Tag Archives: কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন

কুসিকের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করলেন প্রশাসক টিপু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক রাজস্ব আয়-ব্যয় এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

রবিবার (১২ এপ্রিল) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্রমোহন রায় সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে দায়িত্ব গ্রহণের ২৮ দিন পর এসব তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি।

এ সময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কনফারেন্সে প্রশাসক জানান, রাজস্ব খাতে গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট প্রাপ্তি ৬১ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৪ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। বর্তমানে স্থিতি রয়েছে ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৮ টাকা।

তিনি আরও জানান, সিআইডিপি প্রকল্পে মোট স্থিতি রয়েছে ৩০১ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১২৭ টাকা। এ অর্থ থেকে ১১টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এলজিসিআরআরপি (কোভিড-১৯) প্রকল্পে স্থিতি রয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৬ টাকা। ইউডিসিজিপি প্রকল্পে রয়েছে ৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৯ টাকা।

এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ২১০ টাকা স্থিতি রয়েছে। এ অর্থ থেকে ১০৯টি প্রকল্পে ৪১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, প্রতি তিন মাস পরপর কুমিল্লাবাসীকে আয়-ব্যয়ের তথ্য জানানো হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বড় কোনো আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনের হিসাব অডিট করা হয়। অডিট শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর বাবুল ও যুবলীগ নেতা রাসেল গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) ১৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা মুহুরী জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুল এবং ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা রাশেদুল বারী রাসেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযান চালিয়ে গতকালসোমবার (২১ এপ্রিল) দিনে ও রাতে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর সংরাইশ এলাকা থেকে সাবেক কাউন্সিলর বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে সদরের বারাপাড়া এলাকা থেকে যুবলীগ নেতা রাসেলকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় নেওয়া হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, গত রোববার রাতে নগরীতে সংঘটিত এক ঝটিকা মিছিল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।”

এদিকে, সাবেক কাউন্সিলর বাবুল দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে রাসেল স্থানীয় পর্যায়ে যুবলীগের একজন উদীয়মান নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের হঠাৎ গ্রেফতারকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তদন্তের স্বার্থে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

নগরবাসী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গ্রেফতারের ঘটনা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচিকে প্রভাবিত করতে পারে।

ধ্বংসস্তুপ হয়ে আছে মৌলভীপাড়া পুকুরের চারপাশ, অসহনীয় ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা নগরী ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে উপমহাদেশের সময় থেকেই  পরিচিত।  নগরীজুড়ে যে কয়েকটি বড় পুকুর  রয়েছে তার মধ্যে  কুমিল্লা নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের পুরাতন মৌলভীপাড়ার পুকুরটি অন্যতম। এই পুকুর ও পুকুরের চারপাশের রাস্তা  এই ওয়ার্ডের কাশারীপট্টি, পুরাতন মৌলভীপাড়া, কাটাবিল, বজ্রপুর এলাকার প্রায় ১২ হাজার মানুষের ব্যবহারের অন্যতম উৎস। এই পুকুরের চারপাশ ৩টি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম পথ। এছাড়া এই পুকুরের পানি গোসলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছে তিন গ্রামের  মানুষ।

কিন্তু বিগত ৮ মাস ধরে এই পুকুর ও চলাচলের ৩ পাশের রাস্তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ৮ মাস পূর্বে পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে অত্যাধিক  মাটি তুলে বিক্রি করায় পুকুরের ৩ পাশের রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। বিদ্যুতের খুঁটিগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।  রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। এখন যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় মানুষ কোনরকমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। ৫ই আগষ্টের পূর্বে এই সড়কটি পুণ:নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা  হয়। কাজ পেয়েছিলেন স্থানীয় কুসিক কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য কাজ শুরু করে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। সম্প্রতি কাজ শুরু করার কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোন কাজ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন জানান, ৮ মাস ধরে এই পুকুর ও ৩ পাশের রাস্তার বেহাল অবস্থা। কাজে ধীরগতি, এখন আবার ২/৩ মাস ধরে কাজ বন্ধ । ফলে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। রাস্তাটির  দ্রুত  সংস্কার দরকার।

সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  মো: ছামছুল আলম জানান, এ রাস্তার কাজটির টেন্ডার হয়েছে। কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোন একটা কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। আমি সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়েছি। ঠিকাদার আবার কাজ শুরু করেছে। কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য ঠিকাদারের হাতে এখনো ৯ মাস সময় আছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে আধুনিক সিটি করতে চাই : নিজাম উদ্দিন কায়সার

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনের বিএনপির সাবেক নেতা ও মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারের আমি বিজয়ী হলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে আধুনিক সিটিতে পরিণত করবো।

এদিন সকালে চকবাজার থেকে প্রচারণা শুরু করেন এই প্রার্থী পরে পাশের, শুভপুর, চাঁদপুর, জামতলা, গর্জন খোলা, চকবাজার দীঘির পাড়সহ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক এলাকায় গণসংযোগ করেন।

এ সময় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী বলেন, সরকার যে ডামি নির্বাচন করেছে জনগণ তা বর্জন করেছে। কিন্তু এখন বিএনপি আবার টেস্ট কেস হিসেবে আমাকে পর্যবেক্ষণ করছে। তাই এই নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে মাঠে নামে। তারা আবার ভোটের মাঠে আসতে শুরু করেছে। তাই জনগণের অংশগ্রহণে নির্বাচন আরও উৎসবমূখর হয়ে উঠেছে।

এ সময় এই প্রার্থীর প্রচারণায় ছিলেন বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আলম, মো. মিজান, মো. কাউসার, মো. জাহাঙ্গীর, মো. শাহ আলম, ওয়াব মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মেয়র পদে উপ-নির্বাচন: আলোচনায় এক ডজন প্রার্থী

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

আগামী ৯ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মেয়র আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর এই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কুমিল্লা মহানগরের রাজনীতিতে ভোটের উৎসব শুরু হচ্ছে। ইভিএমে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে জানা গেছে।

নৌকার মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিংয়ে ব্যস্ত একাধিক প্রার্থী। সূত্রমতে, দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা , দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি শফিকুল ইসলাম সিকদার, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. জহিরুল হক সেলিম, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ, কুসিকের প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদী, জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কবিরুল ইসলাম শিকদার এবং মেয়র রিফাতের স্ত্রী অধ্যাপিকা ফারহানা হক শিল্পী।

এদিকে বিএনপি দলগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত থাকলেও বহিষ্কৃত দুই নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন দুই বারের নির্বাচিত কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও বিগত নির্বাচনে ভোটে অংশগ্রহণ করে সবাইকে চমকে দেওয়া যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার।

উল্লেখ্য যে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়তন প্রায় ৫৩ দশমিক ৮৪ বর্গ কিলোমিটার । এই সিটিতে ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে যেখানে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। এর আগে এখানে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা নামে দুটি পৌরসভা ছিল। ২০১১ সালের ১০ জুলাই বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসন পৌরসভা দুটিকে একটি সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা দেয়। বর্তমানে কুমিল্লা সিটিতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ভোটার রয়েছে।

২০১২ সালে কুমিল্লার প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৯ হাজার ৩০৬ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আফজল খানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ।তিনি মোট ৬৫ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজল খান পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।২০১৭ সালের ৩০ মার্চ কুসিকের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন মনিরুল হক সাক্কু। ধানের শীষ প্রতীকে সাক্কু পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট এবং নৌকা প্রতীকে আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট। ২০২৩ সালের কুসিকের তৃতীয়বারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুকে হারিয়ে প্রথমবারের মত মেয়র নির্বাচিত হন নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। কারচুপির মাধ্যমে তার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সাক্কু।ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট এবং মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

বিগত ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ।এরপর থেকে প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদী ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারের ‘ইভ্যালি কৌশল’ কুসিক নির্বাচনে ব্যর্থ

ডা. জাহেদ উর রহমান:

এখন কুমিল্লায় যেভাবে প্রশ্ন উঠে গেল নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে, যেভাবে প্রশ্ন আসলো মাত্র একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা নিয়ে, সরকারের প্রতিও প্রশ্ন উঠলো কেন একজন দলীয় এমপিকে তারা সামলালো না, তারপর কি সরকারের দিক থেকে আর কোনোভাবে বলা সম্ভব দলীয় সরকারের অধীনে একটা জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে?

কুমিল্লার নির্বাচনের ফলাফলে সরকারের প্রতি কুমিল্লা শহরের জনগণের এক বিরাট অনাস্থা প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে খুব স্পষ্টভাবেই দেখা যায় দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় একই সমান ভোট পেয়েছেন কিন্তু তৃতীয় হওয়া প্রার্থী প্রায় ৩০ হাজার ভোট পেয়েছেন যিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই প্রার্থীর মোট ভোট সরকারি দলের প্রার্থীর চেয়ে ৩০ হাজারের মতো বেশি। সত্যি বলতে পার্থক্যটা আরও অনেক বড়। বিএনপি’র বহিষ্কৃত দুই প্রার্থী স্বভাবতই ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেননি। যদি একজন মনোনয়ন পেয়ে সেটা করতেন, তাহলে সেটার সাড়া আরও অনেক বেশি হতো। শুধু সেটাই নয়, বিএনপি’র এই দুই জনকে বহিষ্কার করার পর দলের হাইকমান্ড খুব শক্ত হুমকি দিয়ে বলেছিল এই দু’জনের পক্ষে যেন বিএনপি’র কোনো নেতাকর্মী প্রচারণা এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ না করেন। অথচ বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে স্থানীয় তো বটেই কেন্দ্রীয় নেতারাও সেখানে প্রচারণায় যেতে পারতেন। তাহলে ফল আরও কতোটা ধানের শীষের পক্ষে আসতো সেটা নিশ্চয়ই বুঝি আমরা।

ওদিকে সরকারি দলের ক্ষেত্রে একজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং সংসদ সদস্য জনাব বাহাউদ্দিন বাহারসহ আওয়ামী লীগের সকলের মরিয়া চেষ্টার পরও তাদের প্রার্থী খুব ভালো কিছু করেননি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর একটি তুলনামূলক সুবিধাও ছিল। জনাব সাক্কু পরপর দুইবার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর পর দুইবার দায়িত্বে থাকা তার বিরুদ্ধে এন্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর উস্কে দেয়ার কথা। মজার ব্যাপার সেই হিসাবও আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়নি।

অনেকে বলেন- স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় নানা বিষয় প্রধান চালিকাশক্তি, জাতীয় ফ্যাক্টর নয়। আমি বরং বলতে চাই, বাংলাদেশে এখন ঘটে ঠিক উল্টোটা- দীর্ঘদিন জাতীয় পর্যায়ে সত্যিকার নির্বাচনের স্বাদ না পাওয়া মানুষ নির্বাচনের স্বাদ মেটানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় নির্বাচনে। জাতীয় পর্যায়ে সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধতার প্রতিক্রিয়া এসে পড়ে স্থানীয় নির্বাচনে। আমি তাই, নিশ্চিতভাবে মনে করি এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে লালকার্ড দেখিয়েছে কুমিল্লার মানুষ।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোটাদাগে দুইটি খুঁত পাওয়া গেছে। এর একটি হলো নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শেষ পর্যায়ে ৪৫ মিনিটের জন্য ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রাখা এবং তারপর সরকারদলীয় প্রার্থী খুব ন্যূনতম ব্যবধানে জয়ী হওয়া। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব মনিরুল হক সাক্কুর অভিযোগ মতে কোনো একটা ফোন পেয়ে রিটার্নিং অফিসার এ কাজটি করেছেন। রিটার্নিং অফিসার এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তবে আমরা এর বিস্তারিত আলোচনায় ঢুকছি না।

এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় যে খুঁতটি তৈরি হয়েছে সেটি হলো নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কিছু করতে একেবারেই ব্যর্থ হওয়া। জনাব সাক্কুর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে প্রমাণ পায় জনাব বাহার নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। তাই তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তাকে সেখান থেকে চলে আসতে বলেন।

জনাব বাহার এই চিঠির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট সেটার কারণ দর্শানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে বলেন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেননি। হাইকোর্টের রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের প্রধান আইনজীবী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বাহারকে দেয়া চিঠির কার্যকারিতা ঠিক আছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই ব্যবস্থা নেয়নি। কেন সেই ব্যবস্থা নেয়নি শেখার জন্য বরং উদ্ভট সব বক্তব্য আমাদের সামনে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনের পিছু হটা নিয়ে এক কমিশনার রাশেদা সুলতানা কুমিল্লায় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আইনি কাঠামো যেভাবে আছে, সেভাবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। উনি (বাহাউদ্দিন) আইন মানেন না, আইনপ্রণেতা। আমাদের ব্যর্থ বলেন কেন আপনারা? একজন সম্মানিত লোককে টেনেহিঁচড়ে নামানো কমিশনের কাজ নয়।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল জনাব বাহারের এলাকায় থেকে যাওয়া নিয়ে বলেন, ‘ইসির নির্দেশনা পাওয়ার পর একজন সংসদ সদস্য এটাকে অনার না করলে কমিশনের তেমন কিছু করার নেই। আমাদের এমন কোনো ক্ষমতা নেই যে, কাউকে জোর করতে পারি। আমরা তো আর কাউকে কোলে করে নিয়ে যেতে পারি না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারতো তার একটা চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এক-এগারোর সময়কার নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘বাহারকে নির্বাচনী এলাকার বাইরে পাঠাতে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। বাহার যদি না যান, তাহলে কমিশন চাইলে নির্বাচন স্থগিত করে দিতে পারতো। সেটা করেনি। আমরা কমিশনে যখন ছিলাম, তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে এই প্রক্রিয়ায় এলাকার বাইরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলাম। তিনি সেখানে গিয়ে দরবার বসিয়েছিলেন। তাকে বলেছিলাম, আপনি সরে না গেলে নির্বাচন স্থগিত করে দেবো। তিনি সরে যেতে বাধ্য হন। তখন তো এই সরকারই ছিল।’’

যে পরিস্থিতিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পড়েছিল তার হুবহু একটি পরিস্থিতির নজির আছে যেটা তারা খুব সহজেই অনুসরণ করতে পারতেন। কিন্তু বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

আরেকটি ব্যাপার অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকবে- জনাব বাহারকে তো ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চাপ দিয়ে এলাকা থেকে আসতে বাধ্য করা যেত। সেটা বরং আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারি দলের কৌশলের পক্ষে থাকতো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকার ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি তৈরি করার জন্য যে কৌশল নিয়েছিল সেটাকে আমি বলছি ‘ইভ্যালি কৌশল’। সাম্প্রতিককালে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বেশ কিছু তথাকথিত ই-কমার্স সাইট দেশে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছিল। ব্যবসা বলা হলেও এগুলো আদতে কোনো ব্যবসাই ছিল না, এগুলো আসলে স্রেফ প্রতারণা- পঞ্জি স্কিম। এর আগে আমরা একই রকম প্রতারণা ডেসটিনি, ইউনিপে টু-ইউ’র মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখেছি।

একেবারে সাম্প্রতিক বিষয় বলে ইভ্যালি নিয়েই আলোচনা করা যাক। এই প্রতিষ্ঠানটি মানুষকে অবিশ্বাস্য কম দামে নানা পণ্য দিতে শুরু করেছিল। বাজার মূল্যের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ, এমনকি অর্ধেক দামে মানুষ ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলসহ নানা পণ্য কিনতে পারছিল। বাস্তবেই বেশ কিছু মানুষ এমন পণ্য হাতে পেয়েছিল। এভাবে পাওয়া পণ্য একটা সময়ে শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহার না, পরিণত হয়েছিল ব্যবসায়। মানুষ ইভ্যালি থেকে পণ্য পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বিক্রি করে দিলেই বেশ কিছু নগদ টাকার লাভ পেয়ে যাচ্ছিল।

এভাবে পণ্য পাওয়া নতুন নতুন মানুষকে ইভ্যালির কাছে অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য পেতে আগ্রহী করেছিল। শুধু নতুন মানুষ নয়, একবার যারা পণ্য পেয়েছিলেন, তারা আরও পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়েছেন। আগেই যেমন বলেছি এভাবে পণ্য কেনা একটা বেশ লাভজনক ব্যবসার হাতছানি হয়েছিল অনেকের কাছে। সেসব মানুষ কষ্টের সঞ্চয় এনে, ঋণ করে, স্বর্ণালঙ্কার এমনকি জমি বিক্রি করে ইভ্যালির হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য কম মূল্যে পণ্য পাবার জন্য। এরপর কোম্পানিটি বন্ধ হওয়া এবং মালিক গ্রেপ্তারের অনেক আগেই শুরু হয়েছিল পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে অবিশ্বাস্য গড়িমসি। শুধু সেটাই না, মানুষ পণ্য পাবার আশা বাদ দিয়ে টাকা ফেরত চাইলে সেটাও দেয়া হচ্ছিল না।

মানুষকে শুরুতে ভীষণ বড় টোপ দিয়ে, শুরুতে সেই টোপ গ্রহণকারীর আস্থা অর্জন করে তার এবং আরও অনেকের কাছ থেকে কিছুদিন পরেই বিরাট দাঁও মেরে কেটে পড়া সারা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিটা পঞ্জি স্কীম তাদের প্রতারণাটি করে ঠিক এই নীতিতে। পন্থার কিছুটা ভিন্নতা থাকে মাত্র।

দলীয় সরকারের অধীনে সব দলকে নির্বাচনে আনার জন্য বর্তমান সরকার এই ‘ইভ্যালি কৌশল’ নিয়েছিল এই দফায় প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। নির্বাচন কমিশন গঠন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে সেই কমিশনের অধীনে কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে করে দেখানোর চেষ্টা করা যে দলীয় সরকারের অধীনেও নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম আওয়ামী সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন ছিল জনাব রকিব উদ্দিনের নেতৃত্বে। দলীয় সরকারের অধীনেই সেই কমিশন দেশের অনেকগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে। ভালোভাবে হওয়া সেই নির্বাচনগুলোর প্রত্যেকটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা হেরে যায়। ফলে সরকারের পক্ষে জোর গলায় দাবি করা সম্ভব ছিল যে, দলীয় সরকারের অধীনেই এতই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব যে, তাতে একের পর এক সিটি করপোরেশনে সরকারসমর্থিত প্রার্থীরা হেরে যায়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট, এমন নির্বাচন দেখে প্রলুব্ধ হয়ে বিএনপি সহ বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে যাবে। এরপর ইভ্যালি এবং ডেসটিনি’র মতো প্রতিষ্ঠান যা করে, বড় দাঁও মারার সুযোগ আসার পর, (এই ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচন) সেটা মেরে দেবেন।

আমি খুব অবাক হয়ে দেখি দেশের মিডিয়া এবারকার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা’ জাতীয় শিরোনাম করছিল। এটা অবিশ্বাস্য। প্রথম শ্রেণির প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে কি এসএসসি পাস করা যায়? প্রথম শ্রেণির প্রশ্নে ১০০ পরীক্ষা দিয়ে তাতে অসাধারণ ফল করা কেউ এসএসসি পাস করবেনই, সেই নিশ্চয়তা কীভাবে দেয়া যায়?

নির্বাচন কমিশনকে সরকার যদি অনেকগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিনা বাধায় করতে দেয়, এমনকি সরকার যদি চাপ দেয় সঠিকভাবে করার জন্য, তাতেও কি এই নিশ্চয়তা কোনোভাবে দেয়া যায় যে, সরকার জাতীয় নির্বাচনটি সঠিকভাবে করতে দেবেন? নূরুল হুদা কমিশনের মতো একটি নির্বাচন মিশন যারা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে একেবারে তছনছ করে ফেলেছে, তাদের অধীনেও তো কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচন দিয়ে কি বোঝা গিয়েছিল ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে? এত কিছুর পরও এই নির্বাচন কমিশনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আলাপ সরকারের দিক থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং আমরা অনেকেই সেটা বুঝে, কিংবা না বুঝে এই অর্থহীন আলাপে যুক্ত হয়েছি।

২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে যা হয়েছে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এবারকার সংসদ নির্বাচনের প্রতি নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কঠোর দৃষ্টি থাকার কথা। র‌্যাব এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর সরকারের ভেতরেও নিশ্চয়ই কিছুটা নড়চড় হয়েছে। আমেরিকা চরম প্রশ্নবোধক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। নিকারাগুয়ার চরম কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের কারণে কয়েক মাস আগে অনেকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা।

সরকারের কৌশল হওয়ার কথা সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভালো হলে সেটা বিদেশিদের দেখিয়ে তাদের আশ্বস্ত করে তাদের দিয়ে সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসার জন্য বিরোধীদের চাপ দেয়ানোর চেষ্টা করতে পারতেন। আর বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে আসলে ২০১৮ সালের মতো এত বড় ‘ডাকাতি’ না করে তুলনামূলকভাবে সহনীয় কিছু করে ফেলতে পারতো সরকার।

এখন কুমিল্লায় যেভাবে প্রশ্ন উঠে গেল নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে, যেভাবে প্রশ্ন আসলো মাত্র একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা নিয়ে, সরকারের প্রতিও প্রশ্ন উঠলো কেন একজন দলীয় এমপিকে তারা সামলালো না, তারপর কি সরকারের দিক থেকে আর কোনোভাবে বলা সম্ভব দলীয় সরকারের অধীনে একটা জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে?

‘ইভ্যালি কৌশল’ এবার সরাসরি কাজ করার কথা ছিল না। বিএনপি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা কোনোভাবেই নির্বাচনে যাবে না। তারা সঠিক। ২০১৮ সালের পর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রশ্ন আসার কি আর কোনো প্রশ্ন আসে? তবে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, বিদেশিদের কথা মাথায় রেখে সরকার এগিয়ে যাচ্ছিল ‘ইভ্যালি কৌশল’ নিয়েই। কিন্তু কুমিল্লায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা ঘটলো, তাতে এই কৌশল যে মাঠে মারা গেল, সেটা বলাই বাহুল্য।