেন মনির, দৈনিক সমাচারের প্রতিনিধি সাহেদুল ইসলাম সাহেদ, দৈনিক মানব কন্ঠের প্রতিনিধি মাহবুব আলম আরিফ, দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি সুমন সরকার, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি নাজিম উদ্দিন, দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা মনির হোসাইন, দৈনিক সরেজমিনের কুমিল্লা ব্যুরো কেএম শারফিন শাহ্, দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশের প্রতিনিধি এন এ মুরাদ, দৈনিক সমাচারের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, দৈনিক দেশরূপান্তরের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিনিধি ফাহাদ রহমান, দৈনিক কুমিল্লার কন্ঠের প্রতিনিধি শামিম আহম্মেদ, দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের প্রতিনিধি এম ফয়জুল ইসলাম, দৈনিক বাংলাদেশের খবরের প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি এম এইচ শুভ, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি আরিফ গাজী, চ্যানেল এস এর প্রতিনিধি আবুল বাসার, দৈনিক আজকের সংবাদের প্রতিনিধি রাসেল মিয়া, দৈনিক ভোরের চেতনার প্রতিনিধি দুলাল আহম্মেদ, দৈনিক কালজয়ীর প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন, দৈনিক একুশে সংবাদের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, দৈনিক মুক্তির লড়াইয়ের প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন শিমুল, দৈনিক তৃতীয় মাত্রার প্রতিনিধি ইউনুস মিয়া, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন তুহিন, দ্যা ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস প্রতিনিধি খোরশেদ আলম, দৈনিক একুশে সংবাদের প্রতিনিধি বিল্লাল হোসেন প্রমূখ। সংবাদ সম্মেলন শেষে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কমনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ সাজাপ্রাপ্ত ৫ মামলার আসামি গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আল জাবের ওরফে রুবেল (৩২) বেগমগঞ্জ উপজেলার ৭নং একলাশপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মধুরামপুর গ্রামের টাওয়ার ওয়ালা বাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সাহাপুর এলাকার ভেন্ডার মসজিদ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সাহাপুর এলাকার ভেন্ডার মসজিদ বাড়ির সামনে থেকে ১৫০পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং সিএমপি, চট্টগ্রাম সহ নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার পাঁচটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে আরও একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আজ বাঙ্গালি জাতির বিজয়ের দিন

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

আজ মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সাল থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও দু’লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসাবে বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তির দিন আজ।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগ পাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সমস্বরে একটি ধ্বনি যেন নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেয় ‘জয়বাংলা’ বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল। মহামুক্তির আনন্দ ঘোর এই দিনে এক নতুন উল্লাস জাতিকে প্রাণ সঞ্চার করে সজিবতা এনে দেয়। যুগ যুগ ধরে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি চোখে আনন্দ অশ্রু আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় সামনে। বিন্দু বিন্দু স্বপ্নের অবশেষে মিলিত হয় জীবনের মোহনায়। বিশ্ব কবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের তাহার নেইকো শেষ, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ। বাঙালি যেন খুঁজে পায় তার আপন সত্তাকে।

বাষট্টি, ঊনসত্তর এবং সত্তর শেষ করে একাত্তরে বাঙালি জাতি হিসাব করতে বসে। হিসেব-নিকেশ আর দেনা-পাওনায় পাকিস্তানিরাও বসে নেই। তারাও অংক কষতে থাকে কিভাবে বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখা যায়। তাদের কাছে এই অলংকারই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানিয়ে যায় সময় আসছে হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দেয়ার পালা।

অবশেষে গভীর কালো নিকষ আঁধার থেকে জেগে উঠে হিরন্ময় হাতিয়ার। ৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি তখন আরো দেব, তবুও এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। বাঙালি বুঝে যায় শেষ কামড় দেয়ার সময় আসন্ন। পাকিস্তানিরাও আর বসে নেই। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। বাতাসে লাশের গন্ধ, বারুদে বারুদে আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ। এ যেন এক প্রেতপুরী। আকাশে শকুনের উদ্যত থাবা, নিচে বিপন্ন মানুষের বিলাপ। হায় বাংলাদেশ। একি বাংলাদেশ। এ যেন এক জ্বলন্ত শ্মশান। কিন্তু ঠিকই হাড়ের আর খুলির স্তুপ একদিন পাললিক হয়।

মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্ত সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হয়ে থাকে এ লড়াইয়ে। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে আরো শাণিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শত্রু হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। ইতোমধ্যেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রতিবেশী ভারতও জড়িয়ে পড়ে বাঙালির ভাগ্য যুদ্ধে। ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই যুদ্ধের।
অবশেষে ন’মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূচিত হল মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। এর মধ্য দিয়ে এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। বাঙালি জাতি এদিন অর্জন করে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ ধর্ষিতা মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।

জিয়ার সাথে বাংলার এবং বাংলাদেশের কোন সর্ম্পক ছিল না -আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন

স্টাফ রিপোর্টার:
বীর মুক্তিযোদ্ধারা যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন তখনই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসরা বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে ঠিক তেমনিই গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপি ঢাকা সমাবেশের নামে ৭১ সালের এর মতো মহা-তান্ডব চালানোর পরিকল্পনা করেছিলো।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের ডিআর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বাষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তবে বাংলাদেশ আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি এসব কথা বলেন।

৯বছর পর অনুষ্ঠিত উপজেলা আ’লীগের কাউন্সিল শেষে এড. আবুল কালাম আজাদকে সভাপতি ও গোলাম সারওয়ার চিনুকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

আল মাহমুদ স্বপন আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের সাথে বাংলার এবং বাংলাদেশের কোন সর্ম্পক ছিল না। তার পিতা কলিকাতায় চাকরি করতেন। তার পরিবার কলিকাতায় থাকতেন। জিয়ার জন্ম কলিকাতায় এবং সেখানেই লেখা পড়া করেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এফসিএ’র সভাপতিত্বে ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো.আবদুস সবুর ও ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও হেমানা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা আহমদ মেরী।

উদ্বোধক ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন । প্রধান বক্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জাঙ্গীর আলম সরকার, সহ-সভাপতি হানিফ সরকার, মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার কিশোর, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ, সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু প্রমূখ।

‘শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখবে এলপিএল’

স্পোর্টস ডেস্ক:

সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় কঠিন সময়ের মধ্যে গিয়েছে শ্রীলংকা। ধীরে ধীরে সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে দেশটি। সেই যাত্রায় গুরত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছে লংকান প্রিমিয়ার লিগ, মনে করেন দেশটির তারকা ক্রিকেটার থিসারা পেরেরা। লংকান প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জাফনা কিংসের অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। পেরেরার মতে লংকান লিগের চলমান তৃতীয় আসর শ্রীলংকার অর্থনীতি ও ভ্রমণ পিপাসুদের উতসাহিত করবে।

২০২২ সালের এলপিএল শুরুতে আগষ্টে হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত অর্থনৈতিক দুর্যোগে সেটি গত মাসে স্থগিত করতে হয়। থিসারা পেরেরা বলেন, ‘শ্রীলংকা সবসময়ই ক্রিকেটীয় ঐতিহ্য ও আবেগের জন্য গর্ব করে এসেছে। দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাড়াতে এই লিগ উন্নতি সাধকের ভূমিকা নিয়ে আসবে।’

পেরেরা আরও বলেন, ‘প্রতিদিনই বড় একটা সংখ্যার দর্শক স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসছেন, যা খেলাটার প্রতি তাদের ভালোবাসারই প্রমাণ দেয়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে সেই দর্শকেরা উপভোগ্য সময় কাটিয়ে হাসিমুখে ঘরে ফিরতে পারে।’

শ্রীলংকায় এলপিএলের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন অনিল মোহন, এলপিএলের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত আইপিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। অনিল বলেন, ‘আমরা শ্রীলংকার সর্বোচ্চ প্রচারণা চাই এবং দেশটির অর্থনীতিতেও ভালোভাবে প্রভাব রাখতে চাই। আমি আত্মবিশ্বাসী লিগটি শ্রীলংকায় বিদেশি ভ্রমণ বাড়াতেও সাহায্য করবে। আমি দুর্দান্ত একটি এলপিএল টুর্নামেন্ট দেখতে মুখিয়ে আছি, যেটি প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ ও বিদেশের দর্শকের আকর্ষণ আদায় করে নিতে সক্ষম হবে।’

নতুন প্রতিভার সন্ধানে কীভাবে লিগটি সাহায্য করে তা নিয়েও থিসারা পেরেরা বলেন, ‘শ্রীলংকান তরুণ ক্রিকেটারদেরকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছে এলপিএল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার আগেই লিগটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কিছুটা স্বাদ দিবে তরুণ ক্রিকেটারদের। আমি নিশ্চিত আমরা দারুণ কিছু ক্রিকেটারদের শ্রীলংকান জার্সিতে সামনে দেখতে পাব।’