,

৫ বছরের জনকল্যাণ সংগঠন এর প্রচেষ্টায় বাল্যবিবাহমুক্ত দেবপুর গ্রাম

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 30, 2017
news-image

 

সেলিম সজীবঃ

মনোহরগঞ্জ উপজেলার নরহরিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। তার বয়স ১৩ কি ১৪ বছর। এই বয়সে বিয়ে যে আইনত দণ্ডনীয়, তা জানে বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ক্যাবিনেটের খুদে সদস্যরা। তারা মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে দেয় জনকল্যাণ সংগঠন এর প্রধানকে। ঘটনা শুনে দেবপুর জনকল্যাণ এর প্রধান ক্যাবিনেটের (ছাত্র পরিষদ) সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তোমরা অপেক্ষা করো। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ তবে তারা বিনয়ের সঙ্গে বলে, ‘স্যার, আমরাই আমাদের সহপাঠীর বিয়ে বন্ধ করতে পারব। ঘটনার দিন দেবপুর জনকল্যাণ এর প্রধান এ বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দেয়। সেই দেবপুর এখন বাল্যবিবাহমুক্ত। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে জনকল্যাণ এর প্রধান গিয়াস উদ্দিন সৈকত সাহেব এবং একঝাঁক সচেতন মানুষের পরিকল্পিত শ্রম। এর শুরু বছর খানেক আগে। আর ৫ বছরেই গর্ব করার মতো সাফল্য—‘বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম দেবপুর’। আর নারীদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান কাজ হলো বাল্যবিবাহ বন্ধ করা। সেই চিন্তা থেকেই চ্যালেঞ্জটা নেয় জনকল্যাণ। এখন আর দেবপুর এ কোনো বাল্যবিবাহ হয় না। যেখানে সারা দেশে বাল্যবিয়ের এমন ভয়ঙ্কর রুপ সেখানে এ উদ্যোগ সকলের কাছে প্রসংশা কুড়াচ্ছে। সমাজসেবক সুলতান চৌধুরী জানান, আগের আমলে বাল্যবিয়ে বিষয়টি প্রায় ঘটতো। তবে মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। এছাড়া ছেলে-মেয়েরা এখন লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। ছেলে হোক বা মেয়ে হোক বাল্যবিয়ের কথা এখন কম লোকেই চিন্তা করেন। তবে এখনো আমাদের এলাকায় বাল্যবিয়ে হচ্ছে। দেবপুর ইাউপি মেম্বার মোশারফ হোসেন সুমন জানান, জনকল্যাণ সংগঠন হওয়ার পর থেকে সমাজে ভাল কাজ করছে। তিনি তাদের সাথে সহযোগিতা করেন। তিনি আরো জানান সত্যিকার অর্থে বাল্যবিয়ে হচ্ছে না দেবপুরে।