,

চাঁদপুরে নিখোঁজের ১৪ বছর পর ফিরে এসে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
May 21, 2021
news-image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুরে শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন এক ব্যক্তি। এ ঘটনা ঘটেছে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কামালদি মাথাভাঙ্গা বেপারীর বাড়ীতে।

আত্মহননকারীর নাম লালমিয়া হাওলাদার (৫২)। তিনি ওই বাড়ির মৃত সিটু বেপারীর মেয়ের জামাতা ও বরিশালের বাসিন্দা মো. হাওলাদারের ছেলে। তার লামিয়া আক্তার (১৫) নামের একটি মেয়েও আছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ মে) মধ্য রাতের দিকে সে তার শ্বশুরের ঘরের পাশে একটি গাছের সঙ্গে গলায় গামছা ও ওড়না বেঁধে আত্মহত্যা করে। যদিও আত্মহত্যার নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো জানা যায়নি। তাছাড়া নিহত লাল মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগম এখনো জর্দানে কর্মরত আছেন।

লাল মিয়া হাওলাদারের শাশুড়ি লিলু বেগম জানান, বরিশালের মো. হাওলাদারের ছেলে মো. লাল মিয়া হাওলাদার ১৭ বছর আগে আমার মেয়ে সালেহা বেগমকে কোর্টের মাধ্যমে ঢাকায় বিয়ে করেন। বিয়ের ২/৩ বছর ঘর সংসার করার পর সে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

মেয়ে সালেহা বেগম অনেক খোঁজাখুঁজি করে স্বামীর খোঁজ না পেয়ে জর্ডানে চাকরির উদ্দেশে পাড়ি জমায়। তাদের ঘরে ১৫ বছর বয়সের লামিয়া আক্তার নামের ১টি কন্যা সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর তাদের মেয়ে লামিয়া আক্তারের সাথে লালমিয়া হাওলাদারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে লালমিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এরপর তিনি কয়েকবার ঢাকায় যাওয়া-আসা করেন।

গতকাল রাতে যথারীতি খাবার খেয়ে তিনি শুয়ে পড়েন৷ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিবেশী বাবুল মিয়ার স্ত্রী জোছনা বেগম গাছের সাথে লালমিয়ার মরদেহ ঝুলতে দেখেন। এ সময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে পুলিশকে খবর দিলে মতলব উত্তর থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়৷

লালমিয়া হাওলাদারের মেয়ে লামিয়া আক্তার জানান, আমার জন্মের দীর্ঘ ১৪ বছর পর আমি আমার বাবাকে দেখেছি। তিনি কেন এমন করেছেন তা জানি না। আমার বাবা ঢাকায় ফলের ব্যবসা করতো এবং আরও ২টি বিয়ে করেছে বলে জানতে পেরেছি৷

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মৃতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।