All posts by jitu

সাংবাদিক শরীফ প্রধান পাঠাগার’এ বই উপহার দিলেন ইউএনও আরাফাতুল আলম

স্টাফ রিপোর্টার:

আসছে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে দাউদকান্দি উপজেলার কাদিয়ারভাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত “সাংবাদিক শরীফ প্রধান পাঠাগার-এ বই উপহার দিলেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরাফাতুল আলম।

তিনি আজ দুপুরে নিজ কার্যালয়ে পাঠাগার-এর প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক শরীফ প্রধানের হাতে উপহারের বইগুলো তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিয়াউর রহমান।

পাঠাগার-এর প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক শরীফ প্রধান বলেন, আসছে ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে “গ্রামের শিশু-কিশোরদের ঈদ সালামি হিসেবে নতুন বই দেয়ার একটি পরিকল্পনা করেছি। কারন, ঈদে অনেকেই নতুন জামা ও নতুন টাকা দেয়। কিন্তু নতুন বই কেউ দেয় না।

সমাজের শিশু-কিশোরদের বই মূখী করতে এবং বই পড়ার আগ্রহ গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নিয়েছে “সাংবাদিক শরীফ প্রধান পাঠাগার। এই বিষয়টি সম্পর্কে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরাফাতুল আলম মহোদয়কে জানালে তিনি আনন্দচিত্তে তাৎক্ষনিক ১১টি নতুন বই আমার হাতে তুলে দেন। স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংকট নেই : সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংকট নেই। রাজনীতির বিরোধিতার জন্যই অনেকে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতারি ও ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সারারাত ধরে ঈদের শপিং চলছে- শপিং করতে গিয়ে কোথাও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেনি। তার পরও রাজনীতির বিরোধিতার জন্য কথা বলে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে। কারও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সব নেতা একে একে জেল থেকে বের হয়েছে। তার পরও বলে তাদের ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী নাকি নির্যাতনের শিকার। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বলেছি— নির্যাতিত ৮০ শতাংশ নেতাকর্মীর তালিকাটা প্রকাশ করেন। কেউ অপরাধ করলে, আগুন সন্ত্রাসের মামলা, মানুষ খুনের মামলার আসামি যারা জেলে রয়েছে, তাদের জন্য বিএনপির এত মায়াকান্না কেন?

দ্রব্যমূল্য নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। জিনিসপত্রের দামও কমে যাচ্ছে। আজকে বিএনপি নেতারা বড় বড় কথা বলে, গরিবের জন্য মায়াকান্না করে। তাদের আমলে জিয়াউর রহমানের সময়ে অভাবের তাড়নায় রংপুর কোর্টে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে নাম লিখিয়েছিল অনেক নারী। সে ইতিহাস কি ভুলে যান!

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে বাংলাদেশে যারা ঢাকা সিটিতে এত ভিক্ষুক কেন এমন প্রশ্ন করেন তাদের লজ্জা করে না তারা একজন গরিব মানুষকেও এই কষ্টের দিনে রোজার মাসে কোনো প্রকার সাহায্য করেনি। ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেনি। বড়লোকদের নিয়ে বড় বড় হোটেলে ইফতার পার্টি করেছে। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারা দেশে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঈদের সময় ঢাকাসহ বড় বড় শহরে দান-খয়রাতের আশায় কিছু গরিব মানুষ আসে। কিন্তু এ পর্যন্ত না খেয়ে মানুষ রাস্তায় পড়ে মরে আছে এমন কেউ নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির উদ্ভট কথায় আওয়ামী লীগ কান দেবে না। বিপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ। পরে সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

কুমিল্লায় একশত এক পিস মোবাইল ফোনসহ আটক ১

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একশত এক পিস মোবাইল ফোনসহ ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

আটককৃত আসামী ব্রাহ্মণপাড়া রানীগাছ গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে মোঃ পারভেজ মিয়া (৩০)।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২নং উত্তর দূর্গাপুর ইউপির শংকরপুর সাকিনস্থ আইএফআইসি ব্যাংকের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছাঁলে ডিবি পুলিশ চিনতে পেরে আসামী একটি প্লাষ্টিকের বস্তাসহ দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বস্তাসহ আটক করা হয়।

পরবর্তীতে উক্ত বস্তুা তল্লাশি করে একশত এক পিস নতুন-পুরাতন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

উক্ত ঘটনায় কুমিল্লা এর বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মুস্তাফিজ যে কারণে হঠাৎ ঢাকায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাজে ফর্ম আর ইনজুরির ধকল সঙ্গী করেই আইপিএলের বিমানে চড়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। গত বারের চেনা ডেরা দিল্লি ক্যাপিটালস ছেড়ে নতুন ঠিকানা চেন্নাই সুপার কিংস। চ্যালেঞ্জ উৎরে আইপিএলের সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জার্সিতে অভিষেকটাও হয়েছে স্বপ্নের মতো। তিন ম্যাচে সাত উইকেট শিকার করে এখনও পর্যন্ত নিজের দখলে রেখেছেন পার্পল ক্যাপ।

এরই মধ্যে হঠাৎ দেশে ফিরেছেন টাইগার পেসার। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যুর ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরে এসেছেন মুস্তাফিজ। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার ফ্লাইটে ভারত থেকে ঢাকায় এসেছেন এই পেসার।

আবার কবে চেন্নাই শিবিরে যোগ দেবেন?

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসবে আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মার্কিন দূতাবাসে যাওয়ার কথা রয়েছে। যে তালিকায় নিশ্চিতভাবে থাকবেন মুস্তাফিজ। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিসও নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার স্কোয়াডের (বাংলাদেশ) সম্ভাব্য সব ক্রিকেটারকে থাকতে হবে ভিসার কাজের জন্য।’

এর পরদিনই অর্থাৎ ৫ এপ্রিল আবার ম্যাচ রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে তারা নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে। ওই ম্যাচে নিশ্চয়ই মুস্তাফিজকে পেতে চাইবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কারণ তাদের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ে ভূমিকা ছিল এই টাইগার পেসারের। যদিও ভিসার কাজ শেষ করে মুস্তাফিজ ততক্ষণে দলে যোগ দিতে পারেন কি না সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

চেন্নাইয়ের পরের ম্যাচ ৮ এপ্রিল, হোম ম্যাচে প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদি কোনো কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কিছুটা দেরি হয়েই যায়, তাহলে হয়ত এই ম্যাচটাও হাতছাড়া হতে পারে টাইগার পেসারের। ৫ ও ৮ এপ্রিলের দুই ম্যাচের পর চেন্নাই সুপার কিংস পরের ম্যাচ খেলবে ১৪ এপ্রিল। সেই ম্যাচে অবশ্য মুস্তাফিজের না থাকার কোনো শঙ্কা নেই।

আইপিএলের জন্য মুস্তাফিজকে বিসিবি এনওসি দিলেও পুরো মৌসুমের জন্য তাকে পাবে না চেন্নাই। গত ২২ মার্চ শুরু হওয়া আইপিএলের পর্দা নামবে ২৬ মে। সেখানে মুস্তাফিজকে ১২ মে পর্যন্ত পাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বাকি ম্যাচগুলো তিনি খেলতে পারবেন না। মোট ৫১ দিনের জন্য এই বাঁহাতি পেসারকে ছুটি দিয়েছে বিসিবি। তারপর দেশে ফিরতে হবে জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য।

রাস্তায় ইফতার করলেন কুমিল্লার ট্রাফিক পুলিশের টি আই সহ সদস্যরা

শাহ ইমরান :

কুমিল্লাবাসীকে স্বস্তি দিতে ইফতার সময় দায়িত্ব পালন করে যান ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় সেরে নেন ইফতার।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল ) পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে রাস্তায় ইফতারে শরিক হন কুমিল্লা জেলা ট্রাফিক পুলিশের টি আই জিয়াউল চৌধুরী টিপু ও অন্যান্য সদস্যরা।

সামনেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। এ কারণে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে কুমিল্লা বাসিন্দাদের। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাস্তার যানজটও। সন্ধ্যা নামার আগেই অনেকে বাসায় ফিরতে চান। রাস্তায় থাকে মানুষের ভিড়। একারণে রাস্তায় বাড়ে যানবাহনের চাপ। সেই যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।

এরপরও ঘরমুখো মানুষ যেন ইফতারের আগেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে এজন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সাথে ইফতার করতে পারলেও, প্রিয়জনদের সাথে ইফতার করা হয় না ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। ইফতারের সময়ও তাদের ডিউটি করে যেতে হয়।

এর ফাঁকে কোনো ভাবে রাস্তায়ই সেরে নিতে হয় তাদের ইফতার। রাস্তায় দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে ইফতারি করেন তারা, বসারও জায়গা থাকে না অনেক সময়।কখনো বসার জায়গা থাকলেও বসার সময়ও পান না তারা। ইফতারির ফাঁকেই যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হয়ে তাদের।

ইফতারের সময় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউল চৌধুরী টিপু ওসি ট্রাফিক (টি আই এডমিন) সদর দক্ষিণ থানার ওসি আলমগীর হোসেন, টি আই সাইফুল ইসলাম, টি আই সৈকত, টি আই শফিকুল ইসলাম ও ট্রাফিক পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

গাজীপুরে রিসোর্ট ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজারেও ভূ-সম্পত্তি রয়েছে বেনজীরের, সম্পদ রয়েছে বিদেশেও

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক প্রভাবশালী প্রধান বেনজীর আহমেদের আরো অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। শুধু দেশ নয় বিভিন্ন দেশেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এই সাবেক কর্মকর্তা।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের নলজানী গ্রামে ১৬০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত ভাওয়াল রিসোর্ট। ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল প্রায় ১০৬ বিঘা জমির ওপর এটির যাত্রা শুরু। পরে এতে যোগ হয় আরো ৫৪ বিঘা জমি। ৬২টি ভিলার সঙ্গে হেলিপ্যাড, রেস্তোরাঁ, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, স্পাসহ অনেক কিছু রয়েছে এর ভেতরে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই রিসোর্টের একটি বড় অংশই গড়ে তোলা হয়েছে বনের জমি জবরদখল করে। এতে নেপথ্যে থেকে সাহস জুগিয়েছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। কেননা এই রিসোর্টের এক-চতুর্থাংশ শেয়ারের মালিকানা বেনজীরের পরিবারের হাতে।

অনুসন্ধান বলছে, বনের জমি দখল করে রিসোর্ট গড়ে ওঠার সময়কালে বেনজীর আহমেদ ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার। রীতিমতো পুলিশি পাহারা বসিয়ে বনের জমিতে সীমানাপ্রাচীর লাগিয়ে রিসোর্টের কাজ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশকর্তা বেনজীরের বনের জমি দখল করে রিসোর্ট বানানোর ঘটনায় স্তম্ভিত বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।

জানা গেছে, আম্বার গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এই ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। তবে প্রতিষ্ঠার কোনো এক পর্যায়ে এতে যুক্ত হন বেনজীর আহমেদ।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ভাওয়াল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের ভেতরে ও প্রবেশমুখে বন বিভাগের ৬.৭৩ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ বনের বিশাল এই জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। বন বিভাগের তথ্য মতে, ভাওয়াল রিসোর্টের দখল করা জমির মধ্যে রয়েছে ৪ নম্বর বরইপাড়া মৌজার ০৩, ২৭৯ ও ২৭১ নম্বর সিএস দাগে ১১ বিঘা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, বেনজীরের ক্ষমতার দাপটে সবাই ছিলেন নির্বিকার, নিরুপায়।
তিনি তখন ডিএমপি কমিশনার থাকার কারণে বেআইনিভাবে পুলিশ পাহারায় বনের জমিতে সীমানাপ্রাচীর দেন। নিরুপায় হয়ে বনের ওই জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ মামলা করে বন বিভাগ। মামলাটি এখনো চলমান বলে নিশ্চিত করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুদ রানা।

সরেজমিনে গেলে ভাওয়াল রিসোর্ট সংলগ্ন নলজানী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রিসোর্টের মালিকপক্ষ পারটেক্স গ্রুপ এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ—এ কথা জানার পর বেনজীরের ভয়ে এলাকার কেউ ওদিকে যাওয়ার সাহসই করে না। যখন তারা বনের জমিতে সীমানাপ্রাচীর বসিয়ে দখল করেছে, তখন কারো সাহস হয়নি প্রতিবাদ করার।

স্থানীয়রা আরো জানায়, ভাওয়াল রিসোর্টের নির্মাণকাজ চলাকালে প্রায়ই এখানে আসতেন বেনজীর আহমেদ। কাজ চলার সময় স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দিনরাত পালা করে সেখানে পাহারায় দাঁড়িয়ে থাকতেন।

পরিচয় গোপন করে কথা বললে রিসোর্টের সিনিয়র রিজার্ভেশন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রিসোর্টটির মালিকানায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার মালিকদের কয়েকজনের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীরও রয়েছেন।

এ ছাড়া ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, ‘পারটেক্স গ্রুপের মালিকের ছেলে ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ রিসোর্টটির মালিক। তবে কার কত ভাগ মালিকানা তা জানা নেই।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যথারীতি এখানেও বেনজীর আহমেদ চাতুরীর মাধ্যমে নিজের নামটি ব্যবহার করেননি। স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামেই রিসোর্টের শেয়ার কেনা হয়। জানা গেছে, এই রিসোর্টে এক রাত থাকতে গেলে গুনতে হয় সর্বনিম্ন ১১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৭৬০ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ এলাকায় প্রতি বিঘা জমির বর্তমান মূল্য ২০ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাবেক আইজিপির আরো সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজধানীর বনানীতে অভিজাত হোটেল ইউনিক রিজেন্সিতে বেনজীর আহমেদের বিনিয়োগ রয়েছে। একইভাবে কক্সবাজারেও দুটি হোটেলে বিপুল অঙ্কের অর্থ লগ্নি করেছেন তিনি। পদ্মা ব্যাংক এবং কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাও কিনেছেন বেনজীর।

পাচারের টাকায় বিদেশে যত সম্পদ:
পুলিশের সাবেক আইজিপি ও র্যাপবের সাবেক ডিজি বেনজীর আহমেদের দুবাই, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বিপুল বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধ উপার্জনের টাকা পাচার করে বিনিয়োগ করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে রয়েছে শতকোটি টাকার হোটেল ব্যবসা। সিঙ্গাপুরে প্রতিষ্ঠা করেছেন অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের সোনার ব্যবসা। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় জমি কিনেছেন বলে জানা গেছে।

তবে বেনজীর বিনিয়োগ করলেও তিনি কোথাও নিজের নাম রাখেননি। সব জায়গায় তিনি স্ত্রী জীশান মীর্জা, স্ত্রীর ভাই মীর্জা মনোয়ার রেজা, দুই মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিনিয়োগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুবাই শহরের কেন্দ্রস্থল মাকতুম স্ট্রিটে অবস্থিত বিলাসবহুল কনকর্ড হোটেল অ্যান্ড স্যুইটসে মোটা অঙ্কের শেয়ার রয়েছে বেনজীরের। হোটেলটি বিখ্যাত দুবাই ক্রিকের ওপর দুর্দান্ত প্যানোরমিক ভিউ অফার করে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুবাই ক্রিক, গলফ ও ইয়ট ক্লাব, সোনা ও মসলার বাজার, প্রধান কেনাকাটা ও অবসরকেন্দ্রগুলোর খুব কাছে এ হোটেল। দুবাইয়ে অবস্থিত গ্র্যান্ড মসজিদ থেকে তিন মাইল দূরে এ হোটেলের অবস্থান।

দেশ থেকে টাকা পাচার করে গড়ে তোলা বেনজীরের এই হোটেলে আছে অ্যাপার্টমেন্ট, এক্সিকিউটিভ, স্যুইটসসহ অত্যাধুনিক রুম, যেগুলোর ভাড়া প্রতিদিন ৩৫০ থেকে দেড় হাজার দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় মুস্তাফা মার্টের পাশে অবস্থিত নিজি জুয়েলার্সটির মালিকানায়ও রয়েছেন বেনজীর আহমেদ। দেশ থেকে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা পাচার করে সেখানে তিনি বিনিয়োগ করেছেন।

বেনজীরের বিদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে খোঁজ নিলে জানা যায়, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বিদেশে বিনিয়োগের কোনো অনুমতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেননি। তাঁর কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ অর্থপাচারের মাধ্যমেই তিনি বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত দেশ থেকে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন নিয়েছে এমবিএম গার্মেন্টস, রেনেটা, প্রাণ ফুডস, নাসা গ্রুপের এজে সুপার গার্মেন্টস, কলাম্বিয়া গার্মেন্টস, আকিজ জুট, মবিল যমুনা বাংলাদেশ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, ডিবিএল, স্কয়ার ফার্মা, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং, সার্ভিস ইঞ্জিন, আকিজ জুট, বেক্সিমকো ফার্মা, এসিআই হেলথকেয়ার, বিএসআরএম, সামিট পাওয়ার, টেকআউট লিমিটেড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণ দেশে ডলার সংকট চলছে। অথচ অর্থনীতির এমন সংকটময় সময়ে বেনজীর অনুমোদন না নিয়েই টাকা পাচার করে বিদেশে কয়েক শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে বেনজীর আহমেদ পাচার করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেনজীরের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ঋণ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কত টাকা দিয়েছে সেটি জানাতে নারাজ।

দেশে আরো সম্পদের খোঁজ :
বেনজীরের মালিকানা প্রকাশ্যে না আনলেও কক্সবাজারের কলাতলীতে দুটি বিলাসবহুল হোটেলে রয়েছে তাঁর বিনিয়োগ। হোটেল দুটির নাম হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্রিমিয়ার ও হোটেল রামাদা লিমিটেড।

বনানীর সি ব্লকের ১৫ নম্বর রোডের ৫৯ নম্বর বাড়ির ঠিকানায় আছে হোটেল ইউনিক রিজেন্সি। এ হোটেলেও বিনিয়োগ আছে বেনজীরের। হোটেলটিতে এক রাত থাকতে গেলে গুনতে হয় সর্বনিম্ন ১০০ ডলার বা ১২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার বা ৩০ হাজার টাকা। এ হোটেলে আছে ডিলাক্স সিঙ্গল, ডিলাক্স টুইন, ডিলাক্স কিং, প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইটস, ভিআইপি স্যুইটস, সুপিরিয়র কিং প্রভৃতি বিলাসবহুল রুম।

এ ছাড়া কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়েও বিনিয়োগ আছে বেনজীরের। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটি ক্যাম্পাস র্যাংগস আরএল স্কয়ার, প্রগতি সরণিতে অবস্থিত। আর স্থায়ী ক্যাম্পাস হচ্ছে পূর্বাচল নিউ টাউনের ৯ নম্বর সেক্টরে।
২০১৩ সালের ৩ জুন দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড নামে যাত্রা শুরু হয় বর্তমানের পদ্মা ব্যাংক পিএলসির। ব্যাংকটির মালিকানায় আছেন বেনজীর পরিবারের সদস্যরা। ঋণ অনিয়মে ডুবতে বসা ব্যাংকটি ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক হিসেবে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ব্যাবসায়িক দুরবস্থায় ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তি করে। ২০২১ সাল পর্যন্ত পদ্মা ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান ছাড়িয়েছে ৯০০ কোটি টাকার ওপরে। পরের দুই বছরের চূড়ান্ত হিসাব মেলেনি এখনো। তবে নাম বদলানোর পরের চার বছরে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটিতে নতুন করে মূলধন থেকেই ক্ষয় হয় ২৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজারেও অবৈধ ভূ-সম্পত্তি:

পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া—ইসিএ) সেন্ট মার্টিন দ্বীপে রয়েছে পুলিশের সাবেক আইজি ও র‌্যাবের সাবেক ডিজি বেনজীর আহমেদের ৪১৮ শতাংশ জমি। এর মধ্যে মোহাম্মাদ ওয়াজিউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির ২৫০ শতাংশ জমি ও নারকেলবাগান দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে বেনজীরের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণপাড়া গ্রামের সব মানুষের যত জমি আছে, তার চেয়ে বেশি জমি একাই কিনেছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দ্বীপের উত্তরপাড়ায় জমি কিনে সীমানাপ্রাচীরও দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বেনজীরের জমিটির দেখভাল করছেন মাওলানা আব্দুর রহমান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেল, স্থানীয়রা জমিটি ‘বেনজীর স্যারের জমি’ হিসেবেই চেনে। জমির সীমানা রক্ষার জন্য কোরাল পাথর তুলে এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কংক্রিটের পিলার দিয়ে জমির চারদিকে সীমানা দেওয়া হয়েছে।
বানানো হয়েছে বড় একটি গেট, যা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া—ইসিএ আইন ১৯৯৫, বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ আইন এবং পরিবেশ আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এ ছাড়া সেন্ট মার্টিনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বীপঘেঁষা এলাকা উত্তরপাড়া গ্রামের মোহাম্মাদ ওয়াজিউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির ২৫০ শতাংশ জায়গা দখলের অভিযোগ উঠছে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে। ওয়াজিউল্লাহ জমিটি সেন্ট মার্টিন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার আহমদ ও মাহে আলমের কাছ থেকে কিনেছেন। পুরো ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার কামাল।

স্থানীয় ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, সেন্ট মার্টিনের জিনজিরা দ্বীপ মৌজার ১০৩০ নম্বর খতিয়ানের ১৭৮৬ দাগে ৮.২৫ শতাংশ, একই দাগে ১৪.১৪ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ জমি রয়েছে বেনজীরের নিজ নামে। এ ছাড়া ১৭২৫ দাগে রয়েছে ২২ শতাংশ জমি। জমির নামজারিতে মালিকের নাম দেওয়া হয়েছে হারুনুর রশিদের পুত্র বেনজীর আহমেদ। ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার হোল্ডিং নম্বর ১৬৬। তার জমির খতিয়ানের নামজারি ও জমাভাগ মামলা নম্বর ছিল ৩৫৫ (আই)/২০১৪-১৫ এর ১২/২/২০১৫ ইং তারিখের আদেশ মতে অত্র খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়।

জমিটির বিক্রেতা ছিল স্থানীয় মৌলভী আব্দুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। খতিয়ানটি সত্যায়ন করেছেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার জাহিদ ইকবাল ও উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মোছাম্মদ মুসা। খতিয়ানটিতে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ ১ একর ৬৮.২৫ শতাংশ।

টেকনাফ ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী তহশিলদার আবদুল জব্বার প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকায় বেনজীর আহমেদ সাহেবের জমি আছে। এসব জমি তিনি কিনেছেন ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। এর পরেও উনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামেও কিনেছেন বেশকিছু জমি।’

২০১১ সালে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা মৌলভী আব্দুর রহমান এলাকায় বেনজীরের খাস লোক হিসেবে পরিচিত। তিনিই ওই এলাকায় বেনজীরের জমিজমা দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভী আব্দুর রহমান নিজেও ২০১১ সালে তিন একর জায়গা বেনজীর আহমেদের কাছে বিক্রি করেন। বেনজীর এসব জমি প্রতি একর কেনেন মাত্র ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকায়, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। জমি কেনার পর বেনজীর আহমেদের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা ছিল। পরে ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির পর নিজের নামের সেই সাইনবোর্ড খুলে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি।

সেন্ট মার্টিনে জমি কেনার সত্যতা নিশ্চিত করেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউয়িন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের দক্ষিনপাড়া গ্রামে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সাহেবের মালিকানায় জমি আছে। আগে পুরো জমির চারদিকে বেড়া দেওয়া ছিল, উনার নিজের নামে সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল, কিন্তু এখন নেই। তবে জমির পরিমাণ কত তা আমার জানা নাই।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্তার কামাল এই প্রতিবেদককে জানান, দ্বীপের উত্তরপাড়ায় একটি নারকেলবাগানসহ এক দাগে ১২০ শতাংশ জায়গা আছে বেনজীর আহমেদের। এটা দেখভালের দায়িত্বে আছেন মৌলভী আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ ছাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়ায় ১৭৮৬ দাগে বেনজীর আহমেদের রয়েছে দেড় একর জমি।

ইনানীতে স্ত্রী ও কন্যাদের নামে ৮৭ শতাংশ জমি:

বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের ডিজি থাকার সময় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী মৌজায় ৮৬.৯৪ শতাংশ জমি কেনেন। কিন্তু চতুর এই সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ওই জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেননি। রেজিস্ট্রি করিয়েছেন শ্যালক মীর্জা মনোয়ার রেজা, স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং তিন কন্যা ফারহীন রিশতা বেনজীর, তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ও জাহরা জেরিন বিনতে বেনজীরের নামে। এর মধ্যে ছোট মেয়ে জাহরা জেরিন বিনতে বেনজীর জমি রেজিস্ট্রির সময় নাবালক ছিল। এই জমির বিএস খতিয়ান ও বিএস দাগ নং ৪৭৬২, ৩৭৩৯, ৫২৮২, ৭১৮২, ৫৬৯১, ৫২৮১ ও ৭৭৬৬।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, জমির দলিলে মীর্জা মনোয়ার রেজা ও জীশান মীর্জার পিতা মীর্জা মনসুর-আল-হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বেনজীর আহমেদের শ্বশুর। দুজনেরই ঠিকানা দেওয়া হয়েছে শেখপাড়া, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ফরিদাবাদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর, তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ও জাহরা জেরিন বিনতে বেনজীরের পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে বেনজীর আহমেদ। বেনজীর আহমেদের পিতা হারুনুর রশিদের তথ্যও ওই দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলিলে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর তিন কন্যার ঠিকানা দেখানো হয়েছে বৈশাখী রোড, সবুজবাগ, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ পৌরসভা, গোপালগঞ্জ।

সোনারপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর পরিশোধ রসিদের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, জীশান মীর্জার হোল্ডিং নম্বর ৫৬৯১, জমির শ্রেণি নাল (আবাসিক), দাগ নং ১০৩৯১ ও জমির পরিমাণ ৭.৩৩ শতক। ২০২৩ সালের ২৮ মে এই কর পরিশোধ করা হয়। জীশান মীর্জার নামে একই দিনে আরো ১৮ শতক জমির ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া হয়। ২ নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ী জমিটির হোল্ডিং নম্বর ৫২৭১ ও দাগ নং ১০৩৮৯।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ মে ফারহীন রিসতা বিনতে বেনজীরের ভূমি করও সোনারপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমা করা হয়। ২ নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ী জমিটির হোল্ডিং নম্বর ৭৭৬৬, দাগ নং ১০৩৯১, ১০৩৮৯। এখানে জমির পরিমাণ ৩.৫, ৬.৫ ও ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ শতাংশ। একই দিনে মীর্জা মনোয়ার রেজাসহ অন্যদের ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা হয়। তবে ২০২৩ সালের ২৯ মে উখিয়া উপজেলার ইনানী-২ মৌজার এই জমি গাজীপুর সদরের নলজানি, চান্দনার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে স্ত্রীর নামে ৭০ শতাংশ জমি:

কক্সবাজারের উখিয়া থানার মেরিন ড্রাইভের পাশে এলজিইডি ভবন সংলগ্ন ইনানী মৌজায় বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জার নামে রয়েছে ৭০ শতাংশ জমি। জমিটি জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মেম্বার দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। জমিটি কেনা হয় ২০০৬ সালে।

কক্সবাজারের উখিয়া থানার জালিয়া পালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামসুল আলম নিশ্চিত করে বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভের পাশে এলজিইডি ভবনের কাছাকাছি ইনানী মৌজায় বেনজীর আহমেদ সাহেবের ৭০ শতাংশ জমি আছে। এই জমিটি কিনে দেন আমার ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য নাজিম উদ্দিন ও একই এলাকার সোনারপাড়ার মৌলভী আবুল বাশাক। বর্তমানে তাঁরাই দুজন এই জমি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন।’

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে অনুসন্ধান করা হবে। দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন দুদক দুর্নীতি খতিয়ে দেখবে। দুর্নীতির সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান  বলেন, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির বিশদভাবে অনুসন্ধানে নামা উচিত। কারণ সরকারের যেকোনো পর্যায়েই চাকরি করুক না কেন, বৈধ উপায়ে কোনোভাবেই এত সম্পদ অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের উৎস ও সূত্রগুলো দুদককে খুঁজে বের করতে হবে। কারণ আইন সবার জন্য সমান।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বেনজীর আহমেদ খুবই ক্ষমতাবান ছিলেন। তিনি পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। সবাই জানে তিনি কতটা প্রভাবশালী। এ জন্য দুদক হয়তো স্বাধীনভাবে তাঁর দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গেলে বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। তবে জনগণের প্রকৃত ঘটনা জানার আগ্রহ থেকে হলেও বেনজীরের দুর্নীতি খুঁজে বের করা উচিত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছে, যারা অবৈধ সম্পদ আহরণ ও অর্জন করবে, সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের সঙ্গে জড়িত দোষীকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দুদক এর পরও যদি বেনজীরের সম্পদ অনুসন্ধান করে দুর্নীতির চিত্র না বের করতে পারে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারে, সেটি হবে দুঃখজনক।

কবিতা: শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা

মিথিলা হক তুলি:

উনিশশো বায়ানো সালের ২১’শে ফেব্রুয়ারি
বাঙালির জন্য ছিল কাল
আমার ভাইয়ের বুকের তাজা রক্তে সেদিন
সবুজ প্রান্তর হয়েছিল লাল।

যারা নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে
বাংলা ভাষার তরে,
ওরা অমর, ওরা মিশে আছে বাংলার
আকাশ-বাতাস জুড়ে।

উর্দু নয়, বাংলা চাই মোদের মাতৃভাষা
এটাই ছিল বীর বাঙালির বুক ভরা আশা,
এই দাবিতে চটে গেলো পাক
হিটলারের পাশা
বাঙালির বুকে বুলেট ছুড়ে মিটালো তাদের রক্তের নেশা।

শত্রুমুক্ত করেছে দেশকে ভালোবেসে
বুকের তাজা রক্ত দিয়ে করেছ দেশ স্বাধীন
আজ মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি আমরা
তোমরা এনে দিয়েছ এমন বিজয়ের সুদিন।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের সতর্ক করলো আওয়ামী লীগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রীসহ দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ৭ জানুয়ারি নিরপেক্ষভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি মাইলফলক। নির্বাচন বানচালের বহুমুখী ষড়যন্ত্র ছিল। সে প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে এসেছিল এবং নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন ২টি ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে এবং ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মন্ত্রী-এমপিদের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, কেউ কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করলেও দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বিবৃতিতে কাদের বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করার কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার জন্য মন্ত্রীসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের প্রতি সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জিলা স্কুল- ২০০০ ব্যাচের ঢাকা পর্বের ইফতার মিলনমেলা সম্পন্ন

 

বিশেষ প্রতিবেদন:

সরকারি ছুটির দিনে নয়, কর্মদিবসেই সকল ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে স্কুল জীবনের বন্ধুদের সাথে আনন্দঘণ কিছু মুহূর্ত উপভোগ করার জন্য ঢাকার হাতিরঝিলের পাশে প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম পরিবেশে স্থাপিত একটি রেস্টুরেন্টে ইফতার মিলনমেলা সম্পন্ন করলো কুমিল্লা জিলা স্কুল ২০০০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

১ এপ্রিল এ ব্যাচের প্রায় ৪০ জন বন্ধু এ ইফতার মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেন।

বিগত ১৯ মার্চ রাইসুল নাবিল এ ব্যাচের ফেসবুক পেইজে প্রথমে ইফতার আয়োজনের প্রস্তাব করে। সাথে সাথে প্রস্তাবে সাড়া দিতে থাকে অন্য বন্ধুরা। মাকসুদ উল্লাহ, রাইসুল নাবিল, আবু জাফর ‍উজ্জ্বল, ফাইয়াজ আলম, হোসাইন ইউসুফ কাকুল, শাহাদাত সোহাগরা ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করা শুরু করে। মাঝে মাঝে আবেগপ্রবণ বার্তা দিয়ে বন্ধুদের উৎসাহ বৃদ্ধির কাজ করেন মাকসুদ উল্লাহ। ইফতারের পূর্ব দিন গ্রুপে মাকসুদ লিখেন- “বছরে একবার বন্ধুদের সাথে একটু সময় কাটানোর জন্য এতটুকু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করাই যায়, কি বলিস সবাই।”

এ ব্যাচের সবাই যার যার মত করে কর্মব্যস্তময় সময় অতিবাহিত করছে। ফলে কর্মদিবসে ইফতার মিলনমেলা সফল করাটা বেশ কঠিনই বটে। কিন্তু সকল উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রয়াস সাফল্যমন্ডিত হয়েছে। কুমিল্লা জিলা স্কুল ২০০০ ব্যাচের ঢাকা পর্বের ইফতার মিলনমেলাটি প্রাণোচ্ছল ও সুখকর ছিল।

সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় মাকসুদ, ফাইয়াজ, উজ্জ্বল তো সবার প্রথমেই রেস্টুরেন্টে উপস্থিত। সাথে সাথে সংগীত সাধক নাজমুল আহসান তুহিন, বাইকার আইকন আব্দুল মোমেন রোহিতের দ্রুত উপস্থিতি ছিল চমকের মত। কয়েক বছরের মধ্যে আব্দুল মোমেন রোহিত সড়ক দুঘর্টনায় পরিবার হারিয়েছেন। সেও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তেই ছিল। কঠিন মনোবল ও আত্মবিশ্বাস তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এনেছে। পুরোপুরি ফিট না হলেও ইফতারে রোহিতের উপস্থিতি চমকে দেয়ার মত।পরে ক্রমান্বয়ে অন্যরা আসতে শুরু করেন। তবে এ মিলনমেলায় এসএনএফ আলভী, আহমেদ আল আমিন, কবি পিয়াস মজিদ, অনুপ, কামরুল হাসান, জোবায়েরের উপস্থিতি আশা করেছিল অনেকেই। কিন্তু ব্যস্ত থাকায় তাদেরকে এবার পাওয়া যায়নি।

 

 

 

ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহুর্তে বিজনেস আইকন খ্যাত রাজিব আহমেদ এসেই নামায আদায় করে আড্ডায় মনোনিবেশ করলেন। আড্ডায় কিছু ব্যবসায়িক আলোচনাও করে ফেললেন কর্পোরেট বন্ধুদের সাথে। এর ঠিক কিছুক্ষণ পরেই এরাবিয়ান বেশে হাজির রাইসুল নাবিল। ওযুর পানি খুজঁতে বেশ এদিক ওদিক দৌড়াতে দেখা যায় তাকে। এদিকে কুমিল্লা থেকে সকাল ১০ টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া পন্ডিতখ্যাত মহিবুবুল হক ছোটন বেশ বিলম্বই করছিলেন। মাকসুদ মুঠোফোনে পন্ডিত ছোটনের অবস্থান জানলেন । তিনি ঢাকায় এসে ব্যস্তময় সময় অতিবাহিত করে ইফতারের স্পটে আসতেছেন। কিন্তু তিনি জ্যামে আটকা পড়েছেন। সেই জ্যামে রয়েছেন ডাক্তার আসাদুজ্জামান আকন্দ জনি। ছোটন ইফতারের সময়ই এসে হাজির। কোনরকমে খেজুর খেয়ে তিনি প্রত্যেক টেবিলে গিয়ে তার পান্ডিত্য মনোভাবের বর্হিপ্রকাশ করলেন। সবার খোঁজ খবর নিলেন। ইফতারের শেষ পর্যায়ে এসে হাজির আসাদুজ্জামান আকন্দ জনি। অল্প একটু খাবার মুখে নিয়েই সবার খবর নিলেন। এর মাঝে আগামী বছর এ ব্যাচের গোল্ডেন জুবিলি ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা শুরু করলেন উজ্বল, ফাইয়াজ। তাতে সায় দিলেন নাজমুল আহসান তুহিন । ইফতার শেষে আমিন ইসলাম রুবেল, মোহিত চক্রবর্তী, শিশির, ইসমাইল মোরশেদ সোহেল, তুহিন টিপুরা , সালমান কামালরাও বেশ জমাটবাধা আড্ডায় মত্ত ছিলেন। ইফতারের পর নামায আদায় শেষে আবার খাবার ও আড্ডায় মজার সময় কাটিয়ে রাতে সবাই বিদায় নিয়ে যার যার বাড়ি ফিরে গেলেন।

 

 

বছরের একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকলে ১ মার্চ। যে দিন অন্তত সবাই যার যার ব্যস্ততা, চিন্তা অন্তত কিছু সময়ের জন্য ভুলে সবাই হারিয়ে গেছেন অন্তত ২৪ বছর আগের দিনগুলোতে। সবাইকে সেই নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মতই দুষ্টু, বাচাল মনে হচ্ছিল। এমন দিন প্রতি বছর ফিরে আসুক। ৩৬৫ দিনের একটি দিন অন্তত আমাদের জন্য থাকুক যেখানে থাকবে না কোন সীমাবদ্ধতা, শুধুই থাকবে ভালবাসা, আবেগ, সুখময় কিছু মুহুর্ত।

 

এই ইফতার মিলনমেলাতে উপস্থিত থেকে আরা প্রাণবন্ত করেছেন আবু নোমান মহসিন, তানভীর আলম, আলী আহমেদ মিয়া, হাসানুজ্জামান তানিন, জাভেদ, আব্দুর কাদের, বুলু, সালাউদ্দিন, গোলাম মোর্তজা, রাগীব মনোয়ার, মুহি উদ্দিন, নয়ন আব্দুল্লঅহ, তাইমুম রহমান ইভান, নাইমুল নাইম, হালিমুল হক, সাইফুল মুরাদ, দিবস, মাসুদ খলিফা, জিয়াউল হক, নাসির আহমেদ, আহমেদ শাকিল ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখরা।

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী মোমবাটিক দিয়ে শুরু করা ব্যবসায় ইয়াসমিনের সাফল্য

মোঃ মাসুদ হোসেন:

মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোতেই বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু অদম্য মানসিকতা যাঁর, তিনি এখানেই থেমে যাবেন, তা কি হয়! সংসার-সন্তান সামলে চুকিয়েছেন পড়াশোনার পাটও। চাকরি নয়, ব্যবসা করবেন, স্বাবলম্বী হবেন। তাই স্বামীর দেয়া হাতখরচের টাকা জমিয়ে স্বল্পপুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বেড়েছে কলেবর। তাঁর সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার নানা চড়াই-উতরাইয়ের গল্প লিখেছেন মোঃ মাসুদ হোসেন। ইয়াসমিন সুলতানা, পরিবারের ৬ ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। জন্ম-বেড়ে উঠা চাঁদপুর জেলাতে। ২০০৯ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী জিলানী চিশতি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন তিনি। শৈশব ও পড়াশোনা চাঁদপুরে হলেও স্বামীর চাকরিসূত্রে ঢাকার সাভারে তার বসবাস। বর্তমানে স্বামী-সংসার সামলে দেশীয় পণ্যের একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা ইয়াসমিন। ফেসবুক পেজ ‘সঞ্চয়িতা’ ঘিরেই এখন তার স্বপ্ন। সম্প্রতি ইয়াসমিন সুলতানা তার উদ্যোগের গল্প বলেছেন আজকের কুমিল্লাকে।

শুধু মনের জোর আর সদ্বিচ্ছার কারণে একজন শূন্য থেকে শুরু করে নিজের চেষ্টা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে কীভাবে নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করা যায় তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অদম্য সংগ্রামী নারী ইয়াসমিন। আজ তিনি সফল একজন নারী উদ্যোক্তা। এই পথটা সহজ ছিল না। অনেক কঠিন পরিক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সেই গল্প জানতে যেতে হবে আরো অনেক পেছেনে। ইয়াসমিনের শৈশব ও কৈশোরের স্বর্ণালী দিনগুলো কাটে চাঁদপুরেই। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ালেখা করেন সেখান থেকে। স্কুল- কলেজ জীবন, সব কিছুই ছিল রঙিন। কলেজ ক্যাম্পাস, পড়ালেখা, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেয়া, মুক্ত পাখির মতো ঘুরে বেড়ানো, সব কিছুই চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। হঠাৎ করেই বদলে গেলো তার জীবনের দৃশ্যপট। তখনও সবেমাত্র পড়ছিলেন উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষে। পারিবারিকভাবে হঠাৎ করে তাকে দেয়া হয় বিয়ে। পরে যেতে হয় শ্বশুর বাড়িতে। শুরু হয় নতুন জীবন। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় বিয়ের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে পাশ করেন এইচএসসি। এর পরেই জন্ম দেন একটি কন্যা সন্তান।

বিয়ের পর সব কিছু তার কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। নিজের পড়ালেখার স্বপ্ন, স্বামী-সংসার, সন্তানের সেবাযত্ন কিভাবে কি করবেন তা নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়ে যান ইয়াসমিন। এক বছর বিরতি দিয়ে অনার্সে ভর্তি হয়ে আরো দুঃচিন্তায় পরে যান তিনি। পড়ালেখা করে চাকরি পাওয়া যেন সোনার হরিণ। পেলেও স্বামী-সংসার ও মেয়েকে সামাল দেয়ার কেউ থাকবে না। এমনটা ভেবেই অন্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চিন্তা মাথায় আসে তার। স্বামীর দেয়া হাত খরচের সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে শুরু করেন দেশীয় পণ্যের অনলাইন ব্যবসা। শুরুতেই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লার বিখ্যাত মোমবাটিক পোশাক নিয়ে ২০১৯ সালে কাজ শুরু করেন এই নারী উদ্যোক্তা। কিন্তু এর মধ্যে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও চলে আসে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। তাই কোভিড চলে আসায় সব কাজ থমকে যায় ইয়াসমিনের। ২০২০ সালে ঘরবন্দি অবস্থায় ৩ মাসের সন্তান নিয়েও সাহস করে ‘সঞ্চয়িতা’ নামে ফেইসবুক পেজ খুলে চালিয়ে যান তার এই ই-কমার্স ব্যবসা।

তিনি জানান, বাটিক নিয়ে একটা সময় আমার ধারণা ছিলো কমদামী সস্তা পোশাক। কিন্তু না একটা ভালো মানের বাটিক ব্যবহারের পর আমার সেই ভুল ভাঙ্গে। তখনি মাথায় আসে অন্যদের যেই ভুল ধারণা সেটাকে বদলাতে হবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যকে নতুন করে পরিচিত করাতে হবে সবার কাছে। সেই চিন্তা থেকেই ধীরেধীরে এগিয়ে চলা। বাটিক শুনলেই কমদামি মনে করে নাক সিটকান এমন অনেকের পড়নেও আরামদায়ক বাটিক। আমার প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়িতার ট্যাগ লাইন হচ্ছে “কোয়ালিটি ফার্স্ট” আর সেটার সাথে কখনোই আপোষ করিনি। তাই নিত্য নতুন ক্রেতার সাথে সাথে অসংখ্য রিপিট ক্রেতাও পাচ্ছি প্রতিনিয়ত। তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। দীর্ঘ ৪ বছরের ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি। তবে শুরু থেকেই আমার স্বামী ছায়ার মতো পাশে ছিল। যেকোনো সমস্যায় সে-ই সাহস জোগাত। সময়-সুযোগ করে নানা কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

জানা যায়, বাহারি ডিজাইনের মোমবাটিকের কটন ও সিল্ক থ্রিপিস, বাটিকের সিল্ক ও কটন শাড়ি আর বেডশিট তার সঞ্চয়িতা পেজ থেকে লাইভে এসে প্রদর্শনী শুরু করেন। ওই লাইভ সম্প্রচারে দেশ- বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের তিনি দেশীয় পণ্যের ব্যাপারে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। ক্রেতারা তার লাইভ দেখে নিজের পছন্দমতো পোশাকটি অর্ডার করতে শুরু করেন। প্রতি লাইভে অর্ডার করা পণ্য কুরিয়ারের মাধ্যমে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতাদের কাছে ডেলিভারিতে পৌঁছানোর যাবতীয় কাজও ইয়াসমিন স্বামীর সহযোগিতায় করে থাকেন। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত অনলাইন ও অফলাইনের প্রশিক্ষণ নেয়া এই উদ্যোক্তা ২০২৩ সালে ইউএনডিপি ও আনন্দমেলার অধীনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের স্মার্ট নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আইসিটি গ্র‍্যান্ড ৫০ হাজার টাকার পুরষ্কার গ্রহণ করেন। যা একজন নারী উদ্যোক্তার উন্নয়নের জন্য সরকারের এই ভূমিকা সত্যিই অনস্বীকার্য।

তিনি জানান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণে যুক্ত করে নিজেকে দক্ষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি শুরু থেকেই। বর্তমানে সঞ্চয়িতার পুরো কার্যক্রম অনলাইনে চললেও স্বপ্ন দেখি একদিন এই উদ্যোগ অফলাইনেও প্রকাশ পাবে। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হচ্ছে আমার স্বামী। সে আমাকে সাপোর্ট না করলে আজ আমার যাত্রা এতোদূর এগিয়ে আসতো না। তিনি আরো বলেন, মাত্র ৩৫০০ টাকায় শুরু করা বিজনেস টাকে ৪ বছরে যেটুকু এনেছি তার জন্য এখনো কোন ঋণ করতে হয়নি। আমার এই বিজনেসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পুঁজি রয়েছে এখন। নিজের সাধ্যের মধ্যে থেকে করেছি। যেহেতু বিজনেস টা অনলাইন ভিত্তিক তাই নারী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে একটু হ্যারেস হতে হয়। নারীদের যেই সম্মানের জায়গাটা সেটা আমাদের সমাজে এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, সারাবছর চাহিদা সম্পন্ন বাটিকে এখন অনেক নতুনত্ব এসেছে, যা মুগ্ধ করে সবাইকে। গুণে এবং মান ধরে রাখতে পারলে এই পণ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অনেক। দেশের বাইরে প্রবাসী বাঙালির কাছে অনেক চাহিদা থাকলেও কুরিয়ার জটিলতায় তা সবসময় পৌছানো সম্ভব হয় না। তারপরও সঞ্চয়িতার পণ্য একটা সময় দেশের ৬৪ জেলায় পৌঁছাতে থাকলেও বর্তমানে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সহ ইউরোপ আমেরিকার ১৬ টি দেশে এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে সঞ্চয়িতার মোমবাটিক। যা একজন নারীর হাত ধরে আসা রেমিট্যান্স সত্যিই আনন্দদায়ক।