,

নাঙ্গলকোটে আবারও শতভাগ ফেল দুই প্রতিষ্ঠানে

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
August 10, 2026
news-image

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দুটি দাখিল মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

ফলাফল অনুযায়ী, শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার ১০ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অপরদিকে, দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নাঙ্গলকোটে দাখিল পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭৪ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।

এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ২২৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৬ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার মান, শিক্ষক উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা প্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিয়মিত একাডেমিক মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল খায়ের বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় এমন ফল হয়েছে। তবে মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইউসুফ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন মাদ্রাসার সহ-সুপার একরামুল হক।

তিনি বলেন, “মাদ্রাসায় নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে। দুজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় একজন। ওই শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “ফলাফল প্রকাশের পরপরই আমি প্রতিষ্ঠান দুটিতে ফোন দিয়ে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছি।