All posts by jitu

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রায় ১০ হাজার অনুপস্থিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে আজ। প্রথম দিনে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (সিলেট বাদে) বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী, যা গত বছরের প্রথম দিনের পরীক্ষার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বন্যার কারণে এ বছর সিলেট বোর্ড ছাড়া বাকি ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত ছিল। গত বছরও এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে ৫ হাজার ৫২২ জন পরীক্ষার্থী অনুস্থিত ছিল।

রোববার (৩০ জুন) বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী- প্রথম দিনে সিলেট বোর্ড বাদে বাকি ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ১ হাজার ৪৭২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা প্রথমপত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ লাখ ২৩ হাজার ৭১৯ জন। বাকি ৯ হাজার ৯৭০ জন অনুপস্থিত। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

এদিকে, প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ২ হাজার ৬০১ জন শিক্ষার্থী বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ হাজার ৫০৮ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৫৬ জন, যশোরে ১ হাজার ৩২৮ জন, চট্টগ্রামে ৯৭৫ জন, বরিশালে ৭২৭ জন, দিনাজপুরে ১ হাজার ১৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৬২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে ৮টি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারাদেশে ২০ জন পরীক্ষার্থী ও একজন কক্ষ পরিদর্শককে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়।

বৃষ্টির কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিতি বেড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার অনুপস্থিতি কিছুটা বেশি। সেক্ষেত্রে প্রতিকূল আবহাওয়া একটি কারণ হতে পারে। আবার এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কিছু বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ায় একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী দেরিতে কেন্দ্রে আসলে, তাকে সময় সমন্বয় করে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হাতে সময় নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে আসবেন।’

কোপা-ইউরোয় যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো মেসি-রোনালদোর

স্পোর্টস ডেস্ক:

কোপা আমেরিকায় লিওনেল মেসি আর ইউরোয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এবার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হলো। নিজ নিজ দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা তারা দুজন, রোনালদো তো আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসেই সর্বোচ্চ গোলের মালিক। অথচ এবার নিজ নিজ মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমে গ্রুপ পর্বে কোনো গোলই পেলেন না তারা!

রোনালদোর ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে মাঠে নেমেও একবারও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। যদিও তিন ম্যাচেই ভুরি ভুরি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

মেসির অবশ্য এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। নিজের প্রথম দুই কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বে মেসি পায়ে কোনো গোল আসেনি। ২০০৭ এবং ২০১১ কোপার পর অবশ্য চার কোপাতেই গ্রুপ পর্বে গোল করেন তিনি।

ইউরোর মঞ্চে প্রথমবার রোনালদো হাজির হন ২০০৪ সালে। সেই যে শুরু এরপর একে একে ছয় ইউরোতে খেললেন তিনি। কিন্তু আগের পাঁচবারই গ্রুপ পর্ব শেষে তার নামের পাশে গোল থাকলেও এবার গোলের খাতা শুন্য।

মেসি প্রথম নিজের খেলা তৃতীয় কোপায় এসে প্রথমবার গ্রুপ পর্বে জালের খুঁজে পান। ২০১৫ কোপায় প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে যান। পরেরবার তো গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। ২০১৯ এবং ২০২১ কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বেও তার গোলের ধারা অব্যাহত থাকে।

এবারের গ্রুপ পর্বে অবশ্য তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে মাঠে নামা হয়েছে মেসির। শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে চোটের কারণে মাঠে নামা হয়নি তার। সে চোট কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফিরবেন মেসি, এমনটাই প্রত্যাশা টিম ম্যানেজমেন্টের।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাফনের ৯ দিন পর বাড়ি ফিরলেন নিখোঁজ তরুণী!

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রোকসানা আক্তার (৩০) নামের এক নারীকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ও স্বজনদের দাবি, ৯ দিন আগে ড্রেনের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তাকে ‘দাফন’ করা হয়েছিল।

এমনই ঘটনা ঘটেছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের রাজবল্লবপুর গ্রামে। ফিরে আসা রোকসানা আক্তার ওই এলাকার মৃত তাজুল ইসলামের মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মে মাসের শেষের দিকে রোকসানা বাড়ি থেকে ছোট ভাই সালাহ উদ্দিনের চট্টগ্রামের বাসায় বেড়াতে যান। ১ জুন ভোরে কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১৭ জুন (ঈদুল আজহার দিন) বিকেলে ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় অবস্থানরত রোকসানার খালাতো বোন হাজেরা আক্তার ও খালাতো ভাই শাহজাহান খবর পান শহরের জিয়া মহিলা কলেজের সামনে ড্রেনের মধ্যে এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। বিষয়টি রোকসানার ভাই এবায়দুল হককে ফোনে জানানো হয়।

তিনি খবর পেয়ে ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারকারী উপপরিদর্শক (এসআই) প্রতুল দাসের সঙ্গে দেখা করে বোন রোকসানার একটি ছবি দেখান। পরে পুলিশ এবায়দুল হকের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। ওইদিন আসরের নামাজের পর গুণবতী ইউনিয়নের রাজবল্লবপুর মধ্যমপাড়ায় সামিশকরা দিঘির দক্ষিণপাড়ে মরদেহ দাফন করা হয়। এরইমধ্যে রোকসানার নামে কুলখানিও সম্পন্ন হয়। ৯ দিন পর বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে হঠাৎ বাড়িতে হাজির হন ‘নিহত’ রোকসানা। তাকে দেখে সবাই আঁতকে ওঠেন।

এ বিষয়ে রোকসানার ভাই এবায়দুল হক বলেন, ‘রোকসানা আমাদের জানিয়েছে সে নাকি ঢাকায় ছিল। তবে মাঝে মাঝে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানে কোনো আত্মীয়ের বাসায় যায়নি। হয়তো রাস্তা বা কারও বাসায় ছিল। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালাতো ভাই-বোনের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশের কাছে ছুটে গিয়েছিলাম। তখন ছবিতে কিছুটা মিল থাকায় বোনের মরদেহ মনে করে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহটি আমাদের কাছে হস্থান্তর করে। আমরাও রোকসানা মনে করে দাফন করেছি। বুধবার বিকেলে রোকসানা জীবিত বাড়ি ফেরায় ফেনী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই প্রতুল দাস বলেন, ‘উদ্ধার করা মরদেহটি বিকৃত ছিল। এবায়দুল হক ও তার স্বজনরা মরদেহটি রোকসানার বলে শনাক্ত করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্থান্তর করা হয়। এখন যেহেতু তাদের বোন সশরীরে বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন, বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করা হবে।’

ফিরে আসা রোকসানা বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়েছি। সেখানে আমার একটি চাকরি হয়েছে। জামা-কাপড় নেওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছি। এরই মধ্যে শরীর খারাপ থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ২৬ জুন বাড়িতে এলে আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে দেখে হতবাক হয়েছেন। তখন আমি জানতে পারি, আমি নাকি মারা গেছি এবং আমার মরদেহও দাফন করা হয়ে গেছে। আমিতো জীবিত ফিরে এলাম।’

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, স্থানীয়ভাবে যতটুটু জেনেছি ফিরে আসা নারীটির মানসিক সমস্যা রয়েছে। তিনি এর আগেও একাধিকবার হারিয়ে গিয়েছিলেন। আবার নিজেই বাড়িতে এসেছেন।

বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির মুক্তভাবে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের কোনো নজির নেই। কিন্তু বিএনপি গত কয়েক বছর ধরে আইনগত পদ্ধতি ছাড়াই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করছে। এমনকি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণকে উসকানি দিচ্ছে এবং আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে জনগণের কাছ থেকে করুণা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দলটি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এখন তাদের তথাকথিত আন্দোলনের বিষয় দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত অসুস্থ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ার পরও শেখ হাসিনা তাকে নিজ বাসায় থেকে দেশের সর্বাধুনিক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। সেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সংবিধান ও আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির মুক্তি দাবি ধৃষ্টতা ছাড়া কিছু নয়। আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির দেশত্যাগের কোনো বিধান নেই। মানবিক কারণে শেখ হাসিনা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

৩৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে দাউদকান্দি পৌরসভা

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

নিজস্ব উৎসের ওপর ভর করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০৪ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন দাউদকান্দি পৌরসভার মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন । রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় পৌরসভার সভাকক্ষে এবাজেট ঘোষণা করেন তিনি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজেটের আকার কমেছে।

এবারের বাজেটে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। উদ্ধৃত দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

বাজেটে রাজস্ব আয় ১১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৯ টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ৮ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। উন্নয়ন আয় দেখানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৪ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২২ কোটি ২ লাখ টাকা।

মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন বলেন, দাউদকান্দি পৌরসভাকে একটি নান্দনিক, যানজটমুক্ত সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভা প্রশাসন কাজ করছে। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বার্থে বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠী, সরকার এবং পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আগামী ২০২৪- ২৫ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী পৌরসভার সকল উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাল্লাহ।

বাজেট সভায় উপস্থিত ছিলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, হিসাব রক্ষক মোঃ শাহাদাত হোসেন, প্যানেল মেয়র রকিব উদ্দিন রকিব, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর লাভলী আক্তার, কাউন্সিলর এনামুল হক এমেল, খন্দকার বিল্লাল হোসেন সুমনসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণ।

বেনজীরের ৪ ফ্ল্যাটে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর গুলশানে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা চারটি ফ্ল্যাটে প্রবেশে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৭ মে ওই চারটি ফ্ল্যাট জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৪ জুন ফ্ল্যাট দেখভালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক (রিসিভার) নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন একই আদালত।

ওই আদেশের পর চারটি ফ্ল্যাটে প্রবেশের জন্য গেলেও চাবি না থাকায় দেখভালে নিয়োজিত দুদক কর্মকর্তা ফিরে আসেন। এ কারণে সেখানে প্রবেশের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করে দুদক। দুদকের বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটসমূহে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিনা বাধায় ফ্ল্যাটে তত্ত্বাবধায়কের প্রবেশ, মালামালের ইনভেনটরি, স্পেসের পরিমাপপূর্বক ভাড়া নির্ধারণ করার বিষয়ে সদয় আদেশ-নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন।

পরে দুদকের পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ বিষয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত ফ্ল্যাটে প্রবেশে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেন। তার উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করবেন চারটি ফ্ল্যাটের দেখভালে নিয়োজিত থাকা দুদক কর্মকর্তা।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে ক্রয়কৃত গুলশান-১-এ অবস্থিত র্যাংকন আইকোন টাওয়ারের চারটি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদকের পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) রিসিভার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এ আদেশ পাওয়ার পর পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা) একটি টিমসহ গত ১৩ জুন সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ের ফ্ল্যাটসমূহ পরিদর্শনে যান।

সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটসমূহ রক্ষণাবেক্ষণকাজে যেসব সার্ভিস চার্জ, ইলেকট্রিসিটি বিল, পানি ও গ্যাস বিলসহ অন্যান্য বিষয়ে আর্থিক খরচের বিষয়াদি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটসমূহ ভাড়া প্রদান করতে হলে উক্ত ফ্ল্যাটসমূহ খুলতে হবে এবং এর বাণিজ্যিক-আবাসিক ভাড়ার হার নিরূপণ করার জন্য গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে জায়গা পরিমাপ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া উক্ত ফ্ল্যাট বা ফ্ল্যাটসমূহের অভ্যন্তরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্রের একটি তালিকা। ইনভেন্ট্রি করার জন্য একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষককে প্রক্টরের ঘুষি, বিচার মেলেনি দুই মাসেও

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে শিক্ষকদের উপর হামলার সময় প্রক্টর কর্তৃক হামলার শিকার হন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম। সেসময় এই শিক্ষকের মুখে ঘুষি মারেন উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী। পরবর্তীতে বিচার চেয়ে প্রথমে প্রশাসন বরারব লিখিত আবেদন এবং চার বার একক অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন তিনি। কিন্তু দুই মাস পার হলেও এনিয়ে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে এই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে ক্যাম্পাস খোলার পরপরই প্রক্টরের অপসারণের কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়নেও কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ কুবি শিক্ষক সমিতির।

রবিবার (৩০ জুন) বেলা ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাদদেশে চতুর্থবারের মতো অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম। এসময় শিক্ষক সমিতির সদস্যরাও এসে তার সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ভিসির সকল অপকর্মে সহযোগিতা করতে প্রক্টর বহিরাগতদের নিয়ে বলয় তৈরি করেছেন। এই জন্য ভিসি পুরষ্কার হিসেবে তাকে ৮৭ তম সিন্ডিকেটে যাচাই-বাছাই কমিটি সুপারিশ না করলেও উপাচার্যের নির্দেশে তার পিএইচডি নথিভুক্ত করা হয় এবং বিভাগে জুনিয়র হওয়ার পরও সিনিয়রকে পদোন্নতি না দিয়ে প্রক্টরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এসময় ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, চতুর্থ বারের মত আমাকে এখানে দাঁড়াতে হলো। যা দুঃখজনক। বারবার দাঁড়িয়েও আমার উপর হামলাকারী এই প্রক্টরের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। যার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আইন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, তিনিই শিক্ষকের গায়ে হাত তুলছেন। তার ইন্ধনে আমাদের অন্যান্য সহকর্মীদের গায়ে হাত তুলেছে বহিরাগত ছাত্ররা। এর কোনো কোনো বিচারও এখনও হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উপর সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে এখনো কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপাচার্য ও প্রক্টর যাদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিধান করা কিন্তু এই রক্ষক এখন ভক্ষক হয়েছে। আমি মনে করি প্রশাসন বিগতদিনের কর্মকাণ্ডে তার সকল যোগ্যতা হারিয়েছে। আমি প্রক্টরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, তার দ্রুত অপসারণ চাই, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই কলংকজনক অধ্যায়ের অবসান চাই।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, গত ৫ জুন যে সিন্ডিকেট সভা হয় সেখানে আমরা একাধিক সূত্র থেকে জানতে পারি প্রক্টরের অপসারণের বিষয়ে সিন্ধান্ত হয়। যদিও সেটা সিন্ডিকেটের কার্যবিবরণীতে লেখা হয়নি, তবে উপাচার্য বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সাথে সাথে তাকে অপসারণ করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত উপাচার্য তাকে সরাচ্ছেন না এবং আমরা যখন উপাচার্যের নিকট অপসারণের দাবি নিয়ে গেলাম তখন তিনি তালবাহানা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক শিক্ষকদেরকে আঘাত করা হচ্ছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, বহিরাগত অস্ত্রধারী এবং মামলার আসামীদেরকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিরাপদ করে তুলছে। তার সকল অপরাধ স্পষ্ট হওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না এই উপাচার্য। যা খুবই দুঃখজনক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সামান্য কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু হল ও নজরুল হলের ৩০-৩৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। এতেও কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি প্রক্টরকে। একই বছরের পহেলা অক্টোবর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হলে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা ই এলাহীর নেতৃত্বে মোটরবাইক শোডাউন, ককটল বিস্ফোরণ, ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে বহিরাগতরা। এতে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও নিরবতা পালন করতে দেখা প্রক্টরকে।

এছাড়া গত বছরের ৩ অক্টোবর ফুটবল খেলার ফাইনাল ম্যাচ শেষে উপাচার্যের সামনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন হৃদয়কে চড়থাপ্পড় দেন প্রক্টর।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী শিক্ষক সমিতির জয়ী প্রার্থীরা উপাচার্যের সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে প্রক্টরের নেতৃত্বে কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীরা শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেন। এর প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মাহমুদুল হাসান রাহাত ও কামরুল হাসান শিখন।

পূর্বের সিদ্ধান্তের আলোকে প্রক্টরের অপসারণ এবং প্রক্টর কর্তৃক শিক্ষকের উপর হামলার বিচারের অগ্রগতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রতিবেদকের কল কেটে দেন। এবং পরবর্তীতে কল দিয়ে আর পাওয়া যায়নি তাকে।

আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আগামীকাল ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের। রবিবার (৩০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

এবিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে ক্লাস, পরীক্ষা, দাপ্তরিক কার্যক্রম এমনকি বিভাগের একাডেমিক কোনো সভাও অনুষ্ঠিত হবে না৷ আমরা সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি ফেডারেশন যে সিদ্ধান্ত নিবে আমরা তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করবো। একারণেই আগামীকাল থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত শিক্ষকদের পেনশন-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের কর্মবিরতির ঘোষণার পর দাবি আদায়ের জন্য গত ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন অর্ধদিবস এবং ৩০ জুন পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়৷ এবং আগামী ১ জুলাই অনির্দিষ্টকালের জন্য থেকে সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়৷

হত্যার হুমকি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন

ডেস্ক রিপোর্ট:

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংসাদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, ‘আমি থানায় জিডি করার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ছিল যারা হুমকি দিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’

রোববার (৩০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছি। এখন দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। মৃত্যুর ভয় আমি করি না। কিন্তু আমার এলাকার মানুষকে নিয়ে চিন্তা কà¦