All posts by jitu

বেতন বাড়ানোর দাবিতে ফের মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকার ঘোষিত সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ফের মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। তবে এরই মধ্যে পোশাকশ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টা থেকে মিরপুর ১৩ নম্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ শ্রমিক। এতে মিরপুর ১৩, ১৪ ও ১০ নম্বরে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মূল সড়কসহ আশপাশের সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পোশাকশ্রমিকরা বেশিরভাগ মিরপুর ১৩ নম্বরের ভিশন, এমবিএম, লোডস্টার, সারোজ গার্মেন্টসসহ আশপাশের গার্মেন্টসের শ্রমিক বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, তাদের বেতন ন্যূনতম ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। নতুন যে ন্যূনতম বেতন ১২ হজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তারা মানেন না বলে জানান।

সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে রাখলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুকুল আলম বলেন, সকালে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছেন। সকাল ৯টার পর তারা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে গেছেন।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সকাল সোয়া ৮টার দিকে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানের কয়েকশ শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করেন। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে তারা রাস্তা অবরোধ করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, শনিবার দুপুরে একই দাবিতে মিরপুর ১৩ নম্বরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। পরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে কুবি উপাচার্য

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইরফান উল্লাহকে দেখতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন।

গত ৯ই নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) মুহাম্মদ ইরফান উল্লাহ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের জাগরজুলি বিশ্বরোড এলাকায় তিশা বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরি ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রথমে মাতুয়াইল এসএমসি স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় কিন্তু সেখানে তার অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।

বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফার্মেসি বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম জানান, আজ সকালে তার অপারেশন হয়েছে। মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ফলে তার মস্তিষ্ক ফুলে যায়, এর ফলে অপারেশনের মাধ্যমে মাথার খুলি আলাদা করে ফ্রিজিং অবস্থায় রাখা হয়েছে। ডাক্তার জানান, আগামী তিনদিন ইরফানের জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা নেই।

এ দিকে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এফ এম আবদুল মঈন আহত শিক্ষার্থী ইরফানকে দেখতে যান। তিনি জানান, আমি ইরফানকে দেখতে গিয়েছি। আমি সহ প্রক্টরিয়াল বডি তার খবরাখবর নিয়েছি এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার যতোটুকু সম্ভব সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রসাশনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

ময়নামতির ওয়ার সিমেট্রিতে বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিতে কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিগণ।

শনিবার সকাল পৌনে এগারটায় কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রির হলিক্রস পাদদেশে এ শ্রদ্ধা জানান তারা।

এর আগে আয়োজিত প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দকে অভিবাদন জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাইকমিশনার পিটার হাস্, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জাপান হাইকমিশনার ইয়োমা কিমিনরি ও অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার নারদিয়া সেম্পসন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে কূটনীতিকরা বলেন, মানব সভ্যতার ইতিাসে সর্বহৎ ও নৃশংসতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সামরিক ও বেসামরিক লাখো লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ব শান্তির জন্য ওই যুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ আমাদের সামনে এগিয়ে আসছে। তাই আমাদেরও সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগুতে হবে। আশা ভালোবাসা সাহসিকতা দিয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। এই চলার গন্তব্য যেন হয় সুখময় সুন্দর। আমাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে।বিশ্বব্যাপি শান্তি ও মানবতার পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা যতো মানবিক হবো, ততো বেশি আলোকিত হবো। তবেই আমরা অন্ধকার অতিক্রম করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি বিগ্রেডিয়ার এম এস সাবারওয়াল, পাকিস্তানের প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ মারুফসহ ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বিভিন্ন দেশের মোট ৬৮ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কমনওয়েলথভূক্ত দেশের হাইকমিশনারগণ প্রতিবছর ১১ নভেম্বর কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হোন। শনিবার সকালে এদিনটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার, প্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সমবেত হন।

এদিন সকালে সমাধিস্থলের পশ্চিমে হলিক্রস সীমানায় নিহত সৈনিকদের স্মরণে প্রথমেই পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা লুৎফুর রহমান। তারপর পবিত্র বাইবেল পাঠের পর চট্টগ্রাম বেথলেহেম চার্চের যাজক ড. আলফ্রেড অধিকারী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর আগে প্রার্থনা প্রার্থনা পর্ব শুরু হয়। এসময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। নিবর নিস্তব্দ হয়ে ওঠে পুরো সমাধিক্ষেত্র। কিছুক্ষণ নিরবতা পালন শেষে শুরু হয় নিহত সৈনিকদের স্মরণে হলিক্রস পাদদেশে ফুলেল শ্রদ্ধা অর্পন পর্ব।

প্রথমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডারের পক্ষে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সাতটি দেশের হাইকমিশনার ও ডেপুটি হাইকমিশনারগণ হলিক্রসে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। প্রার্থনা অনুষ্ঠান শেষে হাইকমিশনার, প্রতিনিধি ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনরা ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রিতে শায়িত যোদ্ধাদের সমাধি ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে নয়নাভিরাম জায়গা জুড়ে অবস্থিত ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রি বা কমনওয়েলথ রণসমাধি ক্ষেত্র। এখানে ১৩ দেশের ৭৩৭জন যোদ্ধার মধ্যে ব্রিটেনের ৩৫০ জন, কানাডার ১২ জন, নিউজিল্যান্ডের ৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ১ জন, পূর্ব আফ্রিকার ৫৬ জন, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬ জন, ভারতের ১৭২ জন, বার্মার ১ জন, দক্ষিণ রোডেশিয়ার ৩ জন, বেলজিয়ামের ১ জন, পোল্যান্ডের ১ জন, জাপানের ২৪ জন এবং বেসামরিক ১ জনকে সমাহিত করা হয়। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে চিরনিদ্রায় শায়িত সৈনিকদের মধ্যে মুসলিম ধর্মের ১৭২ জন, বৌদ্ধ ধর্মের ২৪ জন, হিন্দু ধর্মের ২ জন এবং বাকিরা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। লন্ডন ভিত্তিক কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশন নামে একটি সংস্থা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।

কাশ্মিরের ডাল লেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের শ্রীনগরের ব্যাপক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ডাল লেকে হাউসবোটে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিন বাংলাদেশি পর্যটক নিহত হয়েছেন। শনিবার ডাল লেকের কয়েকটি হাউসবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওই বাংলাদেশিরা মারা গেছেন।

কাশ্মিরের পুলিশ বলছে, শনিবার ভোরের দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ডাল লেকের কয়েকটি হাউসবোট ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে তিন বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া সাফিনা হাউসবোটে ছিলেন ওই তিন বাংলাদেশি। পুলিশ বলছে, ডাল লেকের ৯ নাম্বার ঘাটের কাছের একটি হাউসবোটে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য হাউসবোটও পুড়ে যায়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় অন্তত পাঁচটি হাউসবোট একেবারে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আগুনে আরো কয়েকটি হাউসবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাশ্মির পুলিশ।

গণতন্ত্রের নামে দেশে অত্যাচারী স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে: জিএম কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

গণতন্ত্রের নামে দেশে অত্যাচারী স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, এ থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য আমরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দেব। স্বৈরাচারদের কথা হচ্ছে এক সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা আসে। এক সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে মূলত অস্থিতিশীলতার বীজ বড় হতে থাকে। সরকার বা নেতা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তাতে সমাজে ও অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে সেটাই হচ্ছে স্থিতিশীলতা।

শনিবার জাপার বনানী কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জিএম কাদের এসব বলেন।

জিএম কাদের বলেন, আমেরিকা, ভারত ও জাপানসহ অনেক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান পরিবর্তন হয় কিন্তু তার কোনো প্রভাব পড়ে না সমাজ ও অর্থনীতিতে। কিন্তু একজনকে জোর করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখলে মানুষের মনে একটি আগুন জ্বলতে শুরু করে, তা একসময় বিস্ফোরণ হয়। আমাদের দেশে স্বাভাবিকভাবে কোনো পরিবর্তন হলেও দেশ কোথায় যাবে তা নিয়ে মানুষ চিন্তিত। আমরা চাই সরকার ব্যবস্থা এমন হবে তাতে সরকার পরিবর্তন হলেও স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে না। স্থিতিশীলতা এলেই বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আসবে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র থাকলে, দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার জন্য কেয়ারটেকারের মতো প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তারা জনগণের কথামত দেশ চালাবে এবং জনগণ তাদের সমালোচনা করতে পারবে। সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের ইচ্ছের বাইরে চললে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকতে হবে জনগণের মধ্যে। দেশে নির্বাচনের নামে সিলেকশন চলছে। দেশের মানুষ ইলেকশনের নামে সিলেকশন চায় না। সংবিধান অনুযায়ী আইনকানুন ঠিক আছে কিন্তু ইলেকশনের নামে সিলেকশন হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় কেউ চাইলেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জার্মানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র থেকে বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসিত দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পদ্ধতিকে এগিয়ে নেওয়াকে গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়া বলা যায় না।

জিএম কাদের বলেন, উন্নয়নের নামে মানুষের ওপর অত্যাচার ও দেশে লুটপাট চলছে। অবকাঠামো উন্নয়ন মানুষের উন্নয়ন নয়। প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন। মানুষের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিত হয় গণতন্ত্রে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। বৈষম্যের মাধ্যমে সরকার একটি শ্রেণি সৃষ্টি করেছে। অর্থ-সম্পদ দিয়ে তাদের ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে। আর শতকরা ৯০ ভাগ মানুষকে যেন নর্দমায় ফেলা হয়েছে। তাদের অধিকার নেই, আয় নেই, তাদের দিন চলে না। বলা হচ্ছে, মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার। দেশের কয়টি মানুষের আয় বছরে তিন হাজার ডলার? তিন হাজার কোটি টাকা আয়ের মানুষ সৃষ্টি হয়েছে, তারা বাংলাদেশের রক্ত চুষে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে তারা দেশে লুটপাট চালিয়েছে। এদের কারণেই সাধারণ মানুষ খেয়েপরে থাকতে পারছে না।

তিনি বলেন, তৈরী পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছে, তাদের বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। ৮ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে একটি পরিবার চলে? বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে শ্রমিকদের রেশন দেওয়া হোক, দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দেওয়া হোক। যেন দাশপ্রথা চলছে, ওরা মরে গেলে যাক, ওদের দিয়ে আমাদের ব্যবসা করতে হবে। সিপিডির দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪ জনের একটি পরিবারের শুধু মাসের খাবার খরচ ২২ হাজার ৪২১ টাকা। তাহলে তাদের বিদ্যুৎ বিল, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও পোশাকের খরচ আসবে কোথা থেকে? শ্রমিকরা রাস্তায় নামলেই নাশকতাকারী? তাদের দেখভালের দায়িত্ব কার? সরকার কোথায় টাকা পায়? এই মানুষগুলোর টাকায় তো সরকার দেশ চালাচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, একটি দেশের বিচার বিভাগ সভ্যতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক। বিচার বিভাগ দিয়েই একটি দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন পরিমাপ করা যায়। সংবিধানে আইনের সমতার কথা বলা আছে। রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র কখনোই আইনের শাসন দিতে পারে না। এতে একটি গোষ্ঠী বা ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই গণতন্ত্রের আবির্ভাব হয়েছিল। গণতন্ত্রে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। নিউইয়র্ক টাইমস কয়েকদিন আগে নিবন্ধ লিখেছে, বাংলাদেশে বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দেশে হয়রানি করা হচ্ছে তা বিভিন্ন দেশে আলোচিত হচ্ছে।

সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে জিএম কাদের বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, হাইকোর্টের অধীনে থাকবে অধীনস্থ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, তাদের প্রমোশন থেকে সব কিছু দেখবে দেশের রাষ্ট্রপতি। আবার ৪৮ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ ছাড়া সবকিছুতেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে হবে। তাই নিম্ন আদালত শতভাগ সরকার বা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ, তাদের কোনো স্বাধীনতা নেই। ৯৫ ধারা অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে। তাই নিম্ন আদালত সম্পূর্ণ ও উচ্চ আদালতের প্রায় ৯৯ ভাগই সরকারপ্রধানের অধীনে রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে আমাদের সংবিধান। এমন বাস্তবতায় আইন সবার জন্য সমান হতে পারে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। কয়েক দিনের উপনির্বাচনেও এখন সরকারকে সিল মারতে হয়। বর্তমান ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আনুপাতিক হারে নির্বাচন হলেই দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।

কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি কাউকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাচনে যাবে না। কারো ক্ষমতার সিঁড়ি হতেও নির্বাচনে যাবে না জাতীয় পার্টি। প্রমাণ হয়েছে সরকারি দলের কর্মীরা ১ মিনিটে ৪৫টি ভোট দিতে পারে। তাই বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া হচ্ছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাঁতার কাটা।

জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম আব্দুল মান্নান, সুনীল শুভরায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান, অ্যাডভোকেট লাকী বেগম, আনিসুল ইসলাম মণ্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জহিরুল হক জহির, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, মো. খলিলুর রহমান খলিল। ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, জাহাঙ্গীর আহমেদ, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাসানী, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু প্রমুখ।

সূত্র: যুগান্তর

অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আবারও নৌকায় ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে, আর বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে।

শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি টাউনশিপ মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমরা চাই আপনারা সুন্দরভাবে বাঁচুন। প্রত্যেক মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। যাতে মানুষ কষ্টে না থাকে, সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের জীবনমান যাতে উন্নত হয়, নিরাপদ হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

তিনি বলেন, বিএনপি করে হত্যা-অগ্নিসন্ত্রাস। তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াতের মনুষ্যত্ববোধ নেই, তাই জনগণকে তাদের বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, ফলে মুদ্রাস্ফীতি একটু বেড়েছে। কিন্তু সেটাও নিয়ন্ত্রণে আমরা চেষ্টা চালিয়েছি। খুব শিগগির মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে। মানুষ আরও ভালোভাবে চলতে পারবে বলে আশা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ বছরের আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে বলেই দেশের পরিবর্তন হয়েছে। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। আগামী নির্বাচনেও আমরা চাইবো, আপনাদের ভোটের মাধ্যমে আপনাদের সেবা করতে পারি, যে কাজগুলো এখনো শেষ হয়নি সেগুলো শেষ করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যেদিন বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, সেদিন আমার কেউ ছিল না। যাদের রেখে গিয়েছিলাম, এসে পেয়েছি সারি সারি কবর। আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি আমার বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ। কাজেই আপনাদের কল্যাণের জন্য, আপনাদের উন্নয়নের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের রক্ত দিতেও প্রস্তুত আছি। শুধু আপনাদের কল্যাণ করাটাই আমার একমাত্র কাম্য। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাবা-মা, ভাই, সব হারিয়েছি। আমাদের হারাবার আর কিছু নেই, পাওয়ারও কিছু নেই। শুধু একটাই কাজ- বাংলাদেশের মানুষ যেন ভালো থাকে। যেভাবে আমার বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই বাংলাদেশই আমি গড়ে তুলতে চাই। আমার বাবার স্বপ্নটাই পূরণ করতে চাই।

এর আগে শনিবার দুপুরে কক্সবাজারে আইকনিক রেলস্টেশন ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধন করে ট্রেনে রামুতে যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাউনশিপ মাঠে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় পৌঁছান।

জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেল উদ্বোধন এবং প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া কক্সবাজারে ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

এগুলো হলো- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্তি প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং অ্যাপ্রোচ রোড ও ব্রিজ। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪টি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। এছাড়া রয়েছে জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ৩টি প্রকল্প।

চৌদ্দগ্রামে যুবলীগের ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ফখরুদ্দীন ইমন:

কেক কাটা, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মাধ্যমে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ হায়দার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা আবু তাহের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি ফারুক আহমেদ মিয়াজী, কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য এমরানুল হক কামাল (ভার্ড কামাল)।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়া খোকনের সভাপতিত্বে ও মাহবুবুল হক মোল্লা বাবলুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি মাহবুব হোসেন মজুমদার, উজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান নায়িমুর রহমান মজুমদার মাছুম, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সর্দার, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আরশ মজুমদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ নেতা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনাম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন রুবেল, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য মহসিন আলম খাঁন, আলা উদ্দিন মজনু, এয়ার আহমেদ সেলিম, উপজেলা যুবলীগ নেতা আবুল কালাম, পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ খাঁন শামীম, ঘোলপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, মুন্সীরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মজুমদার বাবু, আলকরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মফিজুর রহমান, কালিকাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন মেম্বার, শ্রীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন মেম্বার, উজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান রতন, কাশিনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম প্রমুখ। এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত যুবলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে ধানক্ষেত থেকে মুরগী ফার্ম মালিকের লাশ উদ্ধার

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাড়ীর পাশের ধানক্ষেত থেকে ইব্রাহিম খলিল (৩৫) নামে এক মুরগী ফার্ম মালিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মৃত আলী মিয়া বেপারীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নিহত ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, ‘শুক্রবার রাত বারটায় গ্রামের একটি বিয়ে বাড়ী থেকে এসে আমার স্বামী (ইব্রাহিম খলিল) ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত একটায় জেগে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বাড়ীর পাশের ধানক্ষেতে যান তিনি। এরপর রাত আনুমানিক ২টায় আবার ঘরে ফিরে আসেন। ফজরের সময় তিনি নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। সকালে পাশের বাড়ীর আব্দুল খালেক এর স্ত্রী হাসিনা বেগম ভোরে হাঁটতে বের হলে রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে আমার স্বামীকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে বাড়ীর লোকজন বের হয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়ীতে নিয়ে আসে। স্থানীয়রা শিবের বাজারের অহিদ ডাক্তারকে ডেকে আনলে তিনি তাকে মৃত ঘোষনা করেন।’

এ বিষয়ে থানার এসআই নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

চৌদ্দগ্রামে ভাইয়ের সাথে অভিমান করে বোনের আত্মহত্যা

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ভাইয়ের সাথে অভিমানে সাদিয়া আক্তার (১৬) নামে এক দশম শ্রেণির মাদরাসা শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাধিন বৈদ্দেরখীল গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মৃত আমিন মিয়ার মেয়ে ও চৌদ্দগ্রাম ফয়েজুন্নেছা মহিলা মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ও ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টায় পরিবারের সাথে অভিমান করে সকলের অগোচরে নিজবসত বাড়ীর নির্মাণাধিন নতুন বিল্ডিং ঘরের একটি রুমে দরজা বন্ধ করে গলায় ওড়না পেঁছিয়ে সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন ঝুলন্ত অবস্থায় সাদিয়াকে দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আলমগীর হোসেন ও থানার এসআই সাইদুল হক সঙ্গীয় ফোর্স সহ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের মায়ের সাথে কথা বলে থানায় অপমৃত্যর মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার দুটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা

ডেস্ক রিপোর্ট:

পূর্বাঞ্চলে আরও সংগঠিত হচ্ছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। রাশিয়ার হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ে ক্রাইমিয়ায় দুটি উভচর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনীয় সেনারা।

শুক্রবার ক্রিমিয়ার পশ্চিমে ভুজকা বেতে ইউক্রেনীয় বাহিনী এ হামলাটি চালায় বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।

ইউক্রেনের নৌ-ড্রোনগুলো ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার দুটি ছোট উভচর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে বলে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে।

তারা জানায়, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দেশটির সেনারা রাশিয়ার আরও হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ে ক্রিমিয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। রাশিয়ার হামলার ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাওয়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর আভদিইভকায় আবারও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, উল্লেখযোগ্য এ হামলায় রাশিয়ার বেশ ক্ষতি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে এসব দাবি যাচাই করে দেখতে পারেনি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য আসেনি।

কথিত এক গণভোটের ফলের ভিত্তিতে ইউক্রেনীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে ২০১৪ সালে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় রাশিয়া। দেশটির কৃষ্ণ সাগরীয় নৌবহরের সদরদপ্তর ক্রিমিয়ার বন্দর শহর সেভাস্তপোলে।

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে রাশিয়ার দুটি ছোট উভচর জাহাজে আঘাত হানা হয়।

পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, নৌড্রোন দিয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া উভচর জাহাজ দুটির মধ্যে একটি হল আকুলা শ্রেণির এবং অপরটি সেরনা শ্রেণির অবতরণ জলযান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ নভেম্বর, ২০২৩ ক্রিমিয়ার ভুজকা বের কাছে গোয়েন্দা বাহিনীর পরিচালিত নৌড্রোন হামলায় এই ফল আসে, রাশিয়ার দুটি ছোট অবতরণ জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার পরিণতিতে উভয় জলযানই ডুবে যায়, আকুলা সরাসরি ডুবে যায় আর সেরনাকে রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়ার পর (সেটি ডুবে যায়)।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়ার উভচর জাহাজ দুটিতে বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যান উঠানো হয়েছিল এবং সেগুলোতে ক্রুরা ছিলেন।

ইউক্রনের সামরিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আন্দ্রি রেইজেনকো রেডিও এনভিকে বলেছেন, এ ধরনের জলযান হারানো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি। এসব জাহাজ দিয়ে অনেকটা অলক্ষ্যে কৌশলগত স্থলবাহিনী ও সরঞ্জাম পরিবহণ করা যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, নৌবাহিনীর লক্ষ্যস্থলগুলোর ওপর আক্রমণের কারণে ওই এলাকায় মস্কোর সামরিক শক্তি হ্রাস পেয়েছে।

এ হামলার পর রাশিয়ার কিছু জাহাজ সেভাস্তপোল থেকে চলে গেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।