All posts by jitu

নোয়াখালির হাতিয়াতে দুই ডাকাত গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ৩

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে দুই ডাকাত গ্রুপের সংঘর্ষে তিন ডাকাত নিহত হয়েছে। কোস্টগার্ড ঘটনাস্থল থেকে ৩টি একনলা বন্দুক,দুই রাউন্ড তাজা গোলা ও কিছু দেশীয় উদ্ধার করা হয়।

নিহত ডাকাতরা হলো, উপজেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন চর ঘাসিয়ার বাসিন্দা এবং ডাকাত ফখরুল গ্রুপের সদস্য কবির (৩৬), সাহারাজ (৩৭) ও নবীর উদ্দিন ওরফে নূর নবী (৩৬)। ।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত উপজেলার ঘাসিয়ার চর এলাকায় এ গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন তিনটি মরদেহ উদ্ধার করার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মরদেহ গুলো উদ্ধার করে চেয়ারম্যানঘাটে আনা হয়। মরদেহ শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে চরের নিয়ন্ত্রণ ছিল ডাকাত খোকনের হাতে। একপর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় সে। তারপর চর এলাকা নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেয় তার ভাই ফখরুল। কয়েক দিন আগে খোকন জামিন এসে আবার চরের নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে ডাকাত ফখরুলও খোকন বাহিনীর মধ্যে বুধবার দিনগত রাতে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়। নিহত তিন জন ডাকাত ফখরুল গ্রুপের সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া কোষ্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাফিউল কিঞ্জল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৫ডাকাত কে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর স্থানীয় সূত্র বলছে ওই ঘটনায় তিন ডাকাত নিহত হয়েছে। তবে আমরা ঘটনাস্থলে থাকাকালীন তিন ডাকাত নিহত হওয়ার কোন আলামত দেখতে পাইনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছে বলে শুনেছেন।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের মিলাদ মাহফিল

 

নিজস্ব  প্রতিবেদক:

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আসরের নামাজের পরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের আহমেদ এর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের শুরুতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে তাঁর সুন্দর জীবন, দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় আজকের এই দোয়া মাহফিল। তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আরো বহুদূর এগিয়ে যাবে। আগামী দিনেও তিনি এভাবে যেনো দেশের জন্য কাজ করতে পারেন আমরা সেই প্রার্থনা করেছি।

এছাড়া আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে বক্তব্য রেখে সবার কাছে বঙ্গবন্ধুকন্যার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের আহমেদ।

এ সময় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন পল্টন থানা ছাত্রলীগের নয়াপল্টন ইউনিটের সভাপতি হাফেজ কাজী হুজায়ফা রহমান। মিলাদ মাহফিল শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারী মাওলানা ডা. মো. ইসহাক বিন মহসিন।

দোয়া অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের বিভিন্ন থানা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা এতে অংশগ্রহন করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিতির মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

এর আগে দুপুরে টি এন্ড টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ।

মুরাদনগরে আশ্রয়ন প্রকল্পের অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ !

* এক নম্বর ইট দিয়ে ঘর তৈরীর নির্দেশ।
* দুই নম্বর ইট অপসারণের নির্দেশ।
* প্রতি প্রকল্প এলাকায় সুপারভাইজার নিয়োগের পরামর্শ।

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেখতে এসে বিভিন্ন অনিয়ম দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (নির্বাহী সেল ও পিইপিজেড) আল মামুন মুর্শেদ। এ সময় এক নম্বরের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলেও দিতে পারেননি কোন সদুত্তর।

বুধবার  (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা দেখাশোনার জন্য লোকবল না থাকা ও ঘরগুলো নির্মাণে দুই নম্বর ইট ব্যবহার করার কারণ জানতে চান আল মামুন মুর্শেদ। এ সময় দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হাই খান আমতা আমতা করতে থাকেন। এ অবস্থা দেখে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ কর্মকর্তা। তিনি প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে দ্রুত একজন সুপারভাইজার নিয়োগ এবং দুই নম্বর ইট দ্রুত অপসারণ করে এক নম্বর ইট ব্যবহার করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকৃত আশ্রয়ন প্রকল্পটিতে ৩৭টি ঘর নির্মানের কাজ চলছে। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান। আল মামুন মুর্শেদ প্রায় আধা ঘন্টা এ প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কবিরুল ইসলাম খান, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ভুইয়া জনি, ধামঘর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদির।

পরিদর্শনকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে নিয়োজিতদের উদ্দেশে আল মুর্শেদ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এ আশ্রয়ণ প্রকল্প কাজে কোন ভেজাল বস্তু ব্যবহার করা যাবে না। তিনি অচিরেই ফের প্রকল্প পরিদর্শনে আসবেন এবং উপজেলা প্রতিটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানিয়রা জানান, এই প্রকল্পের কাজ শুরু থেকে দ্ইু নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সকালেও রাস্তার পাশে দুই নম্বর ইটের স্তুপও ছিল। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসার কথা শুনে ট্রাক্টর দিয়ে কিছু ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হাই খান দুই নম্বর ইট ব্যবহার করার কথা স্বীকার করে বলেন, ইট ভাটার মালিকরা এক নম্বর ইটের সাথে দুই নম্বর ইট মিশিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে কিছু দুই নম্বর ইট ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখনতো ইটের সৃজন নয়, নতুন ইট আসতে জানুয়ারি মাস লাগবে। তাই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সামান্য কিছু দুই নম্বর ইট চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ভুইয়া জনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ, কোন অবস্থাতেই আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ দুই নম্বর ইট দিয়ে করা যাবেনা। আমি এখানে নতুন এসেছি, অচিরেই উপজেলার সকল আশ্রয়ন প্রকল্পে যাব। প্রকল্পের ঘর নির্মাণে কোন প্রকার ত্রুটি পেলে বরদাস্ত করা হবেনা।

 

ব্রাহ্মণপাড়ায় অভিযান : ৬ রেস্টুরেন্টকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বাজারে ৬ রেস্টুরেন্টকে মোবাইল কোর্টের অভিযানে  ৮০ হাজার  টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর)  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সোহেল রানা এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ অভিযানে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে রাসেল হোটেলের স্বত্তাধিকারী মোঃ আলী আশ্রাফকে (৫৫)  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা খাবার রাখা, বি এস টি আই এর অনুমোদন ব্যতিরেকে ও প্যাকেজিং এর নিয়ম কানুন লংঘন করে দই বিক্রি করা, ফ্রিজে কাঁচা খাবার ও রান্না করা খাবার একসাথে রাখার জন্য  এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণের অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া  কোক এর মূল্য নির্ধারিত ১৫ টাকার স্থলে ২০ টাকায় বিক্রি করায় ও অনুমোদনহীন দই বিক্রি করার অপরাধে ইত্যাদি রেস্টুরেন্টের স্বত্তাধিকারী মোঃ সোহেলকে (২৮) ১০ হাজার  টাকা  জরিমানা করা হয়।

এরপর অনুমোদনহীন ও প্যাকেজবিহীন দই ও মিষ্টি বিক্রি করার অপরাধে হোটেল প্রতিদিনের স্বত্তাধিকারী মোঃ ছাব্বির হোসেন (২২) ও এশিয়ান সুইটস এর স্বত্তাধিকারী মামুন আহাম্মদ (২৬) প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার  টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে বিসমিল্লাহ মাতৃভান্ডার এর রুবেল (৩৪) ও মাতৃভান্ডার মিষ্টান্ন ভান্ডার এর স্বত্তাধীকারী নান্টু চন্দ্র দাস (৪৩) প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা  জরিমানা করা হয়।

চৌদ্দগ্রামে বাসের ধাক্কায় কলেজছাত্রীসহ ২ জন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ফাতেমা আক্তার রেবা (২৪) এবং মিম (৩) নামের এক শিশু মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মিয়াবাজার এলাকায় বিজলী সুপার সার্ভিসের একটি বাস সিএনজিকে ধাক্কা দিলে এ দুঘর্টনা ঘটে।

নিহত রেবা কুমিল্লা অজিতগুহ কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী এবং উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামের মফিজুর রহমানের মেয়ে। অপর নিহত শিশু মিমের বাড়ি চান্দিনা উপজেলায় বলে জানা গেছে। শিশুটির খালা সুমি বেগম জানান, মিমের পিতার নাম সুজন। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে নিহত শিশুর পরিবার ছুপুয়ার আমির শার্টস নামক গার্মেন্টেসে কাজ করে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় স্থানীয়ভাবে কিংবা মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়নি।

নিহত কলেজ ছাত্রী রেবার নিকটাত্নীয় এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির মাহমুদ জানান, কুমিল্লা অজিতগুহ কলেজ থেকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিল ফাতেমা আক্তার রেবা। এসময় মিয়াবাজার নেমে সিএনজিতে উঠে সে। সিএনজিতে নিহত অপর শিশু, শিশুটির খালাসহ ৩জন যাত্রী ছিল। সিএনজি অটোরিক্সাটি নোয়াবাজারের উদ্দেশ্যে ছাড়ার সাথে সাথে কুমিল্লা-কাশিনগরগামী বিজলী সুপার সার্ভিসের একটি বাস পিছন থেকে সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। সিএনজি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা আরেকটি বাসের পিছনে ধাক্কা দিলে সিএনজিতে থাকা শিশু, রেবাসহ ৩যাত্রী আহত হয়। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মিয়াবাজার এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমা আক্তার রেবাকে মৃত ঘোষনা করেন। গুরুতর আহত শিশু মিমকে কুমিল্লায় নিয়ে গেলে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির এসআই গিয়াসউদ্দিন এবং ফাঁড়ির কর্তব্যরত অফিসার এসআই মহিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছি।

চান্দিনায় বাসের চাপাঁয় মোটরসাইকেল চালক নিহত

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়ায় বাসের চাপাঁয় মোটরসাইকেল চালক  বায়েজিদ (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে।

নিহত বায়েজিদ কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের ও আসমানীয়া বাজারের হাজী ফার্মেসীর মালিক রফিকুল ইসলামের ছোট ছেলে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ( ২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে বায়েজীদ মোটরসাইকেল যোগে কুমিল্লা যাওয়ার পথে মহাসড়কের মাধাইয়া নামক স্থানে রাস্তা ক্রসিং করতে গেলে পেছনে থেকে একটি ঘাতক বাস তার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই  বায়েজিদ মারা যায়।

রিভা-রাজিয়ার বেপরোয়া কর্মকান্ড, নেপথ্যে আছেন কারা ?

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইডেন কলেজে টানা তিন বছর ছাত্রলীগের কোনো কমিটি ছিল না। চলতি বছরের মে’তে তামান্না জেসমিন রিভাকে সভাপতি এবং রাজিয়া সুলতানাকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পদ পেয়েই শুরু হয় তাদের বেপরোয়া জীবন। অনেকটা মগের মুল্লুকে পরিণত করেন দেশের ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ হোস্টেলকে। কলেজ এবং হোস্টেল পরিচালনায় প্রশাসন থাকলেও সবকিছু চলতো এই দুই নেত্রীর অঙ্গুলি হেলনে। সিট বাণিজ্য, চাঁদা আদায় থেকে শুরু করে নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়েছেন তারা। সাম্প্রতিক ঘটনার পর তাদের নিয়ে আরও ভয়াবহ এবং জঘন্য তথ্য বের হয়েছে নানা মাধ্যমে। খোদ নিজ সংগঠনের বিদ্রোহী নেত্রীরাই তা প্রকাশ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, ইডেনের শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হননি এই দুই নেত্রী। কথিত নেতাদের তুষ্ট করতে তাদের চাহিদা মতো শিক্ষার্থীদের নানা জায়গায় পাঠাতেন এই নেত্রীরা। এমন তথ্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

ঘৃণা আর ধিক্কার জানাচ্ছে মানুষ। প্রশ্ন হলো- এই দুই নেত্রী কাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে নিজেদের এমন বেপরোয়া করে তুলেছেন। তাদের কাছ থেকে কারা এমন সুবিধা নিয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সাম্প্রতিক নানা ঘটনা, কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বিক্ষোভের মুখে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর এই দুই নেত্রী আবার বীরদর্পে হলে ফিরে এসেছেন। এরপর থেকে এখন আবার পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। আতঙ্ক ভর করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। এখন প্রশ্ন হলো এত কিছুর পরও কেন এই দুই জনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এত অভিযোগ থাকার পরও কেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা ওই দুই জনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক সূত্রের দাবি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি আরও অনেকে ইডেন নেত্রীদের আশীর্বাদ দিয়ে আসছেন। এ জন্য তারা এতটা বেপরোয়া। তারা কোনো কিছুই পরোয়া করছেন না। অবলীলায় একটি সরকারি কলেজে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ক্ষমতাশালীদের ছায়ায় থাকায় কলেজ প্রশাসনও তাদের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দ করার সাহস পাচ্ছে না।

মাসখানেক আগে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে এই ছাত্রলীগ নেত্রীকে কোনো এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, আমি যদি একটা সিট না দিই, তোদের কোনো বাপ সিট দেবে? ম্যাডামরা দেবে? ক্ষমতা আছে ম্যাডামদের? প্রায় সমসাময়িক বের হওয়া আরেকটি অডিও রেকর্ডে রিভা অনেকটা দম্ভ করেই বলেন, ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্টের উপরে আর কেউ নাই। শুধু কথায় না কাজেও তাই প্রমাণ করেছেন রিভা। হলে কে থাকবে, না থাকবে, আবাসিক শিক্ষার্থীরা মাসিক কিংবা বাৎসরিক কতো টাকা ‘সিটভাড়া’ দিবে, ক্যান্টিনগুলো কীভাবে চলবে কিংবা কতো টাকা চাঁদা দিবে, ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট সেবা কারা দিবে, ইডেনের আশেপাশে ফুটপাথ দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে ব্যবসার অনুমতি- সবই পরিচালিত হতো ছাত্রলীগ নেত্রীদের আঙ্গুলের ইশারায়। প্রশাসনিক কার্যক্রমে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ছিল একেবারেই সীমিত। হল প্রভোস্ট থেকে শুরু করে অধ্যক্ষ পর্যন্ত কেউই ছাত্রলীগ নেত্রীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার সাহস করেননি।

পদ পাওয়ার কিছুদিন যেতে না যেতেই একের পর এক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনাম হতে থাকেন রিভা ও রাজিয়া। এর মধ্যে গত আগস্ট মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার অপরাধে দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠে সভাপতি রিভার বিরুদ্ধে। দিয়েছিলেন হল ছাড়া করার হুমকিও সেই ঘটনায় চারদিক থেকে ক্রমাগত ধেয়ে আসা সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছিলেন রিভা। তবে সেটি যে একেবারেই লোক দেখানো ছিল, তা প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি এ প্রভাবশালী নেত্রী। ক্যাম্পাসে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারিণী যে তিনি নিজেই সেটি প্রমাণ করতে রিভা দু’দিন পরেই নির্যাতনের অডিও ও তথ্য সংবাদ মাধ্যমে দেয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে টানা ৬ ঘণ্টা নির্যাতন করেন। ওই সময় সে দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার পাশাপাশি বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দেন। এরপর প্রশাসনের সহায়তায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার ‘অপরাধে’ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করান।

এর বাইরে সিট বাণিজ্য ফুটপাথ থেকে প্রাপ্ত চাঁদাবাজির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ শীর্ষ নেত্রীদের মনোমালিন্যের কথাও প্রকাশ্যে আসে। সমপ্রতি ইডেনে ছাত্রলীগ কমিটির একটি অংশ আন্দোলনে নামলে দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ সব অভিযোগ বেরিয়ে আসতে থাকে। চাঁদাবাজি, আসন বাণিজ্যের পাশাপাশি রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের দিয়ে জোর করে অনৈতিক কাজ করানোর অভিযোগ তুলেন বিদ্রোহী নেত্রীরা। মূলত গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ইডেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা অপকর্মের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ার অভিযোগে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক ছাত্রলীগ নেত্রীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনার পর থেকেই বিদ্রোহের সূত্রপাত। দুই নেত্রীর নির্দেশে সেদিন রাতে কমিটির সহ-সভাপতি পদমর্যাদার এই নেত্রীকে ঢুকতে দেয়া হয়নি ক্যাম্পাসেও। আর এর বিরুদ্ধে সেদিন রাত থেকে আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগের একাংশ। পরদিন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির বিভিন্ন পদধারী ২৫ নেত্রী একত্রিত হয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

সেখানে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নানা ধরনের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে ক্যাম্পাসে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। প্রত্যাখ্যান করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটিকেও। বিদ্রোহীদের দাবি কমিটিতে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি রিভা ও রাজিয়ার কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা আদায় করে থাকেন। তাদের পক্ষে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। সেদিন বিকালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করতে আসলে তাদের সমর্থক ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সভাপতি রিভাসহ অন্তত ১০ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আহত হন। বিদ্রোহীদের তোপের মুখে এতদিন ধরে ক্যাম্পাসে রাজত্ব করা এই দুই নেত্রী পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তবে সেদিন গভীর রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী কমিটিতে থাকা ১২ নেত্রীকে। সেই সঙ্গে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি। কিসের ভিত্তিতে এত দ্রুত এত বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে এসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছিলাম, তারা তাতে আস্থা রাখতে পারছিল না।

তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ছাত্রলীগের এই শীর্ষ নেতা বিদ্রোহীদের ইঙ্গিত করে সেদিন আরও বলেছিলেন, সব কিছু নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। তারা যে সিট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির কথা বলেছে, এটার কোনো প্রমাণ তো দিতে পারছে না। কমিটি দেয়ার পর থেকেই একটি অংশ বার বার কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বহিষ্কারের পরের দিন ২৬শে সেপ্টেম্বর ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্রোহীরা কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই একটি পক্ষের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া অগ্রহণযোগ্য দাবি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কার মদতে এত এত অভিযোগ থাকার পরেও রিভা-রাজিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলো না সেই প্রশ্নও তুলেন তারা। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে আমরণ অনশনের হুমকিও দেন তারা। তবে সেদিন ধানমণ্ডিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার এক বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রীরা। বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা বিষয়গুলো বড় ভাইদের জানাতে এসেছিলাম। জানিয়ে এখন চলে যাচ্ছি। সমস্যা সমাধানে তারা দায়িত্ব নিয়েছেন।

আমরা কোনো অনশনে নেই। আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনিয়ম থেকে প্রতিকার পেতে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন বহিষ্কৃত নেত্রীরা। গতকাল চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি তামান্না জেসমিন ওরফে রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মারধরের শিকার ও বিদ্রোহী গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বাদী হয়ে গতকাল বুধবার এ মামলা করেন। ইডেনে এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরেও প্রশাসন বিস্ময়করভাবে পুরোটা সময় জুড়ে ছিল নীরব। দু’পক্ষের মধ্যে সমস্যা নিরসনে কিংবা সংঘর্ষ এড়াতে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন সংঘর্ষ হয়েছে কিংবা সংঘর্ষে কারা জড়িত এই ব্যাপারেও প্রশাসনকে কোনো অবস্থান কিংবা কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষ্য ইডেন কলেজের প্রশাসন আছে নামেমাত্র, ছাত্রলীগ নেত্রীদের ইচ্ছের বাইরে তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। এদিকে ছাত্রলীগে দু’গ্রুপের অন্তকোন্দলে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্যাম্পাসের হাজারো সাধারণ শিক্ষার্থী। গণমাধ্যমে প্রচারিত নানা ধরনের ‘রসালো’ সংবাদে সামাজিকভাবে তারা হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইডেন পড়ুয়া এমন এক সাধারণ শিক্ষার্থী  বলেন, ঐতিহ্যবাহী ইডেন কলেজে বর্তমান ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজারের মতো। এর বেশির ভাগেরই রাজনীতির সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা শুধু পড়াশোনা করতেই এই কলেজে ভর্তি হয়েছি। মুষ্টিমেয় কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর অপকর্মের কারণে যেভাবে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে তাতে আমাদের সম্মানহানি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে কলেজ সম্পর্কে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। যে কারণে রিভা-রাজিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক মোছা. রাজিয়া সুলতানাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন নির্যাতিত ছাত্রলীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোস্তফা রেজা নুরের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। মামলার আবেদনের শুনানি শেষে লালবাগ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আগামী ২৪শে অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলায় ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ছাড়াও নুঝাত ফারিয়া রোকসানা, মিস ইসলাম, নূরজাহান, ঋতু আক্তার, আনিকা তাবাসুম স্বর্ণা ও কামরুন নাহার জ্যোতিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নূর-ই আলম। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী আমির আলী, আনোয়ার হোসেন মনির, আবুল কালাম ও মাজেদুর রহমান। পরে নূর-ই আলম  বলেন, মামলার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত লালবাগ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৪শে অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলায় বলা হয়, তামান্না জেসমিন রিভা ও রাজিয়া সুলতানার নেতৃত্বে অন্য আসামিরা ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য, অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জান্নাতুল, মামলার সাক্ষী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এতে আসামিরা ভুক্তভোগী জান্নাতুলের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিভা ও রাজিয়ার নির্দেশে আসামি আনিকাসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর রুমে প্রবেশ করেন। তবে, তাকে রুমে না পেয়ে তার ব্যবহারিক আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ নিয়ে যান।

এ সময় ভুক্তভোগী রুমে আসার পথে তাকে ঘিরে ফেলেন আসামিরা। তাকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আসামিরা ভুক্তভোগী জান্নাতুলকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও মাথি মেরে বিভিন্নস্থানে জখম করেন। মামলায় রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধে যা বলা হয় মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করতে থাকায় কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রীদের লেখাপড়ায় চরমভাবে ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। ১নং আসামি তামান্না জেসমিন রিভা ও ২নং আসামি রাজিয়া সুলতানার নেতৃত্বে অন্য আসামিগণ ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য, অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসতে ছিলেন। বাদী জান্নাতুল ফেরদৌসী, সাক্ষীগণ ও সাধারণ শিক্ষার্থীগণ আসামিদের এরূপ কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ করায় আসামিগণ বাদীর ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে থাকেন। বাদীনির ফুসফুসে ইনফেকশন ও পিত্তথলিতে টিউমার থাকায় গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি হন। অতঃপর ১ ও ২নং আসামি বাদীনির ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্ন ধরনের জীবননাশের হুমকি প্রদান করায় সাংবাদিকগণ তা জানতে পারে।

সাংবাদিকগণ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাদীনির কাছ থেকে ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রলীগের কমিটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার সাক্ষাৎ নিয়ে সংবাদ প্রচার করে। অতঃপর বাদীনিকে গত ২২শে আগস্ট হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলে ক্যাম্পাসে ফিরে হলে অবস্থান করতে থাকেন। বাদীনির ক্যাম্পাসে ফেরার সংবাদ আসামিগণ জানতে পেরে গত ২৪শে আগস্ট রাত অনুমান ১০টায় ১ ও ২নং আসামির নির্দেশে ৭নং আসামি আনিকা তাবাসুম স্বর্ণাসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন দেশীয় অস্ত্রসহ বাদীনির রুমে প্রবেশ করে বাদীনিকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে বাদীনিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। বাদীনি ওই সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করায় আসামিগণ বাদীনিকে না পেয়ে বাদীনির ব্যবহারিক আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ওয়্যারড্রপে থাকা বাদিনীর চিকিৎসার ২০ হাজার টাকা ও বাদীনির ব্যবহৃত ল্যাপটপ ৭নং আসামি অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় নিয়ে à¦