All posts by jitu

সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিজিবি সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করবেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ওই পোস্টে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে ১৮ জুলাই সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।

মনোহরগঞ্জে ৩ মসজিদে চুরি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বেড়েছে চোরের উপদ্রব। প্রায়ই ঘটছে চুরির ঘটনা। চোরের কবল থেকে বাদ যাচ্ছে না ধর্মীয় উপাসনালয়ও। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বানঘর গ্রামে একদিনের ব্যবধানে ৩ মসজিদে চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বানঘর পূর্বপাড়া মজুমদার বাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটে। তালা ভেঙে একটি ব্যাটারি ও ক্যাশবাক্স নিয়ে গেছে চোর। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই রাতে স্থানীয় বানঘর মিজিবাড়ী জামে মসজিদেও চুরির ঘটনা ঘটে। ব্যাটারি ও ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ায় প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা ক্ষতিসাধিত হওয়ার কথা জানান মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা।

বানঘর তাহের চেয়ারম্যান বাড়ির বায়তুত ত্বাকওয়া মসজিদের মোয়াজ্জিন মাওলানা মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, গত ১৩ জুলাই এশার নামাজ শেষে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যাই। ফজরের নামাজের আজান দিতে গিয়ে জামাকাপড় এলোমেলো দেখতে পাই। পরে সন্দেহ হলে মসজিদের অন্য জিনিসপত্র ঠিক আছে কিনা চেক করতে গিয়ে দেখি ক্যাশবাক্স নেই। নামাজের পর বিষয়টি জানাজানি হলে পরে মসজিদের ক্যাশবাক্সটি পাশের পুকুরপাড়ে ও চুরি যাওয়া ম্যানিব্যাগটি মসজিদের দোতলার ছাদে পাওয়া যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক এখনই বলা যাচ্ছে না।

পূর্ব থেকেই চুরেরা মসজিদের ছাদে ওত পেতে ছিল বলে ধারণা করছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী জানান, গত ৩ মাসের মধ্যে আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা চুরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরঞ্জামাদি, মসজিদের মাইক, ব্যাটারিসহ বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সংঘবদ্ধ চোরের এ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় রাতে চোরের উপদ্রব আরও বেড়ে গেছে। এসব চুরির ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ আবু মো শাহজাহান কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চুরির ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। এমন কিছু পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাবিতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। এসময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টা থেকে শহীদ মিনার ও রেজিস্ট্রার ভবনের মাঝামাঝি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর ও পদার্থ বিভাগের সামনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরাতে প্রথমে ধাওয়া করে। পরে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে।

আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আমরা জড়ো হয়ে মিছিলে স্লোগান দিচ্ছিলাম। পরে দুপুর ১২টা থেকে আমাদের মুখোমুখি দাঁড়ায় পুলিশ। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তারা ৫টার পর থেকে আমাদের ওপর হামলা শুরু করে।’

এ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আলমগীর কবির বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মেনে শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়লে আমি কোনো দায় নেবো না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমার পক্ষে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হবে না।

ঢাবিতে দুই শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, ৫ সাংবাদিক আহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ। এতে অন্তত দুই শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ ও অন্তত পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন অন্তত পাঁচ সাংবাদিক। একইসঙ্গে গুলিবিদ্ধ হয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।

আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- আফসানা জুঁই ও আব্দুল হান্নান মাসুদ। তারা জানান, গায়েবানা জানাজা শেষে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কফিন মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের লক্ষ্য করে দুইদিক থেকে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে আছেন জনি রায়হান, আকরাম হোসেন, ইমরান হোসেন ও হুমায়ুন আহমেদ।

এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথম দফায় ও দ্বিতীয় দফায় ভিসি চত্বরের সামনে গায়েবানা জানাজা পড়েন। এরপর তারা কফিন মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর থেকে টিএসসির দিকে রওনা দিলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

ঢাবিতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবন থেকে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে টিএসসির দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়ে।

শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ছাদ থেকে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ছাত্রলীগের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ছাত্রলীগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে মঙ্গলবার ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকায় দুজন ও রংপুরের একজন রয়েছেন।

এ অবস্থায় দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে সরকারের এ সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এতে সই করেছেন ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

এরও আগে গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের সব কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চলমান এইচএসসি ও সমমানের বৃহস্পতিবারের (১৮ জুলাই) সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আল্টিমেটাম

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ৯৮ তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও বিকাল ৫টার মধ্যে হল ত্যাগের সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন।

বুধবার ( ১৭ জুলাই) প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে এ আল্টিমেটাম দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে। এর আগে মিছিলটি বঙ্গবন্ধু হল থেকে শুরু করে নজরুল হল, দত্ত হল, শেখ হাসিনা হল এবং ফয়জুন্নেছা হলের সামনে দিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভিসির বংলোতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়।

এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘ হল কারো বাপের না, হল আমরা ছাড়ছি না,‘ ধিক্কার ধিক্কার, প্রশাসন ধিক্কার’, ‘ প্রশাসনে দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’, ’প্রশাসনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ‘ দিয়েছিত রক্ত আর দিব রক্ত’, স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী অফিসের দিকে তেড়ে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে দাবিগুলো কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেন। এসময় প্রক্টরের সামনে পুলিশের হামলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বলে পদত্যাগের দাবি জানায় তারা।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবিগুলো হলো, হল বন্ধের ঘোষণা ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, হলের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা ( পানি, বিদুৎ, গ্যাস ও ওয়াই-ফাই) বহাল রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ সেবা চালু রাখতে হবে এবং ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস ও ছাত্রদেরকে যারা হুমকি ধমকি দিয়েছে তাদের আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাকি তিন দফা দাবি ৬ টার মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য আল্টিমেটাম দেন প্রশাসনকে।

কোটা আন্দোলনের সমন্ধয়ক এমরান হোসেন বলেন, গত বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার বিচার আমরা পাইনি। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় আজ রক্তাক্ত, শিক্ষার্থীদের মারার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাত্রলীগকে উষ্কে দিয়েছে। তিনি আর ও বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস সন্ত্রাস মুক্ত, দালাল মুক্ত এবং ছাত্ররাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস চাই। আমাদের বাকি দাবিগুলো সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠিন হুশিয়ারি দেন প্রশাসনকে।

ফয়জুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানজিনা বলেন, আমাদের হল ছাত্রলীগের আওতা মুক্ত। আমরা দেখেছি ১৯৫২ সালে রফিক, বরকত শহীদ হওয়ার পর সরকার পরের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। আমরা কোন রাষ্ট্রে বসবাস করতেছি যেখানে কোন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আসে নাই।আমরা আমাদের আবাসিক হল ছাড়ছি না। ছাড়তে হলে প্রক্টর কে তাদের কোয়ার্টার ছাড়তে হবে।

শিক্ষার্থীরা হলে থাকার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকি বলেন, হল ছাড়া কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যারা হলে থাকতে চায় থাকতে পারবে। শিক্ষার্থীরা এখানে নিরাপদ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দীকি বলেন, শিক্ষার্থীরা চাইলে হলে থাকতে পারবে। এক্ষেত্রে হল প্রশাসন কোন শক্তি প্রয়োগ করবে না। পূর্বের মতো প্রক্টরিয়াল বডি এবং হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিবেন।

আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পরে দাবি আদায়ে বাধ্য হলো জবির হল প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়ে একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নারী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছে হল প্রশাসন।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গায়েবানা জানাজা হওয়ার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হলের নিচে অবস্থান করে।

পরবর্তীতে হল প্রশাসনকে তালাবদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। লিখিতভাবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার প্রদান না করা পর্যন্ত হল গেটে অবস্থান করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তী বাধ্য হয়ে একটি নোটিশ জারি করে হল প্রশাসন। নোটিশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক ছাত্রীদের জানানো যাচ্ছে যে, তাদের সব দাবি (গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, লিফ্ট, ইন্টারনেট, ক্যান্টিনসহ পূর্বের ন্যায় নিরাপত্তা) মেনে নেওয়া হলো এবং তাদেরকে হলে অবস্থান করার পূর্ণ অনুমতি দেওয়া হলো।

বিকেল ৪টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে একটি জরুরি নির্দেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইউজিসি এক অফিস আদেশে জানায়— বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থলে অবস্থানের নির্দেশনা প্রদানের নিমিত্তে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।

কুবিতে হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার:

অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। তবে এ নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে শেখ হাসিনা হলের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ শুরু করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বাসবভনের সামনে গিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘হল করো বাপের না, হল আমরা ছাড়ছি না,’ স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীর বলেন, আমাদের শোকের মধ্যে প্রশাসন আজ দুপুরে হঠাৎ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের ওপর অন্যায় আদেশ চাপিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন। এটি কোনোভাবেই মেনে নেবো না। এক কথায় বললে আমরা হল ছাড়বো না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রমতে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে প্রাণহানির ঘটনায় সারাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা হয়। সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

অনির্দিষ্টকালের জন্য কুবি বন্ধ ঘোষণা, বিকেল ৫ টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার:

পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আব্দুল মঈন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমরাও সিন্ডিকেট সভা ডেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হল থেকে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ছাত্রলীগ-শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী এলাকার কয়েকটি স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় কোটা আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিন আহত হয়েছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে কাউতলী এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। তারা কাউতলীর প্রধান সড়ক হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিন মিছিলটির গতিরোধ করেন। তখন আন্দোলনকারীরা ও রবিনের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা রবিনের ওপর হামলা করে ও ইটপাটকেল ছুড়েন। এতে রবিনের কপাল কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে ধাওয়া দিলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিকে বুধবার সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। সেসময় শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করতে ছাত্রলীগের কর্মীরা ১০-১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ করে। তাছাড়া শহরের কাউতলীর মোড়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, পুলিশ তৎপর রয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আন্দোলনকারীদের হামলায় ছাত্রলীগের এক নেতা আহত হয়েছে বলে শুনেছি।