All posts by jitu

শ্রেণীকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত, জরুরি ভিত্তিতে ভবন প্রয়োজন

তিতাস প্রতিনিধি:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ৩১নং কাশীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংকটে ১১১ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবনের প্রয়োজন বলে মনে করছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি ভবন রয়েছে, তার মধ্যে পুরাতন ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় গত বছরের নভেম্বর মাসে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন উপজেলা স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর। আর নতুন ভবনটিতে রয়েছে দুটি কক্ষ, একটি শিক্ষকদের অন্যটি শিক্ষার্থীদের। একটিতে কাপড়ের বেড়া দিয়ে এক পাশে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছেন একজন শিক্ষিকা অপর পাশে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছেন একজন শিক্ষক। অন্য পাশে শিক্ষকদের কক্ষটি আসবাবপত্র দিয়ে বেড়া দিয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসাঃ শিমা আক্তার বলেন আমাদের শ্রেণী কক্ষ না থাকায় একই কক্ষে কাপড় দিয়ে বেড়া দিয়ে আমাদের ক্লাশ নিচ্ছে, এতে আমাদের সমস্যা হয়। আমাদের নতুন ভবন দরকার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ মনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের পুরাতন ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় গত বছরের নভেম্বর মাসে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা একই কক্ষে কাপড় দিয়ে বেড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।তবে আশা করি দ্রুত আমাদের নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জানতে পেরেছি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাকি এবিষয়ে কাজ করছেন, আশা করি খুব দ্রুত নতুন ভবনের টেন্ডার হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা পারভীন ভানু বলেন, বিদ্যালয়টিতে গিয়ে ভবন সংকটের বিষয়টি দেখেছি। পুরাতন ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে পাঠদান দেওয়া বন্ধ রয়েছে এবং নতুন ভবনের অনুমতি হয়েছে টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

চৌদ্দগ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাবেক কাউন্সিলর বাদশা গ্রেফতার

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদ উদ্দিন বাদশা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আদালতের একটি মামলায় (মামলা নং-৩৮/২৪) তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। সে পৌরসভাধিন পশ্চিম চাঁন্দিকরার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক মো: আব্দুল মতিন।

জানা গেছে, নিয়মিত ওয়ারেন্ট তামিলের অংশ হিসেবে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মো: আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ বুধবার রাতে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার পশ্চিম চাঁন্দিশকরা গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদ উদ্দিন বাদশাকে তার নিজবাড়ী থেকে আটক করা হয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘ওয়ারেন্ট তামিলের অংশ হিসেবে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত ফরিদ উদ্দিন বাদশা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে।’

নোয়াখালীতে অভাব অনটনে পড়ে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অভাব অনটনে পড়ে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছে।

নিহত হরিহর মজুমদার (৬২) উপজেলার চর বজুললল করিম গ্রামের যতীন্দ্র মহাজন বাড়ির মৃত যতীন্দ্র কুমার মজুমদারের ছেলে।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার যতীন্দ্র মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,কয়েকটি এনজির থেকে তিনি ঋণ নিয়ে ছিলেন। অভাব অনটনের কারণে পরিবারের সদস্যচের অগোচরে বাড়ির পূর্ব পাশে গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। অভাব অনটনের কারণে ওই বৃদ্ধ আত্মহত্যা করে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়া হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রবি আলম নামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫জনে।

মৃত রুশমিদা (৩) ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুর শুক্করের মেয়ে এবং ৮১নং ক্লাস্টারের ৬নং কক্ষের বাসিন্দা ছিল। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে।

বুধবার দিবাগত রাতের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গতকাল বুধবার সকালের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. সোহেল (৫) নামের এক শিশু মারা যায়। তার শরীরের প্রায় ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ দুইজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল চিকিৎসাধীন। তারা হলেন, জোবায়দা (২২) আমেনা খাতুন (২৪)।

জানা যায়, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ নয়জনের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আমেনা খাতুন ছাড়া বাকি সবারই শ্বাসনালী দগ্ধ হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হন। আহতদের প্রথমে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠালে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিলেন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে রোহিঙ্গা নাগরিক ছৈয়দ নুর বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ভাসানচর থানা মামলা নং-২।

মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে সফি আলম (২৪) নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে। সে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. তৈয়বের ছেলে এবং ৮১নং ক্লাস্টারের বাসিন্দা ছিল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভাসানচর আশ্রয়ন প্রকল্প-৩ এর ৮১নং ক্লাস্টারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সফি আলম (২৪)। গত (২৪ ফেব্রুয়ারি) তার পরিবারে এনজিও থেকে এলপিজি গ্যাস পাওয়ার কথা ছিল। এজন্য ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টার সফি আলম তার পরিবারে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে কিছু গ্যাস অবশিষ্ট থেকে যাওয়ায়, নতুন গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় রুমের বাহিরে বারান্দায় তাদের ব্যবহৃত সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ছেড়ে দেয়। একই সময়ে ক্লাস্টার নং-৮১, পাশের রুম নং-ই/ ৭ এর আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী আমিনা খাতুন এবং অপর পাশে রুম নং-ই/০৫ এর আব্দুল হাকিমের মেয়ে শমসিদা গ্যাসের চুলায় রান্না করতেছিল।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সফি আলম ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ছেড়ে দেওয়ায় গ্যাস বায়ুর সাথে মিশে ক্লাস্টারের বিভিন্ন রুমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রান্নার আগুনের সাথে মিশে রুম নং-৩,৫,৬,৭,৮ সহ বারান্দায় ও রুমে আগুন লেগে যায়। ফলে রোহিঙ্গা শিশু রবি আলম (৫) সোহেল (৫) রাসলে (৪) মুবাসিরা (৩) রশমিদা(৩) ও আমনো আক্তার (২৬) জুবায়দা (২৩) বশির উল্লাহ (১৭) সফি আলম (২৪) সহ আরো কয়কেজন অগ্নিদগ্ধ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সহ স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সফি আলম সাবধানতা অবলম্বন না করিয়া অবহেলাজনিত তাচ্ছিল্যপূর্ণ কারণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা হারে বাড়বে। বিদ্যুতের নতুন দাম ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এখন বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ পড়ছে ১২ টাকার মতো, আর ৭ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি বছর বিদ্যুতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ধীরে ধীরে কয়েকবছর ধরে সমন্বয় করা হবে। কম ব্যবহারকারি গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম কম বাড়বে আর উপরের দিকে বেশি বাড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায়। তেল-গ্যাস ও কয়লার আন্তর্জাতিক বাজারদর ক্ষেত্র বিশেষে একই থাকলেও আগের চেয়ে ডলার প্রতি ৪০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এখানেই বিশাল গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য কাজ করছি।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আধুনিক প্রাইসিংয়ে যাচ্ছি। ইনডেক্স ও ফর্মুলা করা হয়েছে প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় হবে, প্রতিবেশি দেশ প্রতিদিন সমন্বয় করে। সেথানে অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সরকার অন্যভাবে সহায়তা করে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, গড়ে ২৪ টাকার উপরে দাম পড়ছে। সার ১৬ টাকা, বিদ্যুতে ১৪ টাকা দরে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে দাম সমন্বয় করা হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে না, সমন্বয় করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করায় লোকসান হচ্ছে, সে কারণে কিছুটা সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরাতো খরচ উঠাতে চাচ্ছি, খুবই সামান্য পরিমাণে দাম বাড়বে। লাইফ লাইন গ্রাহকের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারি) মাসের বিল ২০ টাকার মতো বাড়তে পারে। এখন গ্রাহকরা যদি একটু সাশ্রয়ী হন, তাহলে বিল আগের অবস্থায় থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকদের মিতব্যয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা।

পুলিশকে যখনই যেটার দরকার সেই ভূমিকা পালন করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে কেউ যেন পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে না পারে সে ব্যাপারে অবিচল থাকতে হবে। কেউ যেন রাজনীতির নামে, সন্ত্রাসের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে। জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে। পুলিশকে যখনই যেটার দরকার সেই ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আমাদের শান্তি শৃঙ্খলা, জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছি। প্রতিবার ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ২০০৯ সালের সরকার গঠনের পর থেকে আমরা সরকারে আছি, একটা স্থিতিশীল পরিবেশ, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজকের বাংলাদেশ, বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

তিনি আরো বলেন, আমরা এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে সক্ষম হয়েছি। ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা চলছে, বাংলাদেশ তার তীব্র প্রতিবাদ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতা যত বাড়ছে আবার অপরাধও কিন্তু ভিন্ন ভিন্নভাবে হচ্ছে। নতুন নতুন মাত্রায় অপরাধ দেখা দিচ্ছে। সেগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনী যেন প্রস্তুত থাকে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট যত্নবান এবং নজর দিচ্ছি। কারণ, অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে মোকাবিলা করার পদ্ধতিটা যদি না চলে তাহলে কিন্তু যথাযথভাবে সেটা (মোকাবিলা) করা যায় না।

তিনি বলেন, যেকোনো কর্মস্থলে নারী, পুরুষ, শিশু যারাই থাকুক তাদের আপনজন বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সেবা করবেন এটাই সবাই চায়।

পুলিশ জনগণের বন্ধু মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী এখন মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। আজকাল মানুষ আর আগের মতো ভয় না, এখন তারা আস্থা ফিরে পেয়েছে, পুলিশকে নিজের বন্ধু এবং আস্থার জায়গা হিসেবে সাধারণ মানুষ বিবেচনা করে। মানুষের এই বিশ্বাস এবং আস্থাটা অর্জন করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই যে আগুন দেওয়া, পুলিশকে মারা, পুলিশকে আগুনের মধ্যে ফেলে দেওয়া, এই যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এ মামলাগুলো কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা, মামলাগুলো যথাযথভাবে চলে না। আমি মনে করি, যারা এ ধরনের অপরাধ করে তাদের মামলা এবং সাজাটা যদি দ্রুত হয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে আর সাহস পাবে না।

দেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে আজকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে কেউ আর ওই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে না। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নিজের একটা স্থান করে নিতে পেরেছে। এখন সবাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে।

তিনি বলেন, এটাকে ধরে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সেজন্য আমাদের যেকোনো কাজ বা প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে যেকোনো অপরাধ মোকাবিলা এবং সাজা নিশ্চিতে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা সবার কর্তব্য। কাজেই সেভাবে আপনারা সবাই কাজ করে যাবেন।

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ফিলিস্তিনের ওপর যে হামলা এবং গণহত্যা চলছে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমি প্রতিটি জায়গায় এর প্রতিবাদ করেছি। এভাবে ফিলিস্তিনি শিশু নারীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার এবং গণহত্যা, শুধু তাই না তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, হাসপাতাল সবকিছুর ওপর আক্রমণ করে। এমনকি যেখানে ত্রাণ বিতরণ করা হয় সেখানেও আক্রমণ করা হচ্ছে। এর থেকে জঘন্য ও মানবতাবিরোধী কাজ আর হতে পারে না। এর প্রভাবটা সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়ছে। আমাদের ওপরেও সেই ধাক্কাটা আসছে। যদিও আমাদের চেষ্টা হচ্ছে কীভাবে আমরা এটা মোকাবিলা করব।

সেনেগালে নৌকাডুবির ঘটনায় ২০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

সেনেগালে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ২০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি ইউরোপগামী নৌকা ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয় সময় বুধবার দেশটির উত্তরাঞ্চলে সাগর থেকে ২০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এক আঞ্চলিক গভর্নর বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নৌকাডুবির ঘটনায় বেশ কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সেইন্ট লুইসের আঞ্চলিক গভর্নর আলিউন বাদারা সাম্ব বলেন, ২০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কিছু মরদেহ সাগরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় উদ্ধারকারী এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

ডুবে যাওয়া ওই নৌকায় কতজন আরোহী ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি বাদারা সাম্ব। তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া লোকজন জানিয়েছেন, এই সংখ্যা কয়েকশ হতে পারে। আলফা বালদে নামে জীবিত উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি জানান, ওই নৌকাটিতে প্রায় ২০০ আরোহী ছিল।

আফ্রিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে স্প্যানিশ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার জন্য সেনেগালের উপকূলগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে এই রুটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ বাড়ছে।

ইইউ সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মতে, আটলান্টিক দ্বীপপুঞ্জে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেনেগাল এবং মরক্কোর নাগরিক। স্প্যানিশ সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ক্যানারিতে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার, যা তিনগুণ বেড়েছে।

রমজান মাসে মুসল্লিদের আল-আকসায় নামাজ পড়তে দেওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ডেস্ক রিপোর্ট:

সামনে আসছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলিমদের পবিত্র এই মাসে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে দিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি উঠানো হলে দেশটির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানান মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।

এর আগে ইসরাইলের ডানপন্থি একজন মন্ত্রী অধিকৃত পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।

ম্যাথু মিলার সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু এটা আল-আকসার সঙ্গে সম্পর্কিত, অতীতের মতো এবারও রমজান মাসে মুসল্লিদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশাধিকার দিতে আমরা ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ম্যাথু মিলার আরও বলেন, এটা শুধু মানুষকে তাদের প্রাপ্য অধিকার অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটা এমন একটি বিষয়, যা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

গত সপ্তাহে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যাভির বলেছেন, রমজান মাসে পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের নামাজ আদায় করার জন্য জেরুজালেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত হবে না।

বিপিএলের কল্যাণেই অনেক ক্রিকেটারের সংসার চলে : মুশফিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কয়েকদিন আগেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বিপিএল নিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। জাতীয় দলের কোচ বিপিএলের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একে রীতিমত সার্কাসের সঙ্গেই তুলনা করেছিলেন। এও বলেছিলেন, বিপিএল দেখতে দেখতে মাঝেমাঝেই টিভি বন্ধ করে দেন তিনি। তবে কোচ হাথুরুর কথায় সুর মেলালেন না মুশফিকুর রহিম।

জাতীয় দলের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার জানালেন বিপিএল এবার উন্নতির কথা। রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জয়ের পর মুশফিকের মুখ থেকে শোনা গেল ইতিবাচক বার্তা। সরল ভাষাতেই জানালেন, বিপিএলের মত ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগের কল্যাণেই অনেক ক্রিকেটারের সংসার চলে।

মুশফিক বলেন, ‘প্রথমত বিপিএল না হলে আমাদের সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। এটা ভাই মোদ্দা কথা। বিপিএলে যে পারিশ্রমিক পায় জাতীয় দলে কেউ যদি টপ পেইড স্যালারি হয় ২-৩ বছর খেলে তাহলে হয়তো ইনকাম করতে পারবেন। এটার মান যদি খারাপ হয় এটা কোন দিক দিয়ে করেন। কেউ চাইবে না এখানে এসে খারাপ খেলে পরের বছর আনসোল্ড থেকে টিভিতে বসে খেলা দেখবে।’

বিপিএল মানেই বিতর্কের ভাণ্ডার। পিচ, ব্রডকাস্টিং এবং আয়োজন নিয়ে বিতর্ক লেগেই আছে। তবে এসবের মধ্যেও মুশফিক বরাবরই ইতিবাচক, ‘কোয়ালিটি অনেক উঁচুতে। হ্যাঁ এটা বলতে পারেন যে ১-২টা পিচ একটু এদিক-সেদিক হতে পারে। এই বছর অনেক ভালো ছিল পিচ। খেলার কোয়ালিটি অনেক ভালো হয়েছে আগের তুলনায়। যারা বলেছে তারা কোন মর্মে বলেছেন তাদের জিজ্ঞেস করেন। বিপিএলের কোয়ালিটি বলেন সবকিছু উন্নত হয়েছে।’

তরুণদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিজ্ঞরাই এবারের বিপিএলে আলো ছড়িয়েছেন এমন কথাও শোনা গিয়েছে হরহামেশা। তবে মুশফিক করলেন দ্বিমত, ‘না, না। আপনার সাথে আমি একমত না। তারা অবশ্যই অনেক সামর্থ্যবান। তারা যদি সুযোগ পায়… যেমন হৃদয় সে কিন্তু জাতীয় দলে তিনে খেলে না। ৪,৫,৬ এও খেলে। কুমিল্লাতে তিনে খেলছে। সে তার প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। জুনিয়র তামিম ওপেন করছে।’

‘আমার মনে হয় সুযোগ দিলে তারাও সামর্থ্যবান এবারের বিপিএলেও অনেক দেশি আছে যারা ভালো ভালো ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেছে। হ্যাঁ টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতা একটু কঠিন। যে অবদান রাখছে তা যেন দলের জয়ে হয়।’ যোগ করেন মুশফিক।