All posts by jitu

‎চাঁদপুরে আদালত কক্ষে হাততালি দেওয়ায় বাদীও গেলেন জেলে

‎মাসুদ হোসেন:
‎
দোকান বিক্রির নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল এবং তার বাবা সাবেক মোতাওয়াল্লী আলমগীর কবির পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
‎
‎ রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান তাদের জেলহাজতে পাঠানোর এ আদেশ দেন।
‎
‎আদালত সূত্রে জানা যায়, সিআর ৬৩৫/২০২৬ নম্বর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট (সি/ডব্লিউ) মূলে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাদী হাজীগঞ্জের কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের সিহিরচোঁ গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির হোসেন লিটন।
‎
‎ মামলার বিবরণীতে অভিযোগ করা হয়, হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে দোকান দেওয়ার কথা বলে বাদীর কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নেন আসামিরা। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও বাদীকে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, কিংবা টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। আদালতে আসামি পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এবং বাদী পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা।
‎
‎এদিকে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার পর আদালত কক্ষে আনন্দ প্রকাশ করে হাততালি দেন বাদী মো. কবির হোসেন লিটন। বিচারক এ ঘটনাকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বাদীকেও জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

‎মেঘনায় বাল্যবিবাহ বন্ধসহ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেঘনা প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বাল্যবিবাহের দায়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর পরিবারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ বিবাহ বন্ধ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
‎
‎রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের উত্তর বাউশিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
‎
‎ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মেঘনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার মুক্তার প্রসিকিউশনে সহযোগিতা করেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম।
‎
‎অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। বাল্যবিবাহের খবর পেলে প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

যুবদল নেতা কাউছার হত্যা: ৭ দিনের রিমান্ডে ২ যুবক

স্টাফ রিপোটার:

কুমিল্লা সদরের ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই আসামি তৌহিদ ও তানজিরকে গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইয়ুমুল হক রিংকু।

এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ সময় র‌্যাব-১১, কুমিল্লা সিপিসি-২ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ছত্রখিল এলাকার উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীত দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে তানজির ও তার আপন ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাউছার ও শামীমের বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তৌহিদ ও তানজিরসহ কয়েকজন ওই জায়গায় কফি শপ তৈরির কাজ করছিলেন। এ সময় কাউছার, শামীমসহ আরও কয়েকজন সেখানে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তৌহিদ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কাউছার ও শামীমের ওপর হামলা চালান।

তৌহিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারকে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত কাউছারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পুলিশ আরও জানায়, তৌহিদের বিরুদ্ধে এর আগে হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন।

ব্রাহ্মণপাড়ার ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাসান ডাকাত চান্দিনা থেকে গ্রেপ্তার

সাইফুল ইসলাম ফাহাদ:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৫ বছর ও ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. হাসানকে চান্দিনা গ্রেপ্তার করেছে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) চান্দিনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ চারটি ওয়ারেন্ট এবং একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মো: হাসান (৩০) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ডি.এম.এ মজিদ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চান্দিনা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫ বছর ও ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পৃথক সাজা পরোয়ানাসহ চারটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দাউদকান্দিতে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

শিক্ষাই গড়বে সোনার বাংলা স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় স্বপ্নছোঁয়া মেধাবী অন্বেষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নোয়াগাঁও স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার নোয়াগাঁও ক্যামব্রিয়ান স্কুলে এ আয়োজন করা হয়।

স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও খন্দকার ফাউন্ডেশন সিঙ্গাপুর এর উপদেষ্টা মো. বাবুল খন্দকার।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার এবং ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজকেরা বলেন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো, তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবক মো. জাকির হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. আল আমিন,আব্দুল আওয়াল মিয়াজী সহ সংঘটনের সদস্যবৃন্দ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বপ্নছোঁয়া যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল এনাম রনি।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বাখরাবাদ গ্যাস শ্রমিক-কর্মচারী সংসদের নির্বাচন এক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাখরাবাদ গ্যাস শ্রমিক-কর্মচারী সংসদ রেজি. নং-১৯৩৩ (সিবিএ)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংগঠনের সাংগঠনিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারী নেতারা। একই সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তাঁরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ইউনিয়নের সিবিএ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কাজী জসিম মান্না।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি মো. শাহ্ আলম শফি। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল ইসলাম রিপন ও সদস্য সচিব জালালউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের সদস্য মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সংসদের সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ও শাহানুর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হোসেন এবং অর্থ সম্পাদক সহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি শ্রমিক সংগঠনের শক্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে সদস্যদের মতামত, অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ওপর। শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। তাঁরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার হরণ ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনো শ্রমিক সংগঠনে দেখতে চান না তাঁরা। বাখরাবাদে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক, যেখানে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা তাঁদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন-তা কাম্য নয়। তাঁরা দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করে সংগঠনের সদস্যদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা, সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সদস্যদের আস্থা ধরে রাখার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের প্রতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী জসিম মান্না বলেন, একটি চক্র কালো টাকার প্রভাব খাটিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অচিরেই আপনারা ভোট দিতে পারবেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। সদস্যরা যেন তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনার সুযোগ পান, সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার সুরক্ষা, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কুমিল্লা অঞ্চলের দাপুটে নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ ঘুরে ফিরে কুমিল্লায়

স্টাফ রিপোর্টার:

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এইচ এম ফিরোজ ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কুমিল্লা অঞ্চলের একজন দাপুটে নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে বিএনপি সরকার আসার পর তিনি রাতারাতি বিএনপি বনে যান। দুই আমলেই বারবার বদলি হয়েও অদৃশ্য শক্তির জেরে বদলি রদ করে আবার কুমিল্লায় থাকছেন তিনি। তিন বছর পরপর বদলির নিয়ম যেন তার কাছে অদৃশ্য। কুমিল্লার মজায় মজে আছেন ফিরোজ- এমন প্রবাদ এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে।

আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে নিজেকে জাহির করেছেন। এখন বিএনপির সময়ে নিজেকে সাবেক ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে প্রমাণ করছেন তিনি। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ঘুরেফিরে কুমিল্লাতেই থাকছেন ফিরোজ।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এইচএম ফিরোজ ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কুমিল্লা অঞ্চলের একজন দাপুটে নির্বাহী প্রকৌশলী। তার দাপটে আজন্ম আওয়ামী লীগ করা নেতারাও পিছু হটেছেন। তবে বিএনপি সরকারে আসার পর তিনি রাতারাতি বনে যান বিএনপি নেতা। নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তাই তাকে এ বিভাগে অনেকে ‘গুপ্ত’ নামেও চেনে। গত ৮ বছরে যতবার বদলি হয়েছেন, ততবার তিনি তা রদ করেছেন। এর মধ্যে ১ অক্টোবর তাকে লক্ষ্মীপুরে বদলি করা হয়; কিন্তু বদলি আদেশের ১৮ দিন পরও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বর্তমান কর্মস্থলেই আছেন।

এইচএম ফিরোজ ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত কুমিল্লা পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ তিন নম্বর ডিভিশনে কাজ করেন। ২০২৩ সাল থেকে কুমিল্লা দুই নম্বর ডিভিশনে বদলি হয়ে আসেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দায়িত্ব শেষ করেন। নিয়ম অনুযায়ী বদলির সময় ঘনিয়ে এলে গত ১ অক্টোবর নির্বাহী প্রকৌশলী এইচএম ফিরোজকে লক্ষ্মীপুর জেলা বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রে বদলি করা হয়। তবে নতুন কর্মস্থলে তিনি যাননি। পুরনো কর্মস্থলও ত্যাগ করেননি। গতকাল জানা গেল সেই পুরনো পথে তিনি এবারও তার বদলির আদেশ রদ করে ফেলেছেন। এরপর তার সেই পরনো প্রবাদ- ‘কুমিল্লায় কী মজা’ বিষয়টি আলোচনায় আসে।

লিখিত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকারি কর্মকর্তারা কোনো কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর স্বাভাবিক নিয়মেই তারা অন্যত্র বদলি হয়ে যান। নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী এইচএম ফিরোজ বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ আমাকে এখানে রাখতে চায় বলে বদলির আদেশ রদ করেছে। তারা যা চাইবে, আমি তা-ই করতে বাধ্য। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ মেনেই আমি চলি। জানতে চাইলে পিডিবির কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির সাংবাদিক কে বলেন, কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়টি ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি আমার এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়; বিষয়টি সম্পূর্ণ বোর্ডের এখতিয়ার। তবে বাস্তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, তাহার এখন পর্যন্ত কোন বদলির আদেশ স্থগিত অথবা পরিবর্তন হয়নি।

লাকসামে ধানখেত থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

রিয়াদ হোসাইন:

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ধানখেত থেকে কাউসার হোসেন (২৩) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার ১ নং বাকই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তারাপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কাউসার হোসেন ওই গ্রামের পূর্ব বাড়ির মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তাঁর মা আম্বিয়া বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা চার ভাই ও দুই বোন। কাউসার পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানখেতে কাউসারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। এ সময় মরদেহের পাশে এক প্যাকেট সিগারেট পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লায়লী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লায় পাঠায়।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

তবে কাউসারের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

চান্দিনায় গৃহবধূর মৃত্যু: স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় বৃষ্টি (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে স্বামী সুমনসহ তার পরিবারের সকল সদস্য এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার সিরাজ মাস্টার বাড়ির সুমনের ঘর থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত বৃষ্টি পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলার টামটা গ্রামের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী সুমন চান্দিনা উপজেলার নাজিরপুর পূর্বপাড়ার সিরাজ মাস্টারের বাড়ির মনা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন তাঁর স্ত্রীকে প্রায়শই অমানুষিক মারধর করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সজিব, সাইফুল ইসলাম ও গিয়াসউদ্দিন জানান, স্বামী সুমনের হাতে দীর্ঘ দিন ধরে বৃষ্টির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলে আসছিল। এমনকি ঘটনার আগে টানা সাত দিন ধরে তাঁকে নির্যাতন করা হয়।

তাঁদের দাবি, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সুমন তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতে করতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পুকুরপাড় দিয়ে কুকুরের মতো টেনেহিঁচড়ে বাড়ি নিয়ে যান। পরে গৃহবধূ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সন্ধ্যার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে একটি রিকশায় করে মৃত অবস্থায় বৃষ্টিকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে ঘরে রেখে পালিয়ে যান সুমন।

পাশের বাড়ির সালেকা ও জয়নব বিবি জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে সুমন যখন বৃষ্টিকে রিকশায় করে বাড়ি নিয়ে আসেন, তখন তাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে যান। নামাতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান বৃষ্টির শরীরে কোনো নড়াচড়া নেই এবং তিনি শ্বাস নিচ্ছেন না। এ সময় আকস্মিক একটি চিৎকার দিয়ে সুমন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ধরে দেখা যায় বৃষ্টি মারা গেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন- “খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সুমন পলাতক রয়েছেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”