All posts by jitu

বাজারে আসছে রিয়েলমি’র নম্বর প্রো সিরিজের উদ্ভাবনী ক্যামেরা স্মার্টফোন

 

ডেস্ক রিপোর্ট:
তরুণদের পছন্দের ব্র্যান্ড রিয়েলমি দেশের বাজারে এর নম্বর প্রো ৫জি সিরিজের নতুন স্মার্টফোন উন্মোচন করবে। প্রো ভার্সনের নম্বর সিরিজের নতুন ডিভাইসগুলো ব্র্যান্ডটির হিরো মডেল হিসেবে পরিচিত। এ বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাজারে রিয়েলমি ৯ সিরিজের দু’টি ফোন উন্মোচন করে। দেশের বাজারে উন্মোচিত হওয়ার পর এ ডিভাইসগুলো ক্রেতাদের মাঝে বিপুল সাড়া পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়েলমি নম্বর সিরিজের ডিভাইসগুলো বৈশ্বিক বাজারে ৪ কোটি বিক্রির মাইলফলক অর্জন করেছে, যা এই ব্র্যান্ডকে ‘বেস্ট-সেলিং’ স্মার্টফোন সিরিজের তালিকায় শীর্ষ দশে নিয়ে গেছে।

রিয়েলমি’র নম্বর প্রো সিরিজের ডিভাইসগুলোর ক্যামেরা ও ডিজাইনে সবসময়ই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসা হয়। এ সেগমেন্টের অধিকাংশ ফোন তৈরি করার সময় প্রথমবারের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়; যা ডিভাইসগুলোকে এর প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলোর ডিভাইসগুলো থেকে আলাদা করে তুলে। যেমন নিজ সেগমেন্টের মধ্যে প্রথমবারের মতো রিয়েলমি ৫ প্রো ডিভাইসে ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ৬ প্রো-তে ২০এক্স জুম লেন্স, ৭ প্রোতে সনি আইএমএক্স ৬৮২ ও ৮ প্রোতে ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অনন্য এ ফিচারগুলো প্রথমবারের মতো এ ডিভাইসগুলোতে নিয়ে আসা হয়। মিড-রেঞ্জ ফোনগুলোতে ব্যবহারকারীদের ফ্ল্যাগশিপ ফিচারের অভিজ্ঞতা প্রদানে সবসময় সচেষ্ট রিয়েলমি। উন্নত মানের ছবি তোলার বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে নম্বর সিরিজের সব প্রো ডিভাইসগুলোর ক্যামেরাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, নম্বর প্রো সিরিজের ডিজাইনে থাকে নতুনত্ব, যা ব্যবহারকারীদের প্রদান করে অনন্য অভিজ্ঞতা।

ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নম্বর সিরিজের নতুন ডিভাইসগুলোতে অসাধারণ ক্যামেরা, নতুন ডিজাইন ও শক্তিশালী ৫জি প্রসেসরের এর মতো ফ্ল্যাগশিপ-লেভেল ফিচার থাকবে। শক্তিশালী ৫জি প্রসেসরের পাশাপাশি সুপারডার্ট চার্জার সম্বলিত এ ফোনগুলো এ সেগমেন্টের ফোনগুলোর মধ্যে সেরা পারফরমেন্স নিশ্চিত করবে। খুব শিগগিরই ব্র্যান্ডটি নতুন ডিভাইসগুলোর নাম ও উন্মোচনের তারিখ ঘোষণা করবে।

উল্লেখ্য যে, রিয়েলমি আগামী ৩ বছরের মধ্যে তরুণ ব্যবহারকারীদের কাছে ১০ কোটি ৫জি ফোন সরবরাহের লক্ষ্যে ৫জি পণ্যের এক বিস্তৃত পোর্টফলিও তৈরিতে কাজ করছে। এই স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটি তাদের উন্নত ‘১+৫+টি’ কৌশলের সাথে এআইওটি ২.০ বিকাশের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এর ফলে সাশ্রয়ী মূল্যের ৫জি ফোন ছাড়াও রিয়েলমি তরুণ প্রজন্মের ক্রেতাদের জন্য আরও অনেক এআইওটি পণ্য বাজারে নিয়ে আসবে।

বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক কিশোরীকে (১৫) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন ,বসুরহাট পৌরসভা ৮নম্বর ওয়ার্ডের মিজানুর রহমান সাহাব উদ্দিনের ছেলে আবু দারদাহ ওরফে বাপ্পী (২৫) ও কবিরহাট পৌরসভা ৪নম্বর ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির মো.সবুজের ছেলে হৃদয় (২৮)।এর মধ্যে বাপ্পীর সঙ্গে মেয়েটির পূর্বপরিচয় ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুন) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ১৬ জুন উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া এলাকার রোকেয়া এভিনিউ ভবনের নিচ তলায় গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরীর মা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি বাপ্পী বসুরহাট বাজারের মসজিদ মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করে। তার দোকানে কেনা কাটা করার সুবাদে তার সাথে ওই কিশোরীর সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে কিশোরীর মোবাইল নম্বর নিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে সে। তারপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিশোরী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে,গত ১৬ জুন বাপ্পী তাকে বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত করার জন্য তার ভাড়া বাসায় ডেকে নেয়। কিশোরী ভাড়া বাসায় গেলে বাপ্পী ও তার বন্ধু হৃদয় একে অপরের সহায়তায় কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শেষে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন করে তারা তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাদেকুর রহমান বলেন,গণধর্ষণের অভিযোগ এনে কিশোরীর মা এজাহার দাখিল করেছে। বুধবার সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চৌদ্দগ্রামে ২০ কেজি গাঁজাসহ একজন আটক

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২০ কেজি গাঁজাসহ বিল্লাল নামে চিহিৃত এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটকৃকত বিল্লাল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের জগমোহনপুরের মৃত আসলাম মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২২ জুন) ভোরে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই পিযূষ কান্তি দাসের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী বিল্লালকে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের জগমোহনপুরের তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘোলপাশার জগমোহনপুর থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ বিল্লাল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত বিল্লালের বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলা দায়ের শেষে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে’।

বুড়িচংয়ে পদ্মা পরিবহনের বাস খাঁদে, আহত ১২

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী পদ্মা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর একটি বাসের সাথে সংঘর্ষে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় প্রায় ১২ জন যাত্রী আহত হয়।

বুধবার (২২ জুন) সকাল ১০ টায় উপজেলার কোরপাই এলাকায় এ দুঘর্টনা ঘটে।

খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্বার তৎপরতা পরিচালনা করে। আহতদের স্থানীয় ইষ্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বাস দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদ্মা সেতু: এক ঐতিহাসিক যাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদন:

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।  দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এই সেতুর উপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

নির্মাণের ইতিহাস:

১৯৯৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী ও দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কে পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ৩,৬৪৩.৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৮.১০ মিটার চওড়া এই সেতুটিকে দেশের সম্ভাব্য দীর্ঘতম সেতু হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে নির্মাণ কাজ শুরু করার এবং ২০০৪ সালের জুনে শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত পরিমাণ ২৬৯৩.৫০ কোটি টাকা বিদেশী উৎস থেকে এবং ৭৫০ কোটি টাকা জাতীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

২০০৬-২০০৭ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে, তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

২০০৮-০৯ সালে প্রকল্প প্রস্তুতির সাথে যুক্ত কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিশ্বব্যাংক তার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং অন্যান্য দাতারা সেটি অনুসরণ করে। এই ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ও সচিব মোশারেফ হোসেন ভূইয়াকে জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে এমন কোনও অভিযোগ প্রমাণ না পাওয়ায় কানাডীয় আদালত মামলাটি বাতিল করে দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ পরবর্তীতে আদালতে খন্ডিত হয়। পরে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এইসিওএম-এর নকশায় পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর’ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্টে। সে সময় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে তখন পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।  বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক) ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের জন্য প্রাক যোগ্যতা দরপত্র আহবান করে। প্রথম পরিকল্পনা অনুসারে, ২০১১ সালের শুরুর দিকে সেতুর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল এবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রধান কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা ছিল।  পরিকল্পনা অনুসারে প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট/উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা/দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর।
নকশা:

পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ সেতু প্রকল্প যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করা হয়। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি নিযুক্ত করা হয়। এ প্যানেল সেতুর নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকল্প কর্মকর্তা, নকশা পরামর্শক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করে।

কর্মপরিকল্পনা:

পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে মূলত পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয় যথা— (ক) মূল সেতু, (খ) নদী শাসন, (গ) জাজিরা সংযোগকারী সড়ক, (ঘ) টোল প্লাজা ইত্যাদি। মাওয়া সংযোগকারী সড়ক, টোল প্লাজা ইত্যাদি এবং মাওয়া ও জাজিরা সার্ভিস এলাকা। প্রকল্পে নিয়োজিত নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল-এইকম’ ভৌত কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রাক-যোগ্যতা দরের নথি প্রস্তুত, টেন্ডার আহ্বানের পর টেন্ডার নথি মূল্যায়ন, টেন্ডার কমিটিকে সহায়তাসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারক করত। ভৌত কাজের বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি।

পাইলিংয়ের সমস্যা:

প্রথম দিকে সেতু নির্মাণকারী প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের পদ্মা নদীর তলদেশের মাটি খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়। তলদেশে স্বাভাবিক মাটি পাওয়া যায়নি। সেতুর পাইলিং কাজ শুরুর পরে সমস্যা দেখা যায়। প্রকৌশলীরা নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটির বদলে নতুন মাটি তৈরি করে পিলার গাঁথার চেষ্টা করে। স্ক্রিন গ্রাউটিং নামের এই পদ্ধতিতেই বসানো হয় পদ্মাসেতু। এ প্রক্রিয়ায় ওপর থেকে পাইপের ছিদ্র দিয়ে রাসায়নিক নদীর তলদেশে পাঠিয়ে মাটির শক্তিমত্তা বাড়ানো হয়। তারপর ওই মাটিতে পিলার গেঁথে দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে পাইলের সঙ্গে স্টিলের ছোট ছোট পাইপ ওয়েল্ডিং করে দেওয়া হয়। পাইপের ভেতর দিয়ে এক ধরনের কেমিক্যাল পাঠিয়ে দেওয়া হয় নদীর তলদেশের মাটিতে। কেমিক্যালের প্রভাবে তখন তলদেশের সেই মাটি শক্ত রূপ ধারণ করে। একপর্যায়ে সেই মাটি পাইলের লোড বহনে সক্ষম হয়ে ওঠে। তখন আর পাইল বসাতে কোনো বাধা থাকে না।

নির্মাণব্যয়:

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

ক্রমিক ব্যয়বৃদ্ধি:

২০০৫ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রাথমিক প্রাক্কলন ধরা হয়েছিল ১২,০০০ কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় পৃথিবীর অন্যান্য তুলনীয় সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের নিরিখে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সর্বমোট নির্মাণ ব্যয় ১০,০০০ কোটি টাকায় সীমিত রাখার পরামর্শ প্রদান করেন। ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একনেক-এর সভায় পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত প্রাক্কলন ১০,১৬১ কোটি অনুমোদন করা হয়।

পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে প্রাক্কলন বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ অনুমোদিত প্রাক্কলনের পরিমাণ ৩০,১৯৩ কোটি টাকা যা মূল প্রাক্কলনের চেয়ে ২০,০৩২ কোটি টাকা বেশী। বলা হয়েছে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়াই প্রকল্প ব্যয় এতো বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ।

মার্কিন ডলারের হিসাবে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সড়ক-রেল সেতুর নির্মাণ ব্যয় এগারো বছরে ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩.৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। চীনের ৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উফেনসাং ইয়াংজী সড়ক-রেল সেতু ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চালু করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে তুলনীয় এই সেতুর নির্মাণে ৪ বছর লেগেছে এবং ব্যয় হয়েছে ১.০৫ বিলিয়ন ডলার যা পদ্মা সেতুর এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম।

নির্মাণের সময়ক্রম:

মূল সেতুর জন্য চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনকে নিযুক্ত করা হয়। চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন নদী শাসনের কাজ করে। বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেডকে দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি দেওয়া হয়। অক্টোবর ২০১৭ সালে মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

২০১৭

৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে পিলারের ওপর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে এই স্প্যান বসানো হয়।
১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান।
১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হয়।
২৯ জুন সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায়।

২০১৮

জানুয়ারি মাসে জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকের ষষ্ঠ শেষ স্প্যান বসে।
২৮ জানুয়ারি পদ্মা সেতুর ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান ৭বি সুপার স্ট্রাকচার বসানো হয়। প্রথম স্প্যান বসানোর প্রায় চার মাস পর জাজিরার নাওডোবা প্রান্তে তিন হাজার ১৫০ টন ধারণ ক্ষমতার এ স্প্যান বসানো হয়।
মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর বসে সপ্তম স্প্যান।

২০১৯

২০ ফেব্রুয়ারি জাজিরা প্রান্তে ৩৬ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ওপর অষ্টম স্প্যান বসানো হয়।
২২ মার্চ সেতুর ৩৫ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর বসে নবম স্প্যানটি।
১০ এপ্রিল মাওয়া প্রান্তে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলারের ওপর দশম স্প্যান।
২৩ এপ্রিল শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর ১১তম স্প্যান বসে।
১৭ মে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝামাঝি স্থানে ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপর ১২তম স্প্যান বসানো হয়।
২৫ মে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর ১৩তম স্প্যান ৩বি বসানো হয়।
২৯ জুন ১৪তম স্প্যান বসানো হয়।
২২ অক্টোবর জাজিরা প্রান্তে ২৪ ও ২৫ নম্বর পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর ১৫তম স্প্যান বসানো হয়।
২৭ নভেম্বর মাওয়া প্রান্তে ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারের ওপর ১৬তম স্পানটি বসানো হয়।
২০১৯ সালেল ৫ ডিসেম্বর পিলার ২২ ও ২৩–এর ওপর মূল সেতুর ১৭তম স্প্যানটি বসানো হয়।
১১ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান বসানো হয়।
১৮ ডিসেম্বর বসানো হয় ১৯তম স্প্যান।
৩১ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১৮ ও ১৯ নম্বর পিলারের উপরে বসানো হয় পদ্মা সেতুর ২০তম স্প্যান। ধূসর রঙের ‘৩-এফ’ নম্বরের স্প্যানটি খুঁটির উপরে বসানো হয়।

২০২০

১৪ জানুয়ারি পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় ২১তম স্প্যান।
২৩ জানুয়ারি মাওয়া প্রান্তের ৫ ও ৬ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় ২২তম স্প্যান।
২ ফেব্রুয়ারি বসেছে ২৩তম স্প্যান।
১১ ফেব্রুয়ারি বসেছে ২৪তম স্প্যান।
২১ ফেব্রুয়ারি ২৫তম স্প্যান বসানো হয়।
১০ মার্চ পদ্মা সেতুর ২৬তম স্প্যান বসানো হয়। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় এই স্প্যান।
২০ এপ্রিল ২৭তম স্প্যানটি পিলার-২৭ ও ২৮-এর ওপর বসানো হয়।
১১ এপ্রিল জাজিরা প্রান্তে বসানো হয় ২৮তম স্প্যান।
৪ মে মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১৯ ও ২০তম পিলারের ওপর ‘৪এ’ আইডি নম্বরে সেতুর ২৯তম স্প্যান বসানো হয়।
৩০ মে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারের (খুঁটি) ওপর বসানো হয় ৩০তম স্প্যান।
১০ জুন পদ্মা সেতুর ৩১তম স্প্যান বসানো হয়। সেতুর ২৫ ও ২৬ নম্বর পিয়ারে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৫-এ স্প্যান বসানো হয়।
১১ অক্টোবর পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যানটি বসানো হয়। পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দিন বসানো সম্ভব না হলেও প্রকৌশলীদের প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় দিনে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। বন্যা ও পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে স্প্যানটি বসানো হয় চার মাস পর।
২০ অক্টোবর বসানো হয় সেতুর ৩৩তম স্প্যান।
২৫ অক্টোবর ৩৪তম স্প্যান বসানো হয় সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৭ ও ৮ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান ২-এ।
৩১ অক্টোবর ৩৫তম স্প্যান বসানো হয় মাওয়া প্রান্তে ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান ২-বিতে।
৬ নভেম্বর পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যান বসানো হয় সেতুর মাওয়া প্রান্তের ২ ও ৩ নম্বর পিলারের ওপর।
১৩ নভেম্বর ৩৭তম স্প্যান ‘২-সি’ মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৯ ও ১০নং পিলারের ওপর বসানো হয়।
২১ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৮তম স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হয়।
২৭ নভেম্বর ৩৯ তম স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়। স্প্যানটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের ওপর ‘২-ডি’ স্প্যানটি বসানো হয়।
৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ৪০তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর ছয় হাজার মিটার।
১০ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ তম পিলারে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পুরো পদ্মা সেতু।

২০২১ :  ২৩ আগস্ট সর্বশেষ সড়ক স্ল্যাব বসানো হয়।

২০২২:  ৪ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ধাপে ধাপে সেতুর ৪১৫ বাতির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ১৪ জুন একযোগে সবগুলো বাতি জ্বালানো হয়। ২৫ জুন শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করবেন।

চুক্তিবদ্ধ সংস্থা:

২০১৪ সালের ১৭ জুন পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনের কোম্পানিটি পদ্মাসেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায়। পদ্মা সেতু নির্মাণে ২০১০ সালে প্রথম দরপত্র আহবান করা হলে সেখানে প্রাক-যোগ্যত অর্জনের জন্য ৪০টি কোম্পানি অংশ নেয়। বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও এডিবির তত্বাবধানে এদের মধ্যে ৫টি কোম্পানিকে বাছাই করা হয়। পরে বিশ্বব্যাংকের আপত্তির কারণে একটি কোম্পানি বাদ পড়ে যায়। আর্থিক প্রস্তাব আহ্বান করলে শুধুমাত্র চীনের এই কোম্পানিটি আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়। কোম্পানিটি চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের অধীনস্থ।

২০২২ সালের এপ্রিলে সেতু বিভাগের অধীনে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পদ্মা বহুমুখী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

টোল:

২৮ এপ্রিল ২০২২ সালে সেতু মন্ত্রণালয় পদ্মা সেতুর জন্য টোলের হার প্রস্তাব করে ও তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠায়। ১৭ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিবহনের জন্য আলাদা আলাদা টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

পদ্মা বহুমুখী সেতুর মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে বাংলাদেশের কেন্দ্রের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়। এই সেতুটি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে। প্রকল্পটির ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪৪,০০০ বর্গ কিঃমিঃ (১৭,০০০ বর্গ মাইল) বা বাংলাদেশের মোট এলাকার ২৯% অঞ্চলজুড়ে ৩ কোটিরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। ফলে প্রকল্পটি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। সেতুটিতে ভবিষ্যতে রেল, গ্যাস, বৈদ্যুতিক লাইন এবং ফাইবার অপটিক কেবল সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সেতুটি নির্মিত হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

বন্যায় সারাদেশে ৪২ জনের মৃত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

বন্যার সময় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ও বন্যাসৃষ্ট কিছু দুর্ঘটনায় সারা দেশে এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ১৭ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় অধিদপ্তর।

সারা দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের এক প্রতিবেদনে বুধবার বিকালে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বন্যায় বিভিন্ন রোগে ২ হাজার ৯৩৪ জন আক্রান্ত থাকলেও আজ (বুধবার) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪০৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

এতে জানানো হয়, ‘গত ১৭ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৫১৬ জন। তবে এখন পর্যন্ত ডায়রিয়ায় কারো মৃত্যু হয়নি। এ ছাড়া আরটিআই (চোখের রোগ) রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১১৩ জন। এ রোগেও কারো মৃত্যু হয়নি।’

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ‘বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন, তাদের মধ্যে ১২ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। সাপের দংশনে চারজন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে পানিতে ডুবে মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৬৩ জন, চোখের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ জন, নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন ৩৯ জন। এ ছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪৮১ জন।’

গোমতী নদীর পানি বেড়ে তিতাসে তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ ঘর-বাড়ি

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাস :
টানা বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানী বৃদ্ধি পাওয়ায় তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের বেরিবাঁধ এলাকার কয়েকটি গ্রামের ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘেরসহ তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। এতে করে কয়েকটি সংযোগ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার।

বুধবার (২২ জুন) সকালে ঐসব এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মোজাম্মেল হক, উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ, ৫নং কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইব্রাহিম সরকার, ইউপি সদস্য ডালিম ও মিজানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহারী ঢলে তিতাস উপজেলা দিয়ে ভয়ে যাওয়ায় গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ মানিকনগর, উত্তর মানিকনগর ও আফজালকান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলা রক্ষার জন্য নির্মিত বেরিবাধঁ।

এছাড়াও হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে বেরীবাঁধ এলাকার প্রায় ১৫ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশেহারা কৃষকরা।

কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম সরকার বলেন, হঠাৎ করেই গোমতীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের ৩-৪টি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসিল জমিসহ ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। স্যার এসে পরিদর্শন করে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্তএলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলে তাদেরকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সে সকল রাস্তাঘাট ভাঙ্গন দেখা দিছে তা দ্রুত মেরামত করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। এছাড়াও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরী সেবা পৌছে দিতে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছেন বলে ইউএনও জানান।