All posts by jitu

পদত্যাগ করলেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাতায়েহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অবরুদ্ধ গাজা ‍উপত্যকায় ইসরায়েলের চালানো হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাতায়েহ। আজ সোমবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে নিজের ও তার সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

গত বছরের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন এক হাজার ৪০০ জন। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত অর্ধলক্ষাধিক। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী শাতায়েহ বলেন, পশ্চিম তীর, জেরুজালেমে সহিংসতা ও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ, গণহত্যা ও অনাহারের প্রেক্ষিতে তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার পরবর্তী পর্যায় এবং এর চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য নতুন সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজন সামনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এটি সমাধানে সরকারি ও রাজনৈতিক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণ: আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে-২

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২জন।

নিহত মোবাশ্বেরা (৩) ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সফি আলমের মেয়ে। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়েছিল।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকিরা হলেন, জোবায়দা (২২), রশমিদা (৫), রবি আলম (৫), আমেনা খাতুন (২৪) ও সোহেল (৫)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে রাসেল (৪) নামে এক শিশুকে গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সকাল ৯টার দিকে মোবাশ্বেরা নামে আরো এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাকি ৫ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে রোসমিনার ৫০ শতাংশ, রবি আলমের ৪৫ শতাংশ, আমেনা খাতুনের ৮ শতাংশ সোহেলের ৫২ শতাংশ ও জোবায়দার ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। আহতদের মধ্যে আমেনা খাতুন ছাড়া বাকি সবারই শ্বাসনালী দগ্ধ হয়েছে। তাই তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়। আহতদের প্রথমে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।

৭ মাসে হাফেজ হলেন ১১ বছর বয়সী আল মাহির

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার ১১ বছর বয়সী ছাত্র আল মাহির শাহরিয়ার মাত্র ৭ মাসে কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। অপরদিকে, একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ মাসে কোরআনে হাফেজ হয়েছেন ১৩ বছর বয়সী তারই বড় ভাই আল ফাহিম শাহরিয়ার। দুই ভাই অল্প সময়ে কোরআন মুখস্থ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছেলেদের জন্য দোয়া চেয়েছেন মা সালমা সুলতানা লিলি।

সমাজের বিশিষ্টজনরা মনে করে মানুষ এ থেকে আরো বেশি দ্বীনি শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হবে।

জানা যায়, বাবা ও নানার ইচ্ছায় প্রথমে বড় ছেলে আল ফাহিম শাহরিয়ারকে বাড়ির পাশে জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। বড় ছেলে ১১ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্ত করে কোরআনে হাফেজ হন। এতে পরিবারে দেখা দেয় পরিবর্তন। এরপর ছোট ছেলে আল মাহির শাহরিয়ারকেও ভর্তি করা হয় একই মাদরাসার হিফজ বিভাগে। সে ওই মাদরাসা থেকে মাত্র সাত মাস একদিনে কোরআন মুখস্ত করে ফেলেন।

ছেলেদের এমন সাফল্যে খুশি মা-বাবা সহ এলাকাবাসী। মায়ের আশা ছোট ছেলে আল ফারিক শাহরিয়ার আরও কম সময়ে কোরআনে হাফেজ হবেন। তারা দুই ভাই বসুরহাট পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার হাজী তাজুল ইসলামের বাড়ির প্রবাসী মাইন উদ্দিনের ছেলে।

হাফেজ আল ফাহিম শাহরিয়ার ও তার ছোট ভাই আল মাহির শাহরিয়ার বলেন, মা-বাবা ও নানার আন্তরিক উৎসাহে আমরা কোরআনে হাফেজ হয়েছি। আমরা আমাদের শিক্ষক এলাকাবাসীসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

শিক্ষার্থীদের মা সালমা সুলতানা লিলি বলেন, আমার বাবা তার নাতিদেরকে হাফেজ বানানোর জন্য আমাকে উৎসাহ দেয়। আমার তিন ছেলে যেন হাফেজ হয়। নাতিরা যেন তার নানা মারা গেলে নানার জানাজা পড়াতে পারে। প্রথমে কিন্ত আমি ছেলেদের মাদরাসায় দিতে চাইনি। ওদের বাবা আমার সাথে অনেক জোরাজুরি করে বলে একটা ছেলেকে হাফেজ বানিয়ে দেখ। যখন আমার বড় ছেলে হাফেজ হয়। তখন আমার মধ্যে কথাবর্তা,আদব কায়দা, নামাজ কালামে পরিবর্তন চলে আসে। তখন আমার দ্বিতীয় ছেলেকে হিফজ বিভাগে ভর্তি করিয়েছি।

জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মান্নান বলেন, দুই ভাই অনেক মেহনত করে কোরআন মুখস্ত করে। মাঝখানে ছোট ভাইয়ের একটু সমস্যা করেছিল। পরে তা আবার ঠিক হয়ে যায়। ১৯৯৪ সালে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এই মাদরাসা থেকে এখন পর্যন্ত ৫০জন কোরআনে হাফেজ হয়। আমার হাতে এ মাদরাসা থেকে ২৫জন ছাত্র হাফেজ হয়।

মুহতামিম জামিয়া ইয়াকুবিয়া বসুরহাট মাদরাসার মুফতি মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা পর থেকে ৫০জন ছাত্র হাফেজ হয়। দুই ভাই অনেক মেহনত করে কোরআনে হাফেজ হয়েছে। আমি তাদের ওস্তাদকেও ধন্যবাদ জানাই তারা ছাত্রদের পিছনে খুব মেহনত করেছে। শুধু মাদরাসার শিক্ষকরাই নয় এলাকাবাসীও শুভ কামনা জানিয়েছেন হাফেজ দুই ভাইয়ের জন্য। তাদের প্রত্যাশা ইসলাম প্রসারে ভূমিকা রাখবে এ হাফেজরা।

নোয়াখালীর মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামি ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মো.সাদ্দাম ওরফে রুবেলকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মো.সাদ্দাম হোসেন ওরফে রুবেল উপজেলার ধন্যপুর গ্রামের আনা মিয়া সর্দার বাড়ির শাহ আলমের ছেলে।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগরীর উত্তর খান থানার হজ্জক্যাম্প এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়

পুলিশ জানায়, সোনাইমুড়ী থানার একদল পুলিশ র‍্যাব-৩ এর একটি বিশেষ টিমের সার্বিক সহযোগীতায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গতকাল রোববার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরীর উত্তর খান থানার হজ্জক্যাম্প এলাকায়। অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল লক্ষীপুর কর্তৃক ঘোষিত রায়ে মৃত্যুদন্ড সাজা প্রাপ্ত আসামি মো.সাদ্দাম হোসেন ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নির্বাচনে না আসার খেসারত বিএনপিকে অনেক দিন দিতে হবে : ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আন্দোলনে ব্যর্থতা ও নির্বাচনে না আসার খেসারত বিএনপিকে অনেক দিন দিতে হবে বলে হুশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

নোয়াখালীর নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে ফেনীর দাগনভূঞায় সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার কাছে অবাক লাগে মির্জা ফখরুল জেল থেকে বের হয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দল আসার দিনে লাঠিতে ভর দিয়ে নালিশ করতে গেছেন। অথচ তিনি অসুস্থতার জন্য জামিন পেয়েছেন। নালিশ করাই তাদের রাজনীতি। আমরা বাড়াবাড়ির রাজনীতি করি না। রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলা করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দেশের ন্যায় এ অঞ্চলে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে তা ইতোপূর্বে মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি। এ উন্নয়নকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। এ সরকারের সময়ে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, বিশেষ করে সড়কপথে যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে ফেনীর নাম অনেক সামনে আসবে। ফেনীতে সিক্স লেন ফ্লাইওভার হয়েছে। ৬ লেনের ফ্লাইওভার ঢাকার বাইরে আর কোথাও নেই।

তিনি বলেন, আমি একটি সত্য কথা বলি। গতকালকে শবে বরাত গেছে। আমি ৭৫ পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার মতো ভালো মানুষ দেখিনি। এতো ভালো মানুষ রাজনীতিতে আছেন। এজন্যই এ সরকার এতদিন ক্ষমতায় টিকে আছেন। তিনি মানুষকে ভালো রাখেন, মানুষও তাকে ভালবাসেন।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এবার আমরা উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দিচ্ছি না। নৌকা প্রতীকও দেওয়া হবে না। সবকিছু ওপেন থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু ওপেন থাকার সেই অভিজ্ঞতা নিতে চান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাকে আওয়ামী লীগের তিনবারের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। যা স্বাধীনতার পর আর কেউ পারেনি। ১৮ বছর একজন মানুষ মন্ত্রী হিসেবে থাকার ঘটনাও বিরল। এ নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে কিনা আমি জানি না। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমার ওপর আস্থা ও কাজে সন্তুষ্ট হওয়ায় সেই বিরল সৌভাগ্য আমি অর্জন করেছি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবার নোয়াখালীর নিজ নির্বাচনি এলাকায় এসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নিজ বাড়িতে আয়োজিত মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।

বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত সাবেক বিধায়কসহ ২ ভারতীয় রাজনীতিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বন্দুকধারীদের চোরাগোপ্তা হামলায় ভারতীয় জাতীয় লোকদলের (আইএনএলডি) হরিয়ানা ইউনিটের সভাপতি ও সাবেক বিধায়ক নাফে সিং রাঠি এবং দলটির আরেক নেতা নিহত হয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় রাজ্যের ঝাজ্জার জেলায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তাদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার সময় আইএনএলডি নেতা নিজ গাড়িতে করে তার বাহাদুরগড়ের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বারাহির রেলক্রসিংয়ে এসে গাড়িটি থামতে বাধ্য হয়। ট্রেন আসায় ক্রসিংটি তখন বন্ধ ছিল।

এ সময় কাছেই আরেকটি গাড়ি এসে থামে। এই গাড়ি থেকে পাঁচ ব্যক্তি নেমে এসে রাঠিকে বহনকারী এসইউভিটি লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। ঘটনাস্থলের রাঠি (৬৬) ও তার এক সহযোগী নিহত হন, গাড়িতে থাকা অপর দুইজন মারাত্মক আহত হন।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পুলিশ একটি আই২০ গাড়ির খোঁজ করছে। হত্যাকারীরা এ গাড়িটি ব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ওই এলাকার সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, রাঠিকে বহনকারী গাড়িটি রেলওয়ে ক্রসিংয়ের দিকে এগোনোর সময় আই২০ গাড়িটি পিছু পিছু আসছিল। ওই একই ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিনিট পর আই২০ গাড়িটি ফিরে যাচ্ছে।

নিজের গাড়ির সামনের আসনে বসেছিলেন রাঠি। তার ভাতিজা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়ির পেছনের আসনে ছিলেন আইএনএলডির আরেক নেতা জয়কৃষাণ দালাল, তার পাশে ছিলেন রাঠির নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত গানম্যান।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকারীরা প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে, এর অধিকাংশই রাঠিকে লক্ষ্য করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারীরা নিজেদের কাজ সম্পন্ন করতে রেলক্রসিংয়ের সময়টিকে ব্যবহার করেছে। পেশাদার অপরাধীরা হামলাটি চালিয়েছে বলে ধারণা তাদের।

আহতদের অবিলম্বে নিকটবর্তী ব্রহ্ম শক্তি সঞ্জীবনী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা রাঠি ও জয়কৃষাণকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঠি বাহাদুরগড় আসন থেকে দুইবার হরিয়ান বিধানসভার নির্বাচিত বিধায়ক ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী তিহার কারাগারে বন্দি লরেন্স বিষ্ণোই ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কালা জাথেদি আছে বলে সন্দেহ পুলিশের।

এই হত্যাকাণ্ডের পর বিজেপি শাসিত হরিয়ানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। কয়েক মাস আগেই রাঠি তার নিরাপত্তার নিশ্চিতের জন্য সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু তারপরও বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ আইএনএলডির। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তারের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি।

প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় দিন দিন বেপরোয়া হচ্ছেন কুবি কর্মকর্তা জাকির

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নথি জালিয়াতি, একাধিক শিক্ষককে মারতে তেড়ে যাওয়া, সহকর্মী ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, হেনস্তা ও গালমন্দ, জামাত-শিবির ট্যাগ লাগিয়ে হয়রানি, বিভিন্ন নিয়োগ ও টেন্ডার বানিজ্যের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে ডেপুটি রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ উপাচার্যের কক্ষে শিক্ষকদের থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে উপাচার্যপন্থী এই কর্মকর্তা। এতসব অভিযোগ থাকার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জাকিরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বেপরোয়া ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা মনে করেন, এই কর্মকর্তার বেপরোয়া আচরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিনদিন অশান্ত হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ঐদিন উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য অবশ্যই একটা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন নেয়নি সেটা জানি না। আমি উপাচার্য মহোদয়কে পরামর্শ দিয়েছিলাম আপনি একটা তদন্ত কমিটি গঠন করুন। কিন্তু প্রশাসন কোন তদন্ত কমিটি করে নাই। উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার সাহস জাকির কোথা থেকে পায়! সেটা প্রশাসনের ইন্ধনেই হয়েছে। শিক্ষক সমিতি যে পদক্ষেপ নিবে সেটার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্বেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করতে ঔদ্ধত্য হয়ে এগিয়ে যান এই কর্মকর্তা। ২০১৪ সালে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রহমানকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন জাকির। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে বিষয়টি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ তম সিন্ডিকেটে উঠে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে বেপরোয়া আচরণ করলে চাকরিচ্যুতিসহ জাকিরের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিতে পারবে বলে জানা যায়। ২০২২ সালে জাকিরের দ্বারা ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষক অপমানিত ও হেনস্তা হয়। একই বছরের জানুয়ারি মাসে জাকিরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কক্ষে তালা দিয়ে তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে অধ্যাপক তাহের দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ করছেন বলে ঐ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের কক্ষে শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে ফেলে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, তিনি পূর্বেও একাধিক শিক্ষককে হেনস্তা করেছেন। সিন্ডিকেটে তার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তও রয়েছে। তিনি যদি ভবিষ্যতে অশালীন আচরণ করেন তাহলে চাকরিচ্যুতিসহ যেকোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিতে পারবে। আমরা শিক্ষকদের গণস্বাক্ষর গ্রহণ করে উপাচার্যের নিকট সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লিখিত দিয়েছি। আমরা চাই, উপাচার্যের কক্ষে শিক্ষকদের সাথে যে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আইনুল হক বলেন, পূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা জাকির হোসেন এক শিক্ষকের সাথে অশোভন আচরণের জন্য একটি শোকজ লেটার পেয়েছিলেন। উপাচার্যের কক্ষে তিনি শিক্ষকদের সাথে যে আচরণ করেছেন তা কোনো শুধু শিক্ষকের সাথেই নয়, এমন আচরণ কোনো শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কারো সাথে হওয়া উচিত না। আমরা চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

জানা যায়, জাকির ২০১৩ সালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করা প্রার্থী ছিলেন। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় ক্ষমতা দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে একে একে সবার সাথেই অসদাচরণ শুরু করেন। জাকির নিজেকে কখনো সাবেক অর্থমন্ত্রীর অনুসারী, কখনো সাবেক রেলমন্ত্রীর অনুসারী, আবার কখনো কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী বাহারের অনুসারী বলে পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাবে বিস্তার করেন। এভাবে প্রভাব বিস্তার করে সাবেক উপাচার্য আলী আশরাফের সময়ে জাকির তার দুবাই ফেরত ভাই বিল্লালকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। গুঞ্জন রয়েছে জাকির তার বড় বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদানের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।

কর্মকর্তা জাকির বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হয়েও বিলাসবহুল জীবন-যাপন করেন। হয়েছেন তিনি কুমিল্লা ক্লাবের সদস্য। এই ক্লাবের সদস্য হতে গেলে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও নিজের পাজেরো গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন। কুমিল্লা ও ঢাকা মিলিয়ে জাকির বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটের মালিক। কুমিল্লায় নিজের কেনা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে জীবন-যাপন করেন।

জানা যায়, জাকির পূর্বে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের সাথেও জড়িত ছিলেন। তার পার্শ্ববর্তী গ্রামে “কাশিপুর টেকনিক্যাল কলেজ” নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সার্টিফিকেট বানিজ্য করতো। দৃশ্যতো কোন কলেজ ছিলো না, কুমিল্লা মহিলা কলেজের সামনে একটি অফিস নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ পেলে জাকির সার্টিফিকেট বিক্রির বানিজ্য বন্ধ করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, জাকির বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ নিয়মিত করেন না। দাপ্তরিক সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে বেড়ান টেন্ডার বানিজ্যের উদ্দেশ্যে। টেন্ডার হাতিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে হাতবদল করেন তিনি।

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে নথি জালিয়াতিরও অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বা লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থাকতে পারবেন না। তবে সেই নির্দেশনা লঙ্গন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি জালিয়াতি করে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাসহ নানা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি চাকরি করার ফলে জাকির সরাসরি কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা গ্রহণ না করলেও তার বউ ও মেয়ের নামে একাধিক ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তার বড় ভাই হুমায়ূন কবির সংক্ষেপে এইচ কবীর এন্টারপ্রাইজের সাথে মিলিত হয়ে বেশ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সাথে তিনি যুক্ত রয়েছেন। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গুলো হলো ল্যান্ডমার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিিটউট, ল্যান্ডমার্ক প্যারা-মেডিক ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, লালমাই পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, কাশিপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ।

এছাড়াও গেল বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগে জাকিরকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন এবং ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে শপথ করান। একাধিক ভোটার বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।

এসব বিষয়ে জানতে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে ফোন দেওয়া হয়। তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদক আবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য ড এ এফ এম আব্দুল মঈনকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

৭ হাজার কোটি টাকা রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান ঘোষণা বিশ্বব্যাংক এমডির

ডেস্ক রিপোর্ট:

রোহিঙ্গাদের জন্য ৬৫ কোটি ডলার অনুদান নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অ্যানা বেজার্ড। দুটি প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়ন করা হবে। অর্থায়নের প্রায় অর্ধেক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং পুরোটাই অনুদানের শর্তে। প্রতি ডলার ১০৯ টাকা ৬৬ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ১২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের অবস্থা অর্জনে সহায়তা করতে বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির এমডি।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অ্যানা বেজার্ড।

বিশ্বব্যাংক এমডি বলেন, দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের গল্প অনেক দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি করে বেজার্ড বলেন, আর্থিক ও রাজস্ব নীতিতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার বাংলাদেশকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমাতে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন অ্যানা। তিনি বলেন, আজ প্রায় শতভাগ ছেলে-মেয়ে স্কুলে যায়। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বিদ্যুৎ রয়েছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এবং সেই সঙ্গে স্বাগতিক সম্প্রদায়ের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অ্যানা বেজার্ড বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের জন্য আমি খুবই গর্বিত। এটি লাখো মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেছে। আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শক্তিশালী বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং জলবায়ু মোকাবিলায় কাজ করেছি। ভবিষ্যত সংকট মোকাবিলায় ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবো এবং একই সঙ্গে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তাকারী প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ছিল অন্যতম। দেশ স্বাধীনের পর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ৪১ বিলিয়নের বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ঋণের বেশিরভাগই অনুদান বা রেয়াতি ঋণ। বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) সমর্থিত বৃহত্তম কর্মসূচি চলমান।

শিগগিরই এক্সমেইল নিয়ে আসছে ইলন মাস্ক!

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিগগিরই ইমেইল সেবা নিয়ে আসছে ইলন মাস্ক। নতুন এই সেবার নাম হতে পারে এক্সমেইল। গুগলের ইমেইল সেবা জিমেইলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এক্সমেইলকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এই ধনকুবের।

সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলের সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের সিনিয়র সদস্য নাথান ম্যাকগ্রেডির একটি টুইট থেকেই এ খবর চাউর হয়। টুইট করে তিনি জানতে চেয়েছেন, কবে থেকে কার্যকর হবে এক্সমেইল? যার উত্তরও দিয়েছেন মাস্ক।

টেসলা কর্ণধার জানান, পরিষেবা দিতে একেবারে প্রস্তুত এক্সমেইল। ইউজাররা যাতে সেরা ইমেইল পরিষেবা পান, তার জন্য সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি স্ক্রিনশট। যেখানে দেখা যায়, একজন জিমেইল ইউজারকে একটি মেইল করা হয়েছে।

যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১ আগস্টের পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জিমেইল। ওই তারিখের পর থেকে আর ইমেইল পাঠানো যাবে না। কোনও ই-মেইল ঢুকবেও না। এমন কী স্টোরেজও ফাঁকা হয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের পথচলার কথা উল্লেখ করে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জিমেইল। এমন স্ক্রিনশটই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরই শুরু হয় চর্চা। লাখ লাখ জিমেইল ইউজারদের কপালে ভাঁজ পড়ে।

কিন্তু শুক্রবার সব জল্পনায় অবসান ঘটিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়ে দিয়েছে, “জিমেইল এখানে থাকতে এসেছে।” অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে জিমেইল বন্ধ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এমতাবস্থায় মাস্কের এক্সমেইলের প্রতি ইউজাররা ঠিক কতখানি আগ্রহ দেখান, এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

কুমিল্লায় পুলিশের অভিযানে ৫২ কেজি গাঁজা সহ গ্রেফতার ১জন

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা মডেল থানা কর্তৃক ৫২ (বায়ান্ন) কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ০১(এক)টি সিএনজি অটো-রিক্সা উদ্ধার সহ ০১ জন আসামী গ্রেফতার।

শনিবার রাত্রে কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র)/ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী মডেল থানাধীন ০৩নং দক্ষিন দূর্গাপুর ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ড এর রঙ্গপুর সাকিনের জনতা ব্রীক ফিল্ডের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে ৫২ (বায়ান্ন) কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ০১(এক)টি সবুজ রংয়ের পুরাতন নম্বর বিহীন সিএনজি অটো-রিক্সা, যার চেসিস নং- MD2A27AZ1FL23188, ইঞ্জিন নং-অস্পষ্ট উদ্ধার পূর্বক আসামী মোঃ নুরুল ইসলাম(৪১), পিতা-মৃত হারুনুর রশিদ, মাতা-মাফিয়া খাতুন ,স্থায়ী: গ্রাম- কৈলাইন (রাজবাড়ী/ব্যাপারী বাড়ী, ১৩ নং জোয়াগ ইউপি) , উপজেলা/থানা- চান্দিনা, জেলা -কুমিল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।

উক্ত ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৬৭, তারিখ- ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪; জি আর নং-১৪৫, ধারা- ৩৬(১) সারণির ১৯(গ)/৩৮ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮; রুজু করা হয়।