All posts by jitu

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থেকে গাঁজাসহ যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থেকে ১১ কেজি গাঁজাসহ আমির হামজা রাব্বি উরফে সজল (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

রবিবার (২৮ আগস্ট) সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত যুবক নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মনির আহম্মেদের ছেলে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আটককৃত যুবক দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে মারধর: ইউপি সদস্যের তিন ছেলে গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে (২২) মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৩ ভাইকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোমেনা (মেম্বার) এর ছেলে রোমান (৩৫), রানা (৩২) ও রুবেল (৪০)। তারা ৩ জন সম্পর্কে আপন ভাই।

শনিবার (২৭ আগস্ট) সদর ও বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাজীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোমেনার (মেম্বার) ছেলে রোমান (৩৫) গত রোযা ঈদের পর থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পারিবারিক সমস্যা থাকায় প্রায় সময় মা-বাবা, বড় ভাইয়েরা বাড়ির বাইরে থাকতো। বাড়িতে তাদের বসত ঘরে ছোট ৩ ভাইকে নিয়ে থাকত ওই তরুণী। গত রমজানের ঈদের পর থেকে ভয় দেখিয়ে প্রায় রাতে ভুক্তভোগীর শয়নকক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিল রোমান। এ ঘটনার ১ মাস পর নির্যাতিতার মা বাড়িতে আসলে বিষয়টি তাকে অবগত করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিযুক্ত রোমানের পরিবারকে অবগত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কয়েক দফায় মারধর করে রোমান ও তার পরিবারের লোকজন। এদিকে মেয়েটি ৩ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে রোমানকে বিয়ের জন্য বললে তার পরিবারের লোকজন নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার জন্য এবং থানায় কোনো অভিযোগ দিলে হত্যা করবে বলেও হুমকি দিতে থাকে।

গত বুধবার বিকেলে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে কাজ করছিল ওই তরুণী। এ সময় রোমান ও তার ভাই রুবেল এসে তাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে জখম করে ফেলে যায়। পরে বাড়ির লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা এলাকায় মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। আসামি রোমান, রুবেল ও রানার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও অত্র মামলার অন্যতম আসামি মো. রুবেল বেগমগঞ্জ থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আমজাদ হোসেন ওরফে পেট কাটা সুমন ওরফে খালাসি সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, খুনসহ ডাকাতি এবং একাধিক মারামারির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁদা না পেয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৭নং মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মো.এনামুল হক ভূঁঞা (৬৯) নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওই ব্যবসায়ীর কাছে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার (২৭ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীকে ১নম্বর বিবদাী করে তার অনুসারী কিশোর গ্যাংয়ের ৮সদস্যের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে, গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আইয়ুব আলী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী।

ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার ব্যবসায়ী মো.এনামুল হক ভূঁঞা একজন ঠিকাদার ব্যবসায়ী এবং মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি। আইয়ুব আলী মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পূর্ব মুছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন দোকান থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান ঘরের ভাড়া সে নিজে আদায় করতেছে। এই ধারাবাহিকতায় আইয়ুব আলী চেয়ারম্যান মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গায় স্থাপিত দোকান ঘর থেকে ভাড়া আদায় করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে মুছাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইয়ুব আলী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার বাঁধার মুখে দোকানের ভাড়া আদায় করতে ব্যর্থ হয় এবং তার দাবিকৃত চাঁদার ১০ লক্ষ টাকা না পেয়ে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এর পর থেকে আমাকে মারধরসহ করে আমার সম্মানহানী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়,গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তার পৈত্রিক নিবাস মুছাপুরে যায়। এমন খবর পেয়ে আইয়ুব আলী তার লালিত পালিত কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে বাংলাবাজারের জিরো পয়েন্টে ওঁৎপেতে রাখে। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ব্যবসায়ী এনামুল হক বাংলাবাজার থেকে বসুরহাট আসার জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠলে আইয়ুব আলীর নির্দেশে বাংলাবাজারের জিরোপয়েন্ট এলাকায় তাকে ঘিরে ধরে মারধর করার চেষ্টা করা হয়। এরপর তিনি মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে আইয়ুব আলী চেয়ারম্যানসহ তার কিশোর গ্যাং সদস্যরা একত্রিত হয়। একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে সিএনজি থেকে নামিয়ে আইয়ুব আলী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ও নির্দেশে পুনরায় তাকে গাড়ির গতিরোধ করে গালমন্দ করে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, চড়, থাপ্পড় ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আমার পরনে থাকা পাঞ্জাবী-পায়জামার পকেট ছিঁড়ে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

অভিযোগের বিষয়ে চাইতে চাইলে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইযুব আলী বলেন, যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তার বিরুদ্ধেও একটি লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়া রয়েছে। থানায় খবর নেন। এ কথা বলেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

ব্যবসায়ী এনামুল হকরে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাদেকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে আইয়ুব আলীকে ১নং বিবাদী করা হয়। পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চৌদ্দগ্রামে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ২৫ লাখ টাকা নিয়ে নারী প্রতারক উধাও

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিভিন্ন এনজিও ও মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঋণ তুলে কিস্তির টাকা পরিশোধ না করে ২৫ লাখ টাকাসহ ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মোসা: মাসুকা বেগম (৩৫) নামে এক নারী প্রতারক। প্রতারণার এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে তার মা-বোন, স্বামীসহ পরিবারের লোকজন।

মাসুকা উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের খিরনশাল গ্রামের উত্তরপাড়ার তাজুল ইসলামের মেয়ে ও একই গ্রামের আব্দুল খালেকের স্ত্রী। এ ঘটনায় আবুল কালাম সোহেল নামে এক ভুক্তভোগি মাসুকা ও তার স্বামী আব্দুল খালেক, ছেলে মাসুদ ভাই সাদ্দাম, সুমন ও মা হাজেরা বেগমকে বাদী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্র ও সরেজমিন পরিদর্শনে স্থানীয় জানা গেছে, মাসুকা বেগম তার এক ভাইকে বিদেশ পাঠানো ও বিদেশে থাকা অপর ভাইয়ের ব্যবসা-বানিজ্য প্রসারিত করার কথা বলে প্রতিবেশি মৃত ইউসুফ এর ছেলে আবুল কালাম সোহেলের কাছ থেকে ১ সপ্তাহের কথা বলে ১২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার বন্ধকের দেয়ার জন্য নিয়ে যায়। পরে ওই স্বর্ণালঙ্কারগুলো বন্ধক থেকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে সোহেলের মায়ের নামে এনজিওসহ বিভিন্ন সমিতি থেকে অন্তত ৭ লাখ টাকার ঋণ তুলে আত্মসাত করে নেয়। এছাড়া নানা প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের শাহিনুর, তাসলিমা বেগম, আয়েশা বেগম, আতর ইসলাম, রুজিনা বেগম, হনুফা বেগম, নিলুফা বেগম, রতনা বেগম, পারভিন বেগম, রাজিয়া বেগম, তাহেরা বেগম, মাহফুজা বেগম, মানজুমা বেগম, আব্দুল খালেকসহ কমপক্ষে ২০ জনের নামে ব্র্যাক, ব্যুরো বাংলাদেশ, এসএসএস, প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন এনজিও এবং মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন পরিমানে ঋণ উত্তোলন করে। ঋণের এ টাকাগুলো উত্তোলন করে মাসুকা প্রথম প্রথম বিভিন্ন নামে উত্তোলনকৃত সে ঋণের বিপরীতে সাপ্তাহিক বা মাসিক হারে দুয়েক কিস্তি নিজে পরিশোধ করে। পরবর্তীতে মাসুকা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় ও উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নামে উত্তোলনকৃত কারো ঋণই পরিশোধ না করায় ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাঠ কর্মকর্তারা এসে যাদের নামে ঋণ দেয়া হয়েছে তাদের থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাসুকা পলাতক থাকার পর এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার ধারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ায় ভুক্তভোগিরা বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা সামাজিকভাবে মাসুকার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করলে মাসুকাকে হাজির করে তার পরিবার। এরপর কয়েক দফা গ্রাম্য শালিসে মাসুকা টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খুব শীঘ্রই পাওনাদারদের টাকা দিয়ে দিবে মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। এরপর কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও ভুক্তভোগিরা টাকা না পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়েরের পর থানার এসআই তোফায়েল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জেনে গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে থানায় বৈঠকে বসার নিমিত্তে উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলে। কিন্তু এতে বিবাদী পক্ষ অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় ভুক্তভোগিরা সাংবাদিকদের স্মরণাপন্ন হন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আবুল কালাম সোহেলসহ অন্যান্য ভুক্তভোগিরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘মাসুকা তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের সার্বিক সহযোগিতায় নানা কৌশল অবলম্বন ও প্রলোভন দেখিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী অনেকের নামে কয়েকটি এনজিও থেকে বিভিন্ন পরিমানে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করে উধাও হয়ে যায়। আমাদের এ টাকা দিয়ে সে তার দুই ভাইকে বিদেশ পাঠায় এবং এ টাকা তারা সেখানে ব্যবসা বানিজ্য করছে। এছাড়াও মানুষের কাছ থেকে নেয়া সে টাকায় বাড়িতে ঘর নির্মাণসহ নিত্যনতুন নানা আসবাবপত্র ক্রয় করে বিলাসী জীবনযাপন শুরু করে মাসুকা। অবাক করা বিষয় হলো, কারো লেনদেনের বিষয়ে কেউ জানতো না। এখানে সে খুবই চতুরতা দেখিয়েছে। পরে তার আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় বিষয়গুলো এলাকায় জানাজানি হয়। আমরা সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে কয়েকবার গ্রাম্য শালিসে পর্যায়ক্রমে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রæতি দিয়েও তা রক্ষা না করায় আমরা আইনের দারস্ত হয়েছি। আমরা আমাদের পাওয়া টাকা ফেরৎ পেতে এবং মাসুকার মত এমন জগন্য প্রতারকের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি’।

এ ব্যাপারে জানতে মাসুকার বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে, তার মা হাজেরা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি মানুষের কাছ থেকে মাসুকার টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। কেই যদি টাকা দিয়ে থাকে তারা আর যে টাকা নিয়েছে সে জানে’।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো: তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগি কর্তৃক থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তৎপরতায় সামাজিকভাবে বৈঠকে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। প্রতারক চক্রটি বেশ ধূর্ত প্রকৃতির। তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে’।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাবউদ্দিন মজুমদার রানা বলেন, ‘মাসকা ও তার পরিবারের প্রতারণার বিষয়টি সত্য। তারা নানা কৌশলে এলাকার অসহায় মানুষদের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়ে গেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংশার চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রাম্য শালিসে মাসুকা ও তার পরিবারের লোকজন টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগিরা থানায় অভিযোগ করেছে। এরপরও অসহায় এ লোকগুলোর পাওনা টাকা উদ্ধারে একজন ইউপি সদস্য হিসেবে আমার যা করণীয় আমি তা করবো’।

কুমিল্লায় হেলমেট ছাড়া বের হলেই জরিমানা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলেই গুণতে হচ্ছে জরিমানা। শহরের সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ও অপরাধ দমনে অবৈধ মোটরসাইকেল বন্ধ করার জন্য জেলার ট্রাফিক বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় কুমিল্লা নগরীর ঢুলিপাড়া চৌমুহনী (ভাংগা বিল্ডিং), কুচাইতলী মেডিক্যাল রোড পাঁকা রাস্তার মাথায় ট্রাফিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। চেকপোস্ট চলাকালীন যানবাহনের কাগজপত্র চেক করার পাশাপাশি গাড়ির চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

চেকপোষ্টে ৪৯ টি মোটরসাইকেলকে চেক করা হয়। এসময় হেলমেট ও কাজগপত্রবিহীন থাকায় একটি মামলা দায়ের করা হয় ও দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।

জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ রাসেল ভূঁইয়া বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান করছি। নগরীতে প্রথম দিন শুধু সতর্ক করেছি। আজকে মামলা হয়েছে একটি। আমরা আচমকা অভিযান করবো। কাগজপত্র ছাড়া বের হলেই জরিমানা গুণতে হবে। প্রয়োজনে আটক করা হবে। যদি কেউ হেলমেট ছাড়া বের হয় বা একবাইকে দুজনের বেশি উঠায় তাহলেও জরিমানা হবে। আমাদের সাথে অভিযানে প্রতিদিন থাকছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাজন দাস স্যার।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাজন দাস বলেন, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান স্যারের নির্দেশে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করছি। জেলার যেখানে যেখানে ট্রাফিক পুলিশ আছে সেখানেই ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে ও অপরাধ দমনে জেলা ট্রাফিক পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালীতে আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ১৫

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী সোনাইমুড়ীতে আওয়ামীলীগ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে তেল, গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোলায় বিএনপির দুই নেতা হত্যার প্রতিবাদে সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির সমাবেশে আসার পথে বিএনপি নেতাকর্মিদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ সংঘর্ষ ঘটে। পরে সংঘর্ষ সোনাইমুড়ি বাজার ও এর আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫জন নেতাকর্মি আহত হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করে বলেন, নোয়াখালী-১ (চাখিল-সোনাইমুড়ী) আংশিক আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীমের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের সমাবেশে হামলা চালায়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৫জন নেতাকর্মি আহত হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-১ (চাখিল-সোনাইমুড়ী) আংশিক আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, বিএনপি পুলিশ পাহারায় সমাবেশ করেছে। তাদের সমাবেশে হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। বরং তাদের হামলায় আমাদের একজন ছাত্রনেতা আহত হয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে একটি সমাবেশ ডাকা হয়। কিন্তু তারা সমাবেশ স্থলে কোন মঞ্চ, চেয়ার আনেনি। হঠাৎ করে তারা এক দিক থেকে চৌরাস্তা এলাকায় একত্রিত হয়। এ পুলিশ নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে। এমন সময় ওদের ভিতর হট্রগোল সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি আরও জানায়, এ সময় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় মামলা হবে বলেও মন্তব্য করেন ওসি।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দামি ধাতু স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম কমার মধ্যেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ দাম বাড়ার পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়াকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট সব ধরনের স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাজুস। সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এক হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়।

এদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৯২ টাকা বাড়িয়ে ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫৬ হাজার ২২০ টাকা করা হয়।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ২১ আগস্ট বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।

দেশের বাজারে যখন এ দাম বাড়ানো হয়, তার আগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়। এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫৫ ডলার বা ৩ শতাংশ কমে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পরও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পর গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক ৬০ শতাংশ বা ১০ দশমিক ৪৯ ডলার। এর মাধ্যমে টানা দুই সপ্তাহের পতনে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৬৫ ডলারের ওপরে।

স্বর্ণের পাশাপাশি গত সপ্তাহে কমেছে রুপা ও প্লাটিনামের দাম। গত এক সপ্তাহে রুপার দাম দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১৮ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৬৩ দশমিক ৫০ ডলার।

নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জাম ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম।

এর আগে, শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাতে ঢাকা, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, চাটখিল উপজেলার পশ্চিম পরকোটের ফজল করিম মোল্লা বাড়ির মৃত নুর মিয়া পাটোয়ারী বাড়ির ফরজ আলী জাহাঙ্গীর (৪৪), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার পালের বাড়ির মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. মহসিন (৪৯), আইয়ে নগর হাজী বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে মোঃ কামাল হোসেন (৩২) এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর মজিবুর গনি মেস্ত্রি বাড়ির জাহাঙ্গীর আলম (২৪)।

পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৮ আগস্ট চাটখিল উপজেলার ২ নম্বর রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের আমিন ভিলায় (বাবুল ডাক্তারের বাড়ি) ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই বাড়ির সবাই ইতালি প্রবাসী। এবং তাদের ছেলের বিয়ের জন্য তারা কয়েকদিন আগে দেশে আসে। বিয়ের আগের দিন রাতে সশস্ত্র ডাকাতদল সেখানে গেইট ভেঙে ও দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ৮ ভরি স্বর্ণের গহনা, ১৩ ভরি রূপার নুপুর, ৮টি মোবাইল ও নগদ সাড়ে চার লাখ টাকা লুন্ঠন করে। এ ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরবর্তীতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে ও তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল সেট ও নগদ ২৫ হাজার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত বাকি ডাকাতদের গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে ও গ্রেফতারদের বিচারিক আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।