,

কুমিল্লায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু নির্যাতন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
May 27, 2018
news-image

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা সাম্প্রতিককালে শিশু নির্যাতন বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সর্বশেষ মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিপুলাসার নূরানী হাফেজীয়া ইসলামি একাডেমির প্রথম জমাতের পাঁচ বছরের এক শিশু ছাত্রকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করলো মাদ্রাসা শিক্ষক। কুমিল্লায় মাহবুবুর রহমান নামের এক ভণ্ড কবিরাজের আস্তানায় ৩ বছরের শিশুর দুষ্টুমি কমানোর নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে শিমু আক্তার (১০) নামে এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর দা ও বটি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় হয়। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গত ১৭ এপ্রিল লাকসামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিব (৮) নামের এক এতিম শিশুকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের লোলাই দীঘিরপাড় গ্রামে।

সাম্প্রতিককালে সংঘটিত মনোজরগঞ্জের শিমু হত্যা এবং মনোহরগঞ্জের শিশু নোমান আলোচিত ঘটনা, যা দেশব্যাপী রীতিমতো আলোড়ন তোলে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্রবল ক্ষোভ ও ঘৃণা। দুটো ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সঙ্গত কারণেই আশা করা গিয়েছিল যে শিশু নির্যাতনকারীরা আইনের শাসনের ভয়ে তটস্থ থাকবে। বাস্তবে আদৌ এর কোন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক। পৃথিবীকে যা কিছু সুন্দর ও বাসোপযোগী করে তোলে, তার মধ্যে মা ও শিশু অন্যতম। সেই মা ও শিশুই যখন কারণে-অকারণে সময়ে-অসময়ে নির্যাতন, হত্যা ও জুলুমের শিকার হয় তখন তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমাদের দেশে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন নিঃসন্দেহে আন্তরিক ও নিবিড়।

সত্য বটে দেশের আর্থ-সামাজিক সমস্যা-সঙ্কট ও আর্থিক টানাপোড়েনে সর্বদাই এ বন্ধনটুকু ধরে রাখা যাচ্ছে না। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধেও কেন যেন অবক্ষয় ও ভাঙ্গন ধরতে শুরু করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের উচিত এর যথার্থ কারণ ও প্রতিকার খুঁজে বের করা। কেননা, শিশুর সঙ্গে কারও দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকে না। দেশে গত কয়েক বছরে শিক্ষার হার বেড়েছে আশাব্যঞ্জক হারে। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দেশের সব শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও বিনামূল্যের বইয়ের আওতায় পরিচালিত। অনগ্রসর অঞ্চলে স্কুলে ধরে রাখার লক্ষ্যে শিশুদের জন্য মিড-ডে মিলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুশিক্ষা ও কল্যাণের জন্য এসবই নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ। তবে সব ভাল উদ্যোগই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে যদি না সর্বস্তরে সচেতনতা আসে।

শিশুদের প্রতি মা-বাবার যেমন কর্তব্য আছে, তেমনি আছে তার শিক্ষক আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর। তাদের মধ্যে সবাই শিশুদের প্রতি সদয় হবে এমন ভাবা ঠিক নয়। সমাজে ভাল মানুষের পাশাপাশি দুর্বৃত্ত ও দুরাচার থাকবেই। বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় নানা অবক্ষয়ের মধ্যে অমানবিকতা ও পাশবিকতার বিষয়টি লক্ষণীয়। তা না হলে সামান্য লাকসামে খেলার মাঠে বয়স্ক লোক শিশুকে বেধড়ক পেটাবে কেন! আর কেনইবা আত্মীয়তার বন্ধন থাকা সত্ত্বেও শিশুকে অপহরণ করেই শুধু ক্ষান্ত হবে না, মুক্তিপণ পাওয়ার পর মেরে ফেলবে। সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরী হয়ে পড়েছে।