All posts by jitu

নিরাপত্তা জোরদারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও কুবি প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-(কুবি) এবং ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।

সভায় কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

কুমিল্লার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা, মাদক, ছিনতাই, ইভটিজিং, সড়ক যোগাযোগ ও নাগরিক সেবা নিয়ে আলোচনা করেন অংশীজনরা।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “আমার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা আপনারা নিশ্চিত করুন। শতভাগ নিশ্চয়তা হয়তো করা সম্ভব নয়, এটা আমিও জানি। কিন্তু আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আপনাদের ওপর অর্পিত সরকারি ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে যদি সাড়া দিই, আমি মনে করি পরিস্থিতির অনেকটুকু উন্নয়ন আমরা ঘটাতে পারব।”

তিনি বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা দরকার। এটি শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয় নয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনপদ এবং শালবন বিহারের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তার স্বার্থেও বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করা দরকার।”

উপাচার্য শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাস পর্যন্ত সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ বেলতলী আন্ডারপাসের কাজ দ্রুত শেষ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নেমে আসা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্রোচ সড়ক সংস্কারের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে শিফটিংয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বেলতলী মোড় থেকে জেলখানা বাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য দ্রুত ডিপিপি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ক্যাম্পাস ও আশপাশে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান উপাচার্য। পাশাপাশি বহিরাগত মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় মেসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, “আমরা কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, মাদক এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা পাঁচ দফায় অভিযান পরিচালনা করি। এতে প্রায় ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করি।”

তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা ফেসবুকে পোস্ট না দিয়ে ৯৯৯-এ কল দেবেন। তখন অফিসার যেতে বাধ্য। আপনারা অভিযোগ করলে তারা দৃঢ়চিত্তে ডিউটি পালন করবে। আমরা চেষ্টা করছি আপনাদের নিরাপত্তার জন্য।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন অংশীজনরা। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ১২০৭-এর দুই লিডার গ্রেফতার

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে রোববার রাতে কিশোর গ্যাং-১২০৭ গ্রুপের দুই লিডারকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো; লনিশ^র গ্রামের তারেক হোসেন সৈকত ও কোমারডোগা গ্রামের জাফর আহমেদ। সোমবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে সাধারণ বিষয় নিয়েও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম এর নির্দেশে পুলিশের প্রতিটি ইউনিট কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকা ১২০৭ গ্যাং এর মূলহোতা লনিশ^র গ্রামের তারেক হোসেন সৈকত ও কোমারডোগা গ্রামের মোঃ জাফর আহমদকে গ্রেফতার করেছে। তাদের গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

দাউদকান্দির বিএনপি নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর আলমের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

জাকির হোসেন হাজারী:

দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের জায়গার ভাড়া বকেয়া নিয়ে বিএনপি নেতাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে গণমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দাউদকান্দি প্রেসক্লাব (গৌরীপুর) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভিপি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ের জায়গার মালিক তিতাস উপজেলার জনৈক জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর কাছ থেকে দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকার আমিনুল হক ২০২৪ সালের আগষ্ট থেকে ২০২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছর লিখিত চুক্তিতে জায়গাটি ভাড়া নেন।

পরে আমিনুল হকের সঙ্গে মাসিক ১০ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তিতে আমরা ঘরটি ভাড়া নিয়ে দলীয় কার্যালয় করেছি এবং দুইবারে ২৫ মাসের ভাড়া আড়াই লাখ টাকা আমিনুলের মাধ্যমে জায়গায় মালিককে প্রদান করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে ভিপি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কার্যালয়টির উদ্বোধন করেন। গতকাল (৪ অক্টোবর) রবিবার একটি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘দাউদকান্দি বিএনপির পার্টি অফিসের ২১ মাসের ভাড়া বকেয়া’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ওই সংবাদে দলীয় কার্যালয়ের ছবির ইনসেটে আমার ছবিও ব্যবহার করেছে। যা ব্যাক্তি আক্রমন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছি। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আসিফ কবির, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম হাজারী, গৌরীপুর মুন্সি ফজলুর রহমান সরকারী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল চৌধুরী।

চৌদ্দগ্রামে বিজিবির অভিযানে মাইক্রোবাসে ৮৯ কেজি গাঁজা ও ৬০ বোতল মদ উদ্ধার

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হায়েস মাইক্রোবাসসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা ও মদ উদ্ধার করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার গাংরা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর অধীন গীতবাড়ি বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্তের প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গাংরা নামক স্থানে সন্দেহজনক একটি হায়েস মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে মাইক্রোবাসটি থেকে ৮৯ দশমিক ৮ কেজি গাঁজা ও ৬০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হায়েস মাইক্রোবাসটিও জব্দ করে বিজিবি।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও জব্দ করা যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা দেওয়া হবে।

দাউদকান্দিতে ৬৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

জাকির হোসেন হাজারী:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি করে ৬৪কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকা থেকে এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজার ১০০ গজ পশ্চিমে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চেকপোষ্টে একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশী চালিয় ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। কাভার্ডভ্যানসহ চালক উমর ফারুককে(৩০) আটক করা হয়।

উমর ফারুক কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আরো ৩ টি মামলা রয়েছে।

মুরাদনগরে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি রুবেল গ্রেপ্তার

মাহবুব আলম আরিফ:

কুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো: রুবেল হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে মুরাদনগর সদরের উত্তরপাড়া এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রুবেল উত্তরপাড়ার শহিদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় রুবেলকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্যের কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেপ্তারে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতায় যুবসমাজের একটি অংশ ক্ষতির মুখে পড়ছে। মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ষড় ঋতুর পালাক্রমের ছোঁয়ায় কুবিতে শীতের আগমনী বার্তা

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি, কুবি:

হেমন্তের নরম রোদ আর ভোরের কুয়াশার সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালমাটির পথঘাটে শুরু হয়েছে ঋতুর পালাবদলের আবহ। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির, মৃদু হাওয়া আর পাতার ফাঁক গলে আসা মৃদু রোদ, গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়তে শুরু করা—জানান দিচ্ছে যেন দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।

শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে লালমাটির উঁচু-নিচু টিলা ও সবুজে ঘেরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতিতে ঋতুবদলের ছাপও খুব স্পষ্ট। এখানে শীত শুধু ক্যালেন্ডারের একটি ঋতু নয়; প্রকৃতির রং, বাতাসের গন্ধ এবং ক্যাম্পাসের চেনা দৃশ্যপটেও নিয়ে আসে ভিন্নতা।

ভোরে ক্যাম্পাসে পা রাখলেই চোখে পড়ে সেই অপরূপ পরিবর্তন। রাতের শিশিরে ভিজে থাকে ঘাস। লালমাটির পথের ওপর সকালের মৃদু রোদ তৈরি করে সোনালি আভা। কোথাও পাতার আড়ালে পাখির ডাক, কোথাও টিলার ঢালে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালা। ব্যস্ত ক্লাস শুরুর আগে এই পরিবেশ ক্যাম্পাসজীবনে এনে দেয় কিছুটা স্বস্তি।

ক্যাম্পাসের তালগাছগুলোতে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা শীতের আগমনী দৃশ্যকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলেছে। বাতাসে দুলতে থাকা পাখির এই বাসাগুলো দূর থেকে মনে হয় প্রকৃতির হাতে তৈরি ছোট ছোট স্থাপনা। কখনো বাবুইয়ের আনাগোনা, আবার কখনো নিস্তব্ধ বাসা—তালগাছগুলো যেন ক্যাম্পাসের নিজস্ব এক প্রাকৃতিক গল্প তুলে করছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া রোডও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে প্রিয় একটি স্থান। রাস্তার দুই পাশে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন ফুলহীন হলেও তাদের ছায়া, শাখা-প্রশাখা ও দীর্ঘ পথ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এই পথ ধরে এগিয়ে গেলে দেখা মেলে শহীদ মিনারের। লালমাটির পথ, সবুজের আবরণ এবং দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মিনার—সব মিলিয়ে এখানে প্রকৃতি ও ইতিহাসের এক নীরব মেলবন্ধন চোখে পড়ে।

শীতের সকালে কৃষ্ণচূড়া রোডের দৃশ্য আরও বদলে যায়। সূর্যের আলো তখন তীব্র নয়, বরং কোমল। টিলার গায়ে আলো-ছায়ার পরিবর্তন পরিচিত দৃশ্যকেও নতুন করে তুলে ধরে। এই পথ ধরে কেউ ক্লাসে ছুটছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করছেন। ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মাঝেও শীত যেন সময়কে কিছুটা ধীর করে দেয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালমাটির ভূপ্রকৃতিও এই ঋতুর সৌন্দর্যকে ভিন্ন করে তোলে। বর্ষায় বৃষ্টিতে ভেজা মাটি শীতের শুরুতে শুকিয়ে রুক্ষ রূপ নেয়। টিলার ঢালে লালমাটির সঙ্গে চারপাশের সবুজের বৈপরীত্য তৈরি করে ক্যাম্পাসের স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য।

দুপুরে সূর্যের তেজ কিছুটা বাড়লেও বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে আবার বদলে যায় ক্যাম্পাসের সেই চিরচেনা আঙিনা। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে শেষ বিকেলের আলো পথজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ছায়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় সন্ধ্যার আবছায়ায়। পাখিরা ফিরে যায় আপন নীড়ে। দিনের ব্যস্ততা শেষে ক্যাম্পাস তখন যেন ফিরে পায় তার স্নিগ্ধ-শান্ত রূপ।

ঋতুবদলের এই দৃশ্যের সবচেয়ে কাছের সাক্ষী কুবির শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছে শীত মানে শুধু কুয়াশা কিংবা শীতের পোশাক নয়; বরং ক্লাসের ফাঁকে রোদ পোহানো, বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া রোডে হাঁটা, টিলার ঢালে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠা, পড়ন্ত বিকেলের আলোয় ছবি তোলা কিংবা কাঁঠালতলার ছায়ায় কোনো জায়গায় বসে বই পড়া।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা প্রশান্তির সৃষ্টি করে। লালমাটির পথ, সবুজ গাছপালা, তালগাছে বাবুইয়ের বাসা, কৃষ্ণচূড়া রোড, উঁচু-নিচু টিলা ও শহীদ মিনার—সবকিছু মিলিয়ে ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও যেন ধারণ করে নতুন এক রূপ।

শীত এখনো পুরোপুরি নামেনি। তবে তার আগমনী বার্তা স্পষ্ট—ভোরের মৃদু হাওয়ায়, ঘাসের শিশিরে, পাতার মর্মর আওয়াজে আর নরম রোদের উষ্ণতায়। হেমন্ত পেরিয়ে শীতের পথে এগিয়ে চলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। আর সেই অপেক্ষায় চেনা ক্যাম্পাসটিই যেন প্রতিদিন একটু একটু করে নতুন করে সেজে উঠছে।

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার যুবক নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. সজিব (২৫) নামে কুমিল্লার এক যুবক নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবে কর্মরত আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবের জুবাইল শহরে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সৌদি আরবে সংঘটিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সজিব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয়রা জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় সজিব সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

নিহতের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানায় পরিবার।

লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

কুমিল্লায় ৩ কিশোর গ্যাংয়ের ৫ মূলহোতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সক্রিয় মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। জেলার কোতোয়ালি, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লুৎফর রহমান।

তিনি জানায়, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তিন থানার তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কোতোয়ালি থানা এলাকার ‘স্ম্যাশ স্কোয়াড’ গ্যাংয়ের জিসান (১৯)। তিনি তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুরপাড় এলাকার জিলানীর ছেলে। একই গ্রুপের সাইফুল ইসলাম (২০)। তিনি আড়াইওড়া সমিতিপাড়া এলাকার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১২০৭ গ্যাংয়ের মো. তারেক হোসেন সৈকত (১৯)। তিনি উপজেলার নলিশ্বর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। একই গ্রুপের মো. জাফর আহমদ (২৩)। তিনি একই উপজেলার কোমারডোগা গ্রামের মো. আলীর ছেলে। এছাড়া মনোহরগঞ্জ উপজেলার পিএক্স ১০ গ্রুপের মো. শাকিব (১৭)। তিনি উপজেলার পোমগাঁও গ্রামের তবু মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া মনোহরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ‘পিএক্স-১০’ গ্যাংয়ের মো. শাকিব (১৭)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে পোমগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার তবু মিয়ার ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

তারকা ও ফ্যাশনের রঙে বসুন্ধরা সিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার:

২২ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শপিং ও লাইফস্টাইল গন্তব্য বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজন, ফ্যাশন শো, তারকাদের অংশগ্রহণে ফ্ল্যাশমব এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল শপিং মলের লেভেল-১ অ্যাট্রিয়াম। দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পায় উৎসবের আমেজ।

গতকাল দুপুর ২টায় বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচি। এর মধ্যে ছিল আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো, সেলিব্রিটি ফ্ল্যাশমব এবং শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানেà¦