All posts by jitu

ত্রিপুরার ডুম্বুর বাঁধ

ত্রিপুরার ডুম্বুর বাঁধ অভিমুখে ‘ছাত্র জনতার’ লং মার্চ

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা থেকে ত্রিপুরার ডুম্বুর বাঁধ অভিমুখে লং মার্চ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চ। ৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় কুমিল্লার টাউন হল থেকে ডুম্বুর বাঁধ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ছাত্রজনতা।

জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদীতে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে’ ভারতের বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর পানিপ্রবাহ ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এইদিন সকালে ঢাকা থেকে অন্তত ১০ ট্রাক ছাত্র-জনতা নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ এ লং মার্চ শুরু করে। পরে বিকাল তিনটায় কুমিল্লার টাউন হলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ করে ত্রিপুরার ডুম্বুর বাঁধ অভিমুখে লং শুরু করেন তারা। সমাবেশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ, বিভিন্ন পেশা শ্রেনীর মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন অংশগ্রহন করে।

সমাবেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চ ভারতের কার্যক্রমকে পানিসন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে পাঁচ দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো- সকল বাঁধ উচ্ছেদের জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে দাবি তোলা, জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ কনভেনশন ৯৭ এ অতিসত্বর সাক্ষর করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, আন্তসীমান্ত নদীগুলোর নতুন তালিকা করা ও সকল সীমান্ত হত্যার বিচার করা।

ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শরীফ উসমান হাদী বলেন, আজকের লং মার্চ আমাদের ভাই আবরার ফাহাদকে উৎসর্গ করা হলো। যাকে ফ্যাসিবাদ সরকার ভারতের পানিসন্ত্রাসী নিয়ে কথা বলার কারনে হত্যা করেছে। আমরা ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়েছি। এখন সময় ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। ভারতের বুলেট বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম চিনে না। তাদের এই বুলেট রুখে দিতে হবে।

কুমিল্লা মাঝিগাছায়

কুমিল্লা মাঝিগাছায় হাত পায়ের রগ কেটে যুবককে হত্যা

কুমিল্লা মাঝিগাছায় হাত পায়ের রগ কেটে যুবককে হত্যা

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা পাঁচথুবি ইউনিয়নের পশ্চিম মাঝিগাছা এলাকায় নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাছির উদ্দীনকে জবাই করে হাত পায়ের রগ কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পশ্চিম মাঝিগাছা মসজিদের পাশের খালি জমি থেকে নাছির উদ্দীনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত নাছির উদ্দীন (৪০), পশ্চিম মাঝিগাছা গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে  নাছির উদ্দীনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে।

খবর পেয়ে ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাহিম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।

২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার: লোটাস ও তার মেয়ের দুবাইয়ে বিশাল সাম্রাজ্য

প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার: লোটাস ও তার মেয়ের দুবাইয়ে বিশাল সাম্রাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল ও তার মেয়ে নাফিসা কামাল। সূত্র বলছে, বাপ-মেয়ে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করে দুবাইয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছেন।

শেয়ারবাজার কারসাজিতে ব্যাপক আলোচিত-বিতর্কিত ব্যবসায়ী থেকে মন্ত্রী বনে যাওয়া লোটাস কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের দুবাইয়ে আবাসন খাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সূত্র বলছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ফি বাবদ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে লোটাস কামাল ও তার পরিবারের নেতৃত্বাধীন চক্র।

চক্রটি চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। এর আগে ২০১০ সালে শেয়ারবাজার কারসাজি করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন লোটাস কামাল। এসব টাকা দুবাইয়ে পাচারের তথ্য পেয়ে তা যাচাই-বাছাই শুরু করেছে দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরির (ইইউট্যাক্স) চলতি বছরের ১৬ মে প্রকাশিত তথ্যে বলেছে, ২০২২ সালে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ৫৩২ বাংলাদেশির প্রপার্টি মালিকানার (অফ-প্ল্যান অর্থাৎ উন্নয়ন বা নির্মাণ শেষের আগেই কিনে নেওয়া প্রপার্টির মালিকানাসহ) হিসাব পাওয়া গেছে।

এ তালিকায় লোটাস কামাল ও তার পরিবারের নাম রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য বলছে, দুবাইয়ের আবাসন খাতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রপার্টির মূল্য ২৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। অফ-প্ল্যান প্রপার্টিসহ এ সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলারে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলামের মতে, অর্থমন্ত্রী থাকাকালে লোটাস কামাল সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে দেশের অর্থনীতিকে নিয়ে গেছেন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

দেশের আর্থিক খাতে চরম বিশৃঙ্খলার জন্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আ হ ম মুস্তফা কামালই দায়ী।

২০০৮ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা) আসনের এমপি ছিলেন লোটাস কামাল। শেখ হাসিনা সরকারের পতন আঁচ করতে পেরে গত ১৫ জুলাই লোটাস কামাল ও নাফিসা কামাল লাগেজ ভর্তি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বর্তমান সরকার লোটাস কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরী কামাল ও মেয়ে নাফিসা কামালের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে, তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ।

লোটাস কামালের সংসদীয় এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিগত ১৫ বছর লোটাস কামালের সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ছিলেন সর্বস্তরের মানুষ।

টাকার অঙ্ক যিনি বেশি দিতে পারতেন তিনি হতেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার। টাকার বিনিময়ে জুটত দলীয় পদ। ফলে প্রতিটি দপ্তর চলত কামালের ইশারায়। এডিবি, টিয়ার ও কাবিখা বরাদ্দ দিতেন নিজেদের পছন্দের লোকদের। এসব বরাদ্দের কাজ থেকে ৩০ ভাগ টাকা কেটে নিতেন। এভাবে দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া শত শত কোটি টাকা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুবাই পৌঁছে যেত লোটাস কামাল ও তার পরিবারের কাছে। আর সেই অর্থে বিগত ১৫ বছরে দুবাইয়ে বিশাল বিত্তবৈভব গড়ে তুলেছেন লোটাস কামাল।

দুদক সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের জুলাইয়ে যখন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলে, তখন কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের দায়িত্ব পায় মালয়েশিয়া। তাদের কাছে ১ হাজার ৫২০টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাত্র ২৫টি এজেন্সির নাম নির্বাচন করা হয়। এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালা ছিল না। দেখা গেছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ও তার পরিবার, সাবেক তিন এমপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং এ খাতের নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমিরী কামালের অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ৭ হাজার ১৫২ জন ও মেয়ে নাফিসা কামালের মালিকানাধীন অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল ২ হাজার ৭০৯ জন শ্রমিক পাঠিয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সরকার নির্ধারিত জনপ্রতি ব্যয় ৭৯ হাজার টাকা। সিন্ডিকেটটি নিয়েছে কর্মীপ্রতি ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গিয়ে নানা জটিলতায় কাজ পাননি কিংবা কেউ কেউ ঋণ করে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেখানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেরই মানবেতর ও অমর্যাদাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন যাপনের বিবরণ উঠে আসে।

সূত্র বলছে, অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ সংকটে ফেলে গেছেন লোটাস কামাল। এ সময়ে তিনি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা তো দূরে থাকুক, মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত যাননি। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে অর্থমন্ত্রী পদে বসে সর্বোচ্চ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তার সময়ে ব্যাংক খাতে ভয়াবহভাবে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। ব্যাংক থেকে দেদার বেরিয়ে গেছে জনগণের অর্থ।

এমনকি লোটাস কামাল ও তার পরিবারের সঙ্গে পরিচালকদের যোগসাজশে ব্যাংক থেকে ঋণের নামে জনগণেল অর্থ লুট হয়েছে। কামালের পাঁচ বছরে ডলার সংকট ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। পণ্যমূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। সামগ্রিক আর্থিক খাতেও বেড়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি। এ সময়ে কয়েকগুণ বেড়েছে অর্থ পাচার। একদিকে মন্ত্রণালয়ের কাজে না থাকলেও ব্যক্তিগত ব্যবসাবাণিজ্য সম্প্রসারণে সময় দিতে কার্পণ্য করেননি মোটেও।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির প্রথমবার যে ১০টি সিন্ডিকেট চিহ্নিত হয়েছিল তার একটি আ হ ম মুস্তফা কামালের শ্যালক আরিফ হোসেনের। অ্যাসেস নামের এ প্রতিষ্ঠান মূলত ছিল মুস্তফা কামালের নিজস্ব কোম্পানি। সে সময় তিনি পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আইনগত বাধা দূর করার জন্য শ্যালকের নাম দিয়ে রেখেছেন কাগজে-কলমে। একইভাবে অর্থমন্ত্রী থাকাকালে তিনি মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির সিন্ডিকেটের দুটি লাইসেন্স তার স্ত্রী কাশমিরী কামাল ও কন্যা নাফিসা কামালের নামে করেন। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো-অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল ও অরবিটাল এন্টারপ্রাইজ। এর বাইরে রয়েছে অরবিটাল মেডিকেল সেন্টার ও গুলশান মেডিকেয়ার লিমিটেড।

স্ত্রীর সম্পদ বেশি : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ হ ম মুস্তফা কামালের দাখিল করা নির্বাচনি হলফনামায় দেখা গেছে, লোটাস কামালের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪১ কোটি ৯০ লাখ ৫৩ হাজার ৭১৪ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ৬২ কোটি ২৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদ। তবে লোটাস কামালের পরিবার-ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলছে, তাদের দেশে-বিদেশে যে বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ রয়েছে, তার ১ শতাংশও আয়কর ফাইলে নেই।

শেয়ারবাজার কারসাজি : ২০১০ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় লোটাস কামালের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে। তিনি তখন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। নানা অভিযোগ থাকার পরও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কোনো ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি লোটাস কামালকে। তার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে নিঃস্ব হয়েছেন শেয়ারবাজারের লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। লোপাট করে নেওয়া হয়েছে তাদের পুঁজি। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে যখনই শেয়ার কারসাজি ও জাল-জালিয়াতির কথা উঠেছে তখনই ঘুরে-ফিরে সামনে চলে এসেছে এসব নাম। তারা বাজার কারসাজিতে সহায়তা করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়েছেন। এ চক্র একসঙ্গে মিলেমিশে শেয়ারবাজার থেকে লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা।

২০১০ সালের কারসাজিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী লোটাস কামালের পকেটে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা গেছে বলে বিভিন্ন তদন্তে জানা যায়। লোটাস কামাল শেয়ার জালিয়াতি করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের পর নিজে আর সরাসরি শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পর্দার অন্তরালে জালিয়াতির কলকাঠি ছিল লোটাস কামালের হাতেই। তার বুদ্ধি, পরামর্শ ও নেপথ্য সহযোগিতায় শেয়ারবাজারে একের পর এক কারসাজি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ২০১০ সালের ওই কেলেঙ্কারির পর কৃষি ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্তে লোটাস কামালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। সুপারিশ করা হয় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তাদের বিরুদ্ধে। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে না হওয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। পুরো শেয়ারবাজার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। শেয়ারবাজারে তাদের পছন্দই ছিল শেষ কথা। নিজেদের কারসাজি চলমান রাখতে পছন্দের ব্যক্তিকে বানাতেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনার। তাদের মনোনীত কর্মকর্তারা কে কোন বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন সেসব ঠিক করে দিতেন তারা।

ভবন নির্মাণে অনিয়ম : এদিকে রাজধানীর গুলশানে প্রভাব খাটিয়ে ১৪ তলার অনুমোদন নিয়ে ২০ তলা ভবন গড়ে তুলেছেন মুস্তফা কামাল। ১৪ তলার ওপরের ৬ তলাই বাড়ানো হয়েছে নকশায় ব্যত্যয় ঘটিয়ে। রাজধানীর গুলশান ১ নম্বর সার্কেলে গুলশান এভিনিউসংলগ্ন ৫৯ ও ৬০ নম্বর প্লট মিলিয়ে বিশাল ভবন বানিয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রাজউক একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও আইনি জটিলতার কারণে এখনো অনুমোদন হয়নি।

তিতাসে সাবেক দুই এমপি

তিতাসে সাবেক দুই এমপি সহ ১৪২ জনের নামে মামলা

তিতাসে সাবেক দুই এমপি সহ ১৪২ জনের নামে মামলা

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও বিস্ফোরণের অভিযোগে কুমিল্লার তিতাসে সাবেক দুই এমপি , উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ১৪২ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তিতাস থানায় জামির হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। জামির হোসেন উপজেলার সদর কড়িকান্দি ইউনিয়নের কড়িকান্দি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। মামলায় আরও ১৫০/২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

তিতাস থানার ওসি কাজী নাজমুল হুদা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) সংসদীয় আসনের সদ্য সাবেক এমপি ইঞ্জিঃ আবদুস সবুর , জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আমির হোসেন ভুইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর অবঃ মোহাম্মদ আলী সুমন, তিতাস উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার , ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ ফকির, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম সোহেল শিকদার, তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মহসিন ভূইয়া, কড়িকান্দি সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মুরাদ, মজিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক সরকার, কলাকান্দি ইউপি ইব্রাহিম, ভিটিকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আহম্মেদ , নারান্দিয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ যুবলীগের আরও অনেকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে এবং আন্দোলনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে সাবেক দুই এমপির নির্দেশে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ছাত্র জনতার ওপর হামলা, এলোপাতাড়ি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কয়েকজন রক্তাক্ত জখম এবং ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

মামলার বাদি জামির হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কড়িকান্দি বাজার থেকে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গেলেই হামলার মুখে পড়ে।

বাদি জামির হোসেন বলেন, আমি কোন রাজনৈতিক দল করি না। ছাত্রদের সমর্থনে মিছিলে গিয়ে আমার হাতে গুলি লাগে।

কুমিল্লায় মাইক্রোবাসের পেছনে

কুমিল্লায় মাইক্রোবাসের পেছনে বাসের ধাক্কায় শিশুসহ নিহত ৪

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হচ্ছেন ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামের মামুন (৫০) তার শ্বাশুড়ি মাজেদা বেগম (৭০), ছেলে সাইমান (৫ মাস) ও মাইক্রো চালক ফেনী সদরের মাষ্টার পাড়ার হাসান হাজারির ছেলে আলাউদ্দিন হাজারি (২৭)। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নানকরা এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রইস উদ্দিন।

নিহত মামুনের ভাই হানিফ জানান, তার ভাই মামুন বন্যা কবলিত নিজ বাড়ির লোকজনদের দেখতে দুই দিন আগে ফেনীতে আসে। মামুন ঢাকা একটি হসপিটালে চাকুরী করেন। তিনি আজ সকালে স্ত্রী সন্তান ও শ্বাশুড়িকে মাইক্রোবাসযোগে ফেনী থেকে রওয়ানা হন। কিছুক্ষণ পরে শুনি তাদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মহাসড়কের নানকরা এলাকায় শুক্রবার সকাল ছয়টায় ঢাকামুখী লেইনে একটি মাইক্রোবাস ( ঢাকামেট্টো চ-১৩-৩৬৬২) সামনে একটা ট্রাক দাঁড়ানো থাকায় মাইক্রোর গতি কমিয়ে দেয়। এসময় পিছনে দ্রুত গতিতে থাকা স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস গতি কন্ট্রোল করতে না পেরে মাইক্রোবাসের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে করে মাইক্রোবাসটি মহাসড়ক থেকে নীচে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় মাইক্রোবাস চালক ও শিশুসহ চারজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহতরা সকলে মাইক্রোবাসের যাত্রী। এসময় মাইক্রোবাসে থাকা মামুনের স্ত্রীসহ আরও কয়কজন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ভিসি অধ্যাপক ইসমাইল

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক ইসমাইল

ভিসি অধ্যাপক ইসমাইল

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখার হোসাইন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো.সাহাবুদ্দিন নোবিপ্রবি আইন ২০০১ এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী আগামী চার বছরের জন্য এ নিয়োগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

গণপিটুনির শিকার

মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি: গণপিটুনির শিকার সেই কলেজছাত্র এখনও জীবিত

উৎসব মণ্ডল

ডেস্ক রিপোর্টঃ

খুলনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে উৎসব মণ্ডল (১৮) নামে এক কলেজছাত্রকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়েছে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেনাবাহিনীর হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উৎসব মণ্ডল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ধরে সোনাডাঙ্গায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শত শত লোক সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে শুরু করে এবং তাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে রাত পৌনে ১২টার দিকে উত্তেজিত জনতা পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কার্যালয়ের তিনতলায় প্রবেশ করে এবং উৎসব মণ্ডলকে গণপিটুনি দেয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, উৎসব মণ্ডলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা পেরিয়ে তাকে মারধর করে।

সাইবার মামলা থেকে খালাস

সাইবার মামলা থেকে খালাস পেলেন বিএনপি নেতা বুলুসহ ১২ নেতাকর্মী