All posts by jitu

কুমিল্লার বইপোকার সাহিত্যআড্ডা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ডেস্ক রিপোর্ট:
দুপুর ২টা। বইপোকাদের মনে এক তীব্র উৎকন্ঠা সাহিত্য আড্ডা ও সেমিনার বিষয়ক অনুষ্ঠানে ঠিক সময়ে যেতে পারবে কি-না!

তপ্ত দুপুরে কেউ বাসে করে কেউ-বা আবার অটোতে চেপে প্রেস-ক্লাবের সামনে হাজির হয়েছিল ৩টার এদিক-সেদিকে। বইয়ের গল্প শুনতে। লেখকদের গল্প শুনতে। বইপড়ার নিজের গল্পটি বলত। এমন হাজারও আনন্দকে মনে রেখে সবার উৎফুল্লতা। যার আয়োজক ‘কুমিল্লার বইপোকা’।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কুমিল্লার বইপোকা সংগঠনটি কুমিল্লা ও অনলাইনে সারাদেশব্যাপী তাদের স্বপ্ন, কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বইয়ের সাথে অটুট বন্ধুত্ব গড়ে তোলার প্রত্যয়ে। পাঠকদের মাঝে বইপড়ার আগ্রহ উদ্যম জাগিয়ে তুলতে তাই এবারের আয়োজন সাহিত্যআড্ডা-সেমিনার : বইপড়া ও ক্যারিয়ার বিষয়ক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে।

উক্ত সাহিত্যআড্ডা ও সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠকপ্রিয় লেখক ও সম্মানিত ডেপুটি সিভিল সার্জন কুমিল্লার জনাব নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী এবং কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের সম্মানিত প্রভাষক ও লেখক মেহেদী ধ্রুব (বিসিএস শিক্ষা)।

(উল্লেখ্য যে, লেখক নিসর্গ মেরাজ চৌধুরীর কুমিল্লায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন নিয়ে একটি অনবদ্য উপন্যাস ‘সেই আগুন সেই আলো’ পাঠকমহলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এছাড়াও গল্পকার মেহেদী ধ্রুব’র দুটি গল্পগ্রন্থ ‘মেঘ ও মানুষের গল্প’, ‘একটি মৃত্যুর সাধারণ জীবনচক্র’ সাড়া জাগানিয়া।)

মূলত একজন পাঠকের বইপড়ার দারুণ এই দক্ষতাকে অবচেতনমনে কীভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ক্যারিয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়–এ বিষয়কে সামনে রেখে সম্মানিত অতিথি দুজন তাদের মূল্যবান বক্তব্য এবং নিজেদের বইপড়ার জার্নি ও ক্যারিয়ার গড়ার গল্প উপস্থাপন করেন।

উক্ত সাহিত্যআড্ডায় দূরদূরান্ত থেকে একেএকে উপস্থিত হতে থাকেন অসংখ্য পাঠক। একদল বইপোকা, বইপ্রেমিক। কুমিল্লার বইপোকার পাঠকবৃন্দ।

পাঠকদের অংশগ্রহণে নানান আয়োজনে মুখরিত ছিল সাহিত্যআড্ডাটি। কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলেন কুমিল্লার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলাশ হাসান, একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত জাকিয়া সুলতানা ও নবম শ্রেণির ক্ষুদে পাঠক ইরফান কবির।

শুধু আবৃত্তিই নয় দেশাত্মবোধক গান এবং নাতে রাসুল (সা.) গেয়ে মাতিয়ে তুলেন আরিফ হোসেন সবুজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সাহিত্যআড্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেগমেন্ট বুক রিভিউ। বুক রিভিউতে অংশগ্রহণ করেন কুমিল্লার বইপোকার সাহিত্য সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা ও পাঠচক্র সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ সুজন।

কুমিল্লার বইপোকা পাঠকদের বইপড়ার আগ্রহকে অনুপ্রাণিত করে তুলতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পাঠকদের মাঝে বই উপহার প্রদান করে থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফেসবুক গ্রুপে লেখালেখির জন্য সেরা লেখা ও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেগমেন্টে অংশগ্রহণকারী সেরা পারফর্মাদের মাঝে বই উপহার ও সবার মাঝে স্ন্যাকস্ প্রদান করা হয়।

সাহিত্যআড্ডা ও সেমিনার এই প্রোগ্রামটির সঞ্চালনা করেন কুমিল্লার বইপোকার পাঠচক্র সম্পাদক ফারিয়া আক্তার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সামিউল ইসলাম জিসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার বইপোকা টিমের সদস্যবৃন্দ।

কুমিল্লার বইপোকার স্বপ্নকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

লেখক:

শাকিল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক- কুমিল্লার বইপোকা ।

কুসিক নির্বাচন: কেউই জেতেনি, হেরেছে নির্বাচন কমিশন

বদিউল আলম মজুমদার :

নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রবল উত্তেজনা, ব্যাপক হট্টগোল ও এক অনাকাঙ্ক্ষিত নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। বরাবরের মতো এ নির্বাচনেও জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে এবং মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত সাবেক মেয়র মনিরুল হককে মাত্র ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

দুর্ভাগ্যবশত, মনিরুল হক ছাড়াও এ নির্বাচনে আরও অনেক পরাজিত পক্ষ রয়েছে। আমাদের মতে, এ নির্বাচন শোচনীয়ভাবে হেরেছে নির্বাচন কমিশন। ইভিএমেরও এ নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় ঘটেছে। উপরন্তু সরকারি দলও কুমিল্লার নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি।

প্রথমত, এ নির্বাচনে বিদ্যমান বিধিবিধান প্রয়োগে নির্বাচন কমিশন সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারেনি। ৭ জুন সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ২২ ধারার অধীন ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে ‘কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায়’ অংশগ্রহণ করার অভিযোগে বাহাউদ্দিন বাহারকে অনতিবিলম্বে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগের অনুরোধ করে নির্বাচন কমিশন, যা মাননীয় সংসদ সদস্য অমান্য করেন—আমাদের জানামতে, অতীতে এমন কখনো ঘটেনি। বিধিমালার ৩১ ও ৩২ ধারায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তির, যেমন জেল-জরিমানা ও প্রার্থিতা বাতিলের বিধান থাকলেও কমিশন তা প্রয়োগ করেনি, যদিও চুনোপুঁটিদের বেলায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে কমিশন পিছপা হয়নি। বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনার দাবি করেন যে একজন সংসদ সদস্য এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাঁদের কিছুই করার নেই। আরেকজন কমিশনার বলেন যে সম্মানিত ব্যক্তির সম্মানহানি করা কমিশনের কাজ নয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সিইসি দাবি করেন, সংসদ সদস্যকে ‘আমরা স্থান ত্যাগ করতে বলতে পারি না এবং বলি নাই। কাজেই তিনি কিছু ভঙ্গ করেন নাই। আমরাও ব্যর্থ হই নাই’ (প্রথম আলো, ২১ জুন ২০২২)। এমন আত্মসমর্পণমূলক ও অসংলগ্ন বক্তব্যের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে জনসমক্ষে শুধু হেয়প্রতিপন্নই করা হয়নি, বিধিবিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপারগতার কারণে কমিশনের সদস্যরা ‘আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালনে’র শপথও ভঙ্গ করেছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, যার একটি কারণ হলো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের অসংগতিমূলক বক্তব্য। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০১টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর মনিরুল হক ৬২৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এরপর ফলাফল ঘোষণা ৪৫ মিনিট বন্ধ থাকে, রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, চারটি কেন্দ্রের ফলাফল পেতে বিলম্বের কারণে এমনটি হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছিল। সিইসির নিজের ভাষ্যে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ‘ন্যাচারাল কলের কথা বলে ওয়াশরুমে গেছেন…আর সেই ৫ মিনিটে সব ভোট পাল্টে যাবে, তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ আরেকজন কমিশনার বলেন, ‘১০১টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর যে সমস্যা হলো, ওই সময় ফলাফল ঘোষণার পরিবেশ ছিল না। ওই সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন যে এমন কিছু ঘটে কি না, যাতে ফলাফল শিট ও ল্যাপটপের কিছু হয়ে যায়। তিনি এই ভয়ে ছিলেন’ (প্রথম আলো, ২০ জুন ২০২২)। অর্থাৎ রিটার্নিং কর্মকর্তা যেখানে চারটি কেন্দ্রের ফলাফল পেতে বিলম্বের কারণে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল বলে দাবি করেছেন, সেখানে কমিশন ন্যাচারাল কল ও মালপত্রের নিরাপত্তার বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখায়। এ ছাড়া কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফল প্রকাশ মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ সময়ের পরিমাণ ছিল ৪৫ মিনিট। কমিশনের পক্ষ থেকে এমন অসংগতিমূলক বক্তব্য সন্দেহের উদ্রেক না করে পারে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আসলে জয় পায়নি। কারণ, এ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগণকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভবিষ্যতে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়। একজন দলীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী আচরণবিধি এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা সত্ত্বেও দলের নীরব অবস্থান জনমনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি না করেও পারে না। তাই এ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলও যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের ফলাফল নিয়ে সন্দেহের আরেকটি বড় কারণ হলো চারটি কেন্দ্রের ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্ব। ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভোট গ্রহণ বন্ধের পরপরই ফলাফল পাওয়ার কথা থাকলেও কেন এসব কেন্দ্রের ফলাফল এত দেরিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাল? দেরিতে পাওয়া এসব কেন্দ্রের ফলাফল কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করত না, যদি না এর মাধ্যমে ১০১ কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে ৬২৯ ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থী অনেকটা অলৌকিকভাবে ৩৪৩ ভোটে হেরে না যেতেন। এখানে কোনোরূপ তেলেসমাতি কাজ করেছে কি না, তা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে খতিয়ে দেখতে হবে, যা না হলে কমিশনের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

কুমিল্লার নির্বাচনে আবারও প্রমাণিত হলো যে বায়োমেট্রিক্সভিত্তিক ইভিএম ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। স্মরণ করা যেতে পারে যে গত জাতীয় নির্বাচনে যে ২৯৪টি আসনে ইভিএম ব্যবহৃত হয়নি, সেখানে ভোট পড়ার হার ছিল ৮০ দশমিক ৮০, যার বিপরীতে যে ৬ আসনে ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল, সেখানে সে হার ছিল মাত্র ৫১ দশমিক ৫৪, অর্থাৎ ৩০ শতাংশ কম। কুমিল্লার নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহারের কারণে ভোট পড়ার হার কমেছে। ২০১২ সালে, যখন একটি ভিন্ন মডেলের ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল, তখন ভোট পড়ার হার ছিল ৭৫, পক্ষান্তরে পেপার ব্যালট ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত ২০১৭ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯২, যা এবার ৫৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তাই যে যন্ত্র নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করে, যেকোনো নির্বাচনে তার ব্যবহার সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

আমাদের ইভিএমের আরেকটি সমস্যা হলো এর কারিগরি দুর্বলতা, যে দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি করা সম্ভব। কুমিল্লার নির্বাচনে যা ঘটার আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের ব্যবহৃত ইভিএমে কোনো ‘ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল’ (ভিভিপিএটি) নেই, যার কারণে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলই চূড়ান্ত। কারণ, এই ফলাফল পুনর্গণনা বা অডিট করা যায় না। সফটওয়্যার দ্বারা পরিচালিত যেকোনো যন্ত্রের মতো প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে আমাদের ইভিএম দিয়েও জালিয়াতি করা যায়। এ ছাড়া ইভিএমকে ওভাররাইড করার ক্ষমতা ব্যবহার করেও নির্বাচনী ফলাফল পাল্টিয়ে দেওয়া যায়। প্রসঙ্গত, বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ইভিএমের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ওভাররাইড করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। তাই আমাদের ইভিএমের নির্ভরশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করে ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’ বা মেশিনের পেছনে কারা আছেন, তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। উল্লেখ্য যে গত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্তত দুবার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা ডিজিটাল জালিয়াতিরই প্রতিফলন। আর এসব দুর্বলতার কারণেই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রয়াত অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বর্তমান ইভিএম কেনার সুপারিশে সই করেননি।

আমাদের ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ সিস্টেমে পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যিনি এক ভোটেও এগিয়ে থাকবেন, তিনিই আইনত জয়ী

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর মনিরুল হক দাবি করেন যে তাঁকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইভিএমে ভিভিপিএটি না থাকার কারণে ফলাফল পুনর্গণনার কোনো সুযোগ নেই, তাই তাঁর অভিযোগ সত্য কি মিথ্যা প্রমাণ করাও সম্ভব হবে না। প্রসঙ্গত, এ দুর্বলতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন তাদের ইভিএমে ভিভিপিএটি সংযুক্ত করতে বাধ্য হয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আসলে জয় পায়নি। কারণ, এ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগণকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভবিষ্যতে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়। একজন দলীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী আচরণবিধি এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা সত্ত্বেও দলের নীরব অবস্থান জনমনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি না করেও পারে না। তাই এ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলও যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

লেখক: বদিউল আলম মজুমদার সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সূত্র: প্রথম আলো।

ফলাফলের গেজেট স্থগিত চেয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন সাক্কু

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত মেয়র পদপ্রার্থী মো. মনিরুল হক ওরফে সাক্কু কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল ও গেজেট স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করছেন তিনি। আগামী ২২ জুলাইয়ের আগেই তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মনিরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মনিরুল হক বলেন, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে শিল্পকলা একাডেমির দূরত্ব আধা কিলোমিটার। এই পথ যেতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাঁর এজেন্টদের ফলাফল বিবরণী না দিয়ে দ্রুত চলে যান। দিশাবন্দের নতুন ও পুরোনো ভবন ভোটকেন্দ্রে ফলাফলের তালিকায় যে স্বাক্ষর ও পিন নম্বর আছে, সেটি তাঁর এজেন্টদের নয়। শালবন বিহার কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলে তাঁর এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টেরও নেই। ফলাফল ঘোষণার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অবৈধ হস্তক্ষেপ ও অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবে কালক্ষেপণ করার কারণে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘এটি উপস্থিত শত শত সাংবাদিক দেখেছেন। তাই আমি চার কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানাই। একই সঙ্গে গেজেট স্থগিত করারও আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাব।’

২৩ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আরফানুল হক রিফাত, ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ৯টি সংরক্ষিত ৯টি ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারবেন।

২২ জুন নির্বাচনের চারটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল ও গেজেট স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেন মো. মনিরুল হক।

আবেদনে মনিরুল হক  সাক্কু বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মেয়র পদে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০১টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একটি একটি করে ঘোষণা করেন। এতে মনিরুল হক টেবিলঘড়ি প্রতীকে ৪৮ হাজার ৪৯২ ভোট পান। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৪৭ হাজার ৮৬৩ ভোট পান। ১০১টি ভোটকেন্দ্রে মনিরুল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৬২৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মনিরুল। ১০১টি ভোটকেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর প্রকাশ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা অজ্ঞাত টেলিফোন পেয়ে পাঁচ মিনিটের জন্য সময় চান। এরপর তিনি তাঁর চেয়ার থেকে উঠে যান এবং ফলাফল স্থগিত করেন। আইন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বাকি চারটি ভোটকেন্দ্রের মেয়র প্রার্থীর ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাউন্সিলর পদে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে পদক্ষেপ নেন। তখন মনিরুল হক ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট প্রতিবাদ করেন। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ৪৫ মিনিট ফল স্থগিত রাখেন। তারপর ফলাফল একটি একটি করে ঘোষণা না করে অঘোষিত চারটি কেন্দ্রের ফলাফল ১০১টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে যোগ করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরফানুল হককে ৫০ হাজার ৩১০ ভোট দেখিয়ে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। ১৬ জুন আরফানুল হককে সরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন বাংলাদেশ গেজেটে মেয়রসহ নবনির্বাচিতদের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়। ২৬ জুন ওই গেজেট বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ করার ১৮০ দিনের (ছয় মাস) মধ্যে তা নিষ্পত্তি হবে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে আপিল ট্রাইব্যুনালে রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আপিল করার ১৮০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। মনিরুলের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটের চার দিন পর ব্যাখ্যা দিয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো।

দেবীদ্বারে এলাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবীদ্বারে এলাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন- ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলন উদ্বোধন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাষ্টার।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম মনিরুজ্জামান মাষ্টার।

উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান ভ‚ইয়া ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শেখ আবদুল আউয়াল, আবদুল মতিন মুন্সী, যুগ্ম-সম্পাদক গোলাম ফারুক রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মোঃ হুমায়ুন কবির, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক একেএম সফিকুল আলম কামাল (ভিপি কালাম), কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধুরী, ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক সাজেদা আক্তার মায়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আবদুল মতিন সরকার, সহ-সভাপতি মোছলেহ উদ্দিন মাষ্টার, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিরিন সুলতানা, কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এডভোকেট নাজমা বেগম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আবদুল লতিফ মাষ্টার, লুৎফুর রহমান বাবুল, সিরাজুল ইসলাম সরকারসহ আরো অনেকে।

সম্মেলনে জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিতাসে নারী ইউপি সদস্যের ওপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা, আটক-১

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ
কুমিল্লার তিতাসে মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাদক ব্যবসায়ীদের মারধরের শিকার হয়েছেন নারী ইউপি সদস্য। এঘটনার সাথে জরিত গ্রাম পুলিশ মাদক বিক্রেতা রোকেয়া আক্তার (৩৫)কে আটক করেছে থানা পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেলে উপজেলার গাজীপুর খান সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ সংলগ্ন শহিদুল্লার বাড়ির সামনে। এসময় তার আত্ম চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে আহত অবস্থায় বলরামপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য স্বর্নেহার আক্তার সাকা (৩৫) কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় রাতেই আহত ইউপি সদস্যের স্বামী শেখ ফরিদ সাকা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে তিতাস থানায় একটি মামলায় দায়ের করেন। মামলা নং-৫ তাং ২৭.০৬.২০২২ ইং

ইউপি সদস্য স্বর্নেহার আক্তার সাকা জানান, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে তিতাস উপজেলা থেকে মাদকবিরোধী কর্মশালা শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাজীপুর সরকারি কলেজ মাঠের সংলগ্ন বিবাদী রোকেয়ার বসত ঘর এর সামনে পৌছিয়া বিবাদীদেরকে দেখিয়া মাদক বিক্রি নিষেধ করিলে মাদক ব্যবসায়ী কাউসার (২৫), মৌসুমি আক্তার (২২), শিউলী বেগম (৪৫) ও রোকেয়া বেগমসহ (৩৫) ২/৩ একটি দল ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলায় চালায়এবং এলোপাথারি মারধর করে, হামলাকারীরা ১ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও এক জোর কানের জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বর্নেহার আক্তার সাকা।

এদিকে বিবাদী রোকেয়া আক্তার বলেন, মেম্বরকে মারধর করার ঘটনার সাথে জরিত ছিলাম না এবং ২০১৯ সালে ষড়যন্ত্র করে ৭ পিস ইয়াবা দিয়ে আমাকে মামলা দিয়েছে। অপর দিকে এজহার ভূক্ত আসামী মৌসুমির তার ভাই কাউছারের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে পাওয়া যায়নি, তবে তাদের নানী মাজেদ বেগম (৭৫ )বলেন, তারা বাড়িতে নেই, বড় হাসপাতালে ভর্তি আছে।

গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া (৬৫)বলেন, রোকেয়া আগেও মাদকের ধরা পড়ে জেল খাটছে এবং মৌসুমিরা উৎশৃংখল, তাদের ভয়ে কেউ কথা বলেনা।

তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাইক আহমেদ বলেন সোমবার সন্ধ্যায় মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে এক নারী চিকিৎসা নিতে আসলে আমরা তাকে ভর্তি দিয়েছি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন,বলরামপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্যকে মারধর করার ঘটনায় মামলা হয়ে এবং রোকেয়া আক্তার নামে একজনকে আটক করে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে লরির মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্যান এন্টোনিও এলাকায় একটি লরির মধ্যে অন্তত ৪৬ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা সবাই অভিবাসনের উদ্দেশ্যে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। ঘটনাস্থল থেকে যুক্তরাষ্ট ও মেক্সিকোর সীমান্ত বেশ কাছাকাছি। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৬ জনকে চিকিৎসার জন্য কাছাকাছি থাকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকেই হিট স্ট্রোক করেছে। গুরুতর অবস্থায় থাকাদের মধ্যে ৪ শিশুও রয়েছে। এই লরিগুলো সাধারণত ফ্রিজ করা পণ্য পরিবহণে ব্যবহৃত হয়। তাই কোথাও কোনো ফাঁকা জায়গা ছিল না। অপরদিকে পুরো গাড়িতে কোনো পানি রাখা ছিল না বলেও জানিয়েছেন তারা। এর ফলে ভেতরে ভয়াবহ গরমের সৃষ্টি হয়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।

ওই লরির মধ্যে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছিল তাদের।

দুই ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুই ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

তারা হলেন,চরহাজারী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এনায়েত উল্যাহ ছোটন (৪২)। সে ওই ওয়ার্ডের আজগর সর্দার বাড়ির সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বেচু মিয়ার ছেলে। অপরজন হচ্ছে একই ওয়ার্ডের সাবেক আরেক ইউপি সদস্য আহছান উল্যাহ (৬৪)। তিনি ওই ওয়ার্ডের মাইলওয়ালা বাড়ির আবদুল গফুরের ছেলে।

গত সোমবার (২০ জুন) থেকে দুই জনপ্রতিনিধির ফেসবুকে ইয়াবা সেবনের ভিডিও প্রকাশের পর উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। উপজেলায় একাধিক সাবেক জনপ্রতিনিধির ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অভিযানে নেমেছে। এরপর গত বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে সাবেক মেম্বার আহছান উল্যাকে পুলিশ ২০ পিস ইয়াবাসহ তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। একই মঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় জনগণ।

গত সোমবার রাতে সত্যের সন্ধ্যানে মুখোশ উন্মোচন ফেসবুক আইডিতে সাবেক ইউপি সদস্য ছোটনের ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি আপলোড করা হয়। পরে ভিডিও চিত্রটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে,একটি আঞ্চলিক নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেইজে আহছান উল্যাহ মেম্বারের ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি আপলোড হলে তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরহাজারী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড মাদক কারবারিদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। ফেনী অঞ্চলের সাথে চোরাই পথে যোগাযোগের সুবিধা থাকায় এ অঞ্চলটি মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ। কিছু দিন আগে চরহাজারী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন ইয়াবা সেবী ও কারবারির মধ্যে ইয়াবা বেচাকেনা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের সূত্র ধরে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে সাবেক দুই ইউপি সদস্যদের ইয়াবা সেবনের ভিডিওচিত্র আপলোড করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,ইয়াবা সেবীদের একান্ত সহযোগিরাই এসব ভিডিওচিত্র তাদের মুঠোফোনে ধারণ করে রাখে। বিরোধ দেখা দিলে যা ফাঁস হয়।

আপনার ইয়াবা সেবনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাঁর মুঠোফোনে কল দিয়ে এমন প্রশ্ন করা হলে চরহাজারী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এনায়েত উল্যাহ ছোটন বলেন, আমি গাড়িতে আছি। পরে ফোন দিবেন বলে লাইন কেটে দেন। পরে অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাদেকুর রহমান বলেন,ইতিমধ্যে পুলিশ একজন সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।