All posts by jitu

ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোষ্ট করার অভিযোগে একজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোষ্ট দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টার দায়ে মোঃ সাইফুল ইসলাম সুজন(২১) নামের একজনকে  আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা পুলিশ।

আটক হওয়া সুজন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর উত্তর পাড়ার সর্দার বাড়ির আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

গত ৫ অক্টোবর ১১ টার সময় বুড়িচংয়ের  রাজাপুর গ্রামের জনৈক কমল চন্দ্র মিত্র(৪০) শারদীয় দূর্গা পূজার বিজয়া দশমীর একটি নাচের দৃশ্যের ভিডিও তাহার নিজ মোবাইলে ধারন করিয়া তাহার প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত “নন্দিতা জুয়েলার্স” নামক ফেইসবুক আইডির ষ্টোরিতে আপলোড করেন।

তার একদিন পরেই গত ০৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় কমল চন্দ্র মিত্র দেখিতে পান, তাহার আপলোডকৃত ভিডিওটি কেউ একজন তাহার ফেইসবুক স্টোরি থেকে ডাউনলোড কিংবা স্ক্রিন রেকর্ডিং করে উক্ত ভিডিওটিতে এডিটিং এর মাধ্যমে একটি ইসলামী নাতে রাসুল/ গজল সংযোজন করিয়া ”সুজন ” নামীয় একটি ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করিয়া ধর্মীয় উস্কানি মূলক একটি স্ট্যাটাস দেয়। বিষয়টি সাথে সাথে কমল চন্দ্র মিত্র পুলিশকে অবহিত করেন।

এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কুমিল্লা এর বিশেষ টিম “সুজন” নামীয় ফেইসবুকটির মালিকানা ও পোস্টদাতাকে সনাক্ত করে বুড়িচং থানা পুলিশের সহায়তায় গত ০৬ অক্টোবর অনুমান ৫ টায় মোঃ সাইফুল ইসলাম সুজন(২১)কে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  তার ব্যবহৃত মোবাইলে ”সুজন” নামের ফেইসবুকে লগইন করে  ফেইসবুকের ওয়ালে তাহার পোষ্টকৃত ভিডিও এবং স্ট্যাটাসটি দেখান। তাছাড়া সে উক্ত ভিডিওটি তার ভাতিজা সর্ম্পকিত দুবাই প্রবাসী পলাতক আসামী  রাকিবুল ইসলাম(২১) এবং পলাতক আসামী  সানজিদা আক্তারকে (অজ্ঞাত) ফেইসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়েছে মর্মে জানায়।

ভিডিও এডিটিং এর মাধ্যমে আসামিগণ তাদের নামীয় ও পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এ ধর্ম অবমাননাকর ভিডিও আপলোড করে  উস্কানী মূলক, আক্রমনাত্বক মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করিয়া বাংলাদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রান মুসলমানদের ধমীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে উস্কানী প্রদান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতঃ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করায় গ্রেফতারকৃত আসামি এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে এসআই/মামুন হোসেন বাদী হয়ে বুড়িচং থানার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৬/৩১৪, তারিখ- ০৭ অক্টোবর।

ডিবির ইন্সপেক্টর/শরিফ ইবনে আলম  মামলাটি তদন্ত করছেন।

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ বড়ুয়া অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাওয়ার হিটারের অভাবেই পাকদের কাছে হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক :

টাইগারদের চিরাচরিত দুর্বলতা সেই পাওয়ার হিটারের অভাবেই ডুবল বাংলাদেশ। ভারতীয় কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরামের অধীনে এখনো উড়িয়ে সীমানা পার করা শিখতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। তাই  পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ রানে হারল বাংলাদেশ।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বিবর্ণ ব্যাটিং প্রদর্শন করলেন টাইগাররা।

প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৫০ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে স্কোরবোর্ডে ১৬৭ রান জমা করে পাকিস্তান। আর নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান আসে ইয়াসির আলী রাব্বির। ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ২১ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। যদিও পরাজয় এড়াতে পারেননি। তবে তার এমন ইনিংসে বড় ব্যবধানে হার এড়াল বাংলাদেশ।

১৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মন্থর শুরুর পর রানের চাকা সচল করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বেশি দূর এগোতে পারেননি তারা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আসে ২ ওপেনারকে হারিয়ে ৩৮ রান। দুজনেই শুরু থেকে ধরে খেলার চেষ্টায় ছিলেন। পরে ৪র্থ ওভারে হারিস রউফকে ছক্কা মেরে মিরাজ হাত খুললেও পরের ওভারেই সীমানায় আউট হয়ে ফেরেন তিনি। ৫ম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে উড়িয়ে মারেন মিরাজ। ডিপ স্কয়ার লেগে বল তালুবন্দি করেন হাসান আলি। ১১ বলে ১০ রানে সমাপ্তি ঘটে মিরাজের ইনিংসের। তার আউটের পর ওয়ানডাউনে নামেন লিটন দাস।

মিরাজের পর ষষ্ঠ ওভারে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির। হারিস রউফের বল লেগে ঘুরাতে চেয়েছিলেন সাব্বির। মাঝ ব্যাটে খেলতে পারেননি। আগেই ব্যাটের ফেস ক্লোজ করে নেওয়ায় কানায় লেগে উঠে যায় ওপরে। অনায়াসে ক্যাচ নেন বোলার নিজেই। ১৮ বলে এক চারে সাব্বির করেন ১৪। তার আউটের পর ব্যাট হাতে নামেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। আফিফকে নিয়ে খেলায় ফেরার চেষ্টা করেন লিটন। দারুণভাবে এগিয়েও যাচ্ছিলেন। কিন্তু দ্রুতই দুটো উইকেট হারিয়ে ফেলায় ছন্দে পতন ঘটল টাইগারদের। মোহাম্মদ নাওয়াজের বলে দুই রান নেওয়ার পর সিঙ্গেল নেন আফিফ। ৩৯ বলে তার সঙ্গে লিটন দাসের জুটির ৫০ স্পর্শ করে। পরের বলে স্লগ সুইপের চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়লেন লিটন দাস। ২৬ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় ৩৫ রান করেন এই টপঅর্ডার ব্যাটার। নতুন ব্যাটার মোসাদ্দেক হোসেন বিদায় নিলেন গোল্ডেন ডাক মেরে। আলগা শটে বলে লাইন মিস করে হলেন এলবিডব্লিউ। তবে নাওয়াজের হ্যাটট্রিক ঠেকান নুরুল হাসান সোহান। দুই বলে উইকেটের ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই ফিরে গেলেন আফিফ হোসেন। শাহনাওয়াজ দাহানির বলে মিডউইকেটে ধরা পড়েন বাঁহাতি এ ব্যাটার। ২৩ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ২৫ রান করেন আফিফ।

খেলার এ পর্যায়ে ১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর হয় ৪ উইকেটে ৯৯। জয়ে জন্য দরকার পড়ে ৩৭ বলে ৬৯ রানের। এ সময় ক্রিজে সোহানের সঙ্গী হন ইয়াসির আলি চৌধুরী। কিন্তু শাদাব খানের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হলেন সোহান। শাদাবকে স্লগ সুইপ করে ওয়াইড লং অনে ধরা পড়েন এ কিপার-ব্যাটার। ৯ বল এক চারে তিনি করেন ৮। ইয়াসিরের সঙ্গী হন তাসকিন। জয়ের জন্য এ সময় প্রয়োজন পড়ে ১৮ বলে ৫৯ রান। সে কথা মাথায় রেখে ১৮তম ওভারে ধানির বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান ইয়াসির। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪৯ রানের। এ সময় ধুমধাড়াক্কা চার-ছক্কা দেখতে পাওয়ার কথা। কিন্তু উল্টোটাই ঘটল। ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে তাসকিন ও নাসুমকে সাজঘরে ফেরালেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। মাত্র ২ রানে ফিরলেন তাসকিন। আর নাসুম রানের খাতাই খুলতে পারলেন না। সেই ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলে যান ইয়াসির। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪২ রানের। পরাজয় শুধু সময়ের ব্যাপার। তবে দারুণ দুটি বাউন্ডারি ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে পরাজয়ের ব্যবধানকে কমালেন ইয়াসির।

পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার আজ মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। ২৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন নওয়াজ। একটি করে উইকেট শিকার করেছেন শাহনেওয়াজ ধানি, হারিস রউফ ও শাদাব খান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৭/৫ (রিজওয়ান ৭৮*, বাবর ২২, শান ৩১, হায়দার ৬, ইফতিখার ১৩, আসিফ ৪, নাওয়াজ ৬*; তাসকিন ৪-০-২৫-২, মোস্তাফিজ ৪-০-৪৮-০, হাসান ৪-০-৪২-১, নাসুম ৪-০-২২-১, মিরাজ ২-০-১২-১, মোসাদ্দেক ২-০-১৭-০)

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৬/৮ (মিরাজ ১০, সাব্বির ১৪, লিটন ৩৫, আফিফ ২৫, মোসাদ্দেক ০, সোহান ৮, ইয়াসির ৪২*, তাসকিন ২, নাসুম ০, হাসান ১*; দাহানি ৪-০-২৪-১, ওয়াসিম জুনিয়র ৪-০-২৪-৩, রউফ ৪-০-৩৮-১, নাওয়াজ ৪-০-২৫-২, শাদাব ৪-০-৩০-১)

কবিতাঃ বাংলার জেলায় চলা

দেবব্রত ঘোষ:

চলতেই থাকে মানুষের সচল চলা,
চলতেই থাকে আলো আঁধারির নিরন্তর খেলা,
জীবনের আঁশে গ্রাম থেকে উপজেলা আর জেলা
বিভাগ হয়ে রাজধানীতে উড়ায় স্বপ্ন সুখের ভেলা ।।

পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা
কাজের পিছে সারা বেলা ঘোরে একা একা।
দিনাজপুর, রংপুর, জামালপুর, শরীয়তপুর থেকে ঢাকা
আবাস, আশ্রয়, কর্ম কোত্থাও নাহি ফাঁকা।
লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, শেরপুর, মাদারীপুর থেকে ঢাকা
উদ্দেশ্য সবার একটাই, উপার্জন শুধু টাকা।

ঢাকার কাছে শিল্প-বানিজ্যে মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর,
সাতক্ষীরার চিংড়ি, সরকার শুরু মুজিবনগর মেহেরপুর।

জসীম উদ্দিনের ফরিদপুর, জাতির পিতার গোপালগঞ্জ
রবীন্দ্রনাথের কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জে পদ্মা সেতু, যমুনা সিরাজগঞ্জ
চায়ে হবিগঞ্জ, হাওরে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।

আমে রাজশাহী-চাঁপাই, পাবে কাঁচাগোল্লা নাটোর
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশ, মধুসূদন-খেজুর রসে যশোর।

ময়মনসিংহের মন্দা, চমচমে টাঙ্গাইল
পুণ্ড্রনগর বগুড়ার দই, নৌকাবাইচে নড়াইল।।

রসমালাই, ময়নামতি, শালবনবিহার, বার্ডে কুমিল্লা
পাগল হলে পাবনা, সবচেয়ে বড় দ্বীপ ভোলা।

লালনের কুষ্টিয়া, নজরুলের কুমিল্লা, চিলমারিতে কুড়িগ্রাম,
পতেঙ্গা, কর্ণফুলীটানেল, বন্দর-শিল্প-বানিজ্যে চট্টগ্রাম।।

সবাই যায় সিলেট, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার
বিনোদন, শিক্ষাসফর, মনোরঞ্জনে আরও যায় মৌলভীবাজার।

ইতিহাসে আছে লেখা নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট
অক্ষির আড়ালে থাকে নেত্রকোণা, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট।

আরও তবে আছে জেলা যেতে নাহি মানা
ঝিনাইদহ, ফেনী, ঝালকাঠি, রাজবাড়ী, নোয়াখালী,
বিচিত্র নাম কানে বাজে দেয় সবাই হানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরগুনা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, পটুয়াখালী ।।

সুলতানা কামালের বিরুদ্ধে রিজভীর বিষেদাগারের প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের বিরুদ্ধে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিষোদগারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠক, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান তারা।

গত ২ অক্টোবর ইন্ডিয়া টুডে’কে সাক্ষাৎকার দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, দীর্ঘ সময় ধরে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল।

পরিপ্রেক্ষিতে ৫ অক্টোবর আক্রমণাত্মক, অসংবেদনশীল, অশোভনীয় ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় সুলতানা কামালের বক্তব্যের বিষোদগার করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সেটারই কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠক, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সুলতানা কামালের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক জন হামফ্রি ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রিজভীর এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং ব্যক্তির মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সুলতানা কামাল সাধারণ জনগণের অধিকারের পক্ষে আজীবন কাজ করেছেন। তাকে আওয়ামী অধিকার কর্মী বলে অভিযোগ করা অনভিপ্রেত। এর মাধ্যমে মানবাধিকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি উনাকে ছোট করবার হীন প্রয়াস বলে মনে হয়।

শুধু তাই নয়, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এবং মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের মতো বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্যও অশোভনীয়, অগ্রহণযোগ্য ও চরম নিন্দনীয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, সুলতানা কামাল সাক্ষাৎকারে কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য উদ্ঘাটন করেছেন। এ নিয়ে রিজভী যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, এর মধ্য দিয়ে তিনি ও তার দলের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিএনপি নেতার বক্তব্য প্রকারান্তরে মানবাধিকার আন্দোলনকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।

সুলতানা কামালের প্রতি এরূপ অন্যায় অগ্রহণযোগ্য এবং রিজভীর অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। আশা করছি, আগামীতে তিনি এবং তার দল মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যদানে বিরত থাকবেন।

বিবৃতি দানকারী ব্যক্তিদের নাম:
অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান হুমায়ূন কবীর, শামসুল হুদা, অধ্যাপক মিসবাহ কামাল, অধ্যাপক সাদিকা হালিম, সঞ্জীব দ্রং, রবীন্দ্র সরেন, পল্লব চাকমা, সানায়া আনসারী, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, কাজল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল, মোতাহার হোসেন আকন্দ, খুশি কবীর, জিনাত আরা হক, বেগম রোকেয়া, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, অধ্যাপক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ, তাপস কুমার দাস, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল, ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল প্রমুখ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবাইল কিনে না দেওয়ায় অভিমানে কিশোরীর আত্মহ’ত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোবাইল কিনে না দেওয়ায় বাবার সঙ্গে অভিমান করে খাদিজা আক্তার (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্রী আত্মহ’ত্যা করেছেন।

বুধবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নি’হত খাদিজা আক্তার উপজেলার ধরখার গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে খাদিজা তার বাবাকে একটি মোবাইল কিনে দিতে বলে। কিন্তু হাতে টাকা না থাকায় এক মাস পরে কিনে দেওয়ার কথা জানান বাবা। পরে সন্ধ্যায় পরিবারের অগোচরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁ’স দিয়ে আত্মহ’ত্যা করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ধরখার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই শাহ আলম বলেন, পুলিশ লা’শ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃ’ত্যু মামলা হয়েছে।

আমি বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত: জানালেন শেখ হাসিনা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’ বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটানা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। এরমাঝে অনেক চড়াই-উৎরাই, খুন-খারাবি, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে অগ্নিসন্ত্রাস নানা কিছু ঘটেছে। তারপরও কিন্তু আমরা ক্ষমতায় ছিলাম বলে আজকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশটা ছোট। রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে আমাদের যে সমস্যা, সেটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছি। যেহেতু আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের ফেলে দিতে পারি না। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছি।’

নোয়াখালীতে পুকুরে মিলল তরুণীর লা’শ

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পুকুর থেকে এক তরুণীর লা’শ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মাষ্টার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দুপুরের দিকে লা’শটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তৃষা সাহা (২৬) নোয়াখালী পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মাষ্টার পাড়া এলাকার কমল সাহার মেয়ে।

নিহতের পিতা কমল সাহা জানা, তৃষা দীর্ঘ দিন থেকে অসুস্থ। সে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়।কিছু দিন আগে তার স্বামী প্রবাস থেকে দেশে আসে। কিন্তু সে অসুস্থ থাকায় তার স্বামী তাকে নিতে চাইলেও আমরা তাকে দেইনি। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাসার পাশে একটি পুকুরে পড়ে মারা যায়। পরে পুকুরে তার লা’শ ভাসতে দেখে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই তরুণী মানসিক রোগী ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের‌ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃ’ত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুড়িচংয়ে চাচার অপমান সইতে না পেরে তরুণীর আত্মহ’ত্যা

 

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চাচার অপমান সইতে না পেরে নাছরিন আক্তার রুপা (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রী আত্মহ’ত্যা করেছে বলেছে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নি’হত রুপা রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে। সে শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

নি’হত রুপার বাবা জানান, পিতৃসম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে ভাই সৈয়দ আলীর দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলছিল। তাদের এ বিরোধের জেরে সমাধানের লক্ষ্যে গ্রাম্য সালিশ বসে। সেখানে মেয়ের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অপমানমূলক কথাবার্তা তুলে চাচা সৈয়দ আলী। গত বুধবার সকালে রুপার বাবা আব্দুল মালেক তার কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ের সাথে সৈয়দ আলীর ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে চাচা সৈয়দ আলীসহ স্ত্রী, মেয়ে রুপাকে বেশ্যা বলে গালি দেয় এবং অপমানমূলক কথাবার্তা বলে। এ মানসিক আঘাত সইতে না পেরে ওই দিন বিকেল ৩টার সময় পরিবারের অজান্তে আব্দুল মালেকের পূর্ব ভিটার ঘরের ভিতরে দরজা বন্ধ করে তীরের সাথে উড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁ’স দিয়ে আত্মহ’ত্যা করে। পরে তার মা-ভাই ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে রুপাকে ঝু’লন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমানের নির্দেশনায় এসআই আব্দুল জব্বার কলেজ ছাত্রীর ম’রদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে নি’হত রুপার চাচা ও তার পরিবারকে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানান। বাড়িতে এসে মেয়ের লা’শ দেখে বাবা আব্দুল মালেক অসুস্থ হয়ে বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার সময় সরেজমিনে গিয়ে সৈয়দ আলীর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম মাস্টার ও গ্রামের জলিল সর্দার প্রতিনিধিকে জানান, আত্মহ’ত্যার বিষয়টি শুনেছি। তবে মৃ’ত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারিনি।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানাতে একটি অপমৃ’ত্যুর মামলা হয়েছে। তবে আত্মহ’ত্যা কি কারণে করেছে তা সঠিক কারণ জানা যায়নি।

বুড়িচংয়ে সীমান্ত থেকে নারী, শিশুসহ ৩০ রোহিঙ্গা আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা বুড়িচংয়ের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নারী, শিশুসহ ৩০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে আটককৃতদের বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। বিকেলে তাদের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

খারেরা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবদুল খালেক জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী জামতলা এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে তারা এখানে এসেছিল। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার সকালে বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, আটককৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ১৬ জন শিশু রয়েছে। সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিকেলে তাদের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।