All posts by jitu

বরুড়ায় মা-বাবার ঝগড়া থামাতে গিয়ে বাবাকে হত্যা, পলাতক ছেলে গ্রেফতার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার বরুড়ায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহতের ঘটনায় অবশেষে রিমন আহমেদ নামে ঘাতক ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘাতক রিমন (১৫) উপজেলার চিতড্ডা ইউনিয়নের মুরিয়ারা গ্রামের জুলহাস মোল্লার ছেলে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৭ আগস্ট মুরিয়ারা গ্রামে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে জুলহাস মোল্লা ও তার স্ত্রীর রূপা আক্তারের মাঝে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় তাদের সন্তান স্কুলছাত্র এবং চান্দিনার কাদুটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী রিমন আহমেদ বাবা-মায়ের ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করে। ঝগড়া থামাতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে বাবাকে ভয় দেখাতে গিয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করে সে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জুলহাস মোল্লাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১১ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে জুলহাস মোল্লার (৪০) মৃত্যু হয়। ১২ আগস্ট নিহতের ভাই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই রিমন পলাতক ছিল।

বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিমনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পিতা জুলহাস মোল্লাকে ছুরিকাঘাতের দায় স্বীকার করেছে রিমন।

নিজের ক্লাসের শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না: শিক্ষামন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নিজের ক্লাসের কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক কোচিংয়ে পড়াতে পারবেন না। এ বিষয়টি ইতোমধ্যে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিসিবি কাউন্সিলর কাপ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু সময় শিক্ষার্থীদের কোচিং কিছুটা দরকার হয়। কারণ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতির দরকার হয়। পাশাপাশি আমাদের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং সেখানে প্রত্যেক শিক্ষকের পক্ষে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না অনেক সময়। তাতে অনেকে হয়তো কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, অনেকের বাড়িতে বাবা-মা কর্মজীবী হওয়ায় বাড়িতে সহযোগিতার দেওয়ার মতো কেউ নেই। সে ক্ষেত্রে কখনো কখনো কোচিংয়ের দরকার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার বিকল্প হিসেবেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোচিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেটি অনৈতিক, যে নিজের ক্লাসে না পড়িয়ে বাড়িতে বা কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করে এবং সেখানে না পড়লে তাকে হয়তো ফেল করিয়ে দেয় বা কম নম্বর দেয় এই অংশটুকু একেবারেই অনৈতিক। এটি আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির বোর্ড পরিচালক আকরাম খান। আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, বিসিবির বোর্ড কাউন্সিলর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদুল ইসলাম রোমান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু প্রমুখ।

জালিয়াতির অভিযোগে সু চির ৩ বছরের কারাদণ্ড

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে এবার নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির জান্তা সরকারের আদালত এ রায় দেন।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। এর আগে দেশদ্রোহীতা, দুর্নীতিসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগে তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন মিয়ানমারের সামরিক আদালত। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

শুক্রবার মামলার রায়ে তাকে ২০২০ সালের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় রয়টার্স সংশ্লিষ্ট তথ্যের সূত্রের নাম প্রকাশ করেনি। ওই সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও একই সাজা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী তার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার সময় নোবেল জয়ী সু চি গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অন্তত ২০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৭৭ বছর বয়সী সু চির ১৫০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

নিহত শাওনের জানাজায় প্রতিবেশী ও নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দেয়নি পুলিশ : মির্জা ফখরুল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত শাওন প্রধানের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা মহাসচিবের সঙ্গে নিহত শাওনের বাড়িতে যান।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফতুল্লার নবীননগর এলাকায় গিয়ে নিহতের মা ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

এ সময় তিনি বলেন, নিহত শাওন বিএনপির মিছিলের সম্মুখভাগে ছিলেন। পুলিশ নেতা-কর্মীদের ওপর বিনা উস্কানিতে পানিসমেন্ট দিয়েছে। সে কারণে পুলিশ পয়েন্ট র‌্যাঙ্ক রেঞ্জের গুলি করে তাকে হত্যা করেছে এবং অসংখ্য নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। পুলিশ এতটাই অমানবিক যে, প্রতিবেশী ও নেতা-কর্মীদের জানাজায় অংশ নিতে না দিয়ে রাতের আঁধারে তারা মরদেহ দাফন করে ফেলেছে।

এই যে অমানবিকতা, জনগণের বিরুদ্ধে কাজ, এই যে অগণতান্ত্রিক অপরাধ- এই অপরাধের নিশ্চয়ই এক দিন বিচার হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অত্যাচারী-ফ্যাসিবাদী সরকার আজকে গুলি করে হত্যা করে, গুম করে আন্দোলন দমন করতে চায়। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে, মানুষ প্রতিবাদ করলে তারা গুলি করে হত্যা করে, অত্যাচার করে, নিপীড়ন করে।

আজকে শাওনকে হত্যা শুধু একটি ব্যক্তির হত্যা নয়, একটি আদর্শকে হত্যা। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামকে হত্যা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে যারা শাওনকে হুলি করে হত্যা করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সড়িয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই আওয়ামী সরকার মৃত শাওনকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে। নিহত শাওন যুবদলের কর্মী এবং সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, শাওন নাকি যুবদলের কর্মী নন, যুবলীগ করতেন। আমি বলি, সে যাই করুক তাকে তো হত্যা করা যাবে না।

এ সময় দলীয় মহাসচিবের সঙ্গে নিহত শাওনের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে অংশ নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বাবায়ক জাহিদ হাসান রোজেলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

আমি অভিবাসী

-দেবব্রত ঘোষ

স্বল্প সময়ে বেশি কামাই
এই বাসনায় বিদেশ যাই।
স্বপ্নে ভাসে টাকার পাহাড়
যখন নিত্য কাটে অনাহার।

আছে সন্তানের ভবিষ্যত, স্ত্রীর বাসনা
মা-বাবার চিকিৎসা, দেশের ভাবনা।
কোথাও কূলকিনারা না পাই,
নিজে বাঁচি, পরিবার বাঁচাই,
তাই তো আমি ভিন দেশে যাই।

উচ্চ বেতন, স্বচ্ছ জীবন
নিরাপত্তায় জীবন গঠন
প্রাণের টানে যাই যে সেথায়
ঘুচবে দহন যাতন যেথায়।

বুঝি না কিছু নিজে
কোথাও না যাই যেচে।
জানি না কোথায় গেলে
সঠিক পথ ও তথ্য মেলে।
খাই ধরা দালালের ফাঁদে
যন্ত্রণায় প্রবাস জীবন কাঁদে।

প্রশিক্ষণে জানব কাজ, শিখবো ভাষা
খুঁজবো সত্য, মিটবে আশা, প্রত্যাশা ।

জানবো সঠিক তথ্য, গুজবে না দেব কান
শর্তমতে করবো কর্ম, রাখবো দেশের মান।

হাতিয়ায় বাগানে মিলল পরিত্যক্ত আগ্নেয়াস্ত্র

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৮নং সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের একটি বাগানে অভিযান চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হালিম।

এর আগে,গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামে মেঘনা নদীর পাড় সংলগ্ন পুরাতন একটি বাড়ির বাগানে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হালিম আরো জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে।

সুবর্ণচরে ৪ রোহিঙ্গা আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পালানো চার রোহিঙ্গা নাগরিককে সুবর্ণচর উপজেলায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (২ সেপ্টম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৩নং চরক্লাক ইউনিয়নের কেরামতপুর গ্রামের জনতা বাজার ও চরজুবলী ইউনিয়ন থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- ভাসানচর আশ্রয় শিবিরের ৮০ নং ক্লাস্টারের গুলবাহার (৫০) মো.খায়রুল আমিন (২৪) মো.ফারুক (২৬) মো.তুষার (৩০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শক্রবার সকালে চারজন রোহিঙ্গা নাগরিক ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে কক্সবাজারে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য দালালের মাধ্যমে সুবর্ণচর উপজেলায় আসে। সকালে সুবর্ণচরের চরক্লাক ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকায় এক নারীসহ ও ২জন যুবক ঘুরাফেরা করছিলেন। তাদের দেখে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা নিজেদের রোহিঙ্গা নাগরিক বলে স্বীকার করেন। পরে দুপুরের দিকে তাদের চরজব্বর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অপর এক রোহিঙ্গা নাগরিককে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়ন থেকে আটক করে স্থানীয় লোকজন।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সকালের দিকে দালালের মাধ্যমে তারা ভাসানচর আশ্রয় শিবির থেকে পালিয়ে আসেন। খবর পেয়ে তাদের আটক করা হয়। পুনরায় একই দিন দুপুর ১টার দিকে তাদের ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়।

হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে ৪ টি পরিবারের বসতঘর লন্ডভন্ডসহ গাছপালা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সহদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটে যান এবং পরিদর্শন করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ জানান, আমরা খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

স্কুলে সবার সামনে প্রেমিকের মা-ভাইয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকার আত্মহত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্কুলে গিয়ে সবার সামনে প্রেমিকের মা অপমান করায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক ছাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রুদ্রকর ইউনিয়নের সোনামুখী গ্রামের এক ছেলে এবং ওই মেয়ে স্থানীয় সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে এক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে কিছুদিন আগে ছেলেটিকে তার পরিবার ঢাকা নিয়ে যায়। কিন্তু এরপরও তাদের যোগাযোগ চলতে থাকে।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটি স্কুলে যায়। ছেলের মা ও বড় ভাই হঠাৎ স্কুলে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাকে গালাগালি করেন। জুতোপেটাও করেন। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তাঁর দপ্তরিকে দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন। দুপুরের দিকে স্কুলছাত্রী ঘরের একটি কক্ষ বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি জানতাম না। তবে মেয়েটির শরীর অসুস্থ বললে, তাকে আমি দপ্তরি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। পরে শুনি আত্মহত্যা করেছে। এমন হবে ভাবতেই পারিনি।’

স্কুলছাত্রীর মা বলেন, ‘স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে ওই ছেলের মা ও ভাই আমার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আবার জুতা দিয়ে পিটিয়েছে। মেয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করানো হয়েছে।’

ঘটনার পর ছেলের মা ও ভাইসহ বাড়ির সবাই ঘা ঢাকা দিয়েছেন। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শরীয়তপুর সদরের পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের পরাজয়ের যত কারণ

স্পোর্টস ডেস্ক:

ভুল ক্যাপটেন্সি, শেষ ওভারে স্পিন বোলার রাখা, নো বল-ওয়াইড বলের ছড়াছড়ি, মোস্তাফিজের ফর্মে না ফেরা, ক্যাচ মিসসহ নানা কারনে এশিয়া কাপ থেকে শূণ্য হাতে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম।

এখন টাইগাররা এক এক করে তিনি টি-টোয়েন্টির রোগ নির্ধারণ করবেন। চেষ্টা করবেন সেগুলো শুধরানোর। সে জন্য যদি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ খারাপও করে, তাতেও আপত্তি নেই। সাকিবের লক্ষ্য, দলটাকে নতুন করে গড়া। সে জন্য যে শক্ত গাঁথুনি দরকার, সেটা তো এক-দুই ম্যাচে গড়া সম্ভব নয়।

সমস্যা নিয়ে কথা হচ্ছিল, সেগুলোর মধ্যে এক নম্বর—ব্যাটসম্যানদের মন্থর ব্যাটিং। এ প্রসঙ্গটা এলেই সাকিবের একটা কথা খুব মনে পড়ে। গত বছর বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল এমন উইকেটে খেলেছে, যেখানে খেললে ‘ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে’ বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন সাকিব। কাগজে কলমে এখনো কারও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ না হলেও কাছাকাছি পর্যায়ে এসেছে ঠিকই।

সেটা কীভাবে? মুশফিকুর রহিমকে দিয়েই উদাহরণটা দেওয়া যায়। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মুশফিক ৪৪ ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন। ১২০ স্ট্রাইক রেট ও ২০ গড়ে রান করেছেন ৭৬২। বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি মান ও উইকেটের চরিত্র বিবেচনায় মুশফিকের পারফরম্যান্স ভালোই ছিল। গত দুই বছরে স্ট্রাইকরেট কমে এসেছে ৯৩-এ, গড় ২১। শুধু মুশফিক নন, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম—প্রত্যেকের স্ট্রাইক রেটে পড়েছে ভাটার টান।

মরা উইকেটে খেলার আগে লিটনের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪০ এর আশপাশে। সেটি এখন ১২০ এর ঘরে এসে ঠেকেছে। সৌম্য আগে থেকেই মন্থর উইকেটের দুর্বল ব্যাটসম্যান। সেবার এতটাই মন্থর উইকেটে খেলানো হয়েছে যে, ব্যাটিং ছন্দটাই হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম! অথচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সেই সিরিজের আগে সৌম্য ছিলেন জিম্বাবুয়ে সফরের সেরা ক্রিকেটার। এখন সেই সৌম্য জাতীয় দলে নেই। নাঈমও বাদ পড়েছেন। কিন্তু আবার ফিরেছেন দলে চোটের মিছিলে। এনামুল হকও ২০১৫ সালের পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন বাকিদের ব্যর্থতায়।

দুর্ভাগ্য, এনামুল-নাঈম জুটিও ব্যর্থ। এক এক করে ওপেনার হারিয়ে বাংলাদেশ যখন কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজকে উদ্বোধনে খেলায়। ফাটকা লেগেও যায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল পাওয়ার প্লেতে পেয়েছে ৫৫ রান। কিন্তু এই বাজি যে প্রতিদিন কাজে আসবে না সেটা টিম ম্যানেজমেন্টও জানে। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার মূল পেসারদের কেউই খেলেননি। মূল বোলাররা খেললে যে পাওয়ারপ্লে রানের সংখ্যাটা যে আরও কমে আসত, সেটি বুঝতে ক্রিকেটবোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এবার একবার ভেবে দেখুন, এমন ঘোর বিপদের শুরুটা সেই গত বছরের বাজে উইকেট থেকে। যার পরিণতি সাব্বির-মিরাজের ‘অবিশ্বাস্য’ যুগলবন্দী। কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়! কাল সাকিব যেমন হতাশা থেকেই বলছিলেন এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ, ‘মিরাজ সব সময় ওপেনিংয়ের চিন্তায় ছিল, যেহেতু আমরা তেমন কার্যকর কাউকে পাচ্ছিলাম না।’

একটা দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো বিশেষজ্ঞ ওপেনার নেই, ভাবা যায়! তামিম ইকবালের টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়, লিটনের চোট—আর তাতেই ওপেনিং দুর্ভিক্ষে দল। দুটি সিরিজে বাজে উইকেটে খেলার সিদ্ধান্ত কত বড় ক্ষতিই না করল ক্রিকেটের।

এ তো গেল ব্যাটিং দৈন্যর কথা। বাজে উইকেটে খেলে ঘরের মাঠে মোস্তাফিজুর রহমানের রেকর্ড হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো। গত দুই বছর ঘরের মাঠে তাঁর ইকোনমি ৫, গড় ১২। আর দেশের বাইরে ইকোনমি ওভার প্রতি ১০ এর কাছাকাছি, গড় ২৫। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ইকোনমি ৯ এর ঘরে হলেও গড় ৪৯! বাজে উইকেটে খেলিয়ে ক্যারিয়ারের দারুণ শুরুর পর শরীফুল ইসলামের বোলিংয়েরও বেজেছে বারোটা। এখন তিনি দলের বাইরে। আর মিরপুরের মরা উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনদের মতো ফাস্ট বোলারদের একাদশে জায়গাই হয় না। টি-টোয়েন্টি সুলভ উইকেটে তাদের খেলার অভিজ্ঞতাও কম। ভালো উইকেটের বোলিং কি জিনিস, সেটা এভাবেই ভুলতে বসেছে বাংলাদেশ দলের পেসাররা।

সে জন্যই ডেথ ওভারে অধিনায়ক সাকিবকে খুঁজতে হয় শেখ মেহেদী হাসানকে। অফ স্পিনার হিসেবে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ডেথ ওভারে বোলিং করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বড় ঝুঁকিটা নিতে সাকিব বাধ্য হয়েছেন পেসারদের ওপর আস্থাহীনতার জায়গা থেকে। মোস্তাফিজকে বলা হয় বাংলাদেশের সেরা ডেথ বোলার। কিন্তু শারজায় নজিবুল্লাহ জাদরানের হাতে মার খাওয়ার পর সাকিব আর কাল মোস্তাফিজের হাতে ডেথ ওভারে বল দিতে চাননি। তাসকিন আগে থেকেই ডেথ ওভারে খরুচে বোলার। হাতে থাকেন অভিষিক্ত ইবাদত ও মেহেদী। অধিনায়কের এই হাতবাঁধা অবস্থা হতো না যদি মোস্তাফিজদের টি-টোয়েন্টিসুলভ উইকেটে নিয়মিত বোলিংয়ের অভ্যস্ততা থাকত।

বড় রানের ম্যাচের চাপ সামলানোও অভিজ্ঞতার ব্যাপার। ১২০ বনাম ১২০ ম্যাচ খেলে খেলে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি ভাবনায় মরিচা ধরেছে। সে জন্য বড় রানের চাপের মুখে বোলিং-ব্যাটিংয়ের সমীকরণটা ঠিক থাকে না। এ ধরনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের হয় শুধু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই। অথচ চাপ সামলানোর এই পরীক্ষাটা ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ক্রিকেটেই হওয়ার কথা।

কিন্তু ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি বলতে যে বিপিএলকে ধরা হয়, সেটিও হয় মন্থরতম উইকেটে। বড় রান করার অভ্যাসটা তাহলে হবে কোথায়? ওভার প্রতি দশ বা তার বেশি রানের পেছনে ছোটার যে অভ্যস্ততা, সেটি তো আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে তৈরি হবে না। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের যে চাপ, সেটার সঙ্গে অন্তত কিছুটা হলেও মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া সম্ভব তাতে। কিন্তু এমন ভরাডুবির পরও যদি আগামী বিপিএল