All posts by jitu

বৈদেশিক মুদ্রার শতভাগ জোগান দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকায় অগ্রণী ব্যাংক

তারিক চয়ন:

আগামী ২৫শে জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল আকাঙ্ক্ষিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরদিন সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু তৈরিতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লাগছে, এর পুরোটাই দিচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক- অগ্রণী ব্যাংক। বিস্ময়কর হলেও সত্য দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রাই নিতে হয়নি!

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন ২.৪ বিলিয়ন ডলার। বাকিটা পরিশোধ করা যাবে স্থানীয় মুদ্রায়। শুরু থেকে আজ অব্দি অগ্রণী ব্যাংক পদ্মা সেতু তৈরিতে এককভাবে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকার ব্যাংকটিকে ইউএস ডলারের বিনিময়ে স্থানীয় মুদ্রা (টাকা) ফেরত দিচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১২ সালে পদ্মা সেতুর হিসাব খোলা হয় ব্যাংকটির গুলশান শাখায়। আর ডলার সরবরাহ করা শুরু হয় পরের বছর (২০১৩ সাল) থেকে। ওই বছর ৬.২৬ মিলিয়ন ডলার সরবরাহ করা হয়েছিল।

এর ঠিক পরের বছরই (২০১৪) তা লাফিয়ে বেড়ে ২৭৬.৮৬ মিলিয়নে গিয়ে ঠেকে। শুধু ২০১৮ সাল (৭২.২০ মিলিয়ন) বাদ দিলে প্রতি বছরই ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত (১৯শে জুন) ৫৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার সরবরাহ করা হয়েছে। আর ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে অগ্রণী ব্যাংক মোট ১৪৪৯.১৯ মিলিয়ন বা ১.৪৪৯ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছে।

বাংলাদেশে গত এপ্রিল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ বাড়লেও মে মাসেই রেমিটেন্স প্রবাহ ১৩% কমে যায়। দেশে হঠাৎ করে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেলেও পদ্মা সেতু প্রকল্পে ডলার সরবরাহ করা বন্ধ করেনি অগ্রণী ব্যাংক। বরং, এ মাস শেষ না হতেই মাত্র ১৯ দিনে (জুন ১-জুন ১৯) বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় আরও বেশি (১৪.৭৯ মিলিয়ন) ডলার সরবরাহ করেছে অগ্রণী ব্যাংক। এভাবেই, নিজস্ব রপ্তানি এবং রেমিটেন্স থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরিতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার পুরোটাই সরবরাহ করে যাছে অগ্রণী ব্যাংক। বাকি যে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করতে হবে, সেটিও অগ্রণী ব্যাংক-ই সরবরাহ করবে বলে  নিশ্চিত করে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংক এর নামকরণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতার দেওয়া নামের চেতনায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ও মনোবলের কারণেই আমরা পদ্মা সেতু প্রকল্পে এভাবে সহযোগিতা করে যেতে সক্ষম হয়েছি। আমরা জাতির পিতার ‘অগ্রণী ব্যাংক’ নামকরণের স্বার্থকতা ধরে রাখতে পেরেছি বলে গর্বিত।

আমাদের এই সাফল্যের পেছনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. জায়েদ বখত, দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ সহ ১২,০০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যেকের অবদান রয়েছে। এছাড়াও, সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব), পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বর্তমান সেতু বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের আন্তরিক সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করছি।’

পদ্মা সেতু তৈরিতে এককভাবে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করতে কোনো ধরনের সমস্যা বা সংকটে পড়তে হয়েছে কিনা কিংবা ভবিষ্যতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অর্থায়নে ডলারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল যার আওতায় কোনো সমস্যা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা দেবে বলেছিল। শুরুতে এমনটাই কথা ছিল। কিন্তু, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে আমাদের একটি ডলারও নিতে হয়নি। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমতে দেইনি। আমাদের রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় থেকে এখন পর্যন্ত ১৪৪৯.১৯ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছি। পদ্মা সেতুতে যত বৈদেশিক মুদ্রা লাগছে, তার পুরোটাই আমরা দিচ্ছি। সামনেও দিতে পারবো। সুতরাং, আমরা গর্বের সঙ্গে বলতেই পারি, অগ্রণী ব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের বড় অংশীদার। কারণ, পদ্মা সেতুতে এত বড় ভূমিকা ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্য কারোরই নেই।’

জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দেশি ও বিদেশি উভয় প্রকার অর্থই পরিশোধ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের উন্নয়নে গৃহীত নানামুখী মেগাপ্রকল্পেই অর্থায়ন করে আসছে অগ্রণী ব্যাংক। ১৫টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এই ব্যাংক ১,৭১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল, যেগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে দুই হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া, দেশে প্রথম পিপিপি’র আওতায় নির্মিত ১১.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ (রাজধানী ঢাকার) মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারেও অর্থায়ন করেছিল অগ্রণী ব্যাংক।

সূত্র: মানবজমিন।

খাদ্য সহায়তা নিয়ে সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের পাশে চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগ

 

চান্দিনা প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে তারা সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২শত ৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌঁছে দিয়েছেন।

ত্রাণ সামগ্রীতে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওরসেলাইন, গুড় ইত্যাদি প্যাকেটজাত করে বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী ইয়াছিন আহমেদ অভি’র নেতৃত্বে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সজীব, উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক তানভীর, পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ মামুন প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

ডিজিটাল পাওয়ার ও ক্লাউড সার্ভিসে ৬০ জনকে নিয়োগ দিবে হুয়াওয়ে

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছে এমন ৬০ জনকে নিয়োগ দিবে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। ব্যক্তি, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনসহ সকলের কাছে ডিজিটাল পাওয়ার এবং ক্লাউড সল্যুশনস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নিয়োগ দেয়া হবে।

হুয়াওয়ে ডিজিটালাইজেশন ও গ্রিন ডেভেলপমেন্টকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। পাশাপাশি, তরুণরা যাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আইসিটি ইকোসিস্টেমকে বিকশিত করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন, সে সুযোগ তৈরিতেও কাজ করছে হুয়াওয়ে। আর এই লক্ষ্য থেকেই ৩য় পক্ষভিত্তিক চুক্তির আওতায় এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। পদগুলো হলো: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ, সল্যুশনস আর্কিটেক্ট ও সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার।

এ নিয়ে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস ( বাংলাদেশ) লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক হুয়াং বাওশিওং বলেন, “গ্রিন ডেভেলপমেন্টকে উৎসাহিত করতে ও দেশের তরুণদের নানাভাবে সহায়তা করতে হুয়াওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রাম আয়োজনের পাশাপাশি হুয়াওয়ে সদ্য পাশ করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, যাতে করে তারা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করতে পারেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণে অনুপ্রাণিত করতে চাই, যা তাদের ক্যারিয়ারের পথচলাকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশন ও গ্রিন ডেভেলপমেন্টকে উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে।”

সারা দেশের সিএসই, ইইই, ইসিই কিংবা ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এসব পদে আবেদন করতে পারবে। সদ্য স্নাতক পাশ করেছে অথবা ৪র্থ বর্ষ বা শেষ সেমিস্টারে পড়ছে এমন শিক্ষার্থীরা এই পদের জন্য অগ্রাধিকার পাবে। মাসিক বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ৬ মাসের চাকরির শেষে এই ৬০ জন কর্মীদের একটি করে চাকরীর সনদ প্রদান করা হবে। জুন ২০২২ এর মধ্যে আগ্রহীরা pacd.bangladesh@huawei.com এ ঠিকানায় ইমেল প্রেরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

বিশ্বের ৮ দেশে যাবে নওগাঁর আম

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নওগাঁর সাপাহারের আম যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। উপজেলার ‘বরেন্দ্র অ্যাগ্রোপার্ক’ এর মালিক সোহেল রানা তার বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আমগুলো রপ্তানি করছেন। সোমবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম চালান হিসেব এক টন (প্রায় এক হাজার কেজি) আম পিকআপে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ চালান উড়োজাহাজে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে যাবে। কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বা উত্তম কৃষিচর্চার মাধ্যমে চাষ করা এ আম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল অ্যাগ্রো লিমিটেডের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ মেট্রিক টন। সে হিসাবে প্রায় তিন লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার বিশ্বের আটটি দেশে নওগাঁর আম রপ্তানি হবে।

দেশগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন, জার্মানি, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান।

উত্তম কৃষিচর্চার মাধ্যমে আম চাষের জন্য কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার ৮০ আম চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব চাষির বাগানে ৯০ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনায় চাষ হওয়া অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম চলতি মৌসুমে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১৫ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছিল।

জেলার বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, ধামইরহাট এবং পত্নীতলা উপজেলার আংশিক এলাকা। এসব এলাকা আম্রপালি আমের জন্য বিখ্যাত। আমগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট।

বরেন্দ্র অ্যাগ্রোপার্কের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, ইংল্যান্ডে রপ্তানির জন্য এক মেট্রিক টন আম নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কোয়ারেন্টাইন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মান নিশ্চিত করা হবে। এরপর ছোট ছোট কাগজের কার্টনে দুই কেজি করে প্যাকেজিং করা হবে। প্রতি কেজি আম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। রপ্তানিকারকরা দেশের বাইরে পরিবহন, প্যাকেজিং ও আনুষঙ্গিক সব খরচসহ প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন।

তিনি আরও বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম চাষে কৃষি অধিদপ্তর থেকে একাধিকবার প্রশিক্ষণ নিয়েছি। গত বছর থেকে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে আম চাষ করা হচ্ছে। এ বছর ১০০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা দুটি বাগানে আম চাষ করা করেছি। বাগানে রপ্তানি উপযোগী মিয়াজাকি, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো, রেড পালমার, টেনসিংটন প্রাইড, অস্টিন, বারি-৪, গৌরমতি, কাটিমন জাতের আম চাষ হয়েছে। গত বছর আট মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হয়েছে। এ বছর অন্তত ৫০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির আশা করছি।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, এ মৌসুমে বাইরের আটটি দেশে আম রপ্তানি করা হবে। নিরাপদ আম রপ্তানির লক্ষ্যে জেলার ৮০ জন চাষিকে উত্তম কৃষিচর্চার মাধ্যমে আম চাষের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরমধ্যে বেশকিছু চাষির সঙ্গে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর চুক্তি হয়েছে। চুক্তিবদ্ধ চাষিরা আম চাষ করছেন। তাদের মধ্যে সোহেল রানা নামে এক চাষি তার বাগান থেকে আম্রপালি আম পাঠাচ্ছেন। এটি চলতি বছর নওগাঁ থেকে বিদেশে আম রপ্তানির প্রথম চালান।

কুমিল্লার বরুড়ায় যমজ দুই নবজাতকের নাম পদ্মা ও সেতু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া যমজ দুই শিশুর নাম রাখা হয়েছে পদ্মা ও সেতু। বিনামূল্যে তাদের আজীবন চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে স্বাভাবিকভাবেই শিশু দুটির জন্ম হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান সোহেল বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শশইয়া এলাকার সোহাগ মিয়ার স্ত্রী ঝুমুর আক্তার নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে প্রথমে একটি শিশুর জন্ম দেন। এর এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর আরেকটি শিশুর জন্ম হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে নবজাতক দুটির নাম রাখা হয় দেশের আলোচিত সেতুর নামে—‘পদ্মা’ ও ‘সেতু’। নবজাতক ও তাদের মা সুস্থ আছেন।’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নবজাতকদের উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত সবধরনের সুবিধার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবে। আজীবন তাদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মোটরসাইকেল-সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ আরও ৩জন আহত হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের কবিরহাট টু সোনাপুর সড়কের মৌলভী বাজারের পশ্চিমে জামালের দোকান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মো.মামুন (১৮) সে কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের নুর ইসলাম মাস্টার বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে।

নিহতের পিতা আব্দুল মান্নান জানান, মামুন পেশায় বড় গাড়ির মেকানিক ছিল। সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেরার বসুরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন গোয়ালের পোল এলাকার একটি ওয়ার্কশপে বাস,প্রাইভেটকার,মাইক্রো মেকানিক হিসেবে কাজ করত। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে তাদের ওয়ার্কশপে একটি গাড়ি আসে কাজ করানোর জন্য। তখন মামুন আরেক জন যুবকের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে ওই গাড়ির জন্য মাল কিনতে সোনাপুরের উদ্দেশ্যে বের হয়। যাত্রা পথে তাদের মোটরসাইকেলটি অশ্বদিয়া ইউনিয়নের কবিরহাট টু সোনাপুর সড়কের মৌলভী বাজারের পশ্চিমে জামাল দোকান পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির সিএনজি চালিত অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মামুন মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত যুবকের পরিবারের বক্তব্যের আলোকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিজারের সময় কেটে ফেলা হল নবজাতকের মাথা, রেখে দেওয়া হল মায়ের গর্ভেই

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সিজার প্রক্রিয়ায় শিশুর জন্মের সময় নবজাতকের মাথাই কেটে ফেলা হল। এরপর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা মায়ের গর্ভের মধ্যেই রেখে দেওয়া হল। শিউরে ওঠার মত ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে। ঘটনার জেরে ওই প্রসুতির স্বাস্থ্য নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সিন্ধ প্রশাসন। দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, গাফিলতির শিকার ওই নারী অনেক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে একটি গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সেখানে কোনও নারী চিকিৎসক না থাকায় অনভিজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীরাই ওই প্রসূতির অস্ত্রপোচার করেন। কিন্তু প্রকৃত প্রশিক্ষণ না থাকায় তারা এই কাণ্ড ঘটান। সদ্যোজাতের মাথাটি তখনও ওই নারীর গর্ভের মধ্যে থাকায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।তার জরায়ু ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে তাকে সেখান থেকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই নারীর গর্ভ থেকে মাথাটি বের করে আনেন। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব হেল্থ জামান বাহাতো ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: ডন, দ্য সান

দক্ষিণ চীনে ভয়াবহ বন্যা, ২ লাখ মানুষ উদ্ধার

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

চীনের বন্যা কবলিত দক্ষিণাঞ্চল থেকে কয়েক লাখ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ভূমিধসের কারণে ওই এলাকাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গুয়ানডং, গুয়াংজি ও জিয়াংজি প্রদেশসহ গোটা চীনের ৮৫টি নদীর পানি বিদৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গুয়ানডং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো।এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে গুয়াংজি এলাকায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে ২৭০০ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত।

আর জিয়াংজি প্রদেশে পাঁচ লাখ মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত।

সূত্র: আল জাজিরা

সদর দক্ষিণ থেকে ১৬৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১৬৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ মোঃ জামাল হোসেন (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের গোপাল নগর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব।

আটককৃত যুবক কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার দড়িবট গ্রামের মোঃ ইমান হোসেনের ছেলে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।