Tag Archives: মানবিক মেসির মহত্ত্ব

মানবিক মেসির মহত্ত্ব

কর্নেল ডাঃ নাজমুল হুদা খান (অব.):

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করে বর্ণাঢ্য এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। দেশের হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা জয় করে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট, রেকর্ড, ট্রফি কিংবা বিশ্বকাপ জয়ের কথা বলি। ফুটবল মাঠে মেসি হয়তো প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেছেন অসংখ্যবার। তাই ম্যারাডোনার হাত ধরে আর্জেন্টিনা এবং গ্রেটেস্ট অফ অল টাইমস লিওনেল মেসির ভক্ত বিশ্বের শত শত কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাতারে আমিও । কিন্তু মাঠের বাইরে তাঁর সবচেয়ে বড় জয় অন্য কিছু—মানুষের হৃদয় জয় করা। আর সেই কারণেই লিওনেল মেসিকে শুধু একজন মহান ফুটবলার হিসেবে নয়, একজন মহান মানুষ হিসেবেও স্মরণ করা যায়। তিনি শুধু একজন বিশ্বসেরা ফুটবলার নন—তিনি একজন সহমর্মী ও মানবিক মানুষ।

মেসির দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিধি বিস্তৃত। বিভিন্ন সময়ে তিনি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের শিক্ষা এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন। মেসির প্রতিষ্ঠিত লিও মেসি ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশু ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। ইউনিসেফের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শিশুদের জন্য বিশেষ মমতা

শিশুদের প্রতি মেসির বিশেষ মমতার অনেক উদাহরণ রয়েছে। বার্সেলোনার সেন্ট জোয়ান হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ বিভাগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তিনি অংশ নেন। তহবিল সংগ্রহের সে প্রচেষ্টার শেষ পর্যায়ে নিজেও বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেন। শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটি একটি নতুন বিশেষায়িত বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিলে মেসি সেই প্রচারণায় যুক্ত হন এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ইউরো সংগ্রহের পর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি থাকা শেষ ৩০ লাখ ইউরো মেসি নিজে অনুদান হিসেবে প্রদান করেন।

দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে মেসি

মানবিকতার এ দৃষ্টান্ত শুধু অর্থ সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মেসি হাইতিতে যান। সেখানে তিনি প্রায় ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। মেসি ক্যারেফোর এয়ার নামের একটি শরণার্থী শিবিরে যান, যেখানে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি সেখানে পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং ইউনিসেফের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে হাইতিতে তাঁদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারেন।

শেকড়কে কখনো ভুলে যাননি মেসি

মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। বিশ্বখ্যাত হওয়ার পরও নিজের শহরের মানুষের কথা তিনি ভুলে যাননি। তাঁর শৈশবের ক্লাব নেওয়েলস ওল্ড বয়েজ এবং রোজারিওর বিভিন্ন যুব প্রকল্পে তিনি বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় রোজারিও অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটরের সংকট দেখা দিলে মেসি হাসপাতালগুলোকে ভেন্টিলেটর সরবরাহে সহায়তা করেন। এ সময় মেসি কাতালোনিয়ার একটি হাসপাতাল ক্লিনিক এবং আর্জেন্টিনার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। ২০১৩ সালে তিনি রোজারিওর একটি স্থানীয় হাসপাতাল সংস্কারের জন্য প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো অনুদান দিয়েছিলেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ

যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না; শিশুদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও। সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্যও মেসির ফাউন্ডেশন সহায়তা করেছে। ২০১৭ সালে তাঁর ফাউন্ডেশন ইউনিসেফকে সহায়তা দেয়, যার মাধ্যমে সিরিয়ার তারতুস ও দামেস্কে নতুন শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা সম্ভব হয়। এর ফলে যুদ্ধের কারণে শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রায় হাজার হাজার শিশু আবার স্কুলে ফিরতে পারে।

প্লাস্টিকের ব্যাগের সেই ছোট্ট মেসি-ভক্ত

২০১৬ সালে আফগানিস্তানের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। মরতজা আহমাদি নামের শিশুটি মেসির নাম ও জার্সি নম্বর লেখা নীল-সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগ পরে ছবি তুলেছিল। ছবিটি মেসির নজরে আসে। মেসি শিশুটিকে স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনার একটি জার্সি পাঠান। পরে বার্সেলোনা দোহায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গেলে শিশুটিকে মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। মাঠে প্রবেশ থেকে শুরু করে মেসà