All posts by jitu

ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

নাটোরের সেই কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গুরুদাসপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত মেডিক্যাল টিম থেকে জানানো হয়েছে শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় আশপাশের হাজারো মানুষ অংশ নেয়। এর আগে সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ হস্তান্তর করেন তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে তার মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।

এদিকে গঠিত মেডিক্যাল টিমের প্রধান নাটোর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিউল ইসলাম শান্ত রাতে বলেন, শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ভিসেরা রিপোর্ট এলে আসল কারণ জানা যাবে।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ বলেন, শিক্ষিকা মৃত্যুর ঘটনায় তার চাচাতো ভাই ইউনুস আলী একটি ইউডি মামলা করেছেন। ঘটনাটি স্পর্শকাতর তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষিকার স্বামী মামুন পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহার। প্রথমে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। প্রথম স্বামীর ঘরে একজন সন্তানও ছিল। পারিবারিক কলহে সংসার বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি। তারপর কেটে যায় অনেক দিন। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) পরিচয় হয় ২২ বছরের যুবক মামুনের সঙ্গে এবং দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। অবশেষে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারা দু’জন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রায় আট মাস আগে বিয়ে করলেও খবরটি ছড়িয়ে পড়ে জুলাই মাসের শেষ দিকে।

চাঁদপুরে হাসপাতালসহ কাঁচা বাজারের ৭ প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এর সার্বিক নির্দেশনা মোতাবেক চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রবিবার (১৪ আগস্ট) চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডস্থ মাতৃছায়া হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নির্ধারিত সেবা মূল্যের চেয়ে দাম বেশী রাখায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের পাল বাজারের কাঁচা বাজারে অনিয়ম রোধে এবং সবজির দাম নাগালের মধ্যে রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে মূল্য তালিকা না থাকায় এবং অন্যান্য ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বমোট ৮টি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ মোতাবেক ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নূর হোসেন।

বাজার তদারকি অভিযানে সহযোগিতা করেন চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকশ টিম। চাঁদপুর ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন বলেন, অনিয়ম রোধে এবং দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক উর্ধ্বগতি ঠেকাতে ভোক্তা অধিদপ্তর চাঁদপুর এর অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরে ৭০ বোতল ফেনসিডিল ও ৮ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে ৭০ বোতল ফেনসিডিল ও ৮ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালে চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ এমদাদুল ইসলাম মিঠুন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার খাজুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার আহসান উল্যাহর ছেলে আনোয়া হোসেন (৩৯), একই উপজেলার মৃত সিরাজ উদ্দিন এর ছেলে নূর হোসেন (৩৯) কে ৬ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বাপন সেন। যার আনুমানিক মূল্য এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা। বাপন সেন বাদী হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

একইদিন দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর শ্রীরামদী গ্রামের মাদ্রাসা রোডস্থ লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা গ্রামের মৃত মোঃ মেহের উল্যাহর ছেলে আব্দুল কুদ্দুছ পাটওয়ারী রোমান (২৩) এবং তার স্ত্রী নাজমা আক্তার (২০) কে ৭০ বোতল ফেনসিডিল ও ২ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক পিয়ার হোসেন। যার আনুমানিক মূল্য এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা। পিয়ার হোসেন বাদী হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

চলমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দল একটু সুযোগ পাচ্ছে, তাদেরকে কেউ ডিস্টার্ব করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে আমাদের বিরোধী দল একটু সুযোগ পাচ্ছে। তারা আন্দোলন করবে, করুক। আমি আজকেও নির্দেশ দিয়েছি- খবরদার যারা আন্দোলন করছেন, তাদের কাউকে যেন গ্রেফতার বা ডিস্টার্ব না করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘তারা প্রধানমন্ত্রীর অফিস ঘেরাও দেবেন, আমি বলেছি- হ্যাঁ আসতে দেবো। কেননা আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি দেশের জন্য কাজ করতে। মানুষ তো সেটা জানে।’

রোববার (১৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের আটটি বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আন্দোলন করে কতটুকু সফল হবেন জানি না। তবে তারা যেভাবে করতে চাচ্ছেন, তাতে দেশের জন্য আরও ক্ষতি হবে। কিন্তু সেটা আমরা সামাল দিতে পারবো, সেই বিশ্বাস আমার আছে। হয়তো আরও কিছুদিন আমাদের কষ্ট করতে হবে।’

বিশ্বব্যাপী চলমান মন্দার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলন হতে পারে। কিন্তু বাড়াবাড়ি দেশের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের কষ্ট বাড়াবে, যেটা তাদেরও বোঝা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিরোধী দলসহ নানা জনে, নানা কথা বলবে। সুযোগ নেওয়ারও চেষ্টা করবে। তবে তারা যদি এসব বেশি করতে যায়, তাহলে তার প্রভাবে মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে। এটাও তাদের বোঝা উচিত।’

জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার আন্তরিক জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মানুষের কষ্ট যে হচ্ছে, সেটা সরকারও উপলব্ধি করতে পারছে। এজন্য প্রতিনিয়ত সেই কষ্ট লাঘবের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশেও সমন্বয় করা হবে। যখনই বিশ্ববাজারে দাম কমবে, আমরা দ্রুত অ্যাডজাস্ট করবো। সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুতের এ সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী সমসাময়িক সংকট কাটাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কমিয়ে আনায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা মহামারি যেতে না যেতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে স্যাংশন-পাল্টা স্যাংশনে জনজীবনে সর্বনাশ ডেকে আনছে। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছেন সারা বিশ্বের মানুষ।’

প্রধানমন্ত্র আরও বলেন, ‘আর আমাদের কিছু লোক তো থাকেনই, যারা অপ্রয়োজনেও জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেন ওই ছুতো ধরে। সেটাও হচ্ছে কিছু কিছু। না হলে এত দাম তো বাড়ার কথা নয়।’

দেশের সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে, সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশের সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে, সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এখন বিশ্বজুড়ে। তাই সারা বিশ্বেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। ফলে সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে, সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই। মানুষের কষ্ট বেড়েছে, সেই কষ্ট যাতে না থাকে, সে জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আজ সকালে রংপুর শহরে সেন্ট্রাল রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে কমছে না ডলারের দাম বেশি হওয়ায়। এর ফলে দেশে আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণে ট্যারিফ কমিশন কাজ করছে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক বাজারে দাম কমার ফলে দেশের বাজারেও পণ্যের দামের কিছুটা প্রভাব পড়া শুরু করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বেহেশতে আছেন, বিএনপির এই অভিযোগ সঠিক নয়। জীবিত অবস্থায় তো বেহেশত পাওয়া যায় না। বেহেশত-দোজখ মানুষ মারা গেলে বুঝতে পারে।

বেড়িবাঁধ না থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কবিরহাটের ৩ গ্রামের মানুষ

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নে তিনটি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ধানশালিক ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক ও কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে।

গত বুধবার (১০ আগস্ট ) থেকে শুরু হওয়া জোয়ারে পানিতে এসব এলাকা প্লাবিত হয়।

ধানশালিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন বলেন, জোয়ারের পানি হঠাৎ করে এলাকাতে ঢুকে পড়ে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যায় পড়েতে হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার মানুষকে। পানি ঢুকে পড়েছে বাড়ি গুলোতে। বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয় ধানশালিক ইউনিয়নে। জোয়ারের পানিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। কয়েক লক্ষ টাকার মাছ নদীর পানিতে ভেগে গেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৯ হাজার মানুষ।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইউনিয়নটি সাগরের একবারে কাছে হলেও নেই কোনো বেড়িবাঁধ। যার ফলে জোয়ারের সময় এই ইউনিয়নে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। পূর্ণিমা তিথির কারণে নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় গ্রাম গুলো প্লাবিত হয়।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, তাকে এখন পর্যন্ত কেউ বিষয়টি জানায়নি, অফিসারদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন।

নোয়াখালীতে বড় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছোট ভাইকে কুপিয়ে জখম

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে বড় বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সাজ্জাদুল ইসলাম সায়েম (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত সায়েমের বোন বসুরহাট এএইচসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র তামজিদ ইমতিয়াজ (১৬)।

আজ রোববার বেলা ১১টায় ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার বারান্দায় এ ঘটনা ঘটার পর ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন থেকে বসুরহাট এএইচসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র তামজিদ তারই সহপাঠী এক ছাত্রীকে (১৫) উত্ত্যক্ত করে আসছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ছোট ভাই একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাজ্জাদুল ইসলাম সায়েম বোনকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করে। অভিযুক্ত তামজিদ এরপরও ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করলে ছোট ভাই সায়েম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অভিযোগ দেবে বলে তামজিদকে জানায়। এতে তামজিদ ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের চতুর্থ তলার বারান্দায় সায়েম ওপর হামলা করে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত তামজিদ ইমতিয়াজ উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির ছেলে। সে ইতিপূর্বেও অন্যান্য ছাত্রের সঙ্গেও মারামারি করেছে। কারও বাড়িতে গিয়েও হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী ও সায়েমের বাবা নুর ইসলাম নওশাদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যদি কোনো শিক্ষার্থী নিরাপদ না থাকে, তাহলে এর চাইতে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিযুক্ত ইমতিয়াজের মা এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলে অনলাইনে ফ্রি-ফায়ার গেমসে আসক্ত। বাড়িতেও তাকে এসব বিষয়ে শাসন করতে গেলে সে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।’

এ ঘটনার তদন্তকারী এসআই মুজিবর রহমান বলেন, ‘তদন্তে গিয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে সনদপত্রের কোনো গুরুত্ব নেই : ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বর্তমানে সনদপত্রের কোনো গুরুত্ব পৃথিবীতে নেই, তুমি কি জানো এবং কতটা জানো এটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরা ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিপার্টমেন্টের বাইনারি ফেস্ট এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

প্রতি বছরের মতো এবারো উত্তরা ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে বাইনারি ফেস্ট ২০২২। আজ শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ উত্তরার পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ড.মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আরও বলেন, দেখলাম উত্তরা ইউনিভার্সিটি ডিপার্টমেন্ট অফ কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) শিক্ষকরা ইয়াং এ বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। ইয়াংদের হাতে এই ডিপার্টমেন্ট থাকলে ডিপার্টমেন্টে অনেক কাজ হবে। যে সমস্ত কাজের ধারা ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত এবং সমৃদ্ধ হবে।

বাইনারি ফেস্ট ২০২২ এ গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড.ইয়াসমীন আরা লেখা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর উত্তরা ইউনিভার্সিটি। ‌বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নাবিদ আজিজ, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ উত্তরা ইউনিভার্সিটি এবং জনাব আবিদ আজিজ এডভাইজার এডমিশন এন্ড প্রমোশন উত্তরা ইউনিভার্সিটি। সভাপতিত্ব করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এইচ এম সাইফুল্লাহ সাদী ।

বাইনারি ফেস্টে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিপার্টমেন্টের এক্সট্রা কারিকুলার প্রোগ্রাম হিসেবে প্রদর্শিত হয় বিভাগের বিভিন্ন প্রোগ্রামিং কনটেস্ট , সিটিএফ কনটেস্ট, স্পেলিং বি, বারোয়ারি ডিবেট কম্পিটিশন, ছোট গল্প লেখা প্রতিযোগিতা, আইকিউ কনটেস্ট, চেস কনটেস্ট, রোবটিক্স অলিম্পিয়াড এন্ড ভার্চুয়াল প্রজেক্ট সিমুলেশন কমপিটিশন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সকালে নির্যাতনের শিকার ছাত্রের লাশ দুপুরে টয়লেট থেকে উদ্ধার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মাদরাসায় সকালে নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রের লাশ দুপুরে টয়লেট থেকে উদ্ধার হয়েছে। রবিবার পৌর এলাকার কাউতলীর ইব্রাহিমিয়া তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার বালক শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

মাদরাসাছাত্র মোহাম্মদ আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সদর থানার পুলিশ। পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা শিক্ষক হুসাইন আহমেদকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

জব্দ করা হয়েছে মাদরাসার সিসি ক্যামেরা সংশ্লিষ্ট যন্ত্র।

নিহত আলীর বাবা কাউতলী এলাকার কাউছার মিয়ার অভিযোগ, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। দুপুরে খাবার দিতে এসে একটি টয়লেটে ছেলের লাশ দেখতে পান। তখন তার পা মাটিতে লাগানো অবস্থায় ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে পুলিশসহ একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদরাসায় ৭০-৭৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়। প্রতিদিন ভোর থেকেই তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়। অন্যান্য দিনের মতো রবিবারও ভোর থেকে সেখানে পড়ানো শুরু হয়।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুপুরে নামাজের পর তারা মোহাম্মদ আলীকে খুঁজে পাচ্ছিল না। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থী গিয়ে বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে শিক্ষকদের জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

মাদরাসা শিক্ষক মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘দুপুরে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এর মধ্যে সামাইন নামের এক শিক্ষার্থী এসে আমাকে জানায়, বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে দেখেছে। পরে অন্যরাও একই অবস্থা দেখতে পেলে দায়িত্বরত হুজুরকে জানানো হয়। ’

আলীকে মারধরে অভিযুক্ত শিক্ষক হুসাইন আহমেদ বলেন, ‘পড়া না পারায় সকালে মোহাম্মদ আলীকে বেত্রাঘাত করি। পরে বিষয়টি তাকে বুঝিয়েও বলি। পড়া না পারার বিষয়টি তার বাবাকেও জানাই। দুপুরে বাথরুমে তার লাশ দেখতে পেয়ে আমরা হতভম্ভ হয়ে যাই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যদি হত্যা করে থাকি তাহলে সিসি ক্যামেরাতেই সেটা ধরা পড়বে। ’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে মাদরাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ’