All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামে যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম ছুট্টুর উদ্যোগে খাবার বিতরণ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার ৯ ওয়ার্ড ও মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফেলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের ক্ষুধার্ত দেড় হাজার বানভাসীদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ছুট্টু।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী রান্না করা খাবার বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা নুর হোসেন বলাই, পৌর কৃষকদলের সাবেক সভাপতি খালেক শিকদার লিটন, উপজেলা যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন মজুমদার, পৌর বিএনপি নেতা মোঃ ইয়াছিন, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ সুমনসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে তিন শতাধিক বানভাসীর মাঝে বিএনপির খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তিন শতাধিক বানভাসীর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা বিএনপির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জিএম তাহের পলাশী ও উপজেলা বিএনপির বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলমগীর হোসেন, বিএনপি নেতা আবদুল কাদের মোল্লা বাবলু। এসময় সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিতাসে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বন্যাকবলিত নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। উপজেলার কলাকান্দি ও ভিটিকান্দি ইউনিয়নের কিছু অংশে লোকালয়ে এখনো পানি থাকলেও বেশিরভাগ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে।

তবে পানি কমলেও বন্যাকবলিত অনেক এলাকায় খাদ্য, নিরাপদ পানির সংকটে মানুষের ভোগান্তি এখনো কমেনি। কোথাও কোথাও এখনো পানি রয়েছে। পানির স্রোতে কালভার্ট, সেতু ও সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এক এলাকার সাথে অন্য এলাকার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলায় বন্যার পানি কমলেও কলাকান্দি ইউনিয়নের আবজলেরকান্দি, উত্তর মানিকনগর, দক্ষিণ মানিকনগর, হারাইকান্দি, খানেবাড়ী, কাউরিয়ার চর ও কালাচানকান্দি গ্রামের কিছু স্থানে মানুষজন এখনো পানিবন্দি রয়েছেন।

অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এসব এলাকায় কোথাও হাঁটুসমান পানি আবার কোথাও কোমরসমান পানি রয়েছে। তারমধ্যে ৩৫টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে । কালাচানকান্দি মাদ্রাসায় আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন দুপুর এবং রাতের খাবার দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, আল্লাহ স্বামর্থ দিয়েছে। আমার বাড়ির পাশেই মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয়া বন্যাকবলিত পরিবারগুলো পাশে দাড়াতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

আবজলেরকান্দি গ্রামের মসজিদ পাড়ার আরিফ হোসেন বলেন, আমার ঘরে এখনো হাটুসমান পানি। ছোট এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বউ আশ্রয়কেন্দ্রে। ভিটির মাটিগুলোও স্রোতের পানিতে চলে গেছে। প্রতিবন্ধি ভাতার টাকায় সংসার চালাই। এখন কেমনে ঘর ঠিক করবো, আর কি খাইব ?

একই গ্রামের আব্দুল আওয়াল, মোঃ হান্নান ও অহিদ মিয়া বলেন, বন্যার পানি থেকে বাঁচলেও এখন মনে হয় খাবারের জন্য মরতে হবে। রান্না করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। ঘরে থাকা চাল-ডাল, ধানসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পানিতে ভিজে গেছে। বিভিন্ন এলাকার যুবক যুবক ছেলেরা আইসা খাবার দিয়ে যায়। নদীর পার ঘেষা কেউ কেউ একাধিকবার পেলেও গ্রামের মাঝখানে যারা আছই তাদের অনেকেই কোন সহযোগিতা পাই না।
তারা বলেন, বাড়ির সামনে এখনো কোমরসমান পানি। গ্রামের মাঝখানে হওয়ায় এদিকে কেউ আসছেন না। খুব খারাপ সময় পার করছি আমরা।

আবজলেরকান্দি ওয়ার্ডের মেম্বার এসএম দুলাল বলেন, পুরো গ্রামটির ২৪৩টি পরিবারের মধ্যে ১৯০টি পরিবার চারদিন পানির নিচে ছিল। এখন পানি নামছে, আর দুর্ভোগ বাড়ছে!

কলাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম সরকার জানান, আমার ইউনিয়নের আবজলেরকান্দি, উত্তর মানিকনগর, দক্ষিণ মানিকনগর, হারাইকান্দি, খানেবাড়ী, কাউরিয়ার চর, কালাচানকান্দি এবং দরিমাসিমপুরের একাংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

কালাচানকান্দি মাদ্রাসার আশ্রয়কেন্দ্র ৩৫ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি বরাদ্দের চার টন চাল এবং শুকনো খাবারের দুইবারে ৪৫০ প্যাকেট দুইবারে বিতরণ করা হয়েছে। আর দরিমাসিমপুর- কদমতলী সড়কের মাঝখানে সংযোগ সেতুটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ।

বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিন বলেন, পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। যারা নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের কাছে শুকনো খাবার, পানি পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

ফেনির ছাগলনাইয়াতে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করলেন সেনাবাহিনী প্রধান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি আজ ফেনী জেলার ছাগলনাইয়াতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

রবিবার (২৭ আগষ্ট) সকালে পরিদর্শনকালে তিনি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেন।

এরপর বন্যা দুর্গতদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর চাহিদা সম্পর্কে অবহিত হন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে করণীয় বিষয়সমূহ সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণের কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া ছাড়াও সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণের জন্য বুকসমান পানিতে প্রাণপণ ছুটছেন বানভাসিরা

স্টাফ রিপোর্টার:

বন্যার ভয়াল থাবায় কুমিল্লার ১৪টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ বিপর্যস্ত। বানের জলে ডুবে গেছে সেখানকার সব কিছু, তাই সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণই তাদের একমাত্র ভরসা। পানি জমে যাওয়ায় এলাকার সড়কগুলোতে হাঁটুপানি, ফলে নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোটই হয়ে উঠেছে ত্রাণ পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম। যে কেউ ত্রাণ দিতে গেলে, নারী-পুরুষ সবাই পানি ডিঙিয়ে সেদিকে ছুটে যায়।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গোমতীর বাঁধ ভাঙনের শিকার বুড়িচং উপজেলার খাঁড়াতাইয়া গ্রামে গেলে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু একটি দ্বিতল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারের শব্দ শুনেই তারা একটু খাবার ও পানির আশায় ছুটে আসেন। গ্রামের প্রতিটি বাড়িই পানিতে ডুবে গেছে। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে, কেউবা গোমতীর বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে কিছু পুরুষ বাড়িতেই থেকে গেছেন মালপত্র রক্ষার জন্য।

খাঁড়াতাইয়া গ্রামের চারপাশ থই থই পানিতে ভরা, কোথাও সামান্য মাটির চিহ্নও নেই। এই বিপদসংকুল অবস্থার মাঝেও কেউ কেউ বাড়িতে থেকেই জলমগ্ন জীবন যাপন করছেন। রফিকুল ইসলাম নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা নৌকার শব্দ শুনেই ছুটে আসেন।

তিনি জানান, ঘরে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, সব পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি ত্রাণের নৌকা থেকে খাবারের সঙ্গে মশার কয়েল, দুই বোতল দুধ এবং পানি চেয়ে নেন।

রফিকুল আরও জানান, যা শুকনো খাবার পাচ্ছেন, তা দিয়ে কোনোমতে চলছেন, কিন্তু খাবার পানির সংকট প্রকট। কয়েক দিন ধরে রান্না করা খাবার পাননি।

ওই গ্রামের একটি দ্বিতল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন অর্ধশতাধিক বানভাসি। আফজাল হোসেন নামে একজন জানান, তিনি তার তিন সন্তানসহ সেখানে আছেন এবং তাদের আরও ত্রাণ ও পানি প্রয়োজন। ভবনে আশ্রয় নেওয়া লোকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা নেই।

এ সময় ষোলনল ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন একটি ট্রলার নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে আসেন। তিনি কলাগাছের ভেলায় করে দুর্গত লোকজনের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

ত্রাণের ট্রলারের শব্দ শুনেই বুক সমান পানি ডিঙিয়ে ছুটে আসেন পাশের বেড়াজাল গ্রামের মামুনুর রশীদ ও তার এক প্রতিবেশী নারী।

তারা জানান, সোমবার তারা কোনো ত্রাণ পাননি। দুটি প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে তারা ঘরে ফিরে যান।

পাশের নানুয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ফার্নিচার ব্যবসায়ী ময়নাল হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রের টিউবওয়েল নষ্ট, ত্রাণ হিসেবে যে শুকনো খাবার ও পানি পাই তা দিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হয়। বাড়িতে ধান-চাল সব ফেলে এসেছি, বাড়ি ফিরে খাবার কি? এই চিন্তায় ঘুম আসেনা।’

এ আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন পাশের বাড়ির বাসিন্দা মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, গোমতীর পানি আমাদের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। একই বাড়ির তিন পরিবারের ১৩ জন এই আশ্রয়কেন্দ্রে আছি।

অফুলা বেগম বলেন, ‘আমরা বেঁচে থেকেও যেন মরে গেছি। এখন যে সামান্য শুকনো খাবার পাই, তা দিয়ে কোনোরকম দিন কাটাচ্ছি। চার দিন গোসল করিনি। এটা কি জীবন?’

বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অন্যান্য দুর্গত এলাকারও একই চিত্র। আশ্রয়কেন্দ্র ও বাড়িতে আটকা পড়া লোকজনের একই আকুতি, ‘আরও ত্রাণ চাই, আরও পানি চাই। শিশুদের খাবার চাই।’ যদিও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহিদা আক্তার জানান, গোমতীর ভাঙনের ফলে এ উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

আটক সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত আটক হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) তিনি রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকা থেকে আটক হন।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত ঢাকার একটি আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরাফাত ঢাকার ফরাসি দূতাবাসে লুকিয়ে রয়েছেন- গত ১৪ আগস্ট এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকার ফরাসি দূতাবাস।

ফ্রান্স দূতাবাস জানায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ফরাসি দূতাবাসে লুকিয়ে আছেন, এমন গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এদিকে গত ১২ আগস্ট মোহাম্মদ আলী আরাফাত, তার স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন স্থগিত করার আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকর আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ। সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের হয়ে নানা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে যুক্ত ছিলেন। টক শোতে আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষে কথা বলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হন তিনি।

গত বছরের জুলাইয়ে ঢাকা–১৭ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরে জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪ দিন পর দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে সাদেকপুর উত্তর পাড়ায় একটি মসজিদের পাশের জমি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হচ্ছে- কালিসীমা গ্রামের বিল্লাল মিয়ার মেয়ে নাইমা (১৪) ও সাদেকপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের মেয়ে মাইমুনা (১৪)। তারা সদর উপজেলার পয়াগ গ্রামের ময়না বেগম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্রী ছিল।

নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার বিকেলে তারা মাদ্রাসায় যায়। শনিবার সকালে মাদ্রাসা থেকে ফোনে জানানো হয় তারা মাদ্রাসায় নেই। মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, রাতে ওই দুই ছাত্রী দুষ্টুমি করলে তাদের শাসানো হয়। এরপর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চাইলে শিক্ষক তা দেখাতে গড়িমসি করেন। ঘটনার ৪ দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে সাদেকপুর উত্তর পাড়ায় একটি মসজিদের পাশে জমির পানি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন শিক্ষকরা। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুবিতে চলছে গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার্তদের সহযোগিতা করার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘পাটাতন’ সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ ও নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছেন বন্যার্তদের জন্য।

আজ মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ‘পাটাতন গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি’ ব্যানারে চেয়ার-টেবিলসহ বুথ তৈরি করে গণত্রাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সেখানে অনেক শিক্ষার্থী কাজ করছেন।
আজ সারাদিন চলবে এই গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি।

গণত্রাণ কর্মসূচিতে শামিল হতে কেউ কাপড় মুড়ি-চিড়া, কেউ বিস্কুটসহ শুকনো খাবার নিয়ে আসছেন। বুথে বসা শিক্ষার্থীরা খাতায় অনুদানের অঙ্ক লিখে টাকা জমা রাখছেন।

কুবির ২২ আনসার বহিষ্কার , কর্মক্ষেত্রে ফিরতে চান বাকিরা

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

ক্যাম্প ত্যাগ করে ঢাকায় বেআইনি সমাবেশ ও সচিবালয় ঘেরাও করার অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২২ আনসার সদস্যকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কুমিল্লা রেঞ্জ। এছাড়াও কুমিল্লা রেঞ্জের ৭৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

সোমবার (২৬ আগস্ট) কুমিল্লা জেলা কমান্ড্যান্ট রাশেদুজ্জামান প্রতিবেদককে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি এদের সকলের নামে মামলা করার কথা জানান।

চাকরিতে স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতিতে গিয়েছে বাংলাদেশ আনসার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দাবি মেনে নেয়। তবে দাবি মেনে নেওয়া স্বত্ত্বেও মহাসমাবেশের ডাক দিয়ে গতকাল সচিবালয় ঘেরাও করে উপদেষ্টাদের আটকিয়ে রাখেন তারা। সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধলে ৩০ এর অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে আত্মসমর্পণ করেন তারা।

জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট ৪৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে পালন করে আসছিলেন। চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে গত ২২ আগস্ট তিনদিনের কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে ২৫ আগস্ট দায়িত্বে ফেরার কথা থাকলেও ফিরেননি তারা।এদের মধ্যে ২৩ জন কুবি ক্যাম্পে উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ২৬ জন। এর মধ্যে ৪ জন ছুটিতে থাকলেও বাকি ২২ জন ঢাকার সমাবেশে উপস্থিত থাকার কথা নিশ্চিত করে কুবির দায়িত্বে থাকা এসিস্ট্যান্ট প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল হক।

এদিকে কুবির ২২ আনসার সদস্যকে বহিষ্কার করা হলেও ক্যাম্পাসের দায়িত্বে ফিরতে নিরাপত্তার শঙ্কায় রয়েছেন বাকি আনসার সদস্যরা। এ বিষয়ে এপিসি আব্দুল হক বলেন, যারা ঢাকার সমাবেশে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলো তারা প্রকৃতপক্ষে আনসার ছিলোই না। তারা ছিলো মূলতঃ দুস্কৃতিকারী। আমাদের দাবি মানা হয়েছিলো। আমরা কর্মক্ষেত্রে ফিরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের জন্য আমরা এখন দায়িত্বে ফিরতে পারছি না। তাদের কারনে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

কুমিল্লা জেলা কমান্ড্যান্ট রাশেদুজ্জামান বলেন, যখন তারা কর্মসূচির ডাক দেয় তখনি তাদের বলা হয়েছিল যে আপনাদের দাবি-দাওয়া বিবেচনা করা হবে। আপনারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না। যদি করেন তাহলে কুমিল্লা রেঞ্জ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু তারা তা না মেনে জেলা কার্যালয় ঘেরাও করে। পরবর্তীতে সচিবালয় ঘেরাও করে অরাজকতা সৃষ্টি করে। ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জনসহ ৭৭ আনসার সদস্যকে আমরা চিহ্নিত করে বহিষ্কার করেছি। তাদের পেছনে ইন্ধনদাতা কে ছিল তা খুঁজে বের করার চেষ্টা কর