All posts by jitu

চাঁদপুরে মৃত স্বজনকে দেখতে গিয়ে বাস চাপায় গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ৪

চাঁদপুরে মৃত স্বজনকে দেখতে গিয়ে বাস চাপায় গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ৪

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মৃত স্বজনকে দেখতে গিয়ে বাস চাপায় সাদিয়া আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশা চালকসহ একই পরিবারের আরও ৩ জন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে মতলব-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের নাগদা বড় বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায় অটোরিকশা থেকে নামার সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা জৈনপুর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ব্যাটারীচালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়

চাঁদপুরে মৃত স্বজনকে দেখতে গিয়ে বাস চাপায় গৃহবধূর মৃত্যু, আহত ৪

নিহত সাদিয়া আক্তার উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গাজী বাড়ির কাতার প্রবাসী ইসমাইল গাজীর স্ত্রী। আহতরা একই পরিবারের নিহত সাদিয়া আক্তারের শ্বাশুড়ি হোসনেআরা বেগম (৫৮), দেবর জিলানী গাজী (৩০), স্বামীর বোন পারভীন বেগম (৪০) এবং একই উপজেলার নায়েরগাঁও এলাকার অটোরিকশা চালক রোমান হোসেন (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, আহত হোসনে আরার ছোট বোন নাগদা বড় বাড়ির রাজিয়া বেগম (৫০) শুক্রবার রাতে অসুস্থ জনিত কারনে মারা যায়। শনিবার সকাল ৮টায় তার জানাজা ও দাফনের সময় দেয়া হয়েছিল। ভোর ৬টার দিকে বোনকে শেষ বিদায় দিতে নাগদা বড় বাড়ির সামনে গিয়ে অটোরিকশা থেকে নামতে গেলে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা যাত্রীবাহী বাস তাদের ব্যাটারীচালিত অটোরিকশায় চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাদিয়া।পরে স্থানীয় এলাকাবাসী অপর যাত্রীদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে আহতদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা জৈনপুর পরিবহন বাসের চালক কাউছারকে আটক করে এবং দুর্ঘটনার পর থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস চালক কাউসারকে আটক করে এবং ঘাতক বাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন। আটক বাস চালক কাউসারের বাড়ি মতলব পৌরসভার ঢাকিরগাঁও এলাকায়।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাস চালককে আটক করা হয়েছে এবং ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সফর শেষে ভারত থেকে নিজের মল-মূত্র সঙ্গে নিয়ে ফিরবেন পুতিন

সফর শেষে ভারত থেকে নিজের মল-মূত্র সঙ্গে নিয়ে ফিরবেন পুতিন

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংগ্রহ করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সেজন্যই এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুতিনের বডিগার্ডরা এই বর্জ্য সংগ্রহ করে সিলগালা ব্রিফকেসে করে বিমানে তুলে দেন। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলাস্কা সফরের সময়ও পুতিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। বিসিবি-র প্রাক্তন সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভা জানান, ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব শুরুর পর থেকেই পুতিন এই নিয়ম মেনে চলছেন এবং বিদেশ সফরে বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করেন।

রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) পুতিনের বিদেশ সফরের এই চরম গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পেছনে রয়েছে এক অদৃশ্য নিরাপত্তার জাল, যার মধ্যে এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা কাজ করেন। এই রক্ষীদের বয়স ৩৫ বছরের কম, উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হয়।

পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ এড়াতে তার প্রতিটি খাবার তৈরির আগে উপাদান ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি সেই খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা খেয়ে পরীক্ষা করেন। পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড এবং রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আদা বা গোলাপের চা পান করেন।

বিদেশ সফরে পুতিন গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সমৃদ্ধ ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন গাড়ি ও ‘ডুমসডে প্লেনে’ ভ্রমণ করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ‘ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ’ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টার এবং পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দেশজুড়ে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন ।

অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সেলিম সরকার ও সমাজকর্মী বোরহান উদ্দিন ভুইয়াসহ বিএনসিসি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও অংশ নেন।

এ সময় পরিষদ প্রাঙ্গন, প্রবেশপথ ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা হয় এবং আবর্জনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন থেকে প্রতি শনিবার দাউদকান্দি উপজেলার সকল সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজের আঙ্গিনা পরিস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধের পাশাপাশি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

কুমিল্লায় ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা নগরীতে ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ।

পুলিশ জানায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৫ জনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি মোটরসাইকেল ও ছিনতাই করা কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাদক সেবন ও অন্যান্য অভিযোগেও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীতে পৃথক অভিযানে ১০ চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কুমিল্লায় আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল, স্লোগান ১০ আইনজীবীসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল, স্লোগান ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১০ আইনজীবীসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র এবং আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে একদল ব্যক্তি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে আদালতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মিছিল-স্লোগান দিয়ে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কার্যকলাপ এবং আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে জনমনে ঘৃণা ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—কুমিল্লা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বরুড়া উপজেলার আবু ইউসুফ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক বুড়িচং উপজেলার আব্দুল আলিম, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সদস্য কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকার নসরুল হাসান অপু, কুমিল্লা মহানগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক আছিয়া মেহজাবিন খান নিশু, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বুড়িচং উপজেলার শাহ আলম এবং বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক বরুড়া উপজেলার জালাল আহমেদ সাজু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম খোকন, বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, বুড়িচংয়ের শিকারপুর গ্রামের মেজবাহ উদ্দিন জনি ও সাইফুল ইসলাম সানি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক রেজাউল করিম শাওন, কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ নেতা সানি খন্দকার, নগরীর মনোহরপুর এলাকার তারেক, কুচাইতলি গোল্ডেন সিটি এলাকার রাজন, কুমিল্লা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, বুড়িচং উপজেলার নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল এবং নিমসার কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. ইমনকে আসামি করা হয়।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মামলার অভিযোগে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। কেউ ঘটনায় জড়িত না থাকলে তদন্ত করে অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে ৭ জনের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ। পরে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত এ দণ্ড প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. নূর আল-আহসান, রতন কুমার মল্লিক ও মো. নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে মাদক সেবনরত অবস্থায় সাতজনকে আটক করা হয়। পরে সামারি ট্রায়ালের জন্য তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গণাকিরপাড় এলাকার জালাল আহাম্মেদ (৪৫), কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সাইচাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেহেদী (২৬), একই এলাকার মো. কাউছার মোল্লা (৩২), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল এলাকার মো. মাসুদ (৪২), মালাপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফা (৪০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার মো. সোহেল আহম্মেদ (৩৮) ও নোয়াপাড়া এলাকার মো. ইসমাইল (৩০)।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, ‘মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।’

লাকসামে পোলট্রি ফার্মের জেনারেটর রুমে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে একটি পোলট্রি ফার্মের জেনারেটর রুমে অভিযান চালিয়ে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. নজরুল ইসলাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইদ জাফর ওরফে জনি (৪০) নামে আরও একজন পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১নং বাকই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কৈত্রা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাকসাম থানা পুলিশের একটি দল কৈত্রা এলাকায় নজরুল ইসলামের পোলট্রি ফার্মের জেনারেটর রুমে অভিযান চালায়। এ সময় নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাঁর হেফাজত থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইদ জাফর ওরফে জনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশের দাবি, আটক নজরুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ও পলাতক জনি ওই স্থানে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
আটক নজরুল ইসলাম কৈত্রা মুন্সিবাড়ির মৃত আবদুল মতিন ও মৃত রহিমা বেগমের ছেলে। পলাতক সাইদ জাফর ওরফে জনিও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলি জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পলাতক ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় যুবলীগের মিছিল

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বন্দিদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার তীরেরচর এলাকায় মহাসড়কে এই মিছিলটি হয়।

সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টারের নির্দেশে এ মিছিলের আয়োজন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’ এসব স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান তারা।

মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলহাজতে পাঠানো, হত্যার হুমকি, অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ পুুলিশের সাবেক কন্সটেবল ফারুকের বিপক্ষে , দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলার ভিডিও ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আড়াইওড়া এলাকায় আপন ছোট ভাই ও তার স্ত্রীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো, আপন বোনকে মারধর এবং তাদের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই পুলিশের চাকুরিচ্যুত সাবেক কন্সটেবল ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি দেশিয় অস্ত্র হাতে ভাই-বোনকে হুমকি প্রদানের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। পূর্বে ভাই-বোনকে গুলি করে হত্যা করার হুমকি প্রদানের অভিযোগও উঠেছে এই ফারুকের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, একাধিক মাদক মামলা ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ফারুক হোসেন গ্রেফতার হয়ে পুলিশের চাকুরি থেকে বহিষ্কৃত হন।
জানা যায়, কুমিল্লার সদর উপজেলা আড়াইওড়া এলাকার বেবি আক্তার ও তার স্বামী লুৎফুর রহমানের জমি অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা শুরু করলে পুলিশের সাবেক কন্সটেবল ফারুক হোসেনের সাথে এই দম্পতির বিরোধ শুরু হয়।

বেবি আক্তারের অভিযোগ, বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে ভয়ভীতি দেখানোসহ ফোনেও বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন তার বড় ভাই ফারুক েেহাসেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গত ৭ জুলাই দুপুরে লুৎফুর রহমান বাসায় ফিরলে তাকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফারুক।

বেবি আক্তারে অভিযোগ ফারুক হোসেন এবং স্ত্রী জেসমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা করে আসছে তারা, শুধু গালিগালাজই নয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে এলাকায় থাকতে না দেওয়া, বসতভিটা দখল করে নেওয়া, রাস্তায় পেয়ে মারধর এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি নিজেইও জবাই করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ফারুক, এছাড়াও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার ভয়ও দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারটির।

এদিকে মাসুক হোসেন ও তার স্ত্রী সোনিয়াকেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন পুলিশের সাবেক কনন্সটেবল ফারুক হোসেন। গত ২৯ আগস্ট সকালে বসতবাড়ির উঠানে এসে সোনিয়া ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে হত্যা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি আর সামাজিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। ঘটনার নেপথ্যে নিজেরই ভাশুর ফারুক হোসেন এবং তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার। চলতি বছরের ১০ জুলাই সকালে সোনিয়ার বসতবাড়িতে এসে তাদেও মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্নালংকার ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ফারুক হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ করেন সোনিয়া। সন্ত্রাসী হামলা ও লুটের পর উল্টো ভুক্তভোগী দম্পতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন ফারুক। সেই মামলায় জেলহাজতেও ছিলেন সোনিয়া ও তার স্বামী।

জামিনে বের হয়ে আসার পর গত ২৯ আগস্ট সকালে আবারো সোনিয়ার বসতবাড়িতে এসে তাণ্ডব চালায় ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় ঘরে মাদক বা বিপজ্জনক সরঞ্জাম রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হবে, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হবে এবং রাস্তাঘাট থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ৪টি এবং তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।

স্থানীয় প্রভাবশালী ও চিহ্নিত এই মাদক চক্রটির চরম হিংসাত্মক আচরণের মুখে পুরো পরিবারটি এখন জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

জানা যায়, মাদক ব্যবসার অবৈধ টাকায় একাধিক ফ্লাট এবং জমি করেছে ফারুক, আবার সেই বাসায় গ্রেপ্তার হলে বলা হয় ভাড়া বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে কোতোয়ালী মডেল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সোনিয়া।

এ বিষয়ে পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।