All posts by jitu

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য দোয়া মোনাজাত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের হযরত শাহ জালাল (রা.) ও হযরত শাহ পরানের (রা.) মাজার জিয়ারত করেন। এসময় তিনি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া মোনাজাত করেন।

এরআগে মঙ্গলবার (২১ জুন) সকাল ৮টায় তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে সিলেট সার্কিট হাউজে যান।

সার্কিট হাউজে প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন বিষয়ে এক ‘মতবিনিময় সভায়’ অংশ নেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বন্যা মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। সিলেট অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের যত খাদ্য ও ওষুধ লাগে সব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বন্যায় মাছচাষিরা যাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নেবে সরকার। বন্যায় যারা কাজ করছেন, তাদেরও সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ও বিরোধী দল সব অবস্থাতেই সবার আগে দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যায়। আমি বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষ। বন্যায় আমাদের বসবাস। আমি বন্যাকবলিত মানুষের কষ্ট বুঝি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুটি হেলিকপ্টারে তার সফরসঙ্গী ছিলেন তথ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিবেশমন্ত্রী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, আহমদ হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, এসএসএফের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব, একান্ত সচিব-১, ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পিজিআরের কমাণ্ডার, এডিসি, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১, এসএসএফের চারজন, বিটিভির ক্যামেরাম্যান এবং মিডিয়া সদস্য চারজন।

দাউদকান্দিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা!

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের গাফলতির কারনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

সোমবার সন্ধ্যায় কলেজের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে এমন অভিযোগ করেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

পরীক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা ও ইমন সাহাসহ শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ দিপু মনি ম্যাডাম আমাদেরকে এখানে ভর্তি করান। পরে যখন আমরা দেখি যে বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজের নামে আমাদের ভর্তির ম্যাসেজ আসছে, তখন তাকে জিজ্ঞেস করলে বলে মাইলস্টোন হলো বরকোটা কলেজের দ্বিতীয় শাখা। মাইলস্টোনে মাসিক দুই হাজার টাকা বেতনসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক টাকা পরিশোধ করেছি আমরা। এখন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করার শেষ সময়ে আমাদেরকে বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজে যেতে বলেন দিপু মনি ম্যাডাম। সোমবার সেখানে গেলে ওই কলেজের অধ্যক্ষ আমাদের দুই বছরের বেতনসহ অন্যান্য ফি বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানায়। সেগুলো পরিশোধ করা হলে আমাদের ফরম পূরণ করার সুযোগ দিবে। তাহলে আমরা মাইলস্টোনে যে টাকা পরিশোধ করেছি সেগুলো কোথায় গেলো? এখন আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো? আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি কিনা বুঝতে পারছি না। আমরা বোর্ড নির্ধারিত ফি দিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ দিপু মনি বলেন, বরকোটা কলেজের অধ্যক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই এখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করিয়েছি। এখন ফরম পূরণের সময় প্রতি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা দাবী করছে। এতো টাকা পরীক্ষার্থীরা দিতে পারছে না বলেই একটু সমস্যা হচ্ছে।

বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, বরকোটা কলেজের নামে কাউকে পাঠদানের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। ২৩ জন পরীক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দুই বছরের বেতন, সেসন ফি, মুল্যায়ন ফি, এ্যাসাইনমেন্ট ফি জরিমানাসহ অনুসাঙ্গিক প্রায় ৪০ হাজার টাকা কলেজে বকেয়া। দুই বছর তারা কোথায় বেতন দিয়েছে সেটা আমার দেখার বিষয় না। শিক্ষার্থীদের বলেছি অভিভাবক নিয়ে আসতে, আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিনুল হাসান বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীর কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ নিশ্চিত করতে উভয় প্রতিষ্টান প্রধানের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবো। আর শিক্ষার্থীদের সাথে কোন ধরনের প্রতারনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারের ‘ইভ্যালি কৌশল’ কুসিক নির্বাচনে ব্যর্থ

ডা. জাহেদ উর রহমান:

এখন কুমিল্লায় যেভাবে প্রশ্ন উঠে গেল নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে, যেভাবে প্রশ্ন আসলো মাত্র একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা নিয়ে, সরকারের প্রতিও প্রশ্ন উঠলো কেন একজন দলীয় এমপিকে তারা সামলালো না, তারপর কি সরকারের দিক থেকে আর কোনোভাবে বলা সম্ভব দলীয় সরকারের অধীনে একটা জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে?

কুমিল্লার নির্বাচনের ফলাফলে সরকারের প্রতি কুমিল্লা শহরের জনগণের এক বিরাট অনাস্থা প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে খুব স্পষ্টভাবেই দেখা যায় দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় একই সমান ভোট পেয়েছেন কিন্তু তৃতীয় হওয়া প্রার্থী প্রায় ৩০ হাজার ভোট পেয়েছেন যিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই প্রার্থীর মোট ভোট সরকারি দলের প্রার্থীর চেয়ে ৩০ হাজারের মতো বেশি। সত্যি বলতে পার্থক্যটা আরও অনেক বড়। বিএনপি’র বহিষ্কৃত দুই প্রার্থী স্বভাবতই ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেননি। যদি একজন মনোনয়ন পেয়ে সেটা করতেন, তাহলে সেটার সাড়া আরও অনেক বেশি হতো। শুধু সেটাই নয়, বিএনপি’র এই দুই জনকে বহিষ্কার করার পর দলের হাইকমান্ড খুব শক্ত হুমকি দিয়ে বলেছিল এই দু’জনের পক্ষে যেন বিএনপি’র কোনো নেতাকর্মী প্রচারণা এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ না করেন। অথচ বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে স্থানীয় তো বটেই কেন্দ্রীয় নেতারাও সেখানে প্রচারণায় যেতে পারতেন। তাহলে ফল আরও কতোটা ধানের শীষের পক্ষে আসতো সেটা নিশ্চয়ই বুঝি আমরা।

ওদিকে সরকারি দলের ক্ষেত্রে একজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং সংসদ সদস্য জনাব বাহাউদ্দিন বাহারসহ আওয়ামী লীগের সকলের মরিয়া চেষ্টার পরও তাদের প্রার্থী খুব ভালো কিছু করেননি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর একটি তুলনামূলক সুবিধাও ছিল। জনাব সাক্কু পরপর দুইবার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর পর দুইবার দায়িত্বে থাকা তার বিরুদ্ধে এন্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর উস্কে দেয়ার কথা। মজার ব্যাপার সেই হিসাবও আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়নি।

অনেকে বলেন- স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় নানা বিষয় প্রধান চালিকাশক্তি, জাতীয় ফ্যাক্টর নয়। আমি বরং বলতে চাই, বাংলাদেশে এখন ঘটে ঠিক উল্টোটা- দীর্ঘদিন জাতীয় পর্যায়ে সত্যিকার নির্বাচনের স্বাদ না পাওয়া মানুষ নির্বাচনের স্বাদ মেটানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় নির্বাচনে। জাতীয় পর্যায়ে সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধতার প্রতিক্রিয়া এসে পড়ে স্থানীয় নির্বাচনে। আমি তাই, নিশ্চিতভাবে মনে করি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে লালকার্ড দেখিয়েছে কুমিল্লার মানুষ।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোটাদাগে দুইটি খুঁত পাওয়া গেছে। এর একটি হলো নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শেষ পর্যায়ে ৪৫ মিনিটের জন্য ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রাখা এবং তারপর সরকারদলীয় প্রার্থী খুব ন্যূনতম ব্যবধানে জয়ী হওয়া। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব মনিরুল হক সাক্কুর অভিযোগ মতে কোনো একটা ফোন পেয়ে রিটার্নিং অফিসার এ কাজটি করেছেন। রিটার্নিং অফিসার এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তবে আমরা এর বিস্তারিত আলোচনায় ঢুকছি না।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় যে খুঁতটি তৈরি হয়েছে সেটি হলো নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কিছু করতে একেবারেই ব্যর্থ হওয়া। জনাব সাক্কুর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে প্রমাণ পায় জনাব বাহার নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। তাই তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তাকে সেখান থেকে চলে আসতে বলেন।

জনাব বাহার এই চিঠির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট সেটার কারণ দর্শানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে বলেন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেননি। হাইকোর্টের রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের প্রধান আইনজীবী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বাহারকে দেয়া চিঠির কার্যকারিতা ঠিক আছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই ব্যবস্থা নেয়নি। কেন সেই ব্যবস্থা নেয়নি শেখার জন্য বরং উদ্ভট সব বক্তব্য আমাদের সামনে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনের পিছু হটা নিয়ে এক কমিশনার রাশেদা সুলতানা কুমিল্লায় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আইনি কাঠামো যেভাবে আছে, সেভাবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। উনি (বাহাউদ্দিন) আইন মানেন না, আইনপ্রণেতা। আমাদের ব্যর্থ বলেন কেন আপনারা? একজন সম্মানিত লোককে টেনেহিঁচড়ে নামানো কমিশনের কাজ নয়।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল জনাব বাহারের এলাকায় থেকে যাওয়া নিয়ে বলেন, ‘ইসির নির্দেশনা পাওয়ার পর একজন সংসদ সদস্য এটাকে অনার না করলে কমিশনের তেমন কিছু করার নেই। আমাদের এমন কোনো ক্ষমতা নেই যে, কাউকে জোর করতে পারি। আমরা তো আর কাউকে কোলে করে নিয়ে যেতে পারি না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারতো তার একটা চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এক-এগারোর সময়কার নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘বাহারকে নির্বাচনী এলাকার বাইরে পাঠাতে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। বাহার যদি না যান, তাহলে কমিশন চাইলে নির্বাচন স্থগিত করে দিতে পারতো। সেটা করেনি। আমরা কমিশনে যখন ছিলাম, তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে এই প্রক্রিয়ায় এলাকার বাইরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলাম। তিনি সেখানে গিয়ে দরবার বসিয়েছিলেন। তাকে বলেছিলাম, আপনি সরে না গেলে নির্বাচন স্থগিত করে দেবো। তিনি সরে যেতে বাধ্য হন। তখন তো এই সরকারই ছিল।’’

যে পরিস্থিতিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পড়েছিল তার হুবহু একটি পরিস্থিতির নজির আছে যেটা তারা খুব সহজেই অনুসরণ করতে পারতেন। কিন্তু বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

আরেকটি ব্যাপার অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকবে- জনাব বাহারকে তো ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চাপ দিয়ে এলাকা থেকে আসতে বাধ্য করা যেত। সেটা বরং আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারি দলের কৌশলের পক্ষে থাকতো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকার ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি তৈরি করার জন্য যে কৌশল নিয়েছিল সেটাকে আমি বলছি ‘ইভ্যালি কৌশল’। সাম্প্রতিককালে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বেশ কিছু তথাকথিত ই-কমার্স সাইট দেশে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছিল। ব্যবসা বলা হলেও এগুলো আদতে কোনো ব্যবসাই ছিল না, এগুলো আসলে স্রেফ প্রতারণা- পঞ্জি স্কিম। এর আগে আমরা একই রকম প্রতারণা ডেসটিনি, ইউনিপে টু-ইউ’র মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখেছি।

একেবারে সাম্প্রতিক বিষয় বলে ইভ্যালি নিয়েই আলোচনা করা যাক। এই প্রতিষ্ঠানটি মানুষকে অবিশ্বাস্য কম দামে নানা পণ্য দিতে শুরু করেছিল। বাজার মূল্যের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ, এমনকি অর্ধেক দামে মানুষ ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলসহ নানা পণ্য কিনতে পারছিল। বাস্তবেই বেশ কিছু মানুষ এমন পণ্য হাতে পেয়েছিল। এভাবে পাওয়া পণ্য একটা সময়ে শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহার না, পরিণত হয়েছিল ব্যবসায়। মানুষ ইভ্যালি থেকে পণ্য পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বিক্রি করে দিলেই বেশ কিছু নগদ টাকার লাভ পেয়ে যাচ্ছিল।

এভাবে পণ্য পাওয়া নতুন নতুন মানুষকে ইভ্যালির কাছে অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য পেতে আগ্রহী করেছিল। শুধু নতুন মানুষ নয়, একবার যারা পণ্য পেয়েছিলেন, তারা আরও পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়েছেন। আগেই যেমন বলেছি এভাবে পণ্য কেনা একটা বেশ লাভজনক ব্যবসার হাতছানি হয়েছিল অনেকের কাছে। সেসব মানুষ কষ্টের সঞ্চয় এনে, ঋণ করে, স্বর্ণালঙ্কার এমনকি জমি বিক্রি করে ইভ্যালির হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য কম মূল্যে পণ্য পাবার জন্য। এরপর কোম্পানিটি বন্ধ হওয়া এবং মালিক গ্রেপ্তারের অনেক আগেই শুরু হয়েছিল পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে অবিশ্বাস্য গড়িমসি। শুধু সেটাই না, মানুষ পণ্য পাবার আশা বাদ দিয়ে টাকা ফেরত চাইলে সেটাও দেয়া হচ্ছিল না।

মানুষকে শুরুতে ভীষণ বড় টোপ দিয়ে, শুরুতে সেই টোপ গ্রহণকারীর আস্থা অর্জন করে তার এবং আরও অনেকের কাছ থেকে কিছুদিন পরেই বিরাট দাঁও মেরে কেটে পড়া সারা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিটা পঞ্জি স্কীম তাদের প্রতারণাটি করে ঠিক এই নীতিতে। পন্থার কিছুটা ভিন্নতা থাকে মাত্র।

দলীয় সরকারের অধীনে সব দলকে নির্বাচনে আনার জন্য বর্তমান সরকার এই ‘ইভ্যালি কৌশল’ নিয়েছিল এই দফায় প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। নির্বাচন কমিশন গঠন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে সেই কমিশনের অধীনে কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে করে দেখানোর চেষ্টা করা যে দলীয় সরকারের অধীনেও নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম আওয়ামী সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন ছিল জনাব রকিব উদ্দিনের নেতৃত্বে। দলীয় সরকারের অধীনেই সেই কমিশন দেশের অনেকগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে। ভালোভাবে হওয়া সেই নির্বাচনগুলোর প্রত্যেকটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা হেরে যায়। ফলে সরকারের পক্ষে জোর গলায় দাবি করা সম্ভব ছিল যে, দলীয় সরকারের অধীনেই এতই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব যে, তাতে একের পর এক সিটি করপোরেশনে সরকারসমর্থিত প্রার্থীরা হেরে যায়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট, এমন নির্বাচন দেখে প্রলুব্ধ হয়ে বিএনপি সহ বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে যাবে। এরপর ইভ্যালি এবং ডেসটিনি’র মতো প্রতিষ্ঠান যা করে, বড় দাঁও মারার সুযোগ আসার পর, (এই ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচন) সেটা মেরে দেবেন।

আমি খুব অবাক হয়ে দেখি দেশের মিডিয়া এবারকার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা’ জাতীয় শিরোনাম করছিল। এটা অবিশ্বাস্য। প্রথম শ্রেণির প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে কি এসএসসি পাস করা যায়? প্রথম শ্রেণির প্রশ্নে ১০০ পরীক্ষা দিয়ে তাতে অসাধারণ ফল করা কেউ এসএসসি পাস করবেনই, সেই নিশ্চয়তা কীভাবে দেয়া যায়?

নির্বাচন কমিশনকে সরকার যদি অনেকগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিনা বাধায় করতে দেয়, এমনকি সরকার যদি চাপ দেয় সঠিকভাবে করার জন্য, তাতেও কি এই নিশ্চয়তা কোনোভাবে দেয়া যায় যে, সরকার জাতীয় নির্বাচনটি সঠিকভাবে করতে দেবেন? নূরুল হুদা কমিশনের মতো একটি নির্বাচন মিশন যারা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে একেবারে তছনছ করে ফেলেছে, তাদের অধীনেও তো কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচন দিয়ে কি বোঝা গিয়েছিল ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে? এত কিছুর পরও এই নির্বাচন কমিশনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আলাপ সরকারের দিক থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং আমরা অনেকেই সেটা বুঝে, কিংবা না বুঝে এই অর্থহীন আলাপে যুক্ত হয়েছি।

২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে যা হয়েছে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এবারকার সংসদ নির্বাচনের প্রতি নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কঠোর দৃষ্টি থাকার কথা। র‌্যাব এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর সরকারের ভেতরেও নিশ্চয়ই কিছুটা নড়চড় হয়েছে। আমেরিকা চরম প্রশ্নবোধক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। নিকারাগুয়ার চরম কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের কারণে কয়েক মাস আগে অনেকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা।

সরকারের কৌশল হওয়ার কথা সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভালো হলে সেটা বিদেশিদের দেখিয়ে তাদের আশ্বস্ত করে তাদের দিয়ে সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসার জন্য বিরোধীদের চাপ দেয়ানোর চেষ্টা করতে পারতেন। আর বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে আসলে ২০১৮ সালের মতো এত বড় ‘ডাকাতি’ না করে তুলনামূলকভাবে সহনীয় কিছু করে ফেলতে পারতো সরকার।

এখন কুমিল্লায় যেভাবে প্রশ্ন উঠে গেল নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে, যেভাবে প্রশ্ন আসলো মাত্র একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা নিয়ে, সরকারের প্রতিও প্রশ্ন উঠলো কেন একজন দলীয় এমপিকে তারা সামলালো না, তারপর কি সরকারের দিক থেকে আর কোনোভাবে বলা সম্ভব দলীয় সরকারের অধীনে একটা জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে?

‘ইভ্যালি কৌশল’ এবার সরাসরি কাজ করার কথা ছিল না। বিএনপি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা কোনোভাবেই নির্বাচনে যাবে না। তারা সঠিক। ২০১৮ সালের পর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রশ্ন আসার কি আর কোনো প্রশ্ন আসে? তবে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, বিদেশিদের কথা মাথায় রেখে সরকার এগিয়ে যাচ্ছিল ‘ইভ্যালি কৌশল’ নিয়েই। কিন্তু কুমিল্লায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা ঘটলো, তাতে এই কৌশল যে মাঠে মারা গেল, সেটা বলাই বাহুল্য।

কোম্পানীগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক কলেজ ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ছেলামত উল্যার বাড়ি থেকে ওই কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক নিহতের পরিবার ও পুলিশ আত্নহত্যার নির্দিষ্ট কোন কারণ জানাতে পারেনি।

নিহত রওশন আরা আক্তার মিতু (১৯) উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হালিমের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, মিতু উপজেলার জৈতুন নাহার কাদের মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। নানার বাড়িতে থেকে লেখা পড়া করত সে। তার মেঝো মামা নাছের তার লেখা পড়ার খরচ বহন করত। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে মিতু। পরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা। বাকিটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এসআই আরো বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

করোনার ধকল কাটিয়ে উঠেছে ইতালির পর্যটন খাত

সরকার মোখলেছুর রহমান, ইতালি থেকে :
করোনার ধকল কাটিয়ে অর্থনীতির সঙ্গে চাঙা হয়ে উঠেছে ইতালির পর্যটন খাতও। লোকসান কাটিয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন দেশটিতে বসবাসরত দুই লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। পর্যটন খাত চাঙা হওয়ায় হোটেল, বার ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সম্পৃক্ত বাংলাদেশিরাও খুশি।

ইতালির মোট জিডিপির ১৩ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ছয় কোটি হলেও প্রতিবছর এখানে আগমন ঘটে সাড়ে ছয় কোটিরও বেশি পর্যটকের। করোনায় ২০২০ সালে ইতালির পর্যটন শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১২০ বিলিয়ন ইউরো। এ খাতে ক্ষতির সূচকে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ছিলেন সামনের সারিতে।

অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে ২০২২ সালে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দেশটির পর্যটন খাত। বর্তমানে ইতালির পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক বিকাশে খুশি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন খাত। কিন্তু ২০২১ সালের গ্রীষ্মে ইতালিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক এসেছে। ইতালির পর্যটন করপোরেশনের রিপোর্ট অনুসারে, গেলবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশটিতে প্রায় তিন কোটি পর্যটক এসেছেন। এর মধ্যে দুই কোটি ৩৪ লাখ স্থানীয়, বাকিরা বিদেশি।

মহামারির প্রথম ধাক্কায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি। দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি পর্যটক ভ্রমণ করলেও করোনার কারণে ২০২০ সালে ইতালির পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১২০ বিলিয়ন ইউরো। তবে আশার কথা হলো ২০২১ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে, ইতালিতে পর্যটকের আগমন ঘটেছে প্রায় ৩ কোটি, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বলে জানান ইতালির পর্যটন ও ব্যবসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএনএ।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশের তুলনায় ইতালিতে ভ্রমণ ব্যয় অনেক বেশি। দেশটির লাভজনক পর্যটন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া প্রবাসীদের জন্য ছিল বেশ কঠিন। তবে মহামারি করোনায় পাল্টে যায় পুরো পরিস্থিতি। লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যায় হাজার হাজার পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। সেই সুযোগে কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের শেষাংশে এবং ২০২২ এর শুরুর দিকে নামমাত্র দামে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কিনে নেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। এ খাতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে তা দেশের অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বুড়িচংয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও গুজব প্রতিরোধের লক্ষ্যে আলোচনা সভা

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং গুজব প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিস, কুমিল্লার আয়োজনে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বুড়িচং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আখলাক হায়দার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ও অন্যান্য ধর্মের লোকেরা মিলেমিশে বসবাস করেন। সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বন্ধন এক ও অভিন্ন। জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ নাই। অথচ কিছু কুচক্রী মহল ও দেশ বিরোধী শক্তি গুজব রটিয়ে ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দতা হাসিল করতে চায়। এসব অপশক্তি থেকে বুড়িচং উপজেলা তথা কুমিল্লা জেলার মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ফেইসবুক ও ইউটিউবসহ সকল সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না জেনে কোন কিছু শেয়ার করা ও লাইক দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন ঘটনা দেখলে তা যাচাই করে নিতে হবে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার হালিমা খাতুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ছামিউল ইসলাম, বুড়িচং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, বুড়িচং থানার এসআই বলাই চন্দ্র দেবনাথ।

আরো বক্তব্য রাখেন বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আবদুল মান্নান, ভারেল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, ময়নামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লালন হায়দার, খাড়াতাইয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল মোমেন, লড়িবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম ভূইয়া, নামতলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মাহবুবর রহমান, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিষ্ণু কুমার ভট্রাচার্য, বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র মোহাম্মদ উল্যাহ প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন। আলোচনা সভার শুরুতে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ডুবে গেছে কুমিল্লার গোমতী চরের বাড়ি-ঘর, তলিয়েছে কোটি টাকা মূল্যের সবজির ক্ষেত

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ডুবে গেছে কুমিল্লার গোমতী চরের বাড়ি-ঘর, তলিয়ে গেছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সবজির ক্ষেত।

জেলার বুড়িচং উপজেলার ভান্তি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ডুবে যাওয়া সবজি ক্ষেতে মুলা তুলতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ৪০ শতক জমিতে মুলা চাষ করেছেন। তার ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তার মতো ওই এলাকায় অন্তত ২০ জন কৃষক চরে মুলা, ঢেঁড়শ, পুইশাক, লাউ, চাল কুমড়ো, চিচিঙ্গা, বরবটি চাষ করেছেন।

আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া ও সুবর্ণপুর এলাকার কৃষক লালমিয়া ও হোসেন মিয়া জানান, ২০০ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন। এতে তার বিনিয়োগ ছিল ৮০ হাজার টাকা। তার মতো নদীর ওই চরে আরও অন্তত কুড়িজন কৃষক শসা চাষ করেছেন। সবার শসার মাচা পানিতে তলিয়ে গেছে।

গোমতী নদী কুমিল্লা জেলার সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, দাউদকান্দির উপর দিয়ে বয়ে গেছে। এসব উপজেলার অন্তত কুড়ি হাজার সবজি চাষি আছে। তাদের সবার দশা একই রকম। চরের ফসল হারিয়ে বাকরুদ্ধ অনেকে। তাদের দাবি, গোমতীর পানি বৃদ্ধিতে তাদের প্রায় দশ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, রোববার থেকে গোমতীর পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। সোমবার গোমতীর চর তলিয়ে যায়। জরিপ করে দেখবো কতজন কৃষকের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবো।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, আজ সোমবার দুপুর ১ টা পর্যন্ত গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ন