All posts by jitu

লাকসামে নৌকাডুবিতে

লাকসামে নৌকাডুবিতে দুই শিশুর মৃত্যু

লাকসামে নৌকাডুবিতে দুই শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে বেড়াতে এসে নৌকাভ্রমণের সময় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আউশপাড়া ভূইয়া বাড়ির বেড়িবাঁধ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো শাহানা আক্তার (১২) এবং আরিছ হোসেন (৫)। শাহানা শাহরাস্তি উপজেলার রঘুরামপুর মুন্সী বাড়ীর হান্নান মুন্সির মেয়ে এবং আরিছ বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের এমরান হোসেনের ছেলে।

শাহানার নানা রাশেদ ভূইয়া এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে শাহানা ও আরিছ তাদের মায়ের সঙ্গে আউশপাড়া গ্রামে বেড়াতে এসেছিল। তাদের নানা ও খালুর বাড়িতে থাকার সময় মঙ্গলবার বিকেলে আরও কয়েকটি শিশুর সঙ্গে নৌকায় শাপলা তুলতে বের হয় তারা। বেড়িবাঁধ এলাকায় নৌকাটি হঠাৎ ডুবে গেলে চারজন শিশু তীরে উঠতে পারলেও শাহানা ও আরিছ পানিতে ডুবে যায়।

পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মণিপুরে উত্তেজনার মধ্যে কারফিউ জারি, ইন্টারনেট বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতিগত সহিংসতায় আবারও উত্তাল ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্য মণিপুর। দফায় দফায় সংঘর্ষে গত কয়েকদিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে রাজপথে নেমেছে জনগণ। রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরাও। সরকারী ভবনে চালিয়েছে হামলা। সবমিলিয়ে আবারও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে মণিপুরের ইম্ফল পূর্ব ও ইম্ফল পশ্চিম জেলায় এবার জারি করা হয়েছে কারফিউ। অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই কারফিউ চলমান থাকবে। পাশপাশি ৫ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট। খবর ইন্ডিয়া টুডে, এএফপির।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩-এর অধীনে এই নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনগণকে তাদের বাসস্থানের বাইরে চলাচল সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইম্ফল পূর্ব জেলায় কারফিউ পূর্ণ বলবৎ থাকবে।

তবে স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পিএইচইডি, প্রেস এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও আদালতের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারফিউ-এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এছাড়া পৌরসভার কর্মকর্তা, বিদ্যুৎ কর্মী, পেট্রল পাম্পের কর্মী, ফ্লাইট যাত্রী এবং মিডিয়া কর্মীদেরও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ৪৬ বছর বয়সি এক নারী নিহত হয়েছেন। প্রত্যন্ত থাংবুহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।

নিহত নারীর নাম নেমজাখোল লুংডিম। চূড়াচাঁদপুতে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানা গেছে, গ্রামের কয়েকটি বাড়িও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং স্থানীয়রা কাছের জঙ্গলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এছাড়াও রাজ্যটিতে ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, ভিডিও এবং বক্তব্য ছড়িয়ে দুষ্কৃতকারীরা রাজ্যের সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবার সহিংসতা বন্ধ করে রাজ্যটিতে স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও হচ্ছে সমালোচনা। এমন অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর নতুন আক্রমণ চালিয়েছে কংগ্রেস।

মূলত সংঘর্ষপীড়িত রাজ্যটিতে এখনও পর্যন্ত সফরে না যাওয়ায় মোদির সমালোচনা করেছেন দলটির অন্যতম গুরত্বপূর্ণ নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মণিপুরে চলমান সহিংসতা এবং পরবর্তী বিপর্যয়কে ‘ঠেকানোর কোনও প্রচেষ্টা চালাননি’ প্রধানমন্ত্রী মোদি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ‘কারো ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। প্রায় দেড় বছর ধরে মণিপুর জ্বলছে।’

ভারতের সঙ্গে কথা হবে

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে, মাথা নিচু করে নয়: কুমিল্লায় আসিফ মাহমুদ

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে, মাথা নিচু করে নয়: কুমিল্লায় আসিফ মাহমুদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে, মাথা নিচু করে নয়। কথা হবে মাথা উঁচু করে। কথা বলতে হবে সমুন্নত সম্মান দিয়ে। ভারত এতদিন একটি দলের সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু এখন আর তা হবে না। এ দেশের জনগণ পররাষ্ট্রের নীতির ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটি রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করবে। সুতরাং জনগণের বুকে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলার যে প্র্যাকটিস তারা এতদিন ধরে করে এসেছে সেখান থেকে সরে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্পিরিটকে ধারণ করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বেশি কিছু চায় না। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ বিলাসিতা চায় না। যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত হয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে চায়। কিন্তু একটি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের শাসনের যাত্রার ফলে আমরা এমনভাবে পিষ্ট হয়েছি যে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিতে গেলেও দশবার ভাবা লাগত। গান গেয়ে অনেককে জেল খাটতে হয়েছে। কবিতা লিখে জেল খাটতে হয়েছে। আজ আমরা এতটুকু স্বস্তিতে অন্তত আছি। এখন আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। কেউ আমাদের আজ বিরক্ত করছে না। র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি বলে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে না।

তিনি আরও বলেছেন, শুধু ১৬ বছর নয়, গত ৫৩ বছর ধরে এ দেশের ওপর শুধু জঞ্জাল জমা হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি। কিন্তু ৫৩ বছরের জঞ্জাল একদিনে বা এক মাসে কীভাবে সমাধান করা যায় তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু ইতোমধ্যে আমরা কিছু পরিবর্তন দেখতে পেরেছি।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, আপনারা বিগত ৫৩ বছরে এমন কোনো বন্যা দেখাতে পারবেন না যেখানে ত্রাণ চুরির ঘটনা ঘটেনি। এবার কিন্তু এরকম একটি ঘটনাও ঘটেনি। চাল চুরি করে, ত্রাণ চুরি করে, খাটে লুকিয়ে রাখার ঘটনা একটিও ঘটেনি। এয়ারপোর্টে আমাদের যে প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন, তাদের কীভাবে লাঞ্ছিত করা হত, তাদের লাগেজে আটকে রেখে তাদেরকে কীভাবে কষ্ট দেওয়া হত। এখন কি সেটা আছে? এখন আর সেটা নেই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন বিআরটিএসহ অনেক সরকারি অফিসে জনগণকে ঘুরাতো, কষ্ট দিত, ঘুরিয়ে তাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করত। এখন আর কেউ কি সেই সাহস দেখাচ্ছে? সেটি যেন আর কেউ ভবিষ্যতে সাহস না দেখায় আমরা সেই সংস্কারের কথা বলছি। সেই কাঠামোগত সংস্কার কীভাবে হবে সেটি আমরা ২১ জন যারা সরকারে বসেছি আমরা ঠিক করব না, সেটি নির্ধারণ করবেন আপনারা। সেটি নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তা শোনার জন্যই আমরা এখানে এসেছি। শুধু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই নয় অন্যান্য সংগঠন যারা আছে, সাধারণ মানুষ যারা আছে, সবার কথা আমরা শুনব। তারপর একটি রূপরেখা দেব। তৈরি হবে আগামীর বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শহীদদের তালিকা করা হচ্ছে। আপনারা জানেন অনেককেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর অনেক প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল, তা আমাদের খুঁজে পেতে একটু সময় লাগছে। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যতজন শহীদ হয়েছে সবার তালিকা করা। আমরা আরেকটি কথা স্পষ্ট করে বলতে দিতে চাই। সকল মানুষ তো আর সমান না। যদি সকল মানুষ সমান হতো তাহলে এই ফ্যাসিবাদ কখনোই তৈরি হতো না। এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি একই মনোভাবাপন্ন লোকেরা কিন্তু রয়ে গেছে। আমরা তাদের স্পষ্ট একটি কথা বলতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকারের এই পতন তা কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের যে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মানুষের ওপর অন্যায়-অবিচার তার একটি চূড়ান্ত ফসল। আপনারাও যদি একই পথে হাঁটেন আপনাদের পরিণতিও সেই আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই হবে।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, সুমাইয়া আক্তার, হামযা মাহবুব, জিয়া উদ্দিন আয়ান, আলী আহমেদ আরাফ, আবু রায়হান, তাছনিয়া নাওরিন, মহিদুল ইসলাম রিন্তু, ফারিয়া রহমান, খালেদ হাসান এবং নাঈম আবেদিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর দক্ষিণে মতিন মোল্লা মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

ষ্টাপ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা মতিন মোল্লার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রবাস থেকে এলাকায় এসেই হুট করে বনে যান বারপাড়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি  হিসাবে।  তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে বারপাড়া এলাকায়। সম্প্রতি সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে দুর্নীতিবাজ মেম্বার মতিন মোল্লার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না  করার শর্তে জানান,  বিগত সময়ে সমাজসেবার নামে এক ধরনের হরিলুট করে বেশ বিতর্কিত হয়েছেন এ ব্যক্তিটি। গ্রাম্য শালিসের নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন বিতর্কিত  এই মেম্বার ও তার ভাই কালাম মোল্লা। এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষকে মিলানোর নাম করে টাকা লুট করাই ছিল এ দুই ভাইয়ের নেশা। টাকার বিনিময়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে অপরাধী বানিয়ে দিতেন এ মতিন মোল্লা। কন্টাকের মাধ্যমে সালিশ দরবার করে অবৈধভাবে গড়েছেন সম্পদের পাহাড় । মতিন মোল্লা তার দুর্নীতির সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করার জন্য সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রহিম ও ৪নং বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদের হাত ধরে সক্রিয় হোন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। দলীয় সমর্থনের ছত্র ছায়ায় পেশি শক্তি ব্যবহার করে বিনা ভোটে বনে যায় বারপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ২ মেয়াদের মেম্বার। মেম্বার পদে নির্বাচনের সময়ে তার ওয়ার্ডের তুলাতুলি লোলবাড়িয়া ও পরান পুরের ভোটারদেরকে কেন্দ্রে আসতে বাঁধা ও মামলা হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জাল ভোটে মেম্বার পদে পাশ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্কুলের গণ্ডি পার হতে না পারা মতিন মোল্লা আওয়ামী লীগের  রাজনৈতিক টোটকা ব্যবহার করে হয়ে যান লোলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। স্কুলের আয়া থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের  একজন আয়া পদে প্রত্যাশী মহিলা বলেন, এ মতিন মোল্লা আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন এবং আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। আমি তাতে রাজি হইনি বিধায় আমার চাকরি হয়নি।

স্থানীয় সূত্র আরো জানান, শুধু তাই নয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ার পর থেকেই জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ সরকারি যাবতীয় কাজে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন তার ওয়ার্ডের লোকদের কাছ থেকে। টাকা না দিলে কোন সেবাই মিলতো না ঐ ওয়ার্ডের জনগণের। গরিব ও অসহায় ব্যক্তিদের সরকার নির্ধারিত টিসিবি পণ্যের কার্ড না দিয়ে দেয়া হতো তার ব্যক্তিগত কোরামের বেশিরভাগ লোককে। টিসিবি পণ্যের কার্ড,বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা,ও অন্যান্য ভাতা এবং ইপিজেড ও কাজী ফার্মে চাকরি পাইয়ে দিবে এমন লোভ দেখিয়ে ডিভোর্সি ও বিধবা মহিলাদেরকে দিতো রাত্রি যাপনের অনৈতিক প্রস্তাব। পরিস্থিতির শিকারে কেউ কেউ রাজি হলেও মান সম্মান ও মতিন মোল্লার অত্যাচারের ভয়ে মুখ খুলেনি কেউ।

রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় বেড়ে ওঠা মতিন মোল্লা সন্ত্রাসী বাহিনী গঠনের মাধ্যমে লালমাই পাহাড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে ফরেস্টের সরকারি ভূমির গাছ কাটা ও সরকারি ভূমি দখল নেওয়ার অভিযোগ করেন লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুরের গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে আজাদ হোসেন।

আজাদ হোসেন আরো বলেন, তার নানা রশিদ মাস্টার, জুনাব আলীসহ আরো অনেকের জায়গা জোরপূর্বক দখল করিয়েছিলেন এ মতিন মোল্লা। এসব বিষয় নিয়ে মতিন মোল্লাকে বাধা দিলে রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে আজাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন সদর দক্ষিণ মডেল থানায়। সে মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতারের পর থানা লকাপের মধ্যে মতিন মোল্লা নিজে গিয়ে তাকে টর্চার করেন বলে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে আজাদের স্ত্রী পিংকি অভিযোগ করে বলেন, আজাদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন এবং মতিন মোল্লার সাথে রাত্রী যাপনের অনৈতিক প্রস্তাব দেন।

বড় ধর্মপুরের সোয়েল জামান বলেন, মৃত.  আলী আজ্জন কোম্পানীর দুই ছেলে জাফর আলী এবং লায়নকে হত্যা করার পিছনে রয়েছে মতিন মোল্লার ইন্ধন। তাছাড়া রতনপুরের মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মান্নান এর ছেলে লতিফকে দিয়ে জাফর আলী ছেলে মনির হোসেন ও মঞ্জিল কে হত্যার উদ্দেশ্য পেটে ছুড়ি মেরেছেন মতিন মোল্লার ইশারায়। তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারলে আব্দুল রশিদ মাস্টারের সম্পতি সহজে দখল করতে পারবে এমন উদ্দেশ্যে ছিলো মতিন মোল্লার। ২০০৯ সালে মতিন মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রশিদ মাষ্টারের জায়গা দখল করার জন্য তাদের বংশীয় সকলের ঘড় বাড়ি লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি ঘর  বাড়ি পুড়ে মারা যায় গরু ছাগল হাঁস মুরগী। এ বিষয়ে কোন প্রকার মামলা হামলা করলে জানে মেরে ফেরার হুমকি দিয়ে দমিয়ে রেখেছেন ভুক্ত ভোগীদেরকে। ঐ সময় থানায় মামলা করতে গেলে রাজনৈতিক অপশক্তির হস্তক্ষেপে কোন প্রকার মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগীরা।

লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুরে তার আধিপত্য বিস্তারকে টিকিয়ে রাখতে তার একমাত্র মেয়ের জামাই রতনপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিন এর ছেলে রনি ও একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে পিচ্চি সোহাগের মাধ্যমে গড়ে তোলেন একটি সন্ত্রাসী বাহিনী যাদের দিয়ে সুকৌশলে গড়ে তোলেন মাদকের সাম্রাজ্য। তার একমাত্র ছেলে নোমান মোল্লা ও মেয়ের জামাই রনি ও পিচ্চি সোহাগের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও মাদক প্রচার করতেন এ মতিন মোল্লা। শুধু তাই নয় মতিন মোল্লার ছেলে নোমান মোল্লা গত ছয় মাস আগে সৌদি আরবের দাম্মাম জুবাইলে মাদকসহ ধরা পড়েন । সৌদি পুলিশের হাতে বর্তমানে সে সৌদি আরবের জেলে সাজা প্রাপ্ত আসামী তার একমাত্র মেয়ের জামাই রনি ও সহযোগী পিচ্চি সোহাগের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মাদক মামলা ও গুলাগুলি সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিদেশে মাদক প্রচারের সুবিধার্থে জামাই রনি গত কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছেন ঢাকায়। রনি ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজের লাইব্রেরী ডিপার্টমেন্টের একজন ভদ্র লোকের গাড়ি চালক হিসেবে চাকুরীর পাশাপাশি আড়ালে মাদকের কারবারে জড়িত ছিল বলে জানায় বিশ্বস্ত সূত্র।

পিচ্চি সোহাগ রতনপুর এলাকায় ইন্টারনেট ওয়াইফাই ব্যবসার আড়ালে সু কৌশলে রাজধানী ঢাকায় মাদকদ্রব্য পৌছে দিতেন রনির কাছে।

জমি দখল ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শালিস দরবার করা ছাড়াও অবৈধভাবে ঐতিহ্যবাহী লালমাই পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির  সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ছিলেন মতিন মোল্লা।

তার সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠত তাকেই করা হতো শারীরিক নির্যাতন এবং ভয় ভীতি দেখানো হত হত্যা ও মামলা হামলার। এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি তার বিরুদ্ধে। তার এ সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য মেম্বাররাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য বলেন তার একজনের অপকর্মের কারণে আমাদেরও বদনাম হচ্ছে আমাদেরকেও মানুষ ভুল বুঝতে শুরু করেছে তার এ সমস্ত অপকর্মের শাস্তি হওয়া উচিত।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরপরই গা ঢাকা দেন দুর্নীতিবাজ মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিন মোল্লা।

মতিন মোল্লার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে ধরিয়ে দিতে ভুক্তভোগী আজাদ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা দেন ফেসবুকের মাধ্যমে। মাদকের গডফাদার ও দুর্নীতিবাজ, লম্পট মতিন মোল্লাকে দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জাপানের টোকিওতে কুমিল্লা ইয়ুথ কমিউনিটি ইন জাপান সংগঠনের শুভযাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার:

জাপানের টোকিও হিগাসি জুজু ফোরাইকান হলে একদল তরুণ যুবকদের নিয়ে গঠিত হয় ইয়ুথ কমিউনিটি ইন জাপান সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কায়সার আলম ভূঁইয়া  অনুষ্ঠানের প্রথমে কেক ও ফিতা কাটেন।  পরে সেমিনার হলে সৌজন্য সাক্ষাতের ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য মধ্যে দিয়ে উদ্বোধন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে কায়সার আলম ভূঁইয়াকে আজীবন সম্ভাবনা পুরস্কার দেওয়া হয় ।

তিনি বলেন, এই সংগঠনের মধ্য দিয়ে জাপানে বসবাস করা কুমিল্লা সকল প্রবাসীদের একত্রিতভাবে সামাজিক মানবিক ও সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে।

অনুষ্ঠানে শেষের দিকে এসে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় । এতে সভাপতি পদে সোহেল ভুইয়াকে ও সাধারণ সম্পাদক পদে ফয়েজ আহমেদকে ও সাংগঠনিক সম্পাদক  পদে  এনামুল সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে  শরিফুল ইসলাম ও মাইনুদ্দিন ভূঁইয়াকে নির্বাচিত করে কুমিল্লা ইয়ুথ কমিউনিটি ইন জাপান সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

তারুণ্য শক্তি এই শ্লোগানটি সামনে রেখে সামাজিক অংশগ্রহণমূলক সেবামূলক মানবিক কাজসহ জাপান বাংলাদেশের প্রবাসীদের যে কোন সমস্যার সমাধানে একসাথে কাজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংগঠনের নবাগত সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমাদের নতুন সংগঠনটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলের সুপরামর্শ ও সহযোগিতা আমরা কামনা করছি।

মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে

মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মানববন্ধন

মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মানববন্ধন

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রিফাত হত্যার বিচার এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্র সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ।

মঙ্গলবার(১০সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় দাউদকান্দির বারপাড়া কলেজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাৎক্ষণিক দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থলে এসে মিছিলকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বারপাড়া ইউনিয়েনর সুকিপুর গ্রামের রিফাত গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। রিফাত নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’টি হত্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে হয়রানিসহ অর্থ বানিজ্য করছে একটি মহল। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে রিফাত হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানাচ্ছি।

আন্দোলন অংশগ্রহনকারী বরকোটা কলেজের ছাত্র সাদাফ হোসেন বলেন, রিফাত হত্যা ঘটনায় দু’টি মামলায় অনেক নিরীহ মানুষকে আসামী করা হয়েছে। একটি মহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ মামলা করিয়েছে। আমরা ছাত্র সমাজ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচার দাবী করছি।

মোঃ শাকিব আরেক ছাত্র নিজেকে সমন্বয়ক দাবী করে বলেন, অন্যায় করছে ২০/২৫জন, আর মামলার আসামি দেয়া হয়েছে ১০০/১৫০জনকে। একটি ফ্যাসিবাদি দল এগুলো করেছে। আমরা চাই যে, প্রকৃত খুনিদের বিচার করা হোক আর নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাক।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাউদকান্দি উপজেলা সমন্বয়ক মোঃ নাজমুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, আমি একটু অসুস্থ্য, ঢাকায় আছি। মানববন্ধনের বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে পরে জানাব।

উল্লেখ, গত ৫ আগষ্ট ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শহিদনগরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রিফাত হোসেন নামে এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনায় ১৮ আগষ্ট দশপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ফকির নামে এক ব্যাক্তি ৪৮ জনের নামে এবং অজ্ঞাত ১০০/১৫০ জনের নামে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ১সেপ্টেম্বর নিহত রিফাতের মা নিপা কুমিল্লার আদালতে ৫৫ জনের নামে আরেকটি মামলা করেন। মামলার আরজিতে নিপা উল্লেখ করেন যে, কতিপয় ব্যাক্তিরা আব্দুর রাজ্জাক ফকির নামে জনৈক ব্যাক্তিকে দিয়ে থানায় মামলা করিয়েছে। ওই ব্যাক্তির আমার সাথে কোন যোগাযোগ নেই, তাকে আমি চিনিও না।

লাকসামে চাঞ্চল্যকর

লাকসামে চাঞ্চল্যকর সাইমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামী গ্রেফতার

লাকসামে চাঞ্চল্যকর সাইমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামী গ্রেফতার

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার আলোচিত ও ক্লুলেস মোঃ শাহজাহান প্রকাশ সাইমন (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত ৩ সেপ্টেম্বর লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের ভেতরে খাটের ওপর সাইমনের মৃতদেহ সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তার গলা কাটা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মৃতদেহ থেকে পচা রক্ত ও পানি বের হচ্ছিল।

পরে সাইমনের পিতা আবদুল হান্নান বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে কুমিল্লা পুলিশের একটি বিশেষ দল সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে প্রধান আসামী আব্দুল ওয়াদুদ প্রকাশ মানিক (২৪) কে রবিবার ৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে মানিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইমনের অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং অপর আসামী মোঃ সানাউল্লাহ (২৪) কে লাকসাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মানিক স্বীকার করে যে, সানাউল্লাহর সাথে সাইমনের পূর্বের একটি মাদক সেবন নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল এবং সাইমন সানাউল্লাহর মোবাইল নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তারা সাইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যাকাণ্ডের দিন তারা সাইমনকে লাকসাম হাসপাতালের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে নিয়ে যায়, সেখানে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মানিক কাঠের লাঠি দিয়ে সাইমনের মাথায় আঘাত করে এবং সানাউল্লাহ ব্লেড দিয়ে তার গলা কাটে।

গ্রেফতারকৃত মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।