All posts by jitu

কুবিতে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর উপর ছাত্রলীগের হামলা

 

কুবি প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কোটা আন্দোলনকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীর উপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের খুঁজতে লাটিসোটা নিয়ে বের হয়ে পড়েন।

হামলার শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম ফরহাদ কাউসার। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেন, কুমিল্লা বিশ্বিবদ্যালয়ে অবস্থান করছি আসো খেলা হবে সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠে নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরহাদ রাত ৮ টায়  টিউশন শেষে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছাকাছি আসলে তার বিভাগের সিনিয়র আসিফ এন্তাজ রাব্বি ডেকে নিয়ে যান। তার পথ অবরোধ করে তার মোবাইল ফোন চেক করে এবং কোটা আন্দোলনে কেন যায় তার জন্য শাসাতে থাকে। এসময় মোবাইলে তার ছবি দেখিয়ে বলে ‘এই বেটা এটা তুই নি? রাজাকার কারে বললি?’ বলে তাকে চড় ঘুসি দিতে থাকে। প্রথমে ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াজ তাকে মারধর করেন। এসময় আরও ছিলেন পাভেল, তৌসিফ, রবি, আশিকুর রহমান রাফি, লামিম, অর্ণব সিংহ রায়, ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী ও মেসবাহুল হক শান্ত সহ কয়েকজন।

ফরহাদ কাউসার বলেন, আমি বাস থেকে নেমে হলে যাওয়ার সময় দত্ত হলের রিয়াজ, রবি, পাবেলসহ আরও কয়েকজন আমাকে পিছন থেকে ডাক দেয়। এরপর তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক কিনা। আমি না বলার পর তারা আমার ফোন চেক।  সেখানে কোটা সংক্রান্ট একটা গ্রুপ দেখতে পেয়ে আমাকে বলে তুই তো কোটা আন্দোলন করোস, তুই তো স্লোগান দেস এসব বলে আমাকে মারধর করে। আমি এ ব্যাপারে প্রক্টরকে অভিযোগ দিব।

হামলাকারী রিয়াজকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

আকতারুজ্জামান পাভেল বলেন, আমি সেখান ছিলাম কিন্তু আমি মারিনি। ওই ছেলের বিভাগের বড়ভাই রাব্বি দেখলাম ওর ফোন চেক করতেছে। এরপর কে মারছে আমি ভিড়ের মধ্যে আর দেখিনি কিছু।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ না পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব না। প্রক্টরের কাজ কি সেটা জানতে চাইলে তিনি ধন্যবাদ দিয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। ছাত্রলীগের বিষয় ছাত্রলীগ মীমাংসা করবে।

আন্দোলনকারীর ওপর হামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীর পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেত্রী।

পদত্যাগ করা ছাত্রলীগ নেত্রীর নাম নুসরাত জাহান সুরভী। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় তার নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই ছাত্রলীগ নেত্রী।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম। আমি লজ্জিত যে, আমি এমন একটা সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম।

এ বিষয়ে নুসরাত জাহান সুরভী গণমাধ্যমকে বলেন, আপনিও মানুষ আমিও মানুষ, আপনিও জানেন দেশে কী হচ্ছে। সেই মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি শাখা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছি।

এর আগে, সোমবার রাত আটটার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফরহাদ কাউসার শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসলে হলে আসার পথে আটজন ছাত্রলীগ কর্মী তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তার ফোন চেক করে এবং তাকে মারধর করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, মার্কেটিং বিভাগের ২০৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রবিন দাশ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফেকশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রিয়াজ উদ্দিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আক্তারুজ্জামান পাভেল, মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আশিকুর রহমান রাফি, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের জুনায়েদ লামিম, গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অর্ণব সিংহ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আসিফ এনতাজ রাব্বি এবং আগামী কমিটির পদপ্রত্যাশী মেজবাহউল হল শান্ত।

ভুক্তভোগী ফরহাদ কাউসার বলেন, আমি রাতের বাসে শহর থেকে টিউশন করে এসে ক্যাম্পাস গেটে নামি। এরপর আমাকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যান। তারা আমার ফোন নিয়ে লক খুলতে বলেন এবং জানতে চান আমি কোটাবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কি না। তারা আমার ফোন চেক করতে থাকা অবস্থায় রবিন দাশ প্রথমে আমাকে মারধর করতে শুরু করেন। এরপর পাভেল, রাফি, শান্ত, রিয়াজ, রাব্বি আমাকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের একাধিক কল করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষে আহত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৫ জন শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- কাজী তাসনিম (২৪), ইয়াকুব (২৪), অমি আক্তার (২৬), আমিনুর (২২), শুভ (২৫), গিয়াস উদ্দিন (২২), নাসির (২৩) ও অপি (২২)।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার পর থেকে ঢাকা মেডিকেলে আসতে থাকেন আহত শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৬টা নাগাদ ১৫৫ জন চিকিৎসা নেওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। বিকেল ৩টায় হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর দুপক্ষই ইট-পাটকেল লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তপ্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পরে ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। যোগ দেন ঢাকা কলেজসহ ছাত্রলীগের আরও ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

ক্যাম্পাসে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের’ জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

গতকাল রোববার রাতে ক্যাম্পাসে যে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’ হয়েছে, তার জবাব দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রদের বিষয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেখিয়েছে। আমরা দেখি, কারা রাজনৈতিকভাবে প্রকাশ্যে আসে। আমরাও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোটাবিরোধী কতিপয় নেতা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, এর জবাব দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ প্রস্তুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত শিক্ষার্থীদের রাজাকার পরিচয়-সংশ্লিষ্ট স্লোগান আমাদের জাতীয় মৌলিক চেতনার সঙ্গে ধৃষ্টতার শামিল।

তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কারের চলমান আন্দোলন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই মতামত ব্যক্ত করেছেন। যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন, সে বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলা সমীচীন নয়। বারবার আন্দোলনকারীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের অনেকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কুৎসিত স্লোগান আমরা শুনেছি। এত দিন আমরা যে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলাম, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে তারা আসলে সরকারবিরোধী আন্দোলনই করতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ আছে। সমর্থন তারা প্রকাশ্যেই করেছে।

কাজেই আমাদের যে আশঙ্কা, সেটা গতকাল রাতেই আরও স্পষ্ট হয়েছে, তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী স্লোগানে সত্য বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছে সর্বোচ্চ। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা মনে করি, ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে চিহ্নিত অপশক্তি সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করতে চায়। তাদের কারসাজিতে তাদের ক্রীড়নকেরা গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে আঘাত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী স্লোগান উচ্চারণ করেছে। তারা সমগ্র ছাত্রসমাজকে সরকারের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা মতলববাজ কুশীলবেরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিক্রীত করেছে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধার নাতি-পুতিরা পাবে না তো কি রাজাকারের নাতি–পুতিরা পাবে—এ কথা তিনি যথার্থই বলেছেন। ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তস্নাত বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে রাজাকারের ঠাঁই দেব না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো অপমান বাঙালি জাতি সহ্য করবে না। পরাজিত অপশক্তির কোনো প্রকার আস্ফালন আমরা মেনে নেব না।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী বেঁচে থাকতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে স্বাধীনতার পরাজিত অপশক্তির অপতৎপরতা প্রতিরোধ করব।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মহান আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। কিন্তু যারা নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিতে গৌরব বোধ করে, তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে না? যারা রাষ্ট্রের মূল চেতনাকে অবজ্ঞা করে, তারা কীভাবে মেধাবী ছাত্র হয়? তারা কীভাবে জাতি কিংবা ছাত্রসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেশীয় আলবদর-রাজাকারদের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্বিচার হত্যা করেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দেয়? এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তিনি আরও বলেন, আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে যেকোনো অপশক্তিকে আমরা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করব—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

আরও ১৫ বছর আর্জেন্টিনার কোচ থাকতে চান স্কালোনি

স্পোর্টস ডেস্ক:

২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ভরাডুবির পর টালমাটাল এক সময়ে কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনি। খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন, জিতিয়েছেন ব্যাক-টু- ব্যাক কোপা আমেরিকা শিরোপা। আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া স্কালোনি আরো অনেক বছর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতে চান।

গত বছরের নভেম্বরে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ জয়ের পর হঠাৎ আর্জেন্টিনার কোচের পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্কালোনি। জানা যায়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এমনকি ২০২৪ কোপার ড্র অনুষ্ঠানেও স্কালোনি থাকবেন না বলে শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য ড্র-তে হাজির হয়েছিলেন তিনি।

সেই কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পর উচ্ছ্বসিত স্কালোনি এবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন। ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে স্কালোনি বললেন, ‘গত বছর আমার কঠিন সময় গেছে, ভালো অবস্থায় ছিলাম না। আমি এই কথা বলার কারণ, কয়েকমাস যাবৎ অচলাবস্থা ছিল। যখনই আমার কাছে সমস্যা মনে হয়েছে, আমি জানিয়েছি। তবে এখন ভালো আছি, আশা করছি এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।’

এরপর খানিকটা মজার ছলেই স্কালোনি যোগ করেন, ‘জাতীয় দলে এখন অনেক এনার্জি দরকার, সত্যিকার অর্থে আমি এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আমার সঙ্গে আরও দুই বছরের চুক্তি আছে। প্রেসিডেন্টকে (ক্লদিও তাপিয়া) বলব যে আমার সঙ্গে যেন আরও ১৫ বছরের চুক্তি করেন।’

উল্লেখ্য, মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে এবারের কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এই শিরোপা জয় করেছে আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচের ১১২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের দেওয়া একমাত্র গোলে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে আলবিসেলেস্তেরা।

নোয়াখালীতে পানিতে ‍ডুবে প্রাণ গেল ২ শিশুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পৃথক ঘটনায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন ও চরওয়াপদা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাওসার আলম ‍বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত দুই শিশু হলো- চরওয়াপদার ইউনিয়নের চরআমিনুল হক গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মুরাদের ছেলে মো. জিসান (২) ও ২ নম্বর চরবাটা ইউনিয়নের মধ্যচরবাটা গ্রামের মো. রাসেলের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (৪)।

শিশু দুইটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে কোনো এক ফাঁকে তারা পুকুরে পড়ে যায়। তাদের খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরে পুকুরে তল্লাশি করলে শিশু দুইটিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক দুই শিশুকে চরজব্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি মোহাম্মদ কাওসার আলম বলেন, ‘শিশু দুইটির পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়।’

কুমিল্লায় জোড়া খুনের মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ২০১৬ সালের একটি জোড়া খুনের মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সাত আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জহিরুল ইসলাম সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরী গ্রামের আতর আলীর ছেলে তোফায়েল আহমেদ তোতা (৩৮), মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন (৪৮), আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (২৮), মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে মো. বাবুল (৩৫) ও মৃত আনোয়ার আলীর হারুনুর রশিদ (৪৫)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরীর মৃত জনাব আলীর ছেলে হায়দার আলী (৬৫), আব্দুর রহিমের ছেলে আবদুল মান্নান (৩২), মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন (৪৫), মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবুল বাশার (২৮), মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে জাকির হোসেন, মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল কাদের (৩২) ও মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪৫)।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আমান (৪০) ও গ্রাম চৌয়ারার জুনাব আলীর ছেলে সেলিম মিয়া (৫০)।

আদালত সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালে ১২ আগস্ট রাত সোয়া ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাইতরী এলাকায় গিয়াসউদ্দিন ও জামাল হোসেন নামের দুজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মামলা করেন। পরে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পৃথক স্থানে পুকুরের পানিতে ডুবে মো.জিসান (২) ও ফাতেমা আক্তার(৪) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন ও চরওয়াপদা ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। শিশু দুইটির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

মৃত মো.জিসান চরওয়াপদার ইউনিয়নের চরআমিনুল হক গ্রামের ১নম্বর ওয়ার্ডের মো.মুরাদের ছেলে। ফাতেমা আক্তার চরবাটা ইউনিয়নের মধ্যচরবাটা গ্রামের মো.রাসেলের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা পুকুরে পড়ে যায়। পরে তাদের খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পুকুরে তল্লাশি করলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুদের মৃত ঘোষণা করেন।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাওসার আলম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের রাজাকার স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগই দেবে: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাজাকার স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগই দেবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের রাজাকার স্লোগানের কারণে কোন ধরণের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি আওয়ামী লীগ করবে কি না এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ছাত্র আন্দোলনের যে বক্তব্য কতিপয় নেতা যেটা রেখেছে তার জবাব ছাত্রলীগ.. যারা তাদের আত্মস্বীকৃত রাজাকার, নিজেদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে গতরাতে তার জবাব তারাই (ছাত্রলীগ) দেবে। ছাত্রদের বিষয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত সীমিত থাকবে। আমরা দেখি রাজনৈতিকভাবে কারা প্রকাশ্যে আসে। তখন দেখা যাবে। আমরাও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

ছাত্রদের স্লোগান রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কিনা এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন। এখানে আমাদেরও অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে বলতে হয়। যাতে আদালত অবমাননা না হয়। আদালতের অবমাননার বিষয়টি আদালতকেই দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাদের বলেন, এটা অবশ্যই ধৃষ্টতা। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, যে বিষয়টি দেশের উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সেটি আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকারের কোন কিছুই করার নেই। বিচারাধীন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য করা আদালত অবমাননার সামিল। আমরা বারবার আন্দোলনকারীদের বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত বাদ রেখে অন্যকোন উপায়ে বা বলপ্রয়োগে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। আন্দোলনের নামে দুর্ভোগ মেনে নেব না, রাস্তা বন্ধ করে জন দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সভা-সমাবেশ আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা লক্ষ্য করছি এ আন্দোলনের কুশীলব বিএনপি-জামায়াত তাদের স্বরূপ উন্মোচিত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আস্ফালনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানান কাদের।

তিনি বলেন, গত রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের অনেকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কুৎসিত স্লোগান আমরা শুনেছি। এতদিন আমরা যে আশঙ্কা করেছি তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকার বিরোধী আন্দোলনই করতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকার বিরোধী বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ আছে। সমর্থন তারা প্রকাশ্যই করেছে। আমাদের আশঙ্কা গতকাল রাতে আরও স্পষ্ট হয়েছে তাদের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী স্লোগানে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত শিক্ষার্থীদের রাজ