,

চান্দিনা পাইলট বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে চেয়ার ভাংচুর, বিশৃঙ্খলা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 27, 2018
news-image

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার চান্দিনা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।

শনিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সভাস্থলে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, খাবার টানাহেচড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া অতিথিদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বেচ্ছাসেবক সাবেক ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে প্রধান অতিথি শতবর্ষ পূর্তি আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বক্তব্যের পর খাবার বিতরণ শুরু হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা সভাস্থলের সামনের দিকে অতিথিবৃন্দের থেকে খাবার বিতরণ শুরু করে মাঝামাঝি অংশে আসলে কয়েকজন খাবার টানাটানি শুরু করে। এসময় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খাবার বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে চেয়ারে বসার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তা না করে তারা চেয়ার ছুড়াছুড়ি ও খাবার টানাটানি করে। এসময় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে কিছু সময়ের জন্য খাবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে বিকাল ৩টা নাগাদ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বর্তমান ছাত্ররা খাবার না পেয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করে। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় খাবার এনে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র জাকির হোসেন সরকার জানান, ‘দুপুরে খাবার না পেয়ে বহিরাগত ও বিদ্যালয়ের শতবর্ষের গেঞ্জি ও ব্যাচ পরিহিত শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে বাকবিতন্ডা করে। এ সময় তারা চেয়ার ছুড়ে মারে। ধাক্কাধাক্কি ও টানা হেচড়া হয়।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সাদেকুর রহমান পাঠান জানান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মো. লুৎফুর রেজা খোকন ভাইসহ আমাদেরকে দাওয়াত দিয়ে এনে আয়োজকরা কোন খোঁজ খবর নেয় নি। এমনকি খাবারও দেয় নি। সমালোচনা করার জন্য নয়, হাজারো সাবেক ছাত্রদের মনের কথা শুনতে আমরা এসেছিলাম। “আমরা কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে আসিনি, এসেছি প্রাণের বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ উদযাপন করতে”। এটা কারো নিজের একক কোনো প্রোগ্রাম নয়, এটা আমাদের প্রোগ্রাম। সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দিতে না পারলে ডেকে এনে অসম্মান করার অনধিকার চর্চা করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, ‘কোন সমস্যা হয় নি। যারা খাবার পায় নি তাদেরকে পরে স্কুলের শ্রেণি কক্ষে নিয়ে আমরা খাবার দিয়েছি।’