All posts by jitu

‘আলো আসবেই’ গ্রুপ

‘আলো আসবেই’ গ্রুপ নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিলেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু

‘আলো আসবেই’ গ্রুপ নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিলেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু

ডেস্ক রিপোর্ট:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুইটি দল বিভক্তি দেখা দেয়। একদল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছিলেন, আর এই সব পরিকল্পনা হোত হোত ‘আলো আসবেই’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, যার কথোপকথন সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে।

এই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, এবং চিত্রনায়ক রিয়াজ।

গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি, তানভীন সুইটি, সোহানা সাবা, অরুণা বিশ্বাস, অভিনেতা সাজু খাদেমসহ আরও অনেকে। সেই গ্রুপে আলোচনা চলাকালীন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গরম পানি ঢালার মতো ভয়ংকর পরিকল্পনা উঠে আসে।

এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে অন্যান্য তারকারা প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তিনি দাবি করেন, ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে ‘র মতো আরও একটি গ্রুপ আছে, যা একইরকম উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে।

বুধবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে মনিরা লেখেন, ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ এর মতো একটি গোপন গ্রুপ আছে। সেখানে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে, শিল্প ও শিল্পীর ভালো মন্দ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। প্রায় ৮ মাস আগে বিঞ্জের একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ের সময় ড. এজাজ ভাই, আমি, শামিম আহমেদ, আমরা— অনেকেই একটা খুবই স্বাভাবিক হাস্যোজ্জ্বল ভিডিও করি এবং সেটা আমার পেজে আপলোড দিই। সেই ভিডিওর ভিউ হয় মিলিয়নের ওপরে।’

মনিরা আরও লিখেছেন, ‘কারণ এজাজ ভাই আর আমাকে দর্শক কানেক্টেড করতে পারে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নাটকের সঙ্গে। আমাদের শিল্পী সংঘ থেকে আমাকে অনুরোধ করা হয় সেই ভিডিওটি ডিলিট করে ফেলার জন্য। আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেন? একজন বললেন যে, শিল্পী সংঘের সেক্রেটারি নাজনীন হাসান চুমকির নাকি সারারাত ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল যে, কীভাবে আমি এই অশ্লীল ভিডিও আপলোড দিলাম। কারণ ভিডিওর এক জায়গায় ড. এজাজ ভাই কমলা খাচ্ছিলেন আর ‘বিচি’ শব্দটা উচ্চারণ করেছিলেন। অ্যাক্টর ইকুইটির সেই গোপন গ্রুপের একজন সদস্য আমাকে কিছু স্ক্রিনশট পাঠান আমি যেন দ্রুত ভিডিওটি ডিলিট করি।’

মনিরা মিঠু লিখেছেন, ‘স্ক্রিনশটে দেখি সুজাত শিমুল আমাকে তুমুল গালাগাল করছেন। সারাজীবন মনে থাকবে সুজাত শিমুলের এই লাইনটি— এরা শিল্পী নামের বিষ্ঠা। মানে আমি আর কি। তিনি কবিতার মতো আরও অনেক গালাগাল দিয়েছিলেন আমাকে সেই গোপন গ্রুপে। আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে, শিল্পী সংঘের কোনো সিনিয়র সদস্য সুজাত শিমুলকে বলেননি যে, একটি ভিডিওর জন্য মিঠু আপাকে এভাবে গালাগাল করছো কেন? নাজনীন হাসান চুমকি তো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারতেন যে, মিঠু আপা ভিডিওটি শ্রুতিমধুর না, মুছে ফেলেন। কারণ তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের বিবাদ ছিল না।’

এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘শিল্পী সংঘের খুবই কনিষ্ঠ একজন সদস্য আমাকে সেই গোপন গ্রুপের স্ক্রিন শট পাঠিয়েছিলেন। আমাকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটির কমেন্ট চেক করি, দেখলাম কোথাও আমার পেইজের দর্শক এই ‘বিচি’ শব্দটির সঙ্গে কানেক্ট হননি। হয়তোবা আমার ও ডক্টর এজাজ ভাইয়ের ভক্তদের ‘কান’ শিল্পী সংঘের উচ্চপদস্থ পদ পাওয়া সদস্যদের ‘কান’-এর মতো এতো অশ্লীল নয়, এতো হিংসাত্মক নয়। আমি কিন্তু সেই ভিডিওটি ডিলিট করেছিলাম অপমানে, ঘৃণায়, লজ্জায়।

কিন্তু আমি ভীষণ বোকা, সেই ভিডিওটি ডিলিট না করলে আমি অনেক টাকা পেতাম । কারণ সেই সময়ে আমি নিয়মিত পেজে ভিডিও দিতাম এবং সেটা আমার একটা আয়ের উৎস ছিল। কিন্তু আমার বিজ্ঞ আদালত সুজাত শিমুলের ফাঁসির আদেশ আর নাজনীন হাসান না ঘুমিয়ে স্ট্রোক করতে পারেন এই লজ্জায় আমি প্রায় ভিডিও দেওয়া বন্ধ করে দেই।’

তবে এই স্ট্যাটাসটির পর সেটি আর মনিরার টাইমলাইনে খুঁজে পাওয়া যায় নি। যদিও পরে অভিনেত্রী আরও একটি পোস্ট লিখে জানিয়ে দেন যে, কেন বারবার তার পোস্ট মুছে যাচ্ছে বুঝতে পারছেন না।

বিজেপি নেতা

মসজিদে ঢুকে মুসলিমদের হ’ত্যা করার হুমকি দিলেন বিজেপি নেতা

মসজিদে ঢুকে মুসলিমদের হত্যার হুমকি 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মসজিদে ঢুকে মুসলিমদের হ’ত্যা করার হুমকি দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র বিধায়ক নীতেশ রানে। আহমেদনগরে রামগিরি মহারাজের সমর্থনে এক সভায় তিনি বলেন, “রামগিরি মহারাজের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে মসজিদে ঢুকে মুসলিমদের হ’ত্যা করব। এটা মাথায় রেখো।”

এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর, আহমেদনগর পুলিশ নীতেশ রানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তারা এই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

এদিকে, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দলটির নেতা ইমতিয়াজ জলিল বলেন, “রামগিরি মহারাজের মন্তব্য একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

দলের মুখপাত্র ওয়ারিশ পাঠান বলেন, “আহমেদনগরে বিজেপি বিধায়ক নীতেশ রানে প্রকাশ্যেই মুসলিমদের হ’ত্যা করার হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপি মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উ’ত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। নীতেশ রানে-র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এফআইআরের ভিত্তিতে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত।”

বিতর্কের জেরে বিজেপি জানিয়েছে, নীতিশ রানের বক্তব্য দলীয় মতামত নয়। দলের মুখপাত্র তুহিন সিনহা তার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নীতেশ রানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি ভঙ্গ করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য দুটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।

চলন্ত মোটরসাইকেলে

চলন্ত মোটরসাইকেলে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

চলন্ত মোটরসাইকেলে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর হাতিয়াতে চলন্ত মোটরসাইকেলে মো.বেলাল উদ্দিন (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

সে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও  বিরবিরি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের  কাদিরা সুইচ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জাহাজমারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুররব সাহারাজ মিয়া বলেন, বেলাল তার ওয়ার্ডের নিমতলী এলাকায় দাওয়াত খেতে যায়। এরপর মোটরসাইকেলে ফেরার পথে একই ওয়ার্ডের জুয়েল (৩২),তার ভাই সোহেল (৩০) ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা হামলা করে। ওই সময় তারা তাকে পিছন দিক থেকে মাথায় কুপিয়ে আহত করে। পরে সে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে  তাকে বেধড়ক মারধর করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ও হাতিয়ার সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর অনুসারী।

নিহতের পিতা আব্দুল মালেক বলেন, আমার ছেলে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে জুয়েল ও সোহেলের ওয়ার্কশপ দোকানের সামনে পৌঁছলে তারা আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি আমার ছেলেরা সারা জীবন বিএনপি করছি এটাই আমাদের অপরাধ। এর আগেও তারা আমার ছেলেকে মারধর করে তার দোকান তালা মেরে মালামাল সব লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও স্থানীয় সেন্টার বাজার থেকে আমার ছেলেকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। নাতিকে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। আমার ছেলেরা তাদের মার খেতে খেতে অতিষ্ঠ হয়ে চারজন ছেলে বিদেশ চলে গেছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিসান আহমেদ বলেন, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যার কারণে চৌদ্দগ্রামে

বন্যার কারণে চৌদ্দগ্রামের ৮২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

বন্যার কারণে চৌদ্দগ্রামের ৮২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার:

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার স্কুল, মাদরাসা ও কলেজসহ ২৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যায়। ফলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার কারণে এখনো ৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের ভবনের মেঝেতে, মাঠে ও রাস্তায় পানি থাকার কারণে এখনও ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫টি মাদরাসার পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

বাকি বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান শুরু হলেও চতুর্দিকে পানি থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।

গত ১৮ আগস্ট থেকে বন্যার কারণে চৌদ্দগ্রামে র পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে ১৭০টি প্রাথমিক, ৫৪টি মাধ্যমিক, ৪৮টি মাদরাসা, একটি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি-বেসরকারি ১১টি কলেজসহ মোট ২৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আলকরা ইউনিয়নের বাকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও যাতায়াতের সড়কে পানি থাকায় ওইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও চারপাশে পানির থৈ থৈ অবস্থায় থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে নারাজ। এছাড়া কিছু এলাকায় বাড়ির উঠানে এবং সড়কে পানি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে আসতে পারছে না। ফলে পাঠদান শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।

আব্দুর রশিদ নামে এক অভিভাবক বলেন, “চারদিকে এখনও যে পরিমাণ পানি রয়েছে, সে কারণে আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। পুরোপুরি পানি কমলে সে স্কুলে যাবে।”

ফারুক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করে বই-খাতাসহ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কি নিয়ে স্কুলে যাবো?”

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাকিনা বেগম বলেন, “উপজেলার ১৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭০টিতে পানি উঠেছে। এখনো ৭০টি বিদ্যালয়ের ভবনের মেঝেতে, মাঠে ও রাস্তায় পানি রয়েছে। যার কারণে ওই বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

এছাড়া ৬৭ বিদ্যালয়ের বেঞ্চ, টয়লেট ও ফ্লোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে পানি নেমে গেছে, সেগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে তবে চতুর্দিকে পানি থাকায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেন বলেন, “পানি থাকার কারণে উপজেলার ৭টি স্কুল ও ৫টি মাদরাসায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকিগুলোতে যথারীতি পাঠদান চলমান রয়েছে।”

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর মৃত্যু

বন্যা কবলিত এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর মৃত্যু

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত মো. আজিজুর রহমান তুহিন (২৭) নোয়াখালী পৌরসভার মুসলিম কলোনির বাসিন্দা মো. মহসিনের ছেলে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৯ টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার বন্যা কবলিত এলাকা ৫নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুহিন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিএম ট্রেডার্সের সামনের গ্যারেজে বন্যার পানির মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার চেষ্টা করছিলেন। কাজ করার সময় বিদ্যুৎ ছিল না, তবে হঠাৎ বিদ্যুৎ ফিরে আসায় তুহিন বিদ্যুতায়িত হন। এসময় তার ভাই আরিফ তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলে তুহিন পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এরপর তাকে দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তুহিনের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সুধারাম থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু তালেব জানিয়েছেন, ঘটনাটি থানায় জানানো হয়নি। তবে তারা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।

শান্তর ট্রফি নিয়ে ঘুম

শান্তর ট্রফি নিয়ে ঘুম: মেসির বিশ্বকাপ মুহূর্তের অনুকরণ

শান্তর ট্রফি নিয়ে ঘুম: মেসির বিশ্বকাপ মুহূর্তের অনুকরণ

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২২ সালে কাতারে স্বপ্নের বিশ্বকাপ জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেই স্মরণীয় রাতে বিশ্বকাপ ট্রফি জড়িয়ে ঘুমানোর ছবিটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। সেই মুহূর্তে মেসির ট্রফির প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছিল।

এবার মেসির মতোই কিছুটা আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রথমবারের মতো জয় পেয়ে ট্রফি নিয়ে ঘুমালেন বাংলাদেশের এই অধিনায়ক। আজ সকালে সেই মুহূর্তটি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন শান্ত, যেখানে দেখা যায় ট্রফির পাশে ঘুমিয়ে আছেন তিনি।

ছবিটির ক্যাপশনে শান্ত সংক্ষিপ্তভাবে লিখেছেন, ‘শুভ সকাল।’

এই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে শান্ত এবং বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ মনে করেছেন, শান্তকে মেসির অনুকরণ না করে নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত।

গোমতীর ভাঙনে কুমিল্লার

গোমতীর ভাঙনে কুমিল্লার নারান্দিয়ায় ৬০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন

গোমতীর ভাঙনে কুমিল্লার নারান্দিয়ায় ৬০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন

স্টাফ রিপোর্টার:

গোমতীর ভাঙনে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া গ্রামে ৬০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। বহু প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও গত দেড়যুগে এখানকার নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার নদীতীরবর্তী ঘরবাড়ি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে অন্তত ৬০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। মসজিদ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, হাঁস-মুরগির খামার এবং অর্ধশতাধিক মাছের খামারও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। ভারি বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে আসা ঢলের কারণে প্রতিবছর এই নদীভাঙন ঘটে, যা এ বছরও একইভাবে চলছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তারা এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। গত ৩০ বছরে নদীভাঙনের ফলে হাজার হাজার পরিবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা এই ভাঙন থেকে পরিত্রাণ চান, তবে আর্থিক দুরবস্থার কারণে অনেকেই অন্যত্র যেতে পারছেন না।

নারান্দিয়া পূর্বপাড়ের সমাজসেবক গোলাম মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, গত ৩০ বছর আগে থেকে ভাঙন শুরু হয়। গত ৬-৭ বছরে কিছু জিও ব্যাগ ও ব্লক এলেও সঠিক স্থানে স্থাপন না হওয়ায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো নারান্দিয়া গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাবে।

নারান্দিয়া পশ্চিম পাড়ার সাবেক মেম্বার মফিজুল ইসলাম জানান, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুলসহ অর্ধশতাধিক মৎস্য প্রকল্প নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানের অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো রক্ষায় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

তিতাস উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিন জানান, প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সবসময় খোঁজ-খবর নিচ্ছে এবং ত্রাণ বিতরণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হয়েছে, এবং সরকারি বরাদ্দ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোও খোলা রাখা হয়েছে।