All posts by jitu

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিত্যক্ত স্কুলঘর ধসে ৪ শিক্ষার্থী আহত

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিত্যক্ত স্কুলঘর ধসে চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ায় শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, সামিয়া (৭), হাবিবা (৭), মারিয়া (৮) ও নাজমুল (১২)। আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারিভাবে পরিচালিত শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়টির টিনশেড ঘরে পড়াশোনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন আগে স্কুলটি পাশে আধাপাকা ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর থেকে টিনশেডের স্কুলঘরটি পরিত্যক্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল ছুটি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা পুরাতন স্কুলঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। এ সময় হঠাৎ টিনের স্কুলঘরটি ভেঙে পড়ে। এতে ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান, আমি আমার মেয়েকে স্থানীয় একটি স্কুল থেকে নিতে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিকট শব্দ পেয়ে দেখি স্কুলঘরটি ভেঙে পড়েছে। আমি দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখি ৩ শিশু পুকুরের পানিতে পড়ে গেছে। একজন আহত হয়ে ভেতরে। পরে অন্যান্যদের নিয়ে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করি।

শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিদুল ইসলাম বলেন, শব্দ পেয়ে শিক্ষকরা এসে দেখেন পরিত্যক্ত ঘরটি পড়ে গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে আসা ১নং শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, স্কুলঘর ধসের খবর পেয়ে আমরা এসেছি। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ঈদ উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে দারাজের ‘ঈদ শপিং ফেস্ট’

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্রেতাদের কেনাকাটায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ (https://www.daraz.com.bd/) দুর্দান্ত অফারসমৃদ্ধ ঈদ শপিং ফেস্ট ক্যাম্পেইন চালু করেছে। ক্যাম্পেইনটি ১২ই এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২ রা মে পর্যন্ত চলবে; যেখানে ক্রেতারা ফ্যাশন, ইলেকট্রনিকস, লাইফস্টাইল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যসমূহের ওপর নানা ধরনের ছাড় সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

এ ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে ক্রেতারা প্রি-পেমেন্ট ভাউচার, হট ডিলস, মেগা ডিলস (সর্বোচ্চ ১২০০০ টাকা পর্যন্ত), সারপ্রাইজ ফ্রি শিপিং হাওার, মিস্টারি বক্স সহ নানা অফার ও ভাউচার সুবিধা পাবেন।
গ্রাহকদের পেমেন্টের সুবিধার্থে পুরো ক্যাম্পেইন জুড়ে থাকছে দারাজের প্রিপেমেন্ট পার্টনার- বিকাশ এর ১০% ক্যাশব্যাক অফার। এছাড়াও পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, এইচএসবিসি, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড এবং ব্র্যাক ব্যাংক। যাদের মাধ্যমে প্রিপেন্টে গ্রাহকরা ১০% পর্যন্ত মূল্যছাড় উপভোগ করতে পারবেন।

নতুন এ ক্যাম্পেইন চালুর ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে দারাজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদল হক বলেন, “সহজে পণ্য কেনাকাটার মাধ্যমে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টিকে আমরা সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষের উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলতে আমরা ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় অফারের এ ক্যাম্পেইন নিয়ে আসতে পেরে অন্যন্ত আনন্দিত। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই অনলাইন থেকে পছন্দের পণ্য কিনে প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।”

এ ক্যাম্পেইন নিয়ে দারাজ বাংলাদেশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) মো. তাজদীন হাসান বলেন, “দেশের সকল মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। আসন্ন ঈদে আমাদের ক্রেতাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে আমরা ঈদ শপিং ফেস্ট ক্যাম্পেইন চালু করেছি। ঈদ শপিং ফেস্ট ক্যাম্পেইনটিতে দেশজুড়ে থাকা আমাদের ক্রেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ক্রেতারা আকর্ষণীয় ছাড়ে তাদের পছন্দের পণ্য কিনতে পারবেন।”

এ ক্যাম্পেইনটির ডায়মন্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে লোটো, রিয়েলমি, বাটা, স্টুডিও এক্স (ম্যারিকো), স্যাভলন (এসিআই) এবং ডেটল (রেকিট বেনকিজার)। পাশাপাশি, ক্যাম্পেইনটির প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিঙ্গার, ভিশন, মোশন ভিউ, ফ্যাব্রিলাইফ, প্যারাস্যুট ন্যাচারালে (ম্যারিকো), গোদরেজ, ম্যাগি ( নেসলে) ও লাইজল (রেকিট বেনকিজার)। এছাড়াও, ক্যাম্পেইনটির গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে শাওমি গ্লোবাল স্টোর, সিকেইন, রঙ্গন হারবালস, ফার্নিকম, লিভিংটেক্স, টিপি-লিংক, ডেল, ফোকালুর, রিবানা, ট্রেন্ডজ, ইমামি ও হায়ার।

 

কুবিতে মার্কেটিং বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

 

কুবি প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ এপ্রিল) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজনে বিভাগের করিডোরের সামনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কেটিং বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজীম আহমেদের সঞ্চালনায় বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহের নিগার, সহযোগী অধ্যাপক মইনুল হাসান, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল জামিল, সহকারী অধ্যাপক আওলাদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, প্রভাষক নিশাত নিগার, মাশিয়াত জাহিন ও সাবিকুন নাহার বিপাশাসহ প্রায় আড়াইশতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনাসহ সকলের জন্য দোয়া করা হয়।

কুমিল্লায় হাট-বাজারে নিরাপদ অভিবাসনের তথ্য প্রচারণা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

“বিদেশ যাব বৈধ পথে, চাকরি করবো নিরাপদে” প্রান্তিক জনসাধারণের মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচারণা অভিযান চালায়।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ-এর নেতৃত্বে একটি টীম মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর বাজার, দেবিদ্বার সদর নিউমার্কেট, মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার, ব্রাক্ষ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর বাজার, চান্দলা বাজার এবং চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে মাইকিং-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কিতর্কি বিভিন্ন ধরনের লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও পোষ্টার বিতরণ করে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আনয়নের লক্ষ্যে এবং সবার মাঝে বৈধ অভিবাসনের তথ্য পৌঁছে দিতে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস ইউনিয়ন পর্যায়ে হাটবাজার এবং গ্রাম-গঞ্জে সকলের মাঝে নিরাপদ অভিাসনের তথ্য পৌছে দিতে কাজ করছে। কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ বলেন, গ্রাম অঞ্চল থেকে যত মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থান লাভ করে তাদের অধিকাংশই সঠিক তথ্য জানে না। ফলে অন্যের দ্বারা প্রতারিত হবার ঝুঁকি থাকে। তিনি অভিবাসী কর্মী এবং তাদের পরিবারের অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে সরকারের নানামূখী উদ্যাগের কথা বলেন। তিনি বিদেশ যাওয়ার পূর্বে সবার প্রশিক্ষণ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এমআরসি কাউন্সেলর গোলাম মোস্তফা নিরাপদ অভিবাসনে অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র কিভাবে মানুষকে সহযোগিতা করছে তার বিবরণ দেন। এছাড়াও তিনি মানবপাচারের ঝুঁকি মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হবার আহবান জানান। জনশক্তি জরিপ অফিসার তাজুল ইসলাম কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (আইসিএমপিডি) পরিচালিত অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশ (এমআরসি) এ আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে।
বাজার কমিটির সভাপতিসহ অনেকে এর ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানান। প্রত্যেকটি বাজরে প্রায় ৪০০-৫০০ লোক ক্যাম্পেইনগুলোতে অংশগ্রহণ করে। অভিবাসন বিষয়ে যেকোন তথ্য ও পরামর্শের জন্য এমআরসি বাংলাদেশের হেল্পলাইন নম্বর: ০১৭১৩০৮৬৩৩০ (কুমিল্লা) এবং ০১৭৩০৬৬৬৯৩৬ (ঢাকা) নম্বরে এবং facebook.com/mrcbangladesh যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।

এছাড়াও দেবব্রত ঘোষ উপস্থিত অনেকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনসাধারণের ভোগান্তি ও প্রতারণা রোধে এই ওয়েবসাইটগুলো www.probashi.gov.bd, www.bmet.gov.bd www.wewb.gov.bd , www.bmet.comilla.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শদেন তিনি।

এছাড়াও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারি পরিচালক দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে উক্ত দলটি সদ্য লিবিয়া থেকে প্রতারিত হয়ে ফেরত আসা অভিবাসী ইয়াকুব হাসানের সাথে দেখা করতে দেবিদ্বারের কালিকাপুরে তাঁর বাড়িতে যান। তিনি তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া বিষয় সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। তিনি ইয়াকুব হাসানের মা শাহিনুর বেগমকে তাঁর সাহসী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি তাদেরকে তার সমস্ত কাগজপত্র, যে দালালের মাধ্যমে প্রত্যারিত হয়েছে তার ঠিকানাসহ অন্যান্য কাগজ-পত্রসহ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস-এ যোগাযোগ করার জন্য বলেন। ভবিষ্যতে যাতে কেউ অবৈধভাবে বিদেশে না যায়, সকলে যাতে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে বিদেশে যায় এ বিষয়ে সকলকে উৎসাহিত করেন।

লিবিয়ায় মাফিয়াদের কাছ থেকে সন্তানকে উদ্ধারে কুমিল্লার সাহসী এক মায়ের অভিযান

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০১৯ সালে লিবিয়ায় পাড়ি জমান কুমিল্লার দেবীদ্বারের ইয়াকুব হাসান। তার বাবা আবুল খায়ের আগে থেকেই লিবিয়ায় ছিলেন। বাবা-ছেলের আয়ে দেশে থাকা মা আর দুই বোন নিয়ে সংসার বেশ ভালোই চলছিল। তবে উচ্চ আয়ের আশায় হবিগঞ্জের এক দালালের খপ্পরে পড়েন ইয়াকুব। অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ইতালি যাওয়ার পথে ল্যাম্ব দোসা দ্বীপে ‘মাফিয়াদের’ হাতে আটক হন ইয়াকুবসহ অন্তত ১৫০ বাংলাদেশি।

এরপর দীর্ঘ ছয় মাস ছেলের খোঁজ না পেয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েন মা শাহীনুর বেগম (৪৫)। ছেলেকে ফিরে পেতে পুনরায় দালাল চক্রের মাধ্যমে চার দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা দেন মাফিয়াদের। এরপরও ছেলেকে ফিরে না পেয়ে লিবিয়া প্রবাসী স্বামীর সহযোগিতায় পাসপোর্ট ও ভিসা করে ছেলেকে উদ্ধার করতে লিবিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহীনুর। গত ৯ জানুয়ারি লিবিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন শাহীনুর বেগম। অবশেষে নানা নাটকীয়তা শেষে ২১ মার্চ মা শাহীনুর ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন। ছেলে উদ্ধারে মায়ের এমন সাহসী ভূমিকা কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

এ খবরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাড়িতে মা-ছেলেকে দেখতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। শাহীনুর বেগম ও তার ছেলে ইয়াকুব হাসানের সাঙ্গে কথা বলে জানা যায় এমন তথ্য।

এ বিষয়ে শাহীনুর বেগম বলেন, লিবিয়ায় গিয়ে স্বামীর সঙ্গে ব্যাঙ্গাজি শহরে অবস্থান করি। পরে পর্যায়ক্রমে প্রথমে বাংলা ভাষা জানেন এমন কয়েকজনকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে সব খুলে বলি। তারা আমাকে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। দূতাবাস ও আইওএমের কর্মকর্তারা সব শুনে আমাকে সাহায্য করেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তারা লিবিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইয়াকুবকে উদ্ধার করেন। গত ২১ মার্চ ছেলেকে নিয়ে কুমিল্লায় নিজ বাড়িতে ফেরেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় মাস বন্দী জীবনে অনাহার, অর্ধাহার, নির্যাতনে ইয়াকুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধারে চার দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে মাফিয়াদের। আমাদের কাছে থেকে যে দালালরা টাকা নিয়েছে তাদের একজন এখন দেশে আছেন। তার বাড়ি সিলেটে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

ইয়াকুব জানায়, সেখানে আমাদের খুব অত্যাচার করা হতো। খাওয়ার জন্য একটা রুটি আর পানি দিতো। আমাদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন সাতজন বাংলাদেশি। তাদের একজনের নাম সুজন। বাকিদের নাম মনে নেই। তারাও মাফিয়াদের হাতে অনেক আগে ধরা পড়েন। তবে তারা মাফিয়াদের কিছুটা বিশ্বস্ত। এই সাতজন আমাদের নিয়মিত পেটাতেন। কোনো কথা ছাড়াই হাতের কাছে যা পেতেন তাই দিয়ে পেটাতেন। তাদের কোনো মায়া-দয়া ছিল না। তারাই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছেন।

সদরের আমড়াতলী এলাকা থেকে গাঁজা ও ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী এলাকা থেকে ০৬ কেজি গাঁজা এবং ৯০০ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ১১ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ জুলহাস মিয়া(২৬)।

এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুসহ ১৭ জন নেতাকর্মী কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা  মহানগর যুবদলের সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুসহ ১৭ জন নেতাকর্মীকে ২০১৮ সালের মামলায় আদালতে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কুমিল্লার আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

যাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে তারা হলেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আদর্শ সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কাইয়ুম ,জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন , কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সভাপতি উদবাতুল বারী আবু , আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান,সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন,১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাখওয়াতউল্লা শিপন,কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র সভাপতি মনির হোসেন পারভেজ ,কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ,মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ফয়সুলুর রহমান পাভেল, তারেকুল ইসলাম, হিরা, সহ-সাধারন সম্পাদক টিটু নাহা,জেলা যুবদলের সহ- কোষাধক্ষ্য আশরাপিয়া জুয়েল,কোতয়ালী যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রশির আহমেদ,সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুম্মন হোসেন সুমন।

এ ঘটনায় কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে নেতৃবৃন্দর নি:শর্ত মুক্তির দাবি করা হয়েছে।

 

 

কুবিতে ‘মেসেঞ্জারের তর্ক’ থেকে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ফেসবুক ‘মেসেঞ্জারে তর্ক’ ছাত্রলীগের ২ হলের কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের নবীন কর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়।

কয়েকটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মেসেঞ্জার গ্রুপে কাউসার হোসেন আপনের সঙ্গে এক নারী সহপাঠীর তর্ক হয়। ওই সহপাঠীর স্বামী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের কর্মী। আপনের সঙ্গে তর্কের ব্যাপারে সেই নারী শিক্ষার্থী তার স্বামীকে জানালে তিনি তার হলের বন্ধুদের জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা ডেইলি স্টারকে জানান, ‘তর্ক’ হওয়ার ব্যাপারটি জেনে আপনকে থাপ্পড় দেয় আইসিটি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিন হোসেন ও রসায়ন বিভাগের একই ব্যাচের আলভির ভূঁইয়া। তারা ২ জনই শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের নবীন কর্মী।

এ প্রসঙ্গে কাউসার হোসেন আপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা গেটে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দত্ত হলের ২ ছেলে এসে আমাকে থাপ্পড় মারে। পরে আমি বন্ধু গালিব ও সিনিয়রদের ঘটনাটি জানাই। তারা গিয়ে আমাকে মারার কারণ জানতে চাইলে দত্ত হলের ১৫-২০ জন গালিব, মুজাহিদসহ আমাদের আবার মারে।’

এ দিকে, আপনের ডেকে আনা বন্ধু গালিব ও অন্যান্যরা থাকেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে। ফলে, ঘটনাটি ২ হলের ছাত্রলীগ কর্মীদের মারামারিতে রূপ নেয়।

তবে যে নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে ‘তর্ক’র জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেসেঞ্জার গ্রুপের কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে যে মারামারির কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে আমার ও আমার স্বামীর কোনো সম্পৃক্ততা নাই। যারা এসব বলছে আমি তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিবো।’

এ ছাড়া, আপনকে মারধরে অভিযুক্ত আলভীরও মেসেঞ্জার গ্রুপের সূত্র ধরে মারধরের ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এই মারামারির মীমাংসা করতে ‘দলীয় কার্যালয়ে’ গেলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। সেখানে ২ হলের নেতৃবৃন্দ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে হলের দিকে ফিরে গেলে হলগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দত্ত হল ও বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা খাটের মশারি টানানোর রড, লাঠিসোটা ইত্যাদি নিয়ে হল থেকে দলবেঁধে নেমে এলে শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তাদের নিবৃত করেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘ঘটনা কী নিয়ে ঘটেছে এর প্রকৃত কারণ এখনও আমি জানি না।

সম্প্রতি নানা তুচ্ছ ঘটনা কুবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে জড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হলগুলোর দায়িত্বে যারা আছেন তারা হলের সবকিছু ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হল ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে দেবো।’

সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আজ প্রক্টরিয়াল বডি এ নিয়ে বসবে, কারো দোষ থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে ‘কিংবদন্তি’র মোড়ক উন্মোচন

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রকাশনা ‘কিংবদন্তি’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

সোমবার (১১ এপ্রিল) মোড়ক উন্মোচন করেন প্রকাশনাটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে প্রকাশনাটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

প্রকাশনাটির সম্পাদক হিসেবে ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম এবং আহবায়ক হিসেবে ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির হুসেইন।

প্রকাশনার আহবায়ক মোহাম্মদ নাসির হুসেইন বলেন, আমাদের প্রকাশনাটি বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে বের করা হয়েছে। এখানে দেশ বরেণ্য লেখক-সাহিত্যিকদের লেখনী, দুইজন বীরাঙ্গনাসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কিছু ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। বইটি জাতির