Tag Archives: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা: ২৬ জনকে ইয়েস কার্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গুলিবিদ্ধ চেয়ারম্যান প্রার্থী মারা গেছেন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত চেয়ারম্যান প্রার্থী এরশাদুল হক (৩৫) মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহত এরশাদুল হক উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছেলে এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এই গুলির ঘটনায় নিহত হন বাদল সরকার (২৩) নামে এক যুবক। নিহত বাদল একই ইউনিয়নের নান্দুরা গ্রামের সন্তোষ সরকারের ছেলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাদলের পর এরশাদও ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পৃথক ঘটনায় সুজন মিয়া (৪০) ও হোসেন মিয়া (৫০) নামের ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সুজন মিয়া উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মৃত কামাল মিয়ার ছেলে। সে পেশায় দিনমজুর ছিলেন।

জানা যায়, সুজন মিয়া বুধবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে রতনপুর পূর্ব পাড়া চকবাজারের পাশ্ববর্তী একটি পুকুরের পাড়ে সুজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে হোসেন মিয়া নবীনগর পৌর এলাকার ভেলানগর গ্রামের মৃত বাবর আলী’র ছেলে।

জানা যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হোসেন মিয়াকে তার শাশুড়ি বুধবার রাতে পাতিল দিয়ে আঘাত করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা শাশুড়ির বিরুদ্ধে আঘাত করার অভিযোগ আনলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হোসেন মিয়ার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে করোনা আক্রান্ত স্বামীর সেবা করতে গিয়ে জীবন দিলেন স্ত্রী

 

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগরঃ

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক সমকাল পত্রিকা নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি মাহাবুব আলম লিটনের স্ত্রী রাশিদা আক্তার (৫১) আজ রবিবার সকালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গ্রামের বাড়ি উপজেলার রতনপুরে ২য় জানাজা শেষে মরহুমার বাবার কবরের পাশে লাশ দাফন করা হয়েছে।

জানা যায় গত ১৮ জুলাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুব আলম লিটন। আইশোলেশনে থাকা অবস্থায় স্বামীর সুস্থতায় সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সেবা করেছেন স্ত্রী রাশিদা আক্তার। উপজেলা পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদা আক্তার স্বামীর সেবা করতে গিয়ে কখন যে নিজেই অসুস্থ হয়ে গেছেন তা উনার জানা ছিল না। গত ২৪ জুলাই শুক্রবার মাহবুব আলম লিটন এর করোনা পরীক্ষার ২য় রিপোর্টটি নেগেটিভ আসলে পরিবারের মাঝে আনন্দ ফিরে আসলেও শনিবার স্ত্রীর অসুস্থতায় সেই আনন্দ বিলীন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক রাশিদা আক্তারকে কুমিল্লা রেফার করেন।

পরে করোনা উপসর্গ (শ্বাসকষ্ট) নিয়ে কুমিল্লা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। বাদ যোহর নবীনগর ইচ্ছাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১ম জানাজা শেষে ২য় জানাজার জন্য মরহুমার বাবার বাড়ি উপজেলার রতনপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২য় জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হয় রাশিদা আক্তারকে।

১ম জানাজায় অংশগ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির, পৌর মেয়র এড. শিব শংকর দাস, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নবীনগর শাখার সভাপতি আবু কামাল খন্দকার, নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম সবুজ, বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহমেদ সুবীর, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন, ফতেহপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মো. সফর মিয়াসহ উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।

জানাজার প্রাক্কালে স্বামী মাহাবুব আলম লিটনের অশ্রুসিক্ত বক্তব্যে উপস্থিত সকল মুসল্লির মাঝে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইয়াবাসহ আটক ৩ জন

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগর :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর দায়িত্ব নেয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা থেকে মাদক নির্মূলে পৌর এলাকায় প্রথম সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

সরেজমিন ও থানা সূত্রে জানা যায়, নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিনসহ সকল অফিসারদের সমন্বয়ে নবীনগর পৌর এলাকায় মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর। অভিযান কালে মাঝিকাড়া গ্রামের মৃত ওসমান মিয়ার ছেলে মোঃ কাউছার মিয়া (৪২) ও তার স্ত্রী নয়নতারা (৪০), কে ৯০ পিছ ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

পরে আটককৃত কাউছার মিয়া ও তার স্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে আরেক মাদক ব্যবসায়ী পৌর এলাকার আদালত পাড়ার মৃত আব্দুল বারী’র ছেলে মহিউদ্দিন (৪৯) কে আটক করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত ৯০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক ব্যাবসায়ী মহি উদ্দিনের কাছ থেকে ক্রয় করেছে বলে পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে আকটকৃত কাউছার মিয়া। এঘটনায় নবীনগর থানার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আটককৃত ৩জনকেই আজ রবিবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে কেউ যদি সুপারিশ করে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে নবীনগর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর আজকের কুমিল্লাকে বলেন, আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আজ আরও ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

 

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগরঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আজ নতুন করে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্টে উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন।

জানা যায়, রবিবার নতুন করে উপজেলার মোহল্লা, দাপুনিয়া, ইব্রাহিমপুর, বাড়িখলা, রসুল্লাবাদ, গোপালপুর, লাপাং গ্রামের এবং নবীনগর পৌর এলাকার নারায়ণপুর,কলেজ পাড়া, উত্তর পাড়া, মধ্য পাড়ার বাসিন্দা ও জনতা ব্যাংকের স্টাফ, ইউএনও অফিসের স্টাফ, নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীসহ নবীনগর উপজেলায় ২৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

অপর দিকে গত ৪ জুন নবীনগরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান সহ ৭ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তারা বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোশরাত ফারহান্দা জেবিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এসিল্যান্ড ও ৮ দিনের শিশুসহ ১২ জনের করোনা শনাক্ত

 

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগরঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হাসান করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে শুরু থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমের সাথে থেকে যিনি সার্বক্ষণিক উপজেলাবাসির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। তিনিই আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

আজ নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ১২ জনের মধ্যে ৮ দিনের এক শিশুও রয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৭ জনে গিয়ে দাঁড়ালো। তবে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ১৩৭ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬৯ জন সুস্থ হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।

জানা যায়, আজ রবিবার আইইডিসিআর হতে নতুন করে ১২ জনের করোনা পজিটিভ হওয়ার রিপোর্ট এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মোশরাত ফারখান্দা জেবিন।

আজ প্রাপ্ত রিপোর্টে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, নবীগরের এসিল্যান্ড ইকবাল হাসান (২৯), মো. জিলানী (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩৬), তৌহিদ হোসেন (২১), ইমন মিয়া (২০), মাহমুদা (৪০), মোর্শেদা খাতুন (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৫৪), আমিনুল হক (২৬), মো. সামির (২৫), নজরুল ইসলাম (৪২) ও ৮ দিনের শিশু আজুয়া।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, আতংকিত না হয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে আমাদের সকলের চলা উচিত। বিশেষ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ারও পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের একদিন পর প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগরঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে শ্রীরামপুর পশ্চিম পাড়া চৌধুরী বাড়ির পাশের জমি থেকে এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ। পরে ওই মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের কুড়িনাল গ্রামের প্রবাসী বাবুল মিয়ার স্ত্রী শিরিন আক্তার (৩৫) শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে। বিগত ৪ বছর যাবত স্বামী প্রবাসে থাকায় শিরিন আক্তার বাবার বাড়ি গোপালপুর গ্রামেই অবস্থান করতেন। গতকাল দুপুরে শিরিন আক্তার মোবাইলে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আজ সকালে শ্রীরামপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়া চৌধুরী বাড়ির পাশে একটি কৃষি জমিতে শিরিন আক্তারের মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ এসে শিরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে, ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করে। তবে প্রাথমিকভাবে শিরিন আক্তারের শরীরে কোন প্রকার আঘাতের চি‎হ্ন না থাকায় এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে তা বুঝা যাচ্ছেনা।

এ বিষয়ে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, আমি খবর পেয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসা নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন জানান, আজ সকালে আমরা খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক ভেঙ্গে দু’ভাগ, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রীরা

 

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগরঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর সড়কের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর নামক স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দু’ভাগ হয়ে গেছে সড়ক। এতে ওই সড়ক দিয়ে জেলা সদর থেকে নবীনগর পর্যন্ত সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবারের ভারী বর্ষণে সড়কটিতে ভাঙ্গন দেখা দেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর এলাকায় সড়কের পাশে থাকা বাড়িঘরের পানি সড়কের উপর দিয়ে নিষ্কাসনের ফলে এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সড়কের ওই স্থান দিয়ে কোন যানবাহন পেরুতে পারছেনা।

নবীনগরের সীতারামপুর থেকে জেলা শহরের গোকর্ণঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বর্তমানে একটি ব্যস্ততম সড়ক। নবীনগর উপজেলার মানুষ ছাড়াও সদরের কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজনের চলাচল রয়েছে এই সড়কে। যাত্রী পরিবহনে সড়ক দিয়ে শতশত সিএনজি, অটো ইজিবাইক, ব্যাটারী চালিত রিকসা চলাচল করে। পন্যবাহী নানা যান এবং অনেক প্রাইভেট গাড়ির চলাচল রয়েছে এই সড়কে।

শুধু এই ভাঙ্গনই না সীতারামপুর বাজার থেকে কৃষ্ণনগর বাজার পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার দুরত্বের প্রায় পুরো সড়কটির অবস্থাই একেবারে নাজুক। তবে সড়কটি একসময় পাকা থাকলেও, বর্তমানে সড়কটির প্রায় নব্বই শতাংশ থেকে সম্পূর্ণ পীচ ওঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে শতশত বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের। ফলে চলাচল অনুপযোগি বিধ্বস্থ এই সড়কটি দিয়ে অটোরিক্সা ও মটরসাইকেলে চড়ে অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এলাকাবাসিকে চলাচল করতে হয়। যার কারণে প্রায়ই অটোরিক্সা উল্টে দূর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

অতিদ্রুত সড়কটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে জানিয়ে সড়ক ও জনপথ ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ ভৌমিক মুঠোফোনে বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে এমটা হয়েছে। তবে আমরা দ্রুতই মেরামতের মাধ্যমে যাত্রী সাধারণের চলাচলের উপযোগী করে দিবো।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির মুঠোফোনে জানান, আমরা আমাদের জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের যোগাযোগ করছি, যতদ্রুত সম্ভব রাস্তাটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আজ নতুন করে আরও ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত

 

মো. দেলোয়ার হোসেন নবীনগরঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আজ নতুন করে আরো ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ জন। তিনদিনেই উপজেলায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৪০ জন হওয়ায় গোটা উপজেলায় এখন বিরাজ করছে আতংক। তবে ইতিমধ্যে ২৩ জন সুস্থও হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা যায়, আজ সোমবার আইইডিসিআর হতে আসা রিপোর্টে নতুন করে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এদিকে শুক্র, রবি ও সোমবার এই তিনদিনে উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪০ জন হওয়ায় এ নিয়ে গোটা উপজেরার সর্ব সাধারণের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তবে লকডাউন না থাকায় জনগণের বেপোয়ারা চলাচলে হু হু করে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

আজ প্রাপ্ত রিপোর্টে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যাক্তিরা হলেন, নবীনগর সদরের আজিজুর রহমান (৩২), সফিউদ্দিন (৪০), নুরজাহান (৫০), মনসুর রহমান (৫৪), নওরীন জাহান (১৭) ও নুসরাত জাহান (২১), রুপালী ব্যাংক নবীনগর শাখার স্টাফ আরিফুল ইসলাম (২৬), অগ্রণী ব্যাংক নবীনগর শাখার স্টাফ মফিজুর রহমান (৩৭) ও মো. আব্দুল কাইয়ুম (৫৫), কৃষ্ণনগরের মুসা মিয়া (৩৯), আলমনগরের শাহ আলম (৫০), জিনোদপুর মেরকুটার মুসা মিয়া (৫০) ও সাতমোড়ার সুলাইমান (৪২)।

তিনদিনে উপজেলায় করোনা রোগী ৪০ জন এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মোশরাত ফারখান্দা জেবিন জানান, আমাদের অসচেতনতায় এর মূল কারণ বলে আমি মনে করি। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আমরা হাসপাতালের আউটডোরে যে সংখ্যক রোগী দেখছি তাদের বেশিরভাগই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না, অনেকেই মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। জিজ্ঞেস করলে উল্টো আরো বলে মৃত্যু যখন হওয়ার হবে, মাস্ক পড়ে কি হবে? বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, আমাদের আরো সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করে চলতে হবে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়াই ভাল বলে উল্লেখ করেছেন এই চিকিৎসক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আজ আবারো ৮ জনের করোনা শনাক্ত, এলাকায় আতংক

 

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগরঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর মেয়রের পরিবারসহ তিনটি পরিবারের ১৯ জন করোনায় শনাক্ত হওয়ার পর আজ আবারো নতুন করে আরো ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ জনে গিয়ে দাঁড়ালো।

একদিনের ব্যবধানে উপজেলায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২৭ জন হওয়ায় গোটা উপজেলার মানুষের মনে এখন আতংক বিরাজ করছে। তবে করোনা শনাক্ত হওয়া ৭৩ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ জন সুস্থও হয়েছেন।

জানা যায়, আজ রবিবার আইইডিসিআর হতে নতুন করে ৮ জনের করোনা পজিটিভ হওয়ার রিপোর্ট এসেছে। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আইইডিসিআর হতে আসা রিপোর্টে পৌর মেয়র এড. শিব শংকর দাস এর পরিবারসহ তিনটি পরিবারের মোট ১৯ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মোশরাত ফারখান্দা জেবিন।

আজ প্রাপ্ত রিপোর্টে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মো. ইসমাইল হোসেন (২০), মো. আবুল বাশার (৪৮), শাহানূর আলম (৩৩), মো. আব্দুল জলিল (২২), মো. সাইদুর রহমান (৫৭), আব্দুল হান্নান (৩৩), আল আমিন (২৬) ও ঝরনা বেগম (৪৫)।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, আতংকিত না হয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে আমাদের সকলের চলা উচিত। বিশেষ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ারও পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

এই অবস্থাতে এখনই পুরো উপজেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম জানান, সার্বিক দিক বিবেচনা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ক্রমে যা করণীয় আমরা তাই করবো। তবে উপজেলাবাসীর প্রতি আমার একটাই অনুরোধ দয়াকরে আপনারা সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন এবং ঘরে থাকুন। আল্লাহ আমাদের সকলের মঙ্গল করুন।