All posts by jitu

দাউদকান্দিতে হকারদের দখলে

দাউদকান্দিতে হকারদের দখলে যাত্রী ছাউনি ও ফুটপাত

দাউদকান্দিতে হকারদের দখলে যাত্রী ছাউনি ও ফুটপাত

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই মহাসড়কের দাউদকান্দির কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন লাখো যাত্রীদের আনাগোনা। তাই যাত্রীদের সুবিধার্থে দাউদকান্দি বিশ্বরোড, গৌরীপুর এলাকায় জেলা পরিষদ নির্মাণ করেছে কয়েকটি যাত্রী ছাউনি। যাত্রীদের বসা বা বিশ্রামের জন্য তৈরি হলেও এখন হকার আর দখলদারদের দখলে এসব ছাউনি। হরেক রকম পণ্যের ঝলকে চেনার উপায় নেই যাত্রী ছাউনি। সরেজমিনে দেখা গেছে এমন চিত্র।

গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড ও দাউদকান্দি বিশ্বরোডে যাত্রী ছাউনি রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনায়। এসব যাত্রী ছাউনির নিচে দখল করে চলছে ব্যবসা। এগুলো দেখবালের যেন কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , এক সময়ে এসব যাত্রী ছাউনিতে পথচারী ও সাধারণ যাত্রীদের পদচারণা থাকলেও এখন এক শ্রেণীর মানুষের কাছে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত হয়েছে! এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীদের।

গৌরীপুরের ঢাকামুখি বাসস্ট্যান্ডে ভিড়ের মধ্যে বাসে যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও সেখানে যাত্রীদের বসাতো দূরের কথা দাঁড়ানোরই কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীরাও উপায়ন্তর না দেখে যত্রতত্র জায়গা থেকে গাড়িতে উঠছেন। এতে করে সব সময় এখানে যানজট লেগেই থাকছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার এসব দোকানীদের উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই তা আবার দখলে চলে যায় বলে যাত্রীদের অভিযোগ। শুধু যাত্রী ছাউনি নয় ফুটপাটও দখল করেছে তারা। বিগতদিনের ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছে হকাররা। আর দূর্ভোগে পড়ছে পথচারী ও যাত্রীরা।

জানা গেছে, এসব ফুটপাতসহ যাত্রী ছাউনির নিয়ন্ত্রণকারী চাঁদাবাজরা বিদায়ী সরকারের লোকজন। তাদের নির্ধারিত লোকেরা ফুটপাতের নিজ নিজ পছন্দের জায়গা দখল করে এবং চাঁদার টাকা উঠায়।

হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা চাঁদা দেয় যাত্রী ছাউনি ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ক্ষমতাশীল এক লোক এ টাকা নেয়। এর উপর মাঝে মধ্যে পুলিশও ডিস্টার্ব করে।

নাম-পরিচয় গোপন রেখে এক পথচারী বলেন, সবসময়ই যাত্রী ছাউনি এবং ফুটপাতে হকারদের মেলা। আসলে প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার ভান করে। প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন তিন থেকে চার শ টাকা চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু আপনি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে দেখেন, টাকা কে নেয় তারা আপনাকে কিছুই বলবে না। কারণ তাদের ব্যবসা করতে হবে। দাউদকান্দি বিশ্বরোড এবং গৌরীপুরের কুমিল্লা মুখি স্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিগুলোরও একই দশা। খোলা চোখে দেখলে মনে হবে হকারদের সম্রাজ্য। এছাড়া এই যাত্রী ছাউনিতে বখাটে ছেলেদের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো।

যাত্রীদের বসাতো দুরের কথা এর পাশ দিয়ে হাঁটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন এ পথে চলাচলকারী নারায়ণ বনিক, ইব্রাহিম খলিল, মেহেদী হাসান। তারা জানান, সড়কের পাশে যাত্রী ছাউনিগুলো বেদখল থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে যেখানে পারছি সেখান থেকেই বাসে উঠা নামা করছি। এছাড়াও ঝড়-বৃষ্টির সময়ে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগ হাতে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হয়। যাত্রী ছাউনি ও ফুটপাত দখমূক্ত করার দাবী জানান তারা।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, যাত্রী ছাউনি সংস্কার ও দখলমুক্তসহ যাত্রীদের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। ছাউনিগুলোতে রোডম্যাপ দেওয়া, সেখানে কোন গাড়ি কখন আসবে সে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থাসহ আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। যাত্রী ছাউনিতে যেন বাসগুলো থামে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম জানান, যাত্রী ছাউনি এলাকায় প্রতিনিয়ত হকারদের উচ্ছেদ অভিযান এবং যাত্রীদের নির্বিঘেœ যাত্রা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম বলেন, অল্প কয়েকদিন হয়েছে আমি সাম্প্রতি সময়ে এসেছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে জনস্বার্থে অতি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি

ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি ২০০১ ব্যাচের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি ২০০১ ব্যাচের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

শেকড়ের টানে পাশে আনে ’’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি ২০০১ এর বন্ধুদের উদ্যোগে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সারাদিনব্যাপী আলেখারচর মায়ামি রিসোর্টে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২৫০ জন বন্ধু বান্ধবীদের উপস্থিতিতে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

শরতের কাশফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রথমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন গ্রুপের বন্ধু বিল্লাল আরজু।তারপর গীতা পাঠ করেন গ্রুপের অপর বন্ধু অমর কৃষ্ণ।

চৌদ্দগ্রাম ও লাকসাম বন্ধুদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন আব্দুল হাকিম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রুপের এডমিন প্যানেলের সদস্য কাজী সাইফুল, ওমর ফারুক,আবু হানীফা,মামুন আব্দুল্লাহ।

ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি

বিশেষ অতিথি হিসেবে বুড়িচং উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ,মায়ামি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব মো: মিজানুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং এত বছর পরও বন্ধুদের এই উদ্যোগ ও বন্ধন দেখে খুবই প্রশংসা করেন,দিক নির্দেশনা মূলক বেশ কিছু পরামর্শ দেন এবং মানবিক যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।পরে উনার পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে রসমালাই দিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

তারপর থানা ভিত্তিক ও পেশা ভিত্তিক বন্ধুদের একে একে পরিচয় পর্ব ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে বন্ধুদের পরিচিতি পর্ব তুলে ধরা হয়।পরিচিতি পর্ব শেষে কেক কেটে সবাই ৩য় বর্ষপূর্তির শুভেচ্ছা জানান।

জুম্মার নামাজের বিরতি ও দুপুরের খাবারের ঘোষণা দিয়ে প্রোগ্রামের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দুপুরের খাবারের পর দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে শেখ আবদুল্লাহ মানবিক গ্রুপ ইউনিটি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সবার সামনে তুলে ধরেন।পাশাপশি গত বন্যায় গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ও গ্রুপের পক্ষ প্রতি থানায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও অসহায় বন্ধু বান্ধবীদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

বিকেলে গ্রুপের বন্ধুরা ও কুমিল্লার বিখ্যাত শিল্পীদের গানে পুরো হলরুম আনন্দে উচ্ছসিত ও উপভোগ্য ছিল।সবাই নাচে গানে পুরোটা সময় মাতিয়ে রেখেছে। রেফেল ড্র ঘোষণার মধ্য দিয়ে জমকালো ৩য় বর্ষপূর্তির প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উপস্থিত সকল বন্ধুরা এমন সুন্দর ও সফল আয়োজনের জন্য গ্রুপের প্যানেল বন্ধুদের ও আয়োজক বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান।আয়োজক বন্ধুরাও উপস্থিত সকল বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পাশাপশি প্যানেল বন্ধুদের পক্ষ থেকে সকলের সমন্বয়ে এত সুন্দর প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন ও সফল করার জন্য আয়োজক ও উপস্থিত বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও যেন বন্ধুদের যেকোনো বিপদে আপদে পাশে থেকে কাধে কাধ মিলিয়ে বন্ধুদের কল্যাণে কাজ করতে পারে সেই দুআ কামনা করেন।

বিশেষ করে আয়োজক বন্ধু আব্দুল হাকিম, আনিছুর রহমান, কাজী সাইফুল,ছোটন, কার্তিক,বিল্লাল, নুরুদ্দিন সোহেল,শাহ আলম আমিনুল, মনির শিমুল,মাসুম, আজাদ,মিজান,মামুন, জাকির, রিপন,সাইফুল খান, আবু হানীফা, দিপু,মাহবুব, রেজাউল করিম,পুলিশ সাইফুল,জিয়া,মুসা,এড. সাইফুল,হাবিবা লিপি,সুপ্রিয় টুম্পা,নাজমা আক্তার,ফারুক, বাহারুল,কাউসার হায়দার,বিশ্বজিতসহ যারা আয়োজনে জড়িত থেকে মেধা দিয়ে,কঠোর পরিশ্রম করে প্রোগ্রামকে সফল ও সার্থক করেছে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

পুরো প্রোগ্রামটি সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন বন্ধু কাউসার হামিদ ও আবু মুসা জীবন।

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে শেষ হল তিন দিনব্যাপী ইজতেমা

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে শেষ হল তিন দিনব্যাপী ইজতেমা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে তাবলীগ জামাতের তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ইজতেমা ময়দান। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মারকাজের সূরা প্রধান মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২০ সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।

বেলা ১২টা ৩ মিনিটে শুরু হয় মোনাজাত। এতে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। সেই সাথে দ্বীনের পরিবেশ কায়েম করার পাশাপাশি নবী করিম (সাঃ) এর সুন্নতের তরিকা অনুযায়ী চলার তৌফিক কামনা করা হয়। দুনিয়ার সকল মক্তব, মাদ্রাসা, দ্বীনই প্রতিষ্ঠানের হেফাজত এবং সবাইকে খেদমত করার তৌফিক এনায়েত করেন। বিশ্বের মানুষের হেদায়েতে কাজ করতে তৌফিক কামনা করেন। মুসলমানদের হেফাজতে আল্লাহর সাহায্য কামনা এবং কাফের, মুশরিকদের হাত থেকে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য সাহায্য কামনা করেন। ২৫ মিনিটের মোনাজাতে মুসল্লিরা আমন আমিন বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তিন দিনব্যাপী তাবলিগ জামাতের এই ইজতেমা চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার স্টার আলকায়েত জুট মিলের উল্টো দিকে বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত এই জেলা ইজতেমায় আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, ফিলিস্তিন, সিঙ্গাপুর, মিশর ও মরক্কো থেকে আসা মেহমানরাও অংশগ্রহণ করেন।

তাবলিগ জামাতের চাঁদপুরের মুরুব্বী হযরত মাওলানা আব্দুর রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) আমবয়ানের মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের জেলা ইজতেমা শুরু হয়। ইজতেমায় ঈমানের ওপর আল্লাহর একত্মবাদ এবং রাসুল পাক (সা.) এর রেসালাত, আখলাক আখেরাতের আলোচনা করা হয়। তিনি আরো জানান, ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের মাধ্যমে প্রায় ২০টির অধিক জামাত তৈরি হয়েছে। তারা দ্বীনের দাওয়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন।

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি ও চক্ষু হাসপাতাল কুমিল্লার পরিচালনায়, ফ্রেড হোলস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা সেবা, লেন্স ছানি অপারেশন, চশমা প্রদান সচেতনাতা লিফলেট বিতরণ ও স্কুল আঙ্গিনায় গাছের চারা রোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে শুক্রুবার দিন ব্যাপী চলে এসব কার্যক্রম। চক্ষু সেবার এই মানবিক কার্যক্রমটির ১৪তম বছরের আসর বসলো এবার।

বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন, উদ্যোগে, বিনামূল্যে, চক্ষু চিকিৎসা, সেবা প্রদান, ওষুধ বিতরণ,

সেবা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মাজেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক এস এম মিজানের সঞ্চালনায়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কৃষি মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আনোয়ার ফারুক, উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি এডভোকেট আ হ ম তাইফুর আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, ইলিয়টগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক আহমেদ। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সহনির্বাহী পরিচালক উজ্জল হোসেন রানা, প্রোগ্রাম সমন্বয়ক সাংবাদিক শরীফ প্রধান ও নাসির আহমেদ শিশু। এসময় সদস্য ময়নাল, বিল্লালসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলো।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী সেবা কার্যক্রমে দাউদকান্দি, চান্দিনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, তিতাস ও কচুয়া উপজেলা থেকে আগত প্রায় ৬শতাধিক রুগীকে বিনামূল্য চক্ষু পরীক্ষা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রায় দেড় শতাধিক রুগীকে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করানোর জন্য মনোনীত করা হয়।

চাঁদপুরে ৬ শতাধিক শিক্ষকের পদ শূন্য

চাঁদপুরে ৬ শতাধিক শিক্ষকের পদ শূন্য রেখেই চলছে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম

চাঁদপুরে ৬ শতাধিক শিক্ষকের পদ শূন্য রেখেই চলছে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর জেলার ২৮৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এছাড়া ৩৩০ জন সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের ২৮৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি না দেয়ায় এবং অবসরের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। তবে সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উক্ত স্কুলগুলোতে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও দায়িত্বহীনতা এড়াতে জরুরী ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিভাবক মহল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদানে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অভিভাবকরা বলছেন, মানসম্পন্ন শিক্ষার পূর্ব শর্ত হলো- প্রয়োজনীয় শিক্ষক, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও উপযুক্ত পরিবেশ। এসবের কোনো একটির কম হলে মানসম্পন্ন শিক্ষায় সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক না থাকলে পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলার ১১৫৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৮৯ টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট শিক্ষক রয়েছে ৮ হাজার ১৩০ জন, ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে ৩ লক্ষ ১২ হাজার ৩৫০ জন। ক্লাস্টার রয়েছে ৪৬ টি, সাব- ক্লাস্টার ২২৫টি, ভর্তির হার ৯৯.৯৮% ও ঝরে পড়ার হার ৮.৭৩%।

এদিকে সহকারি শিক্ষকের ৩৩০ টি পদ শূন্য নিয়েই চলছে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। অন্যদিকে শিক্ষা অফিসগুলোতে প্রায় ৫৫ টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদের মধ্যে উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী,

অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক সহ বিভিন্ন পদে ৫৫ টি পদে জনবল শূন্য রয়েছে। এসব পদে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক পদায়ন হবে পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। পদোন্নতির মাধ্যমেই বেশি নিয়োগ হবে। বছরে জেলার প্রতি বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৫০হাজার এবং উর্ধ্বে ৭০হাজার দৈনন্দিন খরচ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। স্কুল বুঝে বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দে মূলত চক, ডাস্টার, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল আনুসাঙ্গিক খরচ করা হয়। যা স্লিপের মাধ্যমে দেয়া হয়। এই ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে কিছু স্কুলে এই বরাদ্দ পুরোপুরি খরচ করা হয় না।

এদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে। এতে চরমভাবে পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রীদের। বর্তমানে এ স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৮জন। দুই শিফটে ৬শ্রেণির নিয়মিত ১০০থেকে ১০৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন একজন। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ব্যবস্থা। এ বিদ্যালয়ে মাত্র ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে দু’জনের অবসরগ্রহণ এবং একজন ছুটিতে থাকায় তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি।

বিদ্যালয় শিক্ষক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক সংকটে থাকা এই বিদ্যালয়টিতে ৭ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ৪ জন দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শান্তি রানী ধর অবসরে গেলে ৩ শিক্ষক মিলে বিদ্যালয়ের পাঠদান চালান। এ তিনজনের মধ্যে নুরুন্নাহার নামে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও গত ৩ মাস পূর্বে মারা যান। দুইজন সহকারি শিক্ষক মিলে বিদ্যালয়টির হাল ধরলেও তানিয়া আক্তার নামের একজন শিক্ষিকা শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে অবসরে চলে যান। যার ফলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়ায় একজন।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে হিমশিম খান। তিনি বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে একজন অস্থায়ী শিক্ষককে আনা হয়। শিক্ষক না থাকায় সকালে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে ক্লাস শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে অস্থায়ী শিক্ষকের সহযোগিতায় সব কটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাতে হয় তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকের সহায়তায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক না থাকায় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গুরুত্বসহকারে নজর দেয়া জরুরি।

এ নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, বিদ্যালয়টির মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছে সত্য। তবে এমন পরিস্থিতিতে একজন অস্থায়ী শিক্ষককে আনা হয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক দিতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে। এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলি মন্ডল বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকট আমার জানা ছিল না। আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেয়ার ব্যবস্থা করব।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক কালের বন্যায় জেলার ১৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ১ কোটি ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। যা কাটিয়ে উঠতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেক স্কুল মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছেন। অনেক গুলোতে কাজ চলছে বলে জানা যায়।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সহ জনবল সংকট রয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য রয়েছে ৩৩০ জন। সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ হবে এবং প্রধান শিক্ষক পদে প্রমোশন হবে বলে জানান। উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী পদে নিয়োগ হবে। পদোন্নতি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ হলে প্রাথমিক শিক্ষা আরও বেগবান হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে শাহরাস্তির অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাব

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল একটি নাম অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাব। ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা খেলায় সকল সময়ে সমানভাবে অংশ নিয়ে ইতিমধ্যে পুরো উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি ক্রীড়া সংগঠন হচ্ছে অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাব।

সম্প্রতি শাহরাস্তির চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে চিতোষী আর এন্ড এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিবে অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাব। এতে জাতীয় দল সহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নামকরা খেলোয়াড়রা অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলবেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম, ফরেন স্ট্রাইকার দারুজ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুর্ধ্ব ১৭ এর মিডফিল্ডার সৌম্য চাকমা, লক্ষীপুর জেলার রাইট ব্যাক খেলোয়াড় নুরু, কুমিল্লা জেলার গোলরক্ষক মাহফুজ, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মিডফিল্ডার সাইফুল, চাঁদপুর সদরের স্টপার আশিক, শাহরাস্তি উপজেলার লেফট ব্যাক ফরিদসহ আরও অনেকেই উক্ত টুর্নামেন্টে খেলবেন বলে জানিয়েছেন ক্লাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ।

গত বছর শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লীগ আয়োজিত টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে এনে পুরো উপজেলায় সাড়া ফেলেছেন এই ক্রীড়া সংগঠনটি। আসন্ন শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লীগ-২০২৪ এ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাব্বির রহমানও আসার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাবটির পৃষ্টপোষক ও পরিচালক হিসেবে রয়েছেন কাতার প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম দিপু। এছাড়া ক্লাবটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সালাউদ্দিন সুজন।