Tag Archives: টার্গেট সেকান্দর আলীর সম্পত্তি

কুমিল্লার দুর্গাপুরে ওয়ারিশ সনদে পিতৃপরিচয় বদলের অভিযোগ, টার্গেট সেকান্দর আলীর সম্পত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুরে মৃত এক ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে একের পর এক নথি সামনে আসছে। পুরোনো ওয়ারিশ সনদে যে ব্যক্তিদের নাম নেই, পরবর্তী সময়ে তাঁদেরই ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে নতুন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের পিতার নাম ও জন্মতারিখ নিয়েও বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকা, কাবিননামা ও অন্যান্য নথিতে অসঙ্গতি থাকার দাবি করেছেন সম্পত্তির দাবিদার নূরুল আমিন ভূঁইয়া।

অভিযোগকারীর দাবি, এর আগে একই দাবির ভিত্তিতে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার সম্পত্তির একটি অংশের নামজারি করে ১৫৮১ নম্বর খারিজি খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কুমিল্লার আদালতে করা নামজারি আপিলের পর ওই খারিজি খতিয়ান বাতিল হয়। সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরও ২০২৬ সালে একই ব্যক্তিকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে দেখিয়ে নতুন ওয়ারিশ সনদ দেওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—পুরোনো সিদ্ধান্ত ও নথি যাচাই না করেই কি নতুন সনদ দেওয়া হয়েছে?

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. নূরুল আমিন ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, সম্পত্তির মালিকানা দাবি করার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে এবং জমিলা খাতুনকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে দেখিয়ে নতুন ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়েছে।

নূরুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, তাঁর বাবা মরহুম হাজী সেকান্দর আলী ভূঁইয়া ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী রাহেলা খাতুন, দুই ছেলে হাজী আব্দুল বারী ভূঁইয়া ও নূরুল আমিন ভূঁইয়া এবং চার মেয়ে ছিলেন। সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর কোনো পর্যায়েই জমিলা খাতুন নামে কোন দ্বিতীয় কোন স্ত্রী ছিলেন না এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিবারের ওয়ারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো না।

নূরুল আমিনের দাবি, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সময়ের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার প্রকৃত ওয়ারিশদের নামে একাধিক ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালের ১৪ মার্চ, ২০১১ সালের ২১ জুন এবং ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সনদগুলোর কোথাও জমিলা খাতুনকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী কিংবা জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারিও একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ওয়ারিশদের নামে আরেকটি সনদ দেওয়া হয়। ওই সনদের নম্বর ২০২২১৯১৬৭৯৪০০০৮০৪। সেখানেও নূরুল আমিনসহ আগের ওয়ারিশদের নাম রয়েছে।

কিন্তু ২০২৬ সালের ১৭ মে দেওয়া নতুন ওয়ারিশ সনদে দৃশ্যপট বদলে যায়। ২৪১৯১৬৭৯৪১৭০০৪৩৯৮ নম্বরের ওই সনদে জমিলা খাতুনকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী এবং জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর ছেলে হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নূরুল আমিনের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলম ও জমিলা খাতুনকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী ও ছেলে দেখিয়ে এর আগেও একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়েছিল। ওই সনদের ভিত্তিতে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার সম্পত্তির একটি অংশের জন্য ১৫৮১ নম্বর খারিজি খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।

এর বিরুদ্ধে নূরুল আমিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কুমিল্লার আদালতে ২৯৮/১৬-১৭ নম্বর নামজারি আপিল মামলা করেন। তাঁর আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথি ও কাগজপত্র পর্যালোচনার পর ২০১৮ সালের ১ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদেশ দেন এবং ১৫৮১ নম্বর খারিজি খতিয়ান বাতিল করা হয়।

নূরুল আমিনের দাবি, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জমিলা খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলমের সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী ও ছেলে হিসেবে দাবি করার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

তবে ২০২৬ সালে আবারও একই পরিচয়ে ওয়ারিশ সনদ দেওয়ায় আগের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে নতুন সনদের সামঞ্জস্য নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভোটার তালিকায় বদলে গেছে পিতার নাম?

অনুসন্ধানের দাবি তুলে নূরুল আমিন আরও à