All posts by jitu

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে গাজীতে বিমুখ, শাহজাহানে আস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে পর পর তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে এবার আর চাইছে না রূপগঞ্জবাসী। এই সংসদীয় এলাকার মোট ১১ হাজার ১৭৫ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৮৫ শতাংশ ভোটার দস্তগীর গাজীকে আর এমপি হিসেবে দেখতে চান না। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, নিরীহ মানুষের জমি জবরদখল করে নিজের কারখানা স্থাপন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করাসহ নানা গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে রূপগঞ্জের মানুষ এখন গাজীর প্রতি বিমুখ। তারা এবার পরিবর্তন চায়; নতুন মুখ দেখতে চায়।

এই প্রশ্নে ওই জরিপ থেকেই উঠে এসেছে বিকল্প একটি নাম। তিনি হলেন রূপগঞ্জের পর পর তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া। দীর্ঘদিন ধরে গণমুখী রাজনীতি করা আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী নেতা এবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে জনগণের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেটলি প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। জরিপের ফলাফল বলছে, জনসমর্থনের পাল্লা এবার তাঁর দিকেই ঝুঁকে আছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৪.১৩ শতাংশ ভোটার শাহজাহান ভূঁইয়াকে এলাকার এমপি হিসেবে দেখতে চান; যেখানে গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রতি এখনো আস্থার কথা জানিয়েছেন মাত্র ২২.৮২ শতাংশ ভোটার।
তবে জনসমর্থনের এই হিসাবের প্রতিফলন বাস্তবে খুব সহজেই ঘটতে দেখা যাবে, যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়; ভোটাররা বিনা বাধায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান; সেটাও জরিপ থেকে উঠে এসেছে। অবশ্য এই প্রশ্নে রূপগঞ্জ আসনে যে আশঙ্কা রয়েই গেছে, সেই বিষয়ে পার্শ্ব-প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা তিন লাখ ৮৫ হাজার ৬২৫।

এর মধ্যে মুড়াপাড়া, তারাব, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, দাউদপুর, রূপগঞ্জ, কায়েতপাড়া ও ভোলাবতে প্রায় ১১ হাজার ১৭৫ জন ভোটার অর্থাৎ ২.৮৯৭ শতাংশ ভোটারের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপগঞ্জ উপজেলা ও দুই পৌর এলাকার সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের বেশির ভাগ বাড়ির ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন জরিপকাজে নিয়োজিত কর্মীরা, যাঁদের বয়সসীমা ছিল ১৮ থেকে ৮৫ বছর পর্যন্ত। জরিপে অংশগ্রহণকারী পুরুষ ভোটারের সংখ্যা সাত হাজার ৫৯৯ ও নারী ভোটারের সংখ্যা তিন হাজার ৫৭৬।

আমাদের পক্ষ থেকে ১৪টি প্রশ্ন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন জরিপকর্মীরা। এর মধ্যে ১৮ থেকে থেকে ৩৫ বছর বয়সী চার হাজার ১০২ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী তিন হাজার ৮২৭ জন ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী তিন হাজার ২৪৬ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁরা কেন তিনবারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থীর বিকল্প খুঁজছেন। উত্তরে বেশির ভাগ ভোটারই টেনেছেন বিগত ১৫ বছরে রূপগঞ্জে গোলাম দস্তগীর গাজীর দুর্বিষহ দুঃশাসনের প্রসঙ্গ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, গৃহিণী থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জরিপে অংশ নেন। এবারের নির্বাচনে রূপগঞ্জে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন তরুণ ও নতুন ভোটাররা।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯ হাজার ৫০৬ জন ভোটার এই আসনে নেতৃত্বে পরিবর্তন চান। অর্থাৎ তাঁরা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীকে আর চাইছেন না। মাত্র ১২.৬৯ শতাংশ ভোটার মনে করেন, পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। জরিপের তথ্য মতে, ৮৫.০৭ শতাংশ ভোটারই মন্ত্রী গাজীর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নাখোশ। বিশেষ করে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেওয়া এবং নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকায় জনসাধারণের ওপর জুলুম, হামলা, নির্যাতনের কথা বলেছেন ভোটাররা।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়ার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। জরিপে দেখা গেছে, অন্তত ৫৪ শতাংশ ভোটার তৃণমূল ও কর্মীবান্ধব এই নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেতে চান। শাহজাহান ভূঁইয়ার কেটলি প্রতীক নিয়ে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা।

ভোটাররা বলছেন, আসনটিতে নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার মধ্যেই মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামও আলোচনায় রয়েছেন। ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্যরা মাঠে নেই বললেই চলে।

জরিপের তথ্য মতে, ৫৪.১৩ শতাংশ ভোটার শাহজাহান ভূঁইয়াকে জাতীয় সংসদে দেখতে চান। গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে মত দেন মাত্র ২২.৮২ শতাংশ ভোটার। এ ছাড়া তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে ১২.৭৮ এবং সাইফুলের পক্ষে ৩.০২ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছেন। বাকিরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৬.৭০ শতাংশ ভোটার তাঁদের মতামত দেন। ৩৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে ৩৪.২৫ শতাংশ ভোটার জরিপে অংশ নেন। এ ছাড়া ৫১ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স, তাঁদের মধ্য থেকে ২৯.০৫ শতাংশ ভোটার জরিপকর্মীদের কাছে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। মতামত প্রদানকারী ভোটারদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ পুরুষ ও ৩২ শতাংশ নারী। ৩১.৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী, ৪৮.৬৬ শতাংশ চাকরিজীবী, ৭.১২ শতাংশ ব্যবসায়ী, ২.৬৬ শতাংশ গৃহিণী এবং অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ৯.৫৯ শতাংশ ভোটার মতামত প্রদান করেন।

জরিপের তথ্য আরো বলছে, ১৮ থেকে ৩০ বছরের যুবকরা গোলাম দস্তগীর গাজীর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন বেশির ভাগই। ১৮ থেকে ৩০ বছরের শ্রমিকরা স্থানীয় এমপি ও তাঁর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি এবং নিরীহ মানুষের বাড়িতে গিয়ে হামলা, মামলা, বাড়িঘর ও জায়গাজমি দখলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গাজীর পরিবর্তন চান। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায়ও গাজীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদী হয়ে উঠতে দেখা গেছে শ্রমিক শ্রেণিকে।

এ ছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭৬ শতাংশ নেতাকর্মী গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কারণ তাঁরা তাঁদের দলের কিছু গাজী-অনুগত সন্ত্রাসীর দ্বারা বিভিন্ন সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। গত ১৫ বছরে দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন চালিয়েছে গাজীর ছেলে গাজী গোলাম মূর্তজা পাপ্পা, গাজীর এপিএস এমদাদসহ তাঁর ক্যাডার বাহিনী। অনেক সৎ, দক্ষ ও ত্যাগী নেতাকর্মীকে পদ-পদবি থেকে সরিয়ে দিয়ে হাইব্রিডরা দলে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁরা এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

অন্যদিকে তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়া এলাকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁর বিষয়ে প্রশংসা উঠে আসে সাধারণ ভোটারদের মধ্য থেকে। তাঁদের ভাষ্য, গোলাম দস্তগীর গাজীর মতো অত্যাচারী জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যে ব্যক্তিই অবস্থান নেবেন, তাঁর পক্ষে থাকবেন সাধারণ ভোটাররা। এ ছাড়া পর পর তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে শাহজাহান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তেমন কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নেই।

রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বচানের ভোটার শাহজাহান ইসলাম সবুর বলেন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে কয়েক দিন পর পরই এই এলাকায় হামলা-খুনের মতো ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসা বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং এই সন্ত্রাসীরা মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে তাদের ক্ষমতার জানান দেয়।

তিনি বলেন, ‘এবারের ভোট নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও যদি সুষুম ভোট হয়, আমি আমার মতামত জানাব। যোগ্যতার ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা প্রার্থীকে নির্বাচিত করব।’

আতলাপুরের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী জয়নাল মোল্লা বলেন, ‘ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইলে ভোট দিব। এখন কথা বলে লাভ নাই।’

রূপগঞ্জের বড়ালু পাড়াগাঁওয়ের চায়ের দোকানে কথা হয় হাসিবুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, রূপগঞ্জের আওয়ামী লীগ দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ বছরে সুবিধাভোগীরা বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে থাকলেও সুবিধাবঞ্চিত প্রায় ৭৫ শতাংশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী শাহজাহান ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘শেষ হাসিটা শাহজাহান ভূঁইয়াই হাসবেন। কারণ তাঁর নামে কোনো কালি নাই। আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছেন। কারো ক্ষতি করেন নাই। জমি দখল করেন নাই। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও তাঁর আঁতাত নাই।’

চান্দিনায় ভোট নিয়ে শংকা ও আতংক, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৪০ নির্বাচনী এজেন্টের নামে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার:
বির্তকিত নির্বাচনের পথে এগুচ্ছে কুমিল্লা -৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনের নির্বাচন। সুষ্ঠু ভোটের কোন লেশমাত্র নেই এই আসনে।অথচ জেলার বাকি ১০টি আসনে বেশ সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মী ও এজেন্টদের উপর প্রায় ৪০টি হামলার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ৭৫ জন নেতাকর্মী রক্তাক্ত আহত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্টসহ ৪০ জন এজেন্টের নামে মামলা দেয়া হয়েছে।এসব এজেন্টদের বাড়িতে বাড়িতে হুমকি প্রর্দশন করছ থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এমন অভিযোগ এনে শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে চান্দিনায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল) মুনতাকিম আশরাফ টিটু।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর এই আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডাক্তার প্রাণ গোপাল দত্তের নেতাকর্মীদের আমার আমার সমর্থক ও তাদের বাড়ি করে প্রায় ৪০ টি হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে আমার প্রায় ৭৫ জন কর্মী মারাত্নক আহত হয়। অথচ তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি, তারা প্রায় ৪০ হাজার ভোট সিল মারবে যে কোনভাবে। ভোট চলাকালে আমার এজেন্টদের বের করে, কিংবা ভয় দেখিয়ে চুপ করে জাল ভোট মারবে।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাতে থানায় দুটি মামলা করা হয়। এ দুটি মামলায় আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট কাজী ইয়াছিন আহম্মেদ অভিসহ ৪০ এজেন্টকে আসামি করা হয়। মামলায় আরো ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। এছাড়া আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার নির্বাচনী কার্যালয়সহ আমার সমর্থিত বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাদের এলাকা ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আজ বাড়েরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রায়হানকে মারধর করে তার ৭ টি পোষা ছাগল নিয়ে গেছে নৌকার নেতাকর্মীরা।

এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রায় ৩০টি জমা দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ডাক্তার প্রাণ গোপাল চাচা তার পরাজয়ের ভয়ে এলাকায় হামলা মামলা সৃষ্টি করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে পুনরায় জয় লাভের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। কে এজেন্ট আমরা তো আর তাদের চিনিনা।

 

 

নির্বাচনে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় : প্রধান নির্বাচন কমিশনার

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচনে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই কথা জানান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ইসি।

নতুন মেসিখ্যাত এচেভেরি এক শর্তে ম্যানসিটিতে যাবেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কিছুদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৭ কোপা আমেরিকায় নজর কেড়েছিলেন আর্জেন্টিনার তরুণ স্ট্রাইকার ক্লদিও এচেভেরি। ইউরোপীয় গণমাধ্যমের কল্যাণে ‘নতুন মেসি’ নামে খেতাব পাওয়া এই তারকাকে পেতে উদগ্রীব ছিল বেশ কিছু ক্লাব। এচেভেরি নিজেও বার্সেলোনার ভক্ত ছিলেন, তবে তাদের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে সেখানে তাকে পাঠাতে রাজি হয়নি রিভারপ্লেট। শেষ পর্যন্ত তরুণ আর্জেন্টাইনকে পাওয়ার দৌড়ে জেতে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ক্লাবটিতে যাওয়ার আগে এচেভেরি একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার ওই শর্ত পূরণ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে পেপ গার্দিওলার ক্লাবের চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। এচেভেরির শর্তটি হচ্ছে– আলবিসেলেস্তে ক্লাব রিভারপ্লেটের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লোনে দলটির হয়ে খেলার সুযোগ দিতে হবে তাকে। এ বছরের শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ রয়েছে এচেভেরির।

এই তথ্য নিশ্চিত করে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে এচেভেরির প্রতিনিধি এনজো মন্তেপাওন বলেন, ‘ক্লদিও রিভারের হয়ে কোপা লিবার্তোদোরেসে খেলতে চায়, যদি সিটি বিষয়টি না মানে তাহলে এই চুক্তি হবে না। অন্য অনেক ক্লাবই তাকে কিনতে চায়। ও পুরো কোপা লিবার্তাদোরেস খেলতে যাচ্ছে, এই নিয়েই আমরা কথা বলেছি। বাস্তবতা হল ও স্পষ্টভাবে রিভারে থাকতে ও খেলতে চায়।’

তিনি আরও জানান, ‘চুক্তিটি ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, কেবল ছোট কিছু বিষয় রয়েছে। ইতোমধ্যে তার মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। যখন রিভার এটাকে অফিসিয়াল করবে, তখন তারা অর্থের বিষয়ে বলবে। আপাতত এটি গোপনীয়।’

অন্যদিকে, সিটি তাদের গ্রুপের আরেক স্প্যানিশ দল জিরোনাতে এক মৌসুমের জন্য ধারে পাঠাতে চেয়েছিল এচেভেরিকে। তবে সেটি নাকি মানতে চাননি তিনি, তার লক্ষ্য আরও এক মৌসুম রিভারপ্লেটের হয়ে খেলা। এ নিয়ে এচেভেরির প্রতিনিধি বলেন, ‘এটি ইতিহাসের প্রথম কোনো ঘটনা, যেখানে শুরুতে সিটির ৭টি স্কাউট তাকে নিতে সম্মত হয়েছিল। যদিও তারা এখনও গার্দিওলা ও জুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে কথা বলেনি। আমি জানি না এর ভেতর আবার জিরোনার প্রসঙ্গ কোথা থেকে আসল। কিন্তু আমি মনে করি রিভার ছাড়ার পর সে সিটিতে যোগ দেবে। আমার জন্য ক্লদিউর ওপরে কোনো ছাদ নেই, দেখা যাক সে কতদূর বেড়ে উঠতে পারে।’

উল্লেখ্য, মাত্র ১০ বছর বয়সে রিভারপ্লেটে যোগ দেওয়ার পর এচেভেরি ২০২২ সালে রিজার্ভ দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলেন। ওই ম্যাচে গোল করে জায়গা করে নেন মূল দলে। এখন পর্যন্ত তাদের হয়ে ৫টি ম্যাচ খেলেছেন ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ তারকা। ‘এল দিয়াবলিতো’ বা ক্ষুদে শয়তান নামে পরিচিত ছোটখাটো গড়নের এই খেলোয়াড়। খেলার ধরনে মেসির সঙ্গে অনেক মিল থাকায়, এরইমাঝে তাকে ডাকা হচ্ছে নতুন মেসি হিসেবে। গত এপ্রিলে আর্জেন্টিনার হয়ে যুব কোপায় নেতৃত্ব দেন তিনি, যেখানে করেছেন ৫ গোল। অ্যাসিস্ট ছিল আরও ৩ গোলে।

ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে আসার আহ্বান ওবায়দুল কাদেরের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের আহ্বানের সঙ্গে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।

শনিবার সকালে নিজ নির্বাচনি এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

তিনি বিএনপি-জামায়াতের গুজব ও প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের জানান, আমরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও তাদের দোসররা নাশকতা অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করেছে। গতকাল তারা ঢাকার গুপিবাগে ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করে দুই শিশুসহ চারজনকে হত্যা করেছে, কয়েকজন অগ্নি দগ্ধ হয়েছেন। এ ঘৃণ্য নৃশংস সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি দেশকে ধ্বংস করতে চায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে চায়। এরা একাত্তরের পরাজিত শক্তি ’৭৫-এর ঘাতক দল। এদের বিশ্বাস করা যায় না। এরা মানুষকে পুড়িয়ে রাজনীতি করতে চায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কানাডার ফেডারেল রায় অনুযায়ী বিএনপি আবারও প্রমাণ করল তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছে এবং তারা প্রতিনিয়ত নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনবিরোধী অপপ্রচার করে যাচ্ছে। বিএনপির ভোট বর্জনের সঙ্গে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। বাংলাদেশ কোনো অপশক্তির কাছে কখনো মাথা নত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষক সাংবাদিক যারা এসেছেন, তারাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। আজকে যে অপশক্তি নির্বাচন বর্জন করেছে, তাদের সন্ত্রাসীর চরিত্রের প্রমাণ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। তারা বাসে-ট্রেনে আগুন দিচ্ছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের কাছে আমরা এই সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। মানুষের অধিকার হরণ করাই বিএনপির কাজ। এরা বিদেশিদের কাছে নালিশ দিচ্ছে বারবার। বিএনপি একটি গুজব পার্টি। তারা গুজব ছড়াচ্ছে। জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান তাদের গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। নির্বাচনে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য যে কর্মসূচি নিয়েছে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করুন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষাবাহিনী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। দলে দলে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন করে ভোট দিন। কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না। যারা ভোট প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে তাদের প্রতিহত করুন।

নির্বাচনে আন্তর্জাতিকভাবেও পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশনা। এ অবস্থায় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে আন্তর্জাতিকভাবেও পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট হবে। প্রত্যেক প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট রাখার অনুরোধ করছি, যেন ভোটাররা ভোটদানে বাধাগ্রস্ত না হন। আমরা চাই, আমাদের নির্বাচন কেবল দেশীয়ভাবেই না, আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হোক।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য মানদণ্ড অনুসারে আমাদের আইন রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবে। কিন্তু আমরা যেভাবে বলি, সেভাবে নির্বাচন সবসময় শান্তিপূর্ণ হয় না।

কাজী হাবিবুল আউয়াল জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। ভোট শুরু হবে সকাল ৮টায়, শেষ হবে বিকেল ৪টায়। তবে কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন থাকলে ভোট শেষ হতে আরও দেরি হতে পারে। অর্থাৎ যারা ভোট দিতে আসবেন, তাদের ভোট দেওয়া শেষ হলেই ভোট বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এবার ভোট হবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে। প্রত্যেক প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট রাখার অনুরোধ করছি, যেন ভোটাররা ভোটদানে বাধাগ্রস্ত না হন।

সিইসি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য মানদণ্ড অনুসারে আমাদের আইন রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা, ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবে। কিন্তু আমরা যেভাবে বলি, সেভাবে নির্বাচন সবসময় শান্তিপূর্ণ হয় না। আমরা চাই, আমাদের নির্বাচন কেবল দেশীয়ভাবেই না, আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, আনিছুর রহমান, ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

শাহ ইমরান:

কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং কুমিল্লা সদরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ডুমুরিয়া চানপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে ও সদর উপজেলার ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান কাউসার,  চানপুর এলাকার আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে শাকিল ওরফে সাক্কু, চানপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে সাইমন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর টমসম ব্রিজ, গোয়ালপট্টি, ফৌজদারি মোড়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা শহরের রাণীবাজার বিসিক সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে মোটরসাইকেল ও ককটেল ফেলে পালিয়েছে এক যুবক। অন্য দিকে শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুপি ইউনিয়নের চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

ককটেল বিস্ফোরণ ও ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

বরুড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বরুড়া উপজেলার কলেজ রোড এলাকার নির্বাচনি কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

নুরুল ইসলাম জানায়, নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি। আমি আমার অভিযোগ লিখিত আকারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছি। নির্বাচনের পরে নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের একত্রিত করে আমার বক্তব্য বরুড়ার জনগণের উদ্দেশে রাখবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. আবদুল বারী, সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান ভূইয়া, জাপা নেতা আবু ইউসুফ মানিক ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নাঙ্গলকোটে ৩ ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলার তিনটি ভোটকেন্দ্রে ও ভোটকেন্দ্র ভেবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের টুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভোটকেন্দ্র ভেবে কান্দাল দাখিল মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলযোগে দুর্বৃত্তরা এসে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ককটেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন দিয়ে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

ভোটদানে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা : র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভোট দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট দানে ভোটারকে বাধা দেওয়া বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বেআইনি। এই বেআইনি কাজ যারা করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন।

তিনি বলেন, আগামীকাল (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, আমাদের একটা চমৎকার কো-অর্ডিনেশন রয়েছে। আমরা সকলেই একসঙ্গে থেকে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে আগামী কালকের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।

বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শন এবং নির্বাচন কেন্দ্রে গৃহিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও র‍্যাব কর্তৃক গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাদি পরিদর্শন শেষে মিরপুর-২ মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ইতোমধ্যে আমরা সেটা সম্পন্ন করেছি। আমি বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। দেখে মনে হয়েছে সব ঠিক আছে, সুন্দর পরিবেশ।

তিনি বলেন, ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতি ৫ বছর পর একবার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবার সুযোগ পায়। আগামীকাল সকল শ্রেণী পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য যারা রয়েছি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

সারাদেশে আমাদের র‍্যাবের ইউনিট রয়েছে সেখানে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রোবাস্ট পেট্রলিং করছি। আগামীকাল নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রায় সাতশো’র মত মোবাইল পেট্রোল কাজ করবে। সে সঙ্গে আমাদের সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আমাদের সাইবার পেট্রোলিং এর কাজ চলছে বিভিন্ন ধরনের গুজব প্রতিরোধ করার জন্য। আমাদের সুইপিং টিম কাজ করছে। থাকবে ডগ-স্কোয়াড, বোম স্কোয়াড থাকবে। বিশেষ কোনো জরুরি প্রয়োজন হলে আমাদের হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

ওআইভিএস ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। এক এলাকার ভোটার ব্যতীত অন্য এলাকার বহিরাগত আসতে চাইলে তাকে যেন আইডেন্টিফাই করা যায়। আমরা এ ব্যবস্থা রেখেছি যাতে করে বহিরাগতরা ভোট সেন্টারে প্রবেশ করতে না পারে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমরা যে যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি নিজে ছয়টা সাতটা বিভাগ পরিদর্শন করেছি। র‍্যাবের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাদের আমি ব্রিফ করেছি। বিভাগীয় পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা যারা ছিলেন বিশেষ করে যারা নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে মত বিনিময় করেছি।

ইতোমধ্যে বিএনপির জামায়াত ও কিছু দল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে কেউ নির্বাচনে ভোট দিতেও পারে নাও পারে। কিন্তু কেউ যদি ভোট দিতে চায় আর তাকে যদি বাধা দেওয়া হয় বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তা হবে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি। আর এই বেআইনি কাজ যারা করবে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছি তাদের আমরা কঠোর আছে দমন করবো। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা, নাশকতা করার সুযোগ থাকবে বলে আমি মনে করি না।

তিনি বলেন, হ্যাঁ এখন কিছু নাশকতা হয়েছে। এটা হতেই পারে। এটা হবে স্বাভাবিকভাবে। একদম একশ পার্সেন্ট আপনি সবকিছু ঠেকাতে পারবেন তা কিন্তু না। শুধু আমাদের দেশে না আমেরিকাতেও গত নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত অ্যাটাক হয়েছে। ইন্ডিয়াতেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য অনেক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে অনেক লোক মারাও যায়। সে তুলনায় আমি মনে করি গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের তুলনায় এবারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমরা বিশ্বাস করি আস্থা রাখি, আগামীকালকের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিরপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সক্ষম হবো।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এ দেশের নাগরিক হিসেবে ও গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন।

পাশাপাশি দেশবাসীকে আগামীকালকে নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য স্বাভাবিক থাকে সেজন্য সহযোগিতা আহ্বান জানান তিনি।