Tag Archives: ৪ অপহরণকারি গ্রেফতার

মুরাদনগরে অপহরণ হওয়া যুবতী দাউদকান্দিতে উদ্ধার, ৪ অপহরণকারি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগরে অপহরণের ১২ ঘন্টার মধ্যে অপহরণকৃত ভিকটিমকে দাউদকান্দি থেকে  উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময়  ৪ জন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া চার অপহরণকারি হলেন  মুরাদনগরের মধ্যপাড়া গ্রামের মো: ওমর আলীর ছেলে  মোঃ নাজমুল হাসান (২৭), মুরাদনগর দক্ষিণ পাড়ার  সফিকুল  ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২৬) ,  মধ্যপাড়ার ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে  শরীফ (২৭) ও একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে রাসেল (২৫)।

গত ২৭ জুলাই রাত সাড়ে ৭ টায়  মুরাদনগরের উত্তরপাড়ার  মৃত. ইউনুছ মিয়ার স্ত্রী  লুৎফা বেগম (৫৬) থানায়  লিখিত  অভিযোগ করে জানান যে, বিগত  ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  মোঃ নাজমুল হাসান (২৭) এর সাথে তার মেয়ে ভিকটিম জান্নাতুল ফেরদৌসীর (২৫) এর পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের কিছুদিন পর হতে মোঃ নাজমুল হাসান বিভিন্ন সময় মাদক সেবন করে তার পরিবারের প্ররোচনায় যৌতুকের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসীকে মারধর করত। উক্ত বিষয় মেয়ের পরিবারে অবহিত করলে গত ৩ বছর ৬ মাস পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে জান্নাতুল ফেরদৌসী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মোকদ্দমা নং- ২৯০/২০ মামলা দায়ের করে।

গত ২৭ জুলাই  সকাল  ৭ টার সময়  লুৎফা বেগম এবং তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসীসহ সিএনজি যোগে উক্ত মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মুরাদনগরের নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের রামনীমোড়া কবরস্থানের সামনে মুরাদনগর টু কোম্পানীগঞ্জ বাজার গামী পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে মোঃ নাজমুল হাসানের নেতৃত্ব অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন হাতে ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ সিএনজির গতিরোধ করে ছুরি দ্বারা আঘাতের বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক অপহরণ করে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার যোগে কোম্পানীগঞ্জের দিকে চলে যায়।

এ ঘটনার পর মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  পীযুষ চন্দ্র দাস এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ ফারুক হোসেনসহ মুরাদনগর থানার একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অদ্য ২৮ জুলাই  ভোর ৪ টার সময় দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউপির যোগপাড়া গ্রামের ফকির বাড়ির জনৈক মোঃ অলি উল্লাহর বসত বাড়ি হতে অপহরণকৃত জান্নাতুল ফেরদৌসীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৪ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায়  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  গ্রেফতারকৃতদের মাঝে অপহরণকারী মোঃ নাজুমল হাসানের  বিরুদ্ধে পূর্বে সর্বমোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

কুমিল্লা হতে অপহৃত কিশোরীকে চট্টগ্রাম হতে উদ্ধার, ৪ অপহরণকারি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার লাকসাম হতে অপহৃত কিশোরীকে চট্টগ্রাম হতে উদ্ধার করেছে কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এ সময় ৪ অপহরণকারিকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা র‌্যাব এক প্রেস ব্রিফিং করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, ফেনি জেলার নোয়াবাদ এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে এয়াকুব আলী মিন্টু ওরফে মিলন (৩১), এয়াকুব আলী মিন্টু @ মিলনের স্ত্রী মোছাঃ জেসমিন (২৪), বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার চাটমোহর থানার আফঅজ মন্ডলের মেয়ে আফরোজা আক্তার আশা ওরফে সুমি ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের কুলাউড়া উপজেলার মুনসুরপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে মোঃ আঃ মোমিন (৩০) ।

কুমিল্লা র‌্যাব সূত্র জানায়, কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এক কিশোরী মেয়েকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অপহৃত ভিকটিমের মা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা ক্যাম্পে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং জানান যে, কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা মুক্তিপণ দাবি করছে। এই বিষয়ে ভিকটিমের মা ৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন এর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনা করে দেখা যায়, যে ৫ টি মোবাইল ফোন থেকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে সে সবগুলোই চুরি করা মোবাইল। এরপর র‌্যাব বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করে ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় আবারও অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে একটি আস্তানা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয় এবং ৪ জন অপহরণ ও ধর্ষণকারিকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, ইয়াকুব আলী মিন্টু @ মিলন কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম থেকে এসে লাকসামে ভিকটিমের পাশের বাসায় একটি রুম ভাড়া নেয়। সেখানে মিন্টু, তার স্ত্রী (জেসমিন) ও তার মাকে নিয়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই মিন্টু ও তার স্ত্রী ভিকটিমকে টার্গেট করে এবং তার সাথে সুসম্পর্ক তৈরির প্রয়াস চালায়। ভিকটিম চঞ্চল প্রকৃতির একটি মেয়ে হওয়ায় সে অপহরণকারিদের আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়ে যায় এবং অপহরণকারি দম্পতির সাথে তার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে মিন্টু চট্টগ্রামে অবস্থানরত তার সহযোগী মোঃ এয়াছিন মিয়া, এয়াছিনের কথিত স্ত্রী আফরোজা আক্তার আশা ওরফে সুমি ও মোঃ আব্দুল মোমিনদের ফোন দিয়ে ভিকটিমের কথা জানায় এবং তাকে অপহরণ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায়। সবার অনুমতি পেয়ে মিন্টু ও জেসমিন ভিকটিমকে কিডন্যাপ করার পরিকল্পনা করে।
তারই প্রেক্ষিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জেসমিন ভিকটিমকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং বলে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসবে। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে মিন্টু ও জেসমিনের সাথে যায়। এক পর্যায়ে কৌশলে ভিকটিমকে নেশা জাতীয় পানীয় পান করায় এবং লাকসাম ষ্টেশন থেকে ট্রেনে উঠিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। এরপর কিডন্যাপাররা ভিকটিমের মায়ের নম্বরে ফোন করে মুক্তিপণ দাবী করে। কিডন্যাপাররা এক পর্যায়ে ভিকটিমকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। তার মতের বিরুদ্ধে কাস্টমারদের সাথে অনৈতিক কাজ করতে চাপ দিতে থাকে। ভিকটিম রাজি না হওয়ায় তাকে চরম নির্যাতন করা হয় এবং জোরপূর্বক ইয়াবা সেবন করিয়ে নিজেরা ধর্ষণ করে ও কাস্টমারদের দিয়ে ধর্ষণ করায়।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।