ডেস্ক রিপোর্ট:
১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমির সুরক্ষার উদ্দেশ্য শিরোনামে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ নাম্বার ১২,২০২৬। অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে তা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
সমালোচকরা বলছেন ভূমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা ঠিক হয়নি। কেউ কেউ বলছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে একটি গ্রুপ ছিল যারা জনস্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ফায়দা লুটেছেন।
যারা এসব জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন তাদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনুস, আসিফ নজরুল ও রেজওয়ানা চৌধুরী নাম ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন তারা ছিলেন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য। তাদের কাজ ছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তারা সেটি না করে নিজেদের স্বার্থে অপ্রাসঙ্গিক সাবজেক্ট নিয়ে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। এতে রাষ্ট্র ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
যেমন ভূমি হচ্ছে দেশের জনসাধারণের স্বার্থ সংশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবতা যাচাই-বাছাই না করে এমন একটি বিষয়ে আধ্যাদেশ জারী করা ঠিক হয়নি। এই অধ্যাদেশের কারণে সমাজের সৃষ্টি হতে পারে সংঘাত। শুরু হতে পারে দাঙ্গা হাঙ্গামা। এসব সংঘাতে ঘটতে পারে ব্যাপক প্রাণহানী। বিনষ্ট হতে পারে সামাজিক স্বস্তি।
অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড উপেক্ষা করে কেবল প্রথাগত কিছু নামের তালিকা দিয়ে কৃষিভূমি নির্ধারণ করায় সাধারণ কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি ব্যাহত হবে পরিকল্পিত উন্নয়ন। এই অধ্যাদেশের প্রধান অসংগতিগুলো আলোচনা করা হলো।
১. কৃষিভূমির সংজ্ঞায় অতিরিক্ত ব্যাপ্তি ও বিভ্রান্তি:
কৃষিভূমির মূল ধারণা হলো এমন জমি যা প্রধানত ফসল উৎপাদন, উদ্যানতত্ত্ব, পশুপালন বা মৎস্যচাষের মতো সরাসরি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু প্রকাশিত গেজেটে এই সংজ্ঞাকে এতটাই বিস্তৃত করা হয়েছে যে, এতে এমন অনেক ভূমি ও অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা বাস্তবে কৃষি উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। তালিকায় ভিটা, ভিটি, ডাঙ্গা, নার্সারি, রাস্তার পাশের এলাকা, ভাগাড়, এমনকি বসতবাড়ি সংলগ্ন পরিত্যক্ত জমিও কৃষিভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই ঢালাও শ্রেণিবিন্যাস ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনায় গুরুতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
২. বসতভিটা যখন ‘কৃষি জমি’: কৃষকের ওপর নতুন খড়গ:
অধ্যাদেশটির সবচেয়ে বড় অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে এর আওতাভুক্ত ভূমির তালিকায়। এখানে নাল বা বিলান জমির পাশাপাশি ভিটা, ভিটি, ডাঙ্গা, এমনকি বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমি বা আবর্জনার ভাগাড়কেও কৃষিভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বাস্তবে কৃষকের থাকার ঘর বা বসতভিটা (ভিটি) কখনোই সরাসরি ফসল উৎপাদনের জমি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকের থাকার জায়গাকে যদি আইনিভাবে ‘কৃষি জমি’র সিল মেরে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে নিজের জমিতে ঘর তোলা বা সংস্কারের ক্ষেত্রেও কৃষককে চরম আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হবে। এটি কৃষকের মৌলিক অধিকারের ওপর এক ধরণের ‘অবিচার’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩. কৃষকের অধিকার বনাম আইনি জটিলতা:
বাস্তবে কৃষকের থাকার ঘর (ভিটি) বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের পুকুর সরাসরি ফসল উৎপাদনের জমি নয়; বরং এগুলো তার অস্তিত্ব ও আশ্রয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ভূমি গুলোকে আইনিভাবে কৃষি জমির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে ভবিষ্যতে নিজের ভিটায় ঘর তোলা, সংস্কার বা প্রয়োজনে ব্যবহারের ধরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কৃষককে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হবে। নি