All posts by jitu

আবারও বিমান থেকে গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ফেলল জর্ডান

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বিমান থেকে আবারও চিকিৎসা সরঞ্জাম ফেলেছে জর্ডান। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কাতারের সহযোগিতায় সহায়তা প্রদানের এই কাজটি সম্পন্ন করে জর্ডানের সেনাবাহিনী।

এর আগে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় বিমান থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছিল জর্ডান। রোববার (১২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় তাদের ফিল্ড হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা সহায়তার আরেকটি চালান রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি বিমান থেকে নিচে ফেলা হয়েছে বলে জর্ডানের সেনাবাহিনী রোববার জানিয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কাতারের সহযোগিতায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা পেট্রা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলের ক্রমাগত রক্তক্ষয়ী হামলার মধ্যে প্যারাসুটের মাধ্যমে হাসপাতালে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

এর আগে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ গত ৬ নভেম্বর জানান, জর্ডানের বিমান বাহিনী গাজায় জর্ডানের ফিল্ড হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ও ফার্মাসিউটিক্যাল সহায়তা পাঠিয়েছে।

সেসময় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিমান বাহিনীর নির্ভীক সেনারা মধ্যরাতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্যারাসুটের মাধ্যমে গাজায় অবস্থিত জর্ডানের ফিল্ড হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। গাজা যুদ্ধে আহত আমাদের ভাই ও বোনদের প্রতি এটি আমাদের দায়িত্ব। আমরা সবসময় আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের পাশে থাকব।’

অবশ্য জর্ডান কি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করে বা আগে থেকে জানিয়ে গাজায় এই চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। কারণ ইসরায়েলের ভয়- গাজায় তাদের অনুমতি ছাড়া ত্রাণ সহায়তা পাঠালে; ত্রাণের আড়ালে অস্ত্র বা প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম নিয়ে আসতে পারে হামাস।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েলের এই বিমান হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনও অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের বাড়ি-ঘর সব জায়গায় হামলা চালিয়ে আসছে।

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহত এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শিশু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যাও তিন হাজারের বেশি।

এছাড়া গত ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গাজাকে পুরেপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিশর সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং দিয়ে পরিমাণে খুবই অল্প জরুরি ত্রাণ গাজায় পাঠানো হচ্ছে।

অবশ্য সেগুলোর ওপরও কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে ফের মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকার ঘোষিত সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ফের মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। তবে এরই মধ্যে পোশাকশ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টা থেকে মিরপুর ১৩ নম্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ শ্রমিক। এতে মিরপুর ১৩, ১৪ ও ১০ নম্বরে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মূল সড়কসহ আশপাশের সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পোশাকশ্রমিকরা বেশিরভাগ মিরপুর ১৩ নম্বরের ভিশন, এমবিএম, লোডস্টার, সারোজ গার্মেন্টসসহ আশপাশের গার্মেন্টসের শ্রমিক বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, তাদের বেতন ন্যূনতম ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। নতুন যে ন্যূনতম বেতন ১২ হজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তারা মানেন না বলে জানান।

সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে রাখলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুকুল আলম বলেন, সকালে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছেন। সকাল ৯টার পর তারা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে গেছেন।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সকাল সোয়া ৮টার দিকে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানের কয়েকশ শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করেন। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে তারা রাস্তা অবরোধ করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, শনিবার দুপুরে একই দাবিতে মিরপুর ১৩ নম্বরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। পরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে কুবি উপাচার্য

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইরফান উল্লাহকে দেখতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন।

গত ৯ই নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) মুহাম্মদ ইরফান উল্লাহ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের জাগরজুলি বিশ্বরোড এলাকায় তিশা বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরি ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রথমে মাতুয়াইল এসএমসি স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় কিন্তু সেখানে তার অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।

বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফার্মেসি বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম জানান, আজ সকালে তার অপারেশন হয়েছে। মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ফলে তার মস্তিষ্ক ফুলে যায়, এর ফলে অপারেশনের মাধ্যমে মাথার খুলি আলাদা করে ফ্রিজিং অবস্থায় রাখা হয়েছে। ডাক্তার জানান, আগামী তিনদিন ইরফানের জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা নেই।

এ দিকে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এফ এম আবদুল মঈন আহত শিক্ষার্থী ইরফানকে দেখতে যান। তিনি জানান, আমি ইরফানকে দেখতে গিয়েছি। আমি সহ প্রক্টরিয়াল বডি তার খবরাখবর নিয়েছি এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার যতোটুকু সম্ভব সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রসাশনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

ময়নামতির ওয়ার সিমেট্রিতে বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিতে কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিগণ।

শনিবার সকাল পৌনে এগারটায় কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রির হলিক্রস পাদদেশে এ শ্রদ্ধা জানান তারা।

এর আগে আয়োজিত প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দকে অভিবাদন জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাইকমিশনার পিটার হাস্, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জাপান হাইকমিশনার ইয়োমা কিমিনরি ও অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার নারদিয়া সেম্পসন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে কূটনীতিকরা বলেন, মানব সভ্যতার ইতিাসে সর্বহৎ ও নৃশংসতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সামরিক ও বেসামরিক লাখো লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ব শান্তির জন্য ওই যুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ আমাদের সামনে এগিয়ে আসছে। তাই আমাদেরও সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগুতে হবে। আশা ভালোবাসা সাহসিকতা দিয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। এই চলার গন্তব্য যেন হয় সুখময় সুন্দর। আমাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে।বিশ্বব্যাপি শান্তি ও মানবতার পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা যতো মানবিক হবো, ততো বেশি আলোকিত হবো। তবেই আমরা অন্ধকার অতিক্রম করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি বিগ্রেডিয়ার এম এস সাবারওয়াল, পাকিস্তানের প্রতিনিধি সাইয়েদ আহমেদ মারুফসহ ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বিভিন্ন দেশের মোট ৬৮ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কমনওয়েলথভূক্ত দেশের হাইকমিশনারগণ প্রতিবছর ১১ নভেম্বর কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হোন। শনিবার সকালে এদিনটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার, প্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সমবেত হন।

এদিন সকালে সমাধিস্থলের পশ্চিমে হলিক্রস সীমানায় নিহত সৈনিকদের স্মরণে প্রথমেই পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা লুৎফুর রহমান। তারপর পবিত্র বাইবেল পাঠের পর চট্টগ্রাম বেথলেহেম চার্চের যাজক ড. আলফ্রেড অধিকারী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর আগে প্রার্থনা প্রার্থনা পর্ব শুরু হয়। এসময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। নিবর নিস্তব্দ হয়ে ওঠে পুরো সমাধিক্ষেত্র। কিছুক্ষণ নিরবতা পালন শেষে শুরু হয় নিহত সৈনিকদের স্মরণে হলিক্রস পাদদেশে ফুলেল শ্রদ্ধা অর্পন পর্ব।

প্রথমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডারের পক্ষে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সাতটি দেশের হাইকমিশনার ও ডেপুটি হাইকমিশনারগণ হলিক্রসে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। প্রার্থনা অনুষ্ঠান শেষে হাইকমিশনার, প্রতিনিধি ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনরা ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রিতে শায়িত যোদ্ধাদের সমাধি ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে নয়নাভিরাম জায়গা জুড়ে অবস্থিত ময়নামতি ওয়ারসিমেট্রি বা কমনওয়েলথ রণসমাধি ক্ষেত্র। এখানে ১৩ দেশের ৭৩৭জন যোদ্ধার মধ্যে ব্রিটেনের ৩৫০ জন, কানাডার ১২ জন, নিউজিল্যান্ডের ৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ১ জন, পূর্ব আফ্রিকার ৫৬ জন, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬ জন, ভারতের ১৭২ জন, বার্মার ১ জন, দক্ষিণ রোডেশিয়ার ৩ জন, বেলজিয়ামের ১ জন, পোল্যান্ডের ১ জন, জাপানের ২৪ জন এবং বেসামরিক ১ জনকে সমাহিত করা হয়। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে চিরনিদ্রায় শায়িত সৈনিকদের মধ্যে মুসলিম ধর্মের ১৭২ জন, বৌদ্ধ ধর্মের ২৪ জন, হিন্দু ধর্মের ২ জন এবং বাকিরা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। লন্ডন ভিত্তিক কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশন নামে একটি সংস্থা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।

কাশ্মিরের ডাল লেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের শ্রীনগরের ব্যাপক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ডাল লেকে হাউসবোটে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিন বাংলাদেশি পর্যটক নিহত হয়েছেন। শনিবার ডাল লেকের কয়েকটি হাউসবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওই বাংলাদেশিরা মারা গেছেন।

কাশ্মিরের পুলিশ বলছে, শনিবার ভোরের দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ডাল লেকের কয়েকটি হাউসবোট ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে তিন বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া সাফিনা হাউসবোটে ছিলেন ওই তিন বাংলাদেশি। পুলিশ বলছে, ডাল লেকের ৯ নাম্বার ঘাটের কাছের একটি হাউসবোটে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য হাউসবোটও পুড়ে যায়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় অন্তত পাঁচটি হাউসবোট একেবারে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আগুনে আরো কয়েকটি হাউসবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাশ্মির পুলিশ।

গণতন্ত্রের নামে দেশে অত্যাচারী স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে: জিএম কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

গণতন্ত্রের নামে দেশে অত্যাচারী স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, এ থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য আমরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দেব। স্বৈরাচারদের কথা হচ্ছে এক সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা আসে। এক সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে মূলত অস্থিতিশীলতার বীজ বড় হতে থাকে। সরকার বা নেতা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তাতে সমাজে ও অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে সেটাই হচ্ছে স্থিতিশীলতা।

শনিবার জাপার বনানী কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জিএম কাদের এসব বলেন।

জিএম কাদের বলেন, আমেরিকা, ভারত ও জাপানসহ অনেক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান পরিবর্তন হয় কিন্তু তার কোনো প্রভাব পড়ে না সমাজ ও অর্থনীতিতে। কিন্তু একজনকে জোর করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখলে মানুষের মনে একটি আগুন জ্বলতে শুরু করে, তা একসময় বিস্ফোরণ হয়। আমাদের দেশে স্বাভাবিকভাবে কোনো পরিবর্তন হলেও দেশ কোথায় যাবে তা নিয়ে মানুষ চিন্তিত। আমরা চাই সরকার ব্যবস্থা এমন হবে তাতে সরকার পরিবর্তন হলেও স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে না। স্থিতিশীলতা এলেই বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আসবে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র থাকলে, দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার জন্য কেয়ারটেকারের মতো প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তারা জনগণের কথামত দেশ চালাবে এবং জনগণ তাদের সমালোচনা করতে পারবে। সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের ইচ্ছের বাইরে চললে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকতে হবে জনগণের মধ্যে। দেশে নির্বাচনের নামে সিলেকশন চলছে। দেশের মানুষ ইলেকশনের নামে সিলেকশন চায় না। সংবিধান অনুযায়ী আইনকানুন ঠিক আছে কিন্তু ইলেকশনের নামে সিলেকশন হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় কেউ চাইলেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জার্মানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে বলা হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র থেকে বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসিত দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পদ্ধতিকে এগিয়ে নেওয়াকে গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়া বলা যায় না।

জিএম কাদের বলেন, উন্নয়নের নামে মানুষের ওপর অত্যাচার ও দেশে লুটপাট চলছে। অবকাঠামো উন্নয়ন মানুষের উন্নয়ন নয়। প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন। মানুষের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিত হয় গণতন্ত্রে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। বৈষম্যের মাধ্যমে সরকার একটি শ্রেণি সৃষ্টি করেছে। অর্থ-সম্পদ দিয়ে তাদের ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে। আর শতকরা ৯০ ভাগ মানুষকে যেন নর্দমায় ফেলা হয়েছে। তাদের অধিকার নেই, আয় নেই, তাদের দিন চলে না। বলা হচ্ছে, মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার। দেশের কয়টি মানুষের আয় বছরে তিন হাজার ডলার? তিন হাজার কোটি টাকা আয়ের মানুষ সৃষ্টি হয়েছে, তারা বাংলাদেশের রক্ত চুষে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে তারা দেশে লুটপাট চালিয়েছে। এদের কারণেই সাধারণ মানুষ খেয়েপরে থাকতে পারছে না।

তিনি বলেন, তৈরী পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছে, তাদের বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। ৮ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে একটি পরিবার চলে? বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে শ্রমিকদের রেশন দেওয়া হোক, দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দেওয়া হোক। যেন দাশপ্রথা চলছে, ওরা মরে গেলে যাক, ওদের দিয়ে আমাদের ব্যবসা করতে হবে। সিপিডির দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৪ জনের একটি পরিবারের শুধু মাসের খাবার খরচ ২২ হাজার ৪২১ টাকা। তাহলে তাদের বিদ্যুৎ বিল, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও পোশাকের খরচ আসবে কোথা থেকে? শ্রমিকরা রাস্তায় নামলেই নাশকতাকারী? তাদের দেখভালের দায়িত্ব কার? সরকার কোথায় টাকা পায়? এই মানুষগুলোর টাকায় তো সরকার দেশ চালাচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, একটি দেশের বিচার বিভাগ সভ্যতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক। বিচার বিভাগ দিয়েই একটি দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন পরিমাপ করা যায়। সংবিধানে আইনের সমতার কথা বলা আছে। রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র কখনোই আইনের শাসন দিতে পারে না। এতে একটি গোষ্ঠী বা ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই গণতন্ত্রের আবির্ভাব হয়েছিল। গণতন্ত্রে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। নিউইয়র্ক টাইমস কয়েকদিন আগে নিবন্ধ লিখেছে, বাংলাদেশে বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দেশে হয়রানি করা হচ্ছে তা বিভিন্ন দেশে আলোচিত হচ্ছে।

সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে জিএম কাদের বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, হাইকোর্টের অধীনে থাকবে অধীনস্থ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, তাদের প্রমোশন থেকে সব কিছু দেখবে দেশের রাষ্ট্রপতি। আবার ৪৮ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দুটি কাজ ছাড়া সবকিছুতেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে হবে। তাই নিম্ন আদালত শতভাগ সরকার বা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ, তাদের কোনো স্বাধীনতা নেই। ৯৫ ধারা অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে। তাই নিম্ন আদালত সম্পূর্ণ ও উচ্চ আদালতের প্রায় ৯৯ ভাগই সরকারপ্রধানের অধীনে রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে আমাদের সংবিধান। এমন বাস্তবতায় আইন সবার জন্য সমান হতে পারে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। কয়েক দিনের উপনির্বাচনেও এখন সরকারকে সিল মারতে হয়। বর্তমান ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আনুপাতিক হারে নির্বাচন হলেই দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।

কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি কাউকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাচনে যাবে না। কারো ক্ষমতার সিঁড়ি হতেও নির্বাচনে যাবে না জাতীয় পার্টি। প্রমাণ হয়েছে সরকারি দলের কর্মীরা ১ মিনিটে ৪৫টি ভোট দিতে পারে। তাই বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া হচ্ছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাঁতার কাটা।

জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম আব্দুল মান্নান, সুনীল শুভরায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান, অ্যাডভোকেট লাকী বেগম, আনিসুল ইসলাম মণ্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জহিরুল হক জহির, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, মো. খলিলুর রহমান খলিল। ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, জাহাঙ্গীর আহমেদ, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাসানী, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু প্রমুখ।

সূত্র: যুগান্তর

অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আবারও নৌকায় ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে, আর বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে।

শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি টাউনশিপ মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমরা চাই আপনারা সুন্দরভাবে বাঁচুন। প্রত্যেক মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। যাতে মানুষ কষ্টে না থাকে, সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের জীবনমান যাতে উন্নত হয়, নিরাপদ হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

তিনি বলেন, বিএনপি করে হত্যা-অগ্নিসন্ত্রাস। তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াতের মনুষ্যত্ববোধ নেই, তাই জনগণকে তাদের বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, ফলে মুদ্রাস্ফীতি একটু বেড়েছে। কিন্তু সেটাও নিয়ন্ত্রণে আমরা চেষ্টা চালিয়েছি। খুব শিগগির মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে। মানুষ আরও ভালোভাবে চলতে পারবে বলে আশা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ বছরের আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে বলেই দেশের পরিবর্তন হয়েছে। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। আগামী নির্বাচনেও আমরা চাইবো, আপনাদের ভোটের মাধ্যমে আপনাদের সেবা করতে পারি, যে কাজগুলো এখনো শেষ হয়নি সেগুলো শেষ করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যেদিন বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, সেদিন আমার কেউ ছিল না। যাদের রেখে গিয়েছিলাম, এসে পেয়েছি সারি সারি কবর। আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি আমার বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ। কাজেই আপনাদের কল্যাণের জন্য, আপনাদের উন্নয়নের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের রক্ত দিতেও প্রস্তুত আছি। শুধু আপনাদের কল্যাণ করাটাই আমার একমাত্র কাম্য। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাবা-মা, ভাই, সব হারিয়েছি। আমাদের হারাবার আর কিছু নেই, পাওয়ারও কিছু নেই। শুধু একটাই কাজ- বাংলাদেশের মানুষ যেন ভালো থাকে। যেভাবে আমার বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই বাংলাদেশই আমি গড়ে তুলতে চাই। আমার বাবার স্বপ্নটাই পূরণ করতে চাই।

এর আগে শনিবার দুপুরে কক্সবাজারে আইকনিক রেলস্টেশন ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধন করে ট্রেনে রামুতে যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাউনশিপ মাঠে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় পৌঁছান।

জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেল উদ্বোধন এবং প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া কক্সবাজারে ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

এগুলো হলো- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্তি প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং অ্যাপ্রোচ রোড ও ব্রিজ। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪টি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। এছাড়া রয়েছে জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিà¦