All posts by jitu

কুমিল্লায় অভিযান পরিচালনা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ইটভাটা

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় ও সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় ও ইটভাটা ভেঙ্গে ফেলা হয়।

বুধবার (১৩ মার্চ) ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) ও বায়ু দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২ অনুসারে নিন্মোক্ত ইটভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়।

এ সময় সদর দক্ষিণ সুয়াগাজীতে মেসার্স বি এল বি ব্রিকসকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও বাতাবাড়িয়া বিশ্বরোডে মেসার্স কামাল ব্রিকস ভেঙ্গে ফেলা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবদুর রহমান এবং মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউশন প্রদান করেন কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস।

এ সময় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

তিতাস উপজেলায় ৭৫ মিটার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তার স্থাপন

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি জিসি-রায়পুর ভায়া মাছিমপুর ৭৫.০৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি এবং আরসিসি গার্ডার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

বুধবার (১৩ মার্চ) এই ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর। এই ব্রিজটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা বাস্তায়ন করছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, এলজিইডি কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইফতেখার আহসান, তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, তিতাস উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম , তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মহসিন ভুইয়া,আসমানিয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান খোকা প্রমুখ।

ব্রিজটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন কাজ করছেন। গ্রামের সকল অবকাঠামো বিদ্ধমান রেখে শহরের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। প্রতিটি গ্রামে শহরের সকল সুযোগ সুবিধা পাবে।

তিনি বলেন, দাউদকান্দি-তিতাসে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হবে। কোন সেক্টর বাদ যাবে না।

জিম্মি নাবিকদের সুস্থ ফেরত আনতে আমরা বদ্ধপরিকর : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

সোমালীয় জলসীমায় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজের নাবিকদের সুস্থ ফেরত আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (১৩ মার্চ) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ফেরি, স্টিমার, লঞ্চসহ জলযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্মপন্থা গ্রহণের বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এখন পর্যন্ত থাকা খবর অনুযায়ী নাবিকরা সুস্থ এবং ভালো আছেন বলেও জানিয়েছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে দুবাইয়ের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটিতে ২৩ জন ক্রু ছিলেন।

অপহরণ হওয়া জাহাজ উদ্ধারের অগ্রগতি জানতে চাইলে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কথা হচ্ছে যে কোনো মূল্যে নাবিকদের আমরা বাংলাদেশে ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, বলা হচ্ছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা… এটা ভারত মহাসাগরে, বলা হচ্ছে সোমালিয়া থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি। জলদস্যু কারা এটাই এখনো আইডেন্টিফাইড নয়। ওই অঞ্চলটি সোমালিয়ান অঞ্চল সেটি বলা যেতে পারে। তবে সেটা কে তা (সোমালীয় জলদস্যু) বলা মুশকিল, সেটা আপনি হতে পারেন আমিও হতে পারি।

পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে- এ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সামাজিক জীব, পরিবার নিয়ে বসবাস করি। যে পরিবারগুলোর সদস্যরা সেখানে আটকে আছে, সে পরিবারগুলোর কীভাবে দিন যাচ্ছে সেটা আমরা অনুভব করছি। প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্য জায়গাগুলোতে তিনি কথা বলেছেন। নাবিকদের নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে কত সময় লাগতে পারে- জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ বলেন, যারা এখন জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা তো মানুষ না তারা জলদস্যু। মানুষের সঙ্গে কথা বললে আমি সময় নির্ধারণ করতে পারবো, এতগুলো মিটিং করলে আমরা শেষ করতে পারবো। এটা জলদস্যুদের বিষয়, জলদস্যু আর মানুষ এক নয়। তাই সময়টা এখানে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না।

তিনি বলেন, তবে আমরা বদ্ধপরিকর, আমাদের নাগরিক নাবিকদের আমরা সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে।

দেশের সব সেক্টরের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দে চার খাতকে গুরুত্বের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের সব সেক্টরের উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ১৩শ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এইসব প্রকল্প দেশের উন্নয়নের জন্য হলেও অর্থ বরাদ্দে প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়। গুরুত্ব বিবেচনা করেই প্রকল্পগুলোতে কম-বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চার খাতের প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থ বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এই সভায় প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সাধারণ নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

অর্থ বরাদ্দে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

১. দারিদ্র্য নিরসন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃজন ও আয়বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে আরএডিপিতে অর্থ বরাদ্দের চাহিদা প্রস্তাব করতে হবে।

২. বিদ্যমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আরএডিপিতে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ খাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ইত্যাদির ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের চাহিদা প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৩. অর্থ বরাদ্দের চাহিদা দিতে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়ক প্রকল্প গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

৪. এলাকা/অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পগুলো অর্থ বরাদ্দের চাহিদা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

৫. সম্পদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে আরএডিপিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে চলমান প্রকল্প সমাপ্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

৬. অনুমোদিত প্রকল্প দলিলে প্রাইস কন্টিনজেন্সি ও ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি খাতে সংস্থানকৃত অর্থ ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা’ অনুসরণ করে ব্যয় প্রস্তাব করতে হবে। বিদ্যমান নির্দেশিকা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ডিপিপির সংস্থান পরিবর্তন ব্যতিরেকে এ খাতের অর্থ প্রকল্পের অনুকূলে অন্য কোনো খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা যাবে না।

৭. সংশোধিত এডিপির সেক্টরের নির্ধারিত জিওবি বাবদ মোট বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিজস্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগের আন্তঃপ্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের চাহিদা সমন্বয় করা যাবে।

৮. বৈদেশিক অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট (ঋণ/অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত, ঋণ/অনুদান প্রাপ্তির সুনিশ্চিত অঙ্গীকারপ্রাপ্ত) প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে প্রাপ্ত প্রকল্প ঋণ/অনুদান ব্যবহারের নিমিত্ত পরিপূরক জিওবি বরাদ্দের প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৯. জাপান ঋণ মওকুফ অনুদান তহবিল (ডিআরজিএ) এবং জাপান ঋণ মওকুফ অনুদান প্রতিরূপ তহবিল (ডিআরজিএসিএফ) ইআরডি থেকে প্রকল্প ঋণ/অনুদান হিসেবে উল্লেখ করা না হলে জিওবি হিসেবে বিবেচিত হবে।

১০. যেসব প্রকল্পে জিওবি বা প্রকল্প ঋণ/অনুদানের পাশাপাশি বাস্তবায়নকারী সংস্থার অর্থায়ন রয়েছে সেসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্ব-অর্থায়নকৃত অর্থের বরাদ্দ প্রতিফলন করতে হবে।

১১. শুধু অনুমোদিত প্রকল্প বরাদ্দসহ আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। এএমএস-এ অন্তর্ভুক্তি ব্যতীত নতুন অনুমোদিত প্রকল্প আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্ত বা বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব করা যাবে না।

১২. প্রকল্পভিত্তিক চাহিদা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দের পাশাপাশি ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দের প্রক্ষেপণ এএমএস-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে সৌদি ক্লাব আল হিলাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা ম্যাচ জয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আল ইত্তিহাদকে হারিয়ে অসাধারণ এই কীর্তি গড়ে দলটি।

এশিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে মঙ্গলবার রাতে ২-০ গোলে জিতেছে আল হিলাল। ৬১তম মিনিটে সৌদি আরবের ডিফেন্ডার ইয়াসের দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর শেষ সময়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মালকম।

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আল হিলালের এটি টানা ২৮তম জয়। তারা ভেঙে দিয়েছে ওয়েলস প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব দ্য নিউ সেইন্টসের টানা ২৭ জয়ের রেকর্ড, ২০১৬-১৭ মৌসুমে রেকর্ডটি গড়েছিল তারা।

রেকর্ডটি গড়ার পথে সৌদি প্রো লিগে ১৬টি, ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতায় তিনটি এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৯টি ম্যাচ জিতেছে আল হিলাল।

প্রথম লেগে ঘরের মাঠেও একই ব্যবধানে জিতেছিল আল হিলাল। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলে জিতে সেমি-ফাইনাল উঠল দলটি।

চোটের ছোবলে গত অক্টোবরে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারকে পুরো মৌসুমের জন্য হারায় আল হিলাল। তারপরও পর্তুগিজ কোচ জোর্জে জেসুসের হাত ধরে দুর্দান্ত সময় কাটছে দলটির; সৌদি প্রো লিগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দল আল নাস্রের চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে আছে তারা।

ঘরোয়া প্রতিযোগিতা কিং কাপেও সেমি-ফাইনালে উঠেছে বিশাল বাজেটের দল আল হিলাল।

১৪ মার্চ থেকে শুরু প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের মৌখিক পরীক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। এ ধাপে নির্বাচিতদের মৌখিক চলবে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত।

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় পর্বে রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে তিন বিভাগের ২২ জেলায় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় প্রার্থী ছিলেন ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ জন। ২০ ফেব্রুয়ারি এ লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে ২০ হাজার ৬৪৭ জন উত্তীর্ণ হন।

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৯ হাজার ৩৩৭ জন। তাদের চূড়ান্তভাবে নির্বিচিত হয়েছেন ২ হাজার ৪৯৭ জন চাকরিপ্রার্থী।

রমজানে গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ পাঠাল বাংলাদেশসহ ৯ দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে মিসরের বিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংস্থা আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটি হাউসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ হিসেবে ২ হাজার টন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশসহ ৯ দেশ।

এক বিবৃতিতে আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটি হাউস বলেছে, গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ত্রাণের যত চালান গেছে, সেসবের মধ্যে এই চালানটি বৃহত্তম। বাংলাদেশ ব্যতীত আরও যে আটটি দেশের ত্রাণ এই চালানে যুক্ত হয়েছে, দেশগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ফ্রান্স, চীন, কানাডা এবং জার্মানি।

মিসরের অনলাইন সংবাদমাধ্যম আরহাম অনলাইনকে আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটির মুখপাত্র আবদেল-আলীম কাশতা বলেছেন, ত্রাণ পণ্যবাহী ট্রাকগুলো মিসরের উত্তর সিনাই থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাধ্যমে গাজায় প্রবেশ করবে।

‘৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে রমজান শুরুর আগ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার টন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পণ্য পাঠিয়েছে আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটি। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ত্রান পাঠানো হয়েছি।’

‘তবে এ পর্যন্ত সেখানে যত ত্রাণের বহর প্রবেশ করেছে, সেসবের মধ্যে এই বহরটি সবচেয়ে বড়। মোট ৮০টি দেশের অনুদানের ভিত্তিতে বহরটি সাজানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে ৯টি দেশ—ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ফ্রান্স, চীন, কানাডা এবং জার্মানি,’ আরহাম অনলাইনকে বলেন আবদেল-আলীম কাশতা।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামরিক-বেসামরিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জন ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিককে।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেদিন প্রথম একদিনে এতজন মানুষের হত্যা দেখেছে ইসরায়েল। অভূতপূর্ব সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং তার এক সপ্তাহ পর বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭২ হাজার। নিহত ও আহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই নারী, শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বেসামরিক লোকজন। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

এই যুদ্ধের শুরু থেকে হামাস ও ইসরায়েলের সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর। হামাসের হাতে থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্ত করতে এই তিন দেশের উদ্যোগে গাজায় রমজান মাস থেকে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তোলা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধের দুই পক্ষ হামাস ও ইসরায়েলের সরকারের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় বহু আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি আর হয়নি।

সূত্র : আরহাম অনলাইন

ক্লাস বর্জনের ঘোষণা কুবি শিক্ষক সমিতির

চাঁদনী আক্তার,কুবি প্রতিনিধি:

শিক্ষকদের উপর হামলার বিচার না করা, পদোন্নতি না দেওয়া, গেস্ট হাউজ উন্মুক্ত না করা ও পদোন্নতির বৈষম্যের সমাধান না করার কারণে আগামী দুইদিন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, গত ১৯ তারিখ উপাচার্য কার্যালয়ে শিক্ষকদের উপর যে হামলা করা হয়েছিল সেটার তদন্ত করে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়া, যোগ্যতা থাকার পরেও ১ম ও ২য় গ্রেডের অধ্যাপকের পদোন্নতি না দেওয়া, শিক্ষকদের গেস্ট হাউজ এখনো উন্মুক্ত না করা ও শিক্ষকদের পদন্নোতির বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা উপাচার্যের নিকট বারবার লিখিত দিলেও তিনি তা ভ্রুক্ষেপ করেননি। এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা সকল শিক্ষকদের ঐক্যমতে আগামী দুইদিন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরীক্ষা চলমান থাকবে। এরপরও যদি শিক্ষকদের এই দাবিগুলোর সুরাহা না করা হয় তাহলে আমরা আগামী ১৯ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো।

বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজের “ট্রাক সেল” কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“বসুন্ধরার পণ্য, ভোক্তার জন্য” এই স্লোগান দিয়ে রমজানে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পৌঁছে দিতে বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজের “ট্রাক সেল” কার্যক্রম শুরু

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরে এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনের সড়কে ট্রাকে করে ‘ট্রাক সেল’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব সাফিয়াত সোবহান।

তিনি বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যানে কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গেলো বছর থেকে শুরু করা আমাদের এই কার্যক্রম আরও ব্যাপকতার সাথে এই পবিত্র রমজান মাসেও আমরা পরিচালনা করার সিন্ধান্ত নিয়েছি। সামনের বছর আমরা সারা দেশ জুড়ে ৬৪-টি জেলায় সাশ্রয়ী মূল্যে “ট্রাক সেল” কার্যক্রম আমরা চালু করতে পারবো বলে আশা রাখি।

উদ্বোধন শেষে জনাব সাফিয়াত সোবহান নিজেই কিছু পণ্য ক্রয় করেন এবং উপস্থিত ক্রেতাগণের মাঝেও বিতরণ করেন। উদ্বোধন শেষে জনাব রেদোয়ানুর রহমান (হেড অফ সেলস, বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস এবং বসুন্ধরা এলপিজি ) বলেন, “প্রতি বছর রমজানের আগে থেকেই বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করে, এতে করে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পেতে বেশ কষ্ট হয়। বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস গত বছর থেকেই সীমিত আকারে ‘ট্রাক সেল’ কার্যক্রম শুরু করে। ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এই বছর কিছুটা ব্যাপক আকারে বসুন্ধরা এলাকা, কারওয়ান বাজার, সচিবালয় ভবনের সামনে এবং মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট সহ দেশের মোট ২০টি স্থানে* আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে “বসুন্ধরার পণ্য, ভোক্তার জন্য” স্লোগানে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সামনের বছর আমরা সারা দেশেই এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো। ”

এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জনাব ক্যাপ্ট শেখ এহসান রেজা, চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ, জনাব এম. এম. জসীম উদ্দিন, সিওও, ব্র্যান্ড এন্ড মার্কেটিং, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ, জনাব আব্দুস শুক্কুর, সিওও, সাপ্লাই চেইন ডিভিশনস, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ, জনাব বেলাল হোসেন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার, বসুন্ধরা ফুড ডিভিশনস, বসুন্ধরা গ্রুপ, জনাব জাকারিয়া জালাল, হেড অফ স্ট্র্যাটেজি, প্ল্যানিং এবং পাবলিক রিলেশন্স, সেক্টর – এ, বসুন্ধরা গ্রুপ এবং জনাব আবদুর রহমান, হেড অফ সাপ্লাই চেইন, সেক্টর -এ বসুন্ধরা গ্রুপ।

টিসিবি ভবনের সামনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। বেলা ৩ টায় তিনি কারওয়ান বাজারে আরোও একটি ট্রাক সেল কার্যক্রম পণ্য উদ্বোধন করেন। এ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর তিনি বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বসুন্ধরার এই উদ্যোগের ফলে আশা করছি আমাদের পণ্য সরবরাহব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বসুন্ধরার এ কার্যক্রমের ফলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’এ সময় টিসিবি ভবনের সামনে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কর্মকতারা।

সচিবালয় ভবনের সামনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. দাউদুল ইসলাম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অনুবিভাগ এর সিনিয়র সহকারী সচিব (অবা-৫ শাখা), মোছাঃ ফুয়ারা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এজিএম কাজী মনিরুজ্জামান মনি প্রমুখ।

পবিত্র মাহে রমজানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বসুন্ধরার তেল, ময়দা, সেমাই, হলুদ, মরিচসহ মোট ২১টি ভোগ্য পণ্যের এই ট্রাক সেল কার্যক্রম চলবে।

একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ একটি ক্যাটাগরি থেকে একটি পণ্যই কিনতে পারবেন। যদি একটু তেল কিনতে চায়, তাহলে উনি তেলের যেকোনো একটি বোতল (১ অথবা ২ অথবা ৫ লিটার ) ক্রয় করতে পারবেন। আটা, মশলা, চা, চিনিগুঁড়া চাল সহ সকল পণ্যেই এই নিয়মে ক্রয় করতে হবে। এতে করে অসাধু কেউ যেনো অতিরিক্ত পণ্য কিনে অন্যদের বঞ্চিত করতে না পারেন, তার জন্য এই নিয়মে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে।

* ২০ টি স্থান :

ঢাকা – নিউ মার্কেট, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বসুন্ধরা আবাসিক, উত্তরা, নারায়ণগঞ্জ সদর, গাজীপুর চৌরাস্তা, ময়মনসিং বিদ্যাময়ী স্কুল গেট, টাঙ্গাইল এর নিরালা মোড়, নরসিংদী ভেলানগর, কুমিল্লা টমছম ব্রিজ, চাকতাই এ এম বি কলোনী মোড়, সিলেট বন্দর, বগুড়া সাত মাথা, রাজশাহী আলুপট্টি মোড়, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী, খুলনা ডাকবাংলো মোড়, ফরিদপুর চকবাজার, বরিশাল চৌমাথা।

‘২০ লাখ মানুষ উচ্ছেদ করে কোন উন্নয়ন চাই না’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কামরাঙ্গীরচর আমাদের জন্মভূমি, ২০ লাখ মানুষের বসতভিটা। উন্নয়নের নামে আমাদের জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। গত রবিবার কামরাঙ্গীরচর হাসপাতাল মাঠে রাজধানীর প্রান্তিক অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল (সিবিডি) প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশের বক্তারা এসব কথা বলেন।

কামরাঙ্গীরচর জন্মভূমি রক্ষা কমিটি আয়োজিত এ সমাবশে অংশ নেয় এলাকাটির তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দা। সমাবেশ শেষে সিবিডি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন কামরাঙ্গীরচরের জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কামরাঙ্গীরচর জন্মভূমি রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ও কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি
সিবিডি প্রকল্প বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি দেন। এছাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সিডিবি প্রকল্প বাস্তাবয়িত হলে কামরাঙ্গীরচরের হাজার বছরের ঐতিহ্য ধ্বংস হবে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, সিবিডি প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কামরাঙ্গীরচরের মানুষ বিতাড়িত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মেয়র তাপসের কাছে আমাদের আবেদন, কামরাঙ্গীরচরবাসীকে উচ্ছেদ না করে যেসব জায়গা খালি রয়েছে, সেখানে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।

তিনি আরো বলেন, আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি। এখানে আমার এলাকার ভোটাররা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে যারা এখানে বসবাস করে আসছে, স্বপ্ন দেখছে সুন্দর জীবনের তাদেরও সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে। তাই আমরা বার বার এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে বলছি। আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি এলাকার মানুষের জীবন ধ্বংস করে উন্নয়ন আমরা চাইনা। উন্নয়ন করতে হলে সবাইকে নিয়ে করতে হবে। কাউকে বিতাড়িত করে নয়।

কামরাঙ্গীরচর থানার রোড এলাকার বাসিন্দা জুম্মন মিয়া বলেন, ‘উন্নয়নের নামে বিলাসিতা আমরা চাই না। কামরাঙ্গীরচরের যেখানে খালি জায়গা রয়েছে, সেখানে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। সিবিডি প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘যে উন্নয়নে আমরা ভিটেমাটি ছাড়া হব, সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। বর্তমানে কামরাঙ্গীরচরবাসীর মাঝে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

কামরাঙ্গীরচর থানা শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও কেমব্রিজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা সুলতানা মাহমুদা বলেন, ‘আমাদের জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প আমরা চাই না। আমাদের বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে। প্রকল্প নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের লুকোচুরি ভূমিকা মানুষকে আরো আতঙ্কিত এবং বিক্ষুব্ধ করেছে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কামরাঙ্গীরচর নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব এস এম মাওলা রেজা, জন্মভুমি রক্ষা কমিটির সদস্য হাজী মো. ফারুখ হোসেন, মামুন আহমেদ, নাজমুল হাসান মিলন, আরিফ মাদবর, আমির হোসেন লবণ, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ এবং আন্দোলনের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, ‘কারাঙ্গিরচরে স্থানীয়দের আন্দোলনের কথা আমরা জানতে পেরেছি। যারা আন্দোলন করছেন তারা সঠিক তথ্য জানেন না। অথবা তাদের ভুল তথ্য দিয়ে আন্দোলনের জন্য উসকে দেয়া হচ্ছে। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্য বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য জানিয়ে দেব।’