Tag Archives: বিশ্বরাজনীতিতে টক অফ দ্য টাউন: ইমরান খান ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট

বিশ্বরাজনীতিতে টক অফ দ্য টাউন: ইমরান খান ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট

রাকিব আল হাসান:

এ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার পর বিশ্বরাজনীতিতে টক অফ দ্য টাউন হচ্ছে ইমরান খান এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট। পাকিস্তানের রাজনীতি বলে এর নাটকীয়তাও চরমে, ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানোয় একদিন পর কি হতে যাচ্ছে সেটি নিয়ে প্রেডিকশন করাও ভীষণ দূরুহ৷ এখন পর্যন্ত খবর, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন হবে বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু নির্বাচনটি আদৌও হবে কিনা, হলে কখন কীভাবে সে নিয়েও নানা জল্পনা কল্পনা থেমে নেই৷ অনেকের আশংকা পাকিস্তান আবার সরাসরি চলে যাবে পুরোদমে সামরিক শাসনের অধীনে।

একটা সময় পর্যন্ত বেশ স্ট্যাবল ছিলেন ইমরান খান। পঁচাত্তর বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করে রেকর্ড করতে যাচ্ছিলেন তিনি, এমনকি পাকিস্তানের থিংক ট্যাংকদের ধারণা ছিল আগামীতেও ক্ষমতায় আসবেন ইমরান-ই। কিন্তু এ মুহূর্তে এসব সম্ভাবনা আর নেই। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগে ইমরান খানের জোট সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। ইমরানের জোটের শরিকরা বিরোধীতে যোগ দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় তার সরকার। এমতাবস্থায় অনাস্থা ভোট হলে ইমরানের পরাজয় নিশ্চিত ছিল। সেখানে ভোট হতে না দিয়ে দুসরা মারলেন ডেপুটি স্পিকার।

পাকিস্তান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫ দেখিয়ে এই অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিককে নিজ দেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করতেই হবে। ইমরানের দলের দাবি ‘বিদেশি দেশের প্ররোচনায়’ যেহেতু এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে তাই অনাস্থা প্রস্তাব আনয়নকারীরা দেশের প্রতি অনুগত নন। তাই এই প্রস্তাব সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫-এর পরিপন্থী। ডেপুটি স্পিকার সেটা মেনে প্রস্তাবটি খারিজ করে দেন।

সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার কাজটি ইমরান অনেক আগেই করতে পারতেন। শরিক দলগুলোকে ম্যানেজ করতে পারবেন বলে বিশ্বাস ছিল ইমরানেরও। ইমরানের অবস্থান নড়বড়ে হবার অন্যতম প্রধান কারণ রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো সফর এবং রাশিয়াকে সমর্থন করায়৷ যা মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ করেছে পশ্চিমাদের। কিন্তু এতকিছুর পরেও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় নিজের ফেভারে পরিস্থিতি নেয়ার জন্য ভোট ফেইস করার আগে সংসদ ভেংগে দেয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয় এবং ইমরানের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কের উদাহরণ হয়ে থাকলো। অপরদিকে তার দিক থেকে চিন্তা করলে ইমরান ইয়র্কার বলকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ফুলটস বানিয়ে আপাতত এই বলে ছক্কাই হাঁকালেন।

পাকিস্তানের এই সংকট এখন কোর্টে যাবে। সেখানে আবার ঘটনার মোড় পরিবর্তন হবার সম্ভাবনাও প্রবল। এদিকে বিরোধীরা প্রতীকী অধিবেশনে শাহবাজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তাতে বরং সমস্যার সমাধান না হয়ে উলটো বাড়ার সম্ভাবনাও আছে। কারণ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঐক্যমত নিয়ে সংকট চলে যাবে চরম পর্যায়ে। আবার সুপ্রীম কোর্ট অনাস্থা প্রস্তাব আবার কোর্টে আনলে তা ইমরান মানতে চাইবেন না। সেক্ষেত্রে সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না এখনই।

খালি চোখে অনেকে হয়তো বলবেন রাশিয়াকে সমর্থন দেয়ায় ইমরানের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত তারও আগে থেকেই। ইমরান তার পছন্দের ক্যান্ডিডেটকে সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে চাওয়ায় এবং তাতে ব্যর্থ হওয়ায় তখন থেকে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মিলিটারি প্রধানের সাথে৷ পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সামরিক অভ্যুত্থানের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সে জায়গাতে অনেকে ভাবছেন সংকট দীর্ঘতর হলে সেটি রূপ নিতে পারে সামরিক অভ্যুত্থানের। কিন্তু উদার-গনতান্ত্রিক বাইডেন প্রশাসন এবং পশ্চিমা সমর্থন সেক্ষেত্রে পাবে না বলে সে সম্ভাবনা দেখছি না। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীরাই মুভমেন্টের গতিপ