All posts by jitu

নোয়াপাড়া ফ্রেন্ডস ক্লাব শর্ট বাউন্ডারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

মোঃ ইয়াছিন মিয়া:

কুমিল্লার নোয়াপাড়ায় “নোয়াপাড়া ফ্রেন্ডস ক্লাব” আয়োজিত শর্ট বাউন্ডারি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নোয়াপাড়া স্কুল মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভাই ব্রাদার্স একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রাইজিং একাদশ।

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. সোহরাব হোসেন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সোলমান হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সামছুল আলম সামু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম বলেন, “নোয়াপাড়া এলাকায় খেলাধুলার এই আয়োজন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আমরা প্রতিবছর দুই থেকে তিনবার এ ধরনের আয়োজন করে থাকি।

এলাকার যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি, এলাকার যুব সমাজ মাদকমুক্ত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবে। আমি নিজেও মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। ইনশাআল্লাহ, নোয়াপাড়া এলাকায় এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”

খেলা শেষে বিজয়ী রাইজিং একাদশ ও রানার্সআপ ভাই ব্রাদার্স একাদশের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে জমজমাট এ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, যুব সমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর জীবনধারায় ফিরিয়ে আনাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

সরকারের ভালোমন্দ মূল্যায়ন করার এখনো সময় হয়নি: কাজী নাহিদ

‎চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

ফুলে ফুলে সিক্ত হলেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) নবনির্বাচিত মহাসচিব কাজী কাজী মোঃ নাহিদ বলেন, আজ আপনারা আমাকে আপনাদের সন্তান হিসেবে যে ভালবাসা ও সম্মান দিয়েছেন তা আমার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার গঠনের পর অনেকেই অসহযোগিতা করছেন। সরকারের বয়স ছয় মাস, ভালোমন্দ মূল্যায়ন করার সময় এখনো হয়নি। কাজী জাফরের হাতে গড়া জাতীয় পার্টি বিএনপির রাজনৈতিক জোটে ছিল এবং এখনো আছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে জাতীয় পার্টি এই সরকারকে সহযোগিতা করে যাবে।

তিনি শনিবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়িতে এলাকাবাসী ও উপজেলা জাতীয় পার্টি (জাফর) আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি’র (কাজী জাফর) কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন বলেন, সমস্ত খালি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে এক সেকেন্ডের জন্য স্বস্তি বোধ করছেন না। ব্যাংক লুটপাট, বিদ্যুৎ কারখানায় বিদ্যুৎ নাই, গ্যাসের সংকট, সমস্ত দেশটাকে লুটপাট করে ভারতে গিয়ে বসে আছেন একজন। ওখানে বসে হুমকি দিচ্ছেন ৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। আমরাও চাই আপনি আসেন। আমরা আপনাকে কোনো অবজ্ঞা করতে চাইনা।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বলতে দ্বিধা নেই তিনি এ জাতির সাথে বেঈমানী করে ভারতের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকে প্রমাণ হয়েছে আসলেই তিনি ভারতের লোক, বাংলাদেশের না।

‎আহসান হাবীব লিংকন আরো বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেজা জিয়ার রাজনৈতিক জোটের অন্যতম শরিক ছিল কাজী জাফরের জাতীয় পার্টি। গত তিন দিন আগে পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার সহ দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সেই জাতীয় পার্টির মহাসচিব হওয়ায় কাজী মো: নাহিদকে অভিনন্দন। কাজী নাহিদ প্রয়াত নেতা কাজী জাফরের সুযোগ্য ভাতিজা, আপনাদের এলাকার সন্তান। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি এবার আরো এগিয়ে যাবে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ চৌধুরী পাশার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাটির কো- চেয়ারম্যান নবাব আলি আব্বাস খান , চট্টগ্রাম বিভাগের জাতীয় পার্টির প্রধান সমন্বয়ক পারভেজ শেখ হৃদয়, চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পাটির উপদেষ্টা এসএম আজিজ, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযোদ্বা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমমদ মজুমদার,গুনবতী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতা জাকির হোসেন জিগির।

উপজেলা যুবসংহতির আহবায়ক কাজী শহিদের পরিচালনা এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পাটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক পাটোয়ারী , উপজেলা যুবসংহির নেতা বিল্লাল হোসেন স্বপন, ব্যাবসায়ী আবুল কাসেম, নবী হোসেন, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা আবদুল মালেক, নুর হোসেন নুরু, আবুল কাসেম, চিওড়া ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা হাজী রুহুল আমিন, মুজিবুর রহমান, মিয়া মেম্বার ,গুনবতী ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা জানে আলম দোভাষী, বাতিসা ইউনিয়ন জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিপন, ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা হাজী নুরুল ইসলাম, আবু তাহের খোকন, আলী আশ্রাফ, কনকাপৈত ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা জাফর আহমেদ ভুইয়া, বাহার উদ্দিন মজুমদার, কাশিনগর ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা মাহাবুব হোসেন, লুতৎফুল রহমান, মোহাম্মদ সেলিম, সিরাজুল ইসলাম, আবুল কাসেম, শাহিন মিয়া, ডাঃ মুকবুল আহমদ,আলকরা জহিরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, সাইফুল ইসলাম, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন জাতীয় পাটির নেতা ওমর ফারুক,মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করতে চান না তারা। তবে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি, দখলদারি বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরের রামঘাট কনভেনশন হলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, ‘ছয় মাস যেতে না যেতেই মানুষ বিএনপিকে অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা করা শুরু করেছে। আমরা এখনই সেই তুলনা করতে চাই না। বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। আমরা দুই দলকে আলাদা হিসেবেই দেখি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির লোক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে আমরা চাঁদাবাজ বলব। কারও জায়গা-জমি দখল করলে দখলদার বলব। ভেতরে ভেতরে মাদক ব্যবসা চালালে তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলব। মনে রাখতে হবে, আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের হয়তো রক্তাক্ত করা হবে, কিন্তু আমরা আপস করব না। অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার কারণেই মানুষ আমাদের পছন্দ করে।’

পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, অতীতে দ্বিদলীয় রাজনীতিতে দিনের বেলা সংসদে একে অপরের বিরোধিতা করলেও রাতে ব্যবসা ও অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা হতো। এনসিপি এ ধরনের রাজনীতি করবে না।

তিনি বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে এনসিপির কর্মী তৈরি করতে পারলে মানুষ আর বিএনপির কথা চিন্তা করবে না।’

কর্মশালায় এনসিপির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মো. সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, জাতীয় যুবশক্তি কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান ও সদস্যসচিব আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলার সদস্যসচিব রবিউল মনির চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব সৈয়দ আহসান টিটু এবং মহানগরের সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার।

হোমনায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় হোমনা খাদিজা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) এর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া।

হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেম, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু ও ওসমান গণি ভূঁইয়া।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির অন্যতম নির্বাহী সদস্য এ্যাড. আজিজুর রহমান মোল্লা, পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হাসান (জাকি), পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম (ভিপি রাজা), উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম সম্পাদক শেফালী বেগম।

সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের পরিচিতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয়, তা বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসাই বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি করতে হলে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মানুষের সমালোচনা শুনতে হবে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো বিভেদ নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বরুড়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সিদ্ধান্ত, মাদক ও চুরি প্রতিরোধে জোর

ছবি: প্রতিকী

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চুরি প্রতিরোধ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বরুড়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির জুলাই ২০২৬ মাসের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে বরুড়া উপজেলায় মোট ২১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ৪টি, চুরির ৭টি, অন্যান্য ৪টি এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ৬টি মামলা রয়েছে। সভায় অপরাধ প্রবণতা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বরুড়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত নিষ্পত্ত, বাজারের যানজট নিরসন, দোকানের সামনে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা পার্কিং বন্ধ এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি ও মাদকদ্রব্যের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি টহল জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া বরুড়া বাজারের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বরুড়াকে মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করা হয়।

কুমিল্লায় গাঁজা, মদ ও বিয়ারসহ একজন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা, ৭০ বোতল বিদেশি মদ ও ৯০ বোতল বিয়ারসহ সিব্বির হোসেন (২৪) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২।

শনিবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লা সদর উপজেলার গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার দড়িবট গ্রাম থেকে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সিব্বির হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার শাহাপুর গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

জানা যায়, শনিবার সকালে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন গাজীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে মোঃ সিব্বির হোসেন নামের ওই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আসামির হেফাজত থেকে ৭০ বোতল বিদেশি মদ ও ৯০ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, গত ২৮ আগস্ট রাতে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন দড়িবট গ্রাম এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, আটককৃত সিব্বির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ ও বিয়ার সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র‍্যাব-১১ এর মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র‍্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

‘হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলেই হয়তো বাঁচানো যেত’ স্বজনদের এমন আকুতি আর কান্নার মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভয়াবহ যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেলেন আমিরুন্নেছা নামে এক রোগী।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় নেয়ার পথে প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। এরপর দীর্ঘ চার ঘণ্টা গাড়ি প্রায় স্থবির হয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সাড়ে রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান তিনি।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। শুক্রবার সকাল ৮টায় আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর এ যানজটের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্তও যানজট অব্যাহত ছিল।

দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই খাবার ও পানির সংকটে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী মুজাহিদ পরিবহনের যাত্রীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে যানজটে আটকা পড়ি। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমিরাবাদে পৌঁছাতে সক্ষম ৯ই।

সুরমা পরিবহনের চালক রিপন মিয়া বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এখানে সংস্কারকাজ হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বাসের মধ্যে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরুর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট এখনো রয়েছে। যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কমাতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

নেপালের আকস্মিক বন্যা:  বিপর্যয়ের বহুমাত্রিক কারণ

কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা খান (অব.):

নেপালের ভোটেকোশি নদীতে এ আকস্মিক বন্যার নেপথ্যে তুষারধসের ফলে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ববিদেরা। তাঁদের ধারণা, তুষারধসে পাথর ও বরফের স্তূপ  ভোটেকোশির শাখা লেহন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। পরে জমে থাকা বিপুল পানির চাপে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে প্রবল স্রোত ভোটেকোশি নদীতে নেমে ভয়াবহ হড়পা বান সৃষ্টি হয়। হিমবাহের বরফগলা পানিতে পূর্ণ কোনো হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী একই সময়ে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। তবে এর সঙ্গে বন্যার সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগেও সীমান্তবর্তী হিমবাহ হ্রদ ভেঙে একই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রায় ৪০ বছরের উপগ্রহভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ সালের পূর্বের দু’শকের তুলনায় পরের দু’শকে হিমালয়ে হিমবাহ গলার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বন উজাড় ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণও পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্যোগঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফলে ভোটেকোশির এই বিপর্যয়কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং হিমালয়ের পরিবর্তিত পরিবেশ ও ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে এই দুর্যোগের কারণকে একক কোনো ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমাত্রিক বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

হিমবাহ ও পাহাড়ি পরিবেশের পরিবর্তন

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমালয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর প্রভাবে বহু হিমবাহ দ্রুত গলছে, পাতলা হচ্ছে ও পিছিয়ে যাচ্ছে। হিমবাহ গলনের ফলে নতুন জলাধার বা হিমবাহ হ্রদ সৃষ্টি হতে পারে এবং বিদ্যমান হ্রদগুলোর পানির পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বরফ, মাটি বা পাথরের বাঁধ দুর্বল হয়ে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। এ ধরনের ঘটনাকে Glacial Lake Outburst Flood (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা বলা হয়। এ ধরনের বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্রুততা ও তীব্রতা। অনেক ক্ষেত্রে নদীর নিম্নাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান না।

বরফধস ও নদীর গতিপথে বাধা

উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তুষার, বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে উজানে পানি জমে একটি অস্থায়ী হ্রদ বা প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি হয়। পরবর্তীতে জমে থাকা পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যায়। তখন বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর, কাদা ও গাছপালা একসঙ্গে নিচের দিকে ধেয়ে গিয়ে ভয়াবহ হড়পা বান সৃষ্টি করতে পারে। নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূমিধস ও অস্থিতিশীল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি

হিমালয় বিশ্বের অন্যতম ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় অঞ্চল। খাড়া পাহাড়, ভঙ্গুর শিলা, সরু নদী উপত্যকা এবং অস্থিতিশীল ঢাল এ অঞ্চলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। অতিবৃষ্টি, তুষারগলন বা ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে ভূমিধস ঘটতে পারে। ভূমিধসের ফলে নদীতে পাথর ও মাটি জমে অস্থায়ী বাঁধ সৃষ্টি হতে পারে। বাঁধের পেছনে পানি জমে থাকার পর তা হঠাৎ ভেঙে গেলে নিচের দিকে প্রবল বেগে পানি ও কাদা প্রবাহিত হয়। ফলে একটি স্থানীয় ভূমিধসও কয়েক মিনিটের মধ্যে বৃহৎ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়া

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। পাহাড়ি এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিবৃষ্টি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিবৃষ্টি, হিমবাহ গলন ও পাহাড়ি ভূমিধস একসঙ্গে ঘটলে আকস্মিক বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের দুর্যোগ বিশ্লেষণে শুধু বৃষ্টিপাত নয়, বরং হিমবাহ, ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুর পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে।

ভূমিকম্প ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি

হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় ভূকম্পন পাহাড়ি ঢাল, বরফস্তর এবং প্রাকৃতিক জলাধারের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস বা বরফধসের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বন্যার সঙ্গে ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার জন্য বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। দুর্যোগের কারণ নির্ধারণে অনুমানের পরিবর্তে ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ুবিষয়ক তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান অপরিহার্য।

বন উজাড় ও পরিবেশগত অবক্ষয়

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি শুধু জলবায়ু বা ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে না; মানুষের কর্মকাণ্ডও এর তীব্রতা বাড়াতে পারে। বন উজাড়ের ফলে পাহাড়ের মাটি ও ঢালের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হতে পারে। নির্মাণকাজ, পাহাড় কাটা এবং পরিবেশের অপরিকল্পিত ব্যবহার ভূমিধস ও মাটিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে প্রাকৃতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানবিক বিপর্যয়

আকস্মিক বন্যার ক্ষতি শুধু নদীর পানি বৃদ্ধি বা অবকাঠামো ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেতু, সড়ক, ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হতে পারে। মানুষ ও যানবাহন প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে পারে এবং অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দেখা দেয় বহুমাত্রিক জনস্বাস্থ্য সংকট। নিà