All posts by jitu

তিতাসে বেকারি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ
বিএসটিআই অনুমোদনহীন, মেয়াদোত্তীর্ন ময়দা দিয়ে পণ্য তৈরি ও মেয়াদের তারিখ সম্বলিত সিল ছাড়া পন্য প্যাকেটজাত করে বেকারি পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে কুমিল্লার তিতাসে একটি বেকারি মালিক কে ৫০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে তিতাস উপজেলার গাজীপুরে এ অভিযান চালানো হয়। এটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নওশাদ।

তিনি জানান, বিএসটিআই অনুমোদনহীন, মেয়াদোত্তীর্ন ময়দা দিয়ে পণ্য তৈরি ও মেয়াদের তারিখ সম্বলিত সিল ছাড়া পন্য প্যাকেটজাত করে বেকারি পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে তিতাস বেকারির মালিক কে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এবং ভবিষ্যতে দ্বিতীয়বার এ ধরনের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলার বিএসটিআই এর পরিদর্শক তারেক রহমান ও তিতাস থানার এসআই পুষন সাহা।

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় ২ জন নিহত

 

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় দু’জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: ফেনীর সদর উপজেলার শীবপুর গ্রামের মৃত আয়েজ আহমেদের ছেলে মো: জসিম (৪০) ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মো: তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মো: তানভীর হোসেন (১৯)।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ নতুন রোডে মারসেল শো রুমের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাতনামা একটি বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই জসিম নিহত হন। এদিকে বুধবার সকাল নয়টায় মহাসড়কের সৈয়দপুর এলাকায় মদীনা হোটেলের সামনে অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাকের ধাক্কায় তানভীর নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়।

বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন বলেন, ‘মহাসড়কে পৃথক দু’টি সড়ক দুঘর্টনায় এক পথচারী ও এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়। আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে’।

দেবিদ্বারে বেশিমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি, ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন রমজানকে সাম‌নে রে‌খে জাতীয় ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ অ‌ধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যাল‌য়ের উ‌দ্যো‌গে দে‌বিদ্বা‌রে তদার‌কি কার্যক্রম প‌রিচালনা করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টা থে‌কে ২টা পর্যন্ত উপ‌জেলার নিউমা‌র্কেট এলাকায় এ তদার‌কি কার্যক্রম প‌রিচা‌লনা করা হয়।

এ সময় বোত‌লের গা‌য়ের মূ‌ল্যের চে‌য়ে বে‌শি দা‌মে সয়া‌বিন তেল বি‌ক্রি করায় মেসার্স নিউ খান স্টোর‌কে ১০ হাজার টাকা, মূল‌্য তা‌লিকা দৃশ‌্যমান স্থা‌নে না রাখায় স্বপন স্টোর‌কে ৩ হাজার টাকা, অনু‌মোদন ছাড়া শিশু খাদ‌্য বিক্রয় করায় হ‌রে কৃষ্ণ সাহা‌কে ৪ হাজার টাকা, এবং ভোক্তাকে প্রতিশ্রুত মি‌ষ্টি যথাযথভা‌বে সরবরাহ না করায় লোকনাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার‌কে ৮ হাজার এবং মেসার্স মধুরাজ‌কে ৪ হাজার টাকাসহ আজ মোট পাঁচ‌ প্রতিষ্ঠান‌কে ২৯ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়। অ‌ভিযা‌নে পাকা ক্রয় র‌সিদ সংরক্ষণ, দৃশ‌্যমান স্থা‌নে মূল‌্য তা‌লিকা প্রদর্শন কর‌তে নি‌র্দেশনা দেওয়‌া হয়।

আসন্ন রমজা‌নে যা‌তে অযা‌চিতভা‌বে পণ্যের দাম বা‌ড়ি‌য়ে বি‌ক্রি করা না হয় সে ব‌্যাপা‌রে উ‌ল্লি‌খিত এলাকার ব‌্যবসায়ী‌দের‌কে পরামর্শ দেওয়া হয়।

দে‌বিদ্বার উপজেলা প্রশাস‌নের সা‌র্বিক দিক নি‌র্দেশনায় জাতীয় ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ অ‌ধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যাল‌য়ের সহকারী প‌রিচালক মো: আছাদুল ইসলাম এ তদার‌কি কার্যক্রম প‌রিচালনা ক‌রেন এবং এএসআই শাহাদা‌ৎ এর নেতৃ‌ত্বে দে‌বিদ্বার থানা পু‌লি‌শের এক‌টি টিম উপ‌স্থিত থে‌কে সা‌র্বিক সহ‌যো‌গিতা ক‌রেন। জনস্বা‌র্থে এ কার্যক্রম অব‌্যাহত থাক‌বে।

রাজেশপুর থেকে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকা থেকে ১৫ হাজার ৬৪০ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারীকে আটক করেছে কুমিল্লা র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ২২ মার্চ সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ থানার রাজেশপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেসপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে জালাল মিয়া(৩৮)।

এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাদের মিয়ারে গনার টাইম নাই-ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এমপি একরাম

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
কাদের মিয়ারে (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের) গণার (গণনার) আমার টাইম (সময়) নাই বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানের বাড়িতে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেন, আমি একজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট। কাদের মিয়ারে (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের) গণার (গণনার) আমার টাইম (সময়) নাই। হেতে (সে) যেরকম এমপি আমিও সেই রকম এমপি। এ কাদের যে নিজের ভাইয়ের বিচার করতে পারে না, হেতে আবার মানুষের বিচার কিভাবে করবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে একরাম চৌধুরী বলেন, আপনাদের গায়ের গন্ধ আমি পাইসি। আপনাদের থেকে কেউ আমাকে আলাদা করতে পারবেনা। আগামী এক বছরের মধ্যে এই এলাকার (কালাদরাপ ইউনিয়ন) সব রাস্তাঘাট পাকা করবো।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে ভালবাসতে দলের প্রয়োজন হয় না। আমি আপনাদের মন থেকে ভালবাসি। আপনাদের কাছে একটা দাবি জানাচ্ছি, আমি মারা গেলে আপনারা সবাই আমার জানাযায় আসবেন। আপনাদের সকলের দোয়ায় আমি হয়তো জান্নাতে যেতে পারি।

এসময় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীনের বিরুদ্ধেও তীর্যক মন্তব্য করেন।

সকল অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, তিনি (এমপি একরামুল) প্রতিদিন মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য দিচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাদের নোয়াখালী তথা সারা বাংলাদেশের গর্ব। উনি এভাবে মন্ত্রী মহোদয় ও আমাকে নিয়ে কথা বলতে পারেন না। আমি তার বক্তব্যের নিন্দা জানাই।

শিক্ষার্থীকে মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতার বিচার দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের

 

কুবি প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমানকে মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতা ওয়াকিল আহমেদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বিচারের দাবিতে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি, আর কতদিন, আর কতদিন’, ‘ভাই আমার হাসপাতালে, প্রশাসন নিরব কেন?’, ‘আমার ভাই রক্তাক্ত কেন, বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘ওয়াকিলের বহিষ্কার, করতে হবে, করতে হবে’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন৷

মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসেন। কেউ মারামারি করে চোখ হারাতে আসে না। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আসে না মারামারি করার জন্য।

মোহাম্মদ রাসেল মিয়া বলেন, সিনিয়র জুনিয়র আমাদের মধ্যে বন্ধন রয়েছে। অপরাধী যে দলের হোক না কেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সেই অপরাধী যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয় তাহলে আর কোন আনিস আর রক্তাক্ত হবে না। এর জন্য প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন।

এসময় মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, এই ঘটনা খুবই মর্মাহত করেছে আমাকে। এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড কোন মানুষের দ্বারা হতে পারে না। হলের অনেক জুনিয়র আছে যারা সিনিয়র নেতা দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছে, যাদের বিচারে আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দেইনাই। আমি কথা দিচ্ছি, এই ঘটনার শক্ত বিচার হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২১ মার্চ) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদকে চিনতে না পেরে ‘তুমি’ সম্বোধন করায় বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমান। এসময় আনিস মারাতœকভাবে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে গতকাল মঙ্মঙ্গলবার শাখা ছাত্রলীগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ২২ ঘন্টা পর বাবার লাশ দাফন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে ছোট ছেলে ও তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বৃদ্ধ আবদুল মান্নানের লাশ দাফনে বাঁধা দেয় অন্য সন্তানেরা

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা গ্রামের পশ্চিম হাজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ২২ ঘন্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাশ দাফন করা হয়।

৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বাহালুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগে তিনি তাঁর ছোট ছেলে আবুল কালামের স্ত্রী জাহানরা বেগম ও সন্তানদের নামে ৩৯ শতাংশ জমিন রেজিষ্ট্রি করে লিখে দেন। এই নিয়ে তার অন্য ২ ছেলে ও ২ মেয়ের সাথে তার চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার ২১ মার্চ রাত ৮ টার দিকে বাধ্যর্ক জনিত কারণে বৃদ্ধ আবদুল মান্নানের মৃত্যু হলে তাঁর অপর ২ ছেলে ও ২ মেয়ে এবং নাতী নাতনীরা তাঁর লাশ দাফনে বাধা দেয়।

তিনি আরও বলেন,খবর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় গোলাম সরোয়ার, সালা উদ্দিন মেম্বার, বেল্লাল মাঝি, সাবেক মেম্বার আবুল খায়ের, বেল্লাল সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় মরহুমের জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়।

লাশ দাফনে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে জাহানারা বেগমের ভাই আরমান পাপ্পু বলেন কিছুটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে মরহুমের দাফন করা হয় এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাহালুল চেয়ারম্যান সহ ২নম্বর ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে যে ভাবে সুন্দর হয় সে ভাবে মরহুম মান্নানের সম্পত্তির সমাধান করা হবে।

নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগে কুমিল্লায় র‌্যাংগস এমডির বিরুদ্ধে মামলা

 

স্টাফ রিপোর্টার:
শো-রুমে নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগে কুমিল্লায় র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ক্রেতা।

সোমবার কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আব্বাস উদ্দিনের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলার বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শিল্পী আক্তার।

বাদীর আইনজীবী আঁখি মাহমুদ জানান, সনি-র‌্যাংগসের কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা শো-রুম থেকে পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

আঁখি মাহমুদ জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের এমডি জে এম একরাম হোসেন, জিএম (বিক্রয় ও বিপণন) জানে আলম, মার্কেটিং ম্যানেজার মোহাইমিনুল ইসহাক প্রতীক, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. ওমর ফারুক, কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা শো-রুমের কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও নিজাম উদ্দিন।

মামলার বাদী শিল্পী আক্তার বলেন, “আমি প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন পেজে মালয়েশিয়ান ক্যালভিনেটর ২৭৯ মডেলের একটি ফ্রিজ দেখে গত ১৪ মার্চ ঝাউতলা শো-রুমে ফ্রিজটি কিনতে যাই। এর আগে শো-রুমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়। তারা আমাকে নিশ্চিত করেন এটি মালয়েশিয়ান ক্যালভিনেটর ২৭৯ ফ্রিজ। কিন্তু শো-রুমে গিয়ে দেখি সেই ফ্রিজের গায়ে কোনো লোগো বা স্টিকার নেই। পরে এর কারণ জানতে চাইলে কর্মচারীরা হাতে লোগো লাগিয়ে দেন।”

শিল্পী আরও বলেন, “শো-রুমের লোকজন আসল পণ্য বলে বিভিন্নভাবে আমাকে বুঝিয়ে ফ্রিজটি বিক্রি করেন। আমি বাড়ি আসার পর আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফ্রিজটি আসল নয় বলে সন্দেহ করলে একাধিক ফ্রিজ টেকনিশিয়ান ডাকলে তারা দেখে ফ্রিজটি নকল ও লোকাল পণ্য বলে জানান। এরপর আমি ফ্রিজটি ফেরত দিতে গেলে শো-রুমের লোকজন পণ্য ফেরত নিতে রাজি হয়নি।”

আর কেউ যেন এভাবে প্রতারিত না হয় তাই তিনি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সনি-র‌্যাংগসের কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা শো-রুমের কর্মকর্তা কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, “ওই ক্রেতার অভিযোগ ছিল মেইড ইন মালয়েশিয়া খোদাই করে লেখা নেই কেন। এজন্য তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। আমাদের ঢাকা অফিস থেকে বলা হয়েছে এটি মালয়েশিয়ার তৈরি আসল ক্যালভিনেটর ২৭৯ মডেলের ফ্রিজ। তাই আমরা এটিই বিক্রি করেছি। যদি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকে তাহলে আমরা এই বিষয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। আমরা কোনো নকল পণ্য বিক্রি করিনি।”

অস্বস্তিবোধ করছেন জানিয়ে অব্যাহতি চাইলেন কুবি রেজিস্ট্রার

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ করছেন জানিয়ে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি পত্র জমা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম আবদুল মঈনের কাছে তিনি এ অব্যাহতি পত্র জমা দেন।

জানা যায়, রেজিস্ট্রার তার অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটি অংশের মিথ্যা তথ্য প্রচার, অযৌক্তিক দাবি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে তিনি বিব্রত এবং দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ করায় আগামীকাল (২৩ মার্চ) থেকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, প্রশাসনিক এই পদটিতে আমার ব্যাক্তিগত কোন স্বার্থ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এতদিন দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু আমার নামে বিভিন্ন মহলে মিথ্যা তথ্য প্রচার, উপাচার্যের সাথে রেজিস্ট্রার হিসাবে যে সমন্বয় থাকার কথা সেটি না হওয়ায় বর্তমানে আমি দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ করছি। তাই আমি আগামীকাল থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন বলেন, কেউ পদত্যাগ করতে চাইলে সেটি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। রেজিস্ট্রার তার পদে থাকতে চাচ্ছেন না। তবে অস্বস্তিবোধ করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপাচার্য বলেন, কি কারনে তিনি এমনটি বলেছেন সেটি আমার জানা নেই।

ছাত্রলীগ নেতার মারধরে কুবি শিক্ষার্থীর চোখে জখম

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখার এক ছাত্রলীগ নেতাকে চিনতে না পেরে ‘তুমি’ সম্বোধন করায় বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সেলিম মিয়ার দোকানে চা পান করতে গেলে ১৩ তম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমানকে পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। পরিচয়ের একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকে চিনতে না পেরে ‘তুমি’ সম্বোধন করেন আনিছুর। এ ঘটনায় ওয়াকিল আহমেদ ও তার বন্ধুরা দোকানের পেছনে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কাকুতি-মিনতি করলে মারধরের মাত্রা আরও বাড়িয়ে চোখে আঘাত করেন ছাত্রলীগ নেতা ওয়াকিল। একপর্যায়ে তার চোখে আঘাত করলে সে কিছু দেখতে না পেয়ে চিৎকার করতে থাকে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে সহপাঠীরা এসে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসাপাতালে ভর্তির নির্দেশনা দেন।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাকে ওয়াকিল ভাই পরিচয় জিজ্ঞেস করলে আমি আমার পরিচয় দেই। পরে মিরাজ নামের একজনের নাম জিজ্ঞেস করলে, আমি বলি মিরাজ কি তোমার বন্ধু৷ এতে আমার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়৷ পরে আমাকে দোকানের পিছনে নিয়ে মারধর শুরু করে।’

অভিযুক্ত ওয়াকিল আহমেদ বলেন, ‘ঐ ছেলে সিগারেট খেয়ে আমার মুখের উপর ধোঁয়া ছেড়েছিল৷ আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে ও আমার মা-বাবাকে গালি দেয়। এসময় তার সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করা অন্যায়। বিষয়টি জেনে আমরা সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেই ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে দেখতে এসেছি। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছেন।আমরা আগামীকাল প্রক্টরিয়াল টিম বসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।’

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: কৌশিক সেন গুপ্ত বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে দেখে চিকিৎসা দিয়েছি, চোখের পেছনের অংশ আঘাত কতটা গুরুতর তা নির্ণয়ে আগামীকাল আমরা মেডিকেল বোর্ড বসবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন বলেন, আমি প্রক্ট