All posts by jitu

দেশকে বিদেশিদের চারণভূমিতে পরিণত করেছে : শামসুজ্জামান দুদু

অনলাইন ডেস্ক:

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে বিদেশিদের চারণভূমিতে পরিণত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, সরকার শুধু গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেন নাই। স্বাধীনতাকে বিপন্ন করেছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোটের আয়োজনে প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি রায় বাতিল এবং একদফা দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এতদিনে সবাই জেনে গেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য যা যা করা দরকার বিএনপি ও বিরোধীদল করবে। এটা আপনারা মাথায় রাখেন, তাহলে ভালো হবে। অসম্মানিত হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে সেটা হবে আপনাদের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা। আজকে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে তা শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনোভাবে সমাধান করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আজ তারা বন্দুকের জোড়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এদের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গণতন্ত্রের সম্পর্ক নেই। এ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পুলিশ প্রশাসন, বিচারবিভাগকে শতভাগ দলীয়করণ করেছে। আগে সরকারের লুটপাটের কথা বিরোধীদল বলত এখন বিদেশিরাও বলছে।’

আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে দুদু বলেন, ‘ডিজিটাল আইন বাতিল করে সাইবার আইন করার উদ্যোগ নিয়ে আইনমন্ত্রী আপনি কী করলেন তা নিয়ে জনগণের মাথা ব্যথা নেই। দুই এক মাসও না হয়তো সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপনাদের পদত্যাগ করা লাগবে।’

সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং আসাদুল হক অহিদুলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা এম নাজমুল হাসান, সাঈদ খান। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিন মজুমদার, রমিজ খান, ওমর ফারুক, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সরকারের পতন না হলে মানুষ হয়ে যাবে চিরস্থায়ী বন্দি : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী অবৈধ। পতন না হলে চিরদিনের জন্য বাংলাদেশের জনগণ তার কাছে বন্দি হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে হবে। তার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে হবে। আমার আপনার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য তার পতন ঘটাতে হবে। না হলে এই দেশে আর কেউ কথা বলতে পারবে না। চিরদিনের জন্য বাংলাদেশের জনগণ বন্দি হয়ে যাবে শেখ হাসিনার কাছে। এই বন্দিত্ব থেকে আমাদেরকে মুক্ত হতে হলে তার পতন ঘটাতেই হবে।’

বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এবার শেখ হাসিনা যে নির্বাচন দিবে আমাদেরকে চুপ থাকলে হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, মিছিল মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচন আমরা হতে দিব না। যতক্ষণ না নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা না হয়, শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ৮০০ কোটি টাকা নাই হয়ে গেল, পাচার হয়ে গেল। তখন যিনি গভর্নর ছিলেন আতিউর রহমান তার দায় নাই? সেখানে তার তো দায় আছে। তিনি গভর্নর থাকা অবস্থায় ৮০০ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, উনিই তো দায়ী। শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কৃত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস প্রফেসর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ঘটনা জানি। কখন কি ষড়যন্ত্র হয়, কাকে কোথায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। নেতাদেরকে ধরে উধাও করা হয়, এরপর চার-পাঁচ দিন পর বলা হয় গোয়েন্দা হেফাজতে আছে। তারপর কয়েকদিন পর থানায় দেওয়া হয়।’

রিজভী বলেন, ‘আজকে অনেকেই বলছেন মানুষ যখন তার অভিযোগ নিয়ে গোয়েন্দা কার্যালয়ে যায় সেখানে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়। এখন গোয়েন্দা দপ্তর হয়েছে ভাতের হোটেল।’

রাশেদ খান মেননের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি সম্রাটের মতো আজীবন ক্ষমতা ভোগ করবেন সুষ্ঠু নির্বাচন দিবেন না। আর আপনি কেউ গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বললে রেজিনচেঞ্জের ষড়যন্ত্র পান। আপনারা বিনা ভোটের এমপি নিশিরাতের এমপি কয়দিন আগে না মেনন সাহেব আপনি নিজেই বলেছিলেন ২০১৮ সালে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজেক্ট নিয়ে গেছে মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রজেক্ট হচ্ছে ৪২ কোটি টাকার তার কনসালটেন্সি ধরেছে ১৭ কোটি টাকা। তাহলে কাজ হবে কিভাবে? এইটা হচ্ছে শেখ হাসিনার আমল।’

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং সঞ্চালনা করেন মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান।

অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে সরকার : বিএনপি মহাসচিব

অনলাইন ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (০৯ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে নিজেদের সুবিধামতো করে নিয়েছে। এরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আওয়ামী লীগ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। গণতন্ত্রের মোড়কে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে। ১৪ বছরের অন্যায় অত্যাচার লুণ্ঠন ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে ফোকলা বানিয়ে ফেলেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আজকে অন্যায়ভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। মাত্র ২ কোটি টাকার জন্য তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অথচ, হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে- তাদের কোনো বিচার নেই।

তিনি বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ নির্বাচনের আগে সরকার মাঠ ফাঁকা রাখতে চায়। যাতে জনগণ ভোটকেন্দ্রে না যেতে পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে- শুধু গণতন্ত্রই নয়, হুমকির মুখে পড়বে দেশের সার্বভৌমত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১১ আগস্ট রাজধানীতে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। জুমার নামাজের পর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি পৃথকভাবে রাজধানীতে গণমিছিল করবে দলটি।

নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও সম্পদ জব্দ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক:

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সম্পদ জব্দ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত বিষয়ে যেন মামলাগুলোর বিচার মিত্র দেশগুলো করতে পারে সেজন্য তাদের তথ্যও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন ম্যাথিউ মিলার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু একটু আগেই আমি অন্য একটি দেশের প্রসঙ্গে ভিন্ন একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম, আমরা কখনোই কোনো ঘটনা ঘটার আগে সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করি না। সাধারণভাবে বললে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিষেধাজ্ঞা একটি হাতিয়ার হতে পারে। তবে আমাদের কাছে অন্য উপায়ও আছে। যেমন সম্পদ জব্দ করা এবং মিত্র দেশগুলোতে তথ্য সরবরাহ করা, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা করতে পারে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে দেশের দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করি।

বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, আমরা অনেকবার স্পষ্ট করে বলেছি, এই পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে আমি অনেকবার বলেছি, আমরা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করি। আমরা প্রকাশ্যে স্পষ্ট করে এটা বলেছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায়ও এটি পরিষ্কার করেছি। আমাদের এই নীতি অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে হস্তান্তরের প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেননি ম্যাথিউ। তাকে প্রশ্ন করা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার স্বঘোষিত খুনিদের মধ্যে অন্তত একজন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আপনি সব খুনিদের বিচারের আওতায় আনা এবং তাদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর সমর্থন করেন কি? মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের বিষয়ে মন্তব্য করি না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মস্বীকৃত খুনিদের মধ্যে পাঁচজন এখনো পলাতক। সরকারের কাছে তথ্য হলো, এক খুনি এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তাকে ফেরাতে অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।

ব্রিফিংয়ে মিলারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করেছেন। আপনি কি তাদের এই সফর সম্পর্কে আরও বেশি কিছু বলতে পারেন? তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কী আলোচনা করেছেন?

এই প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, এই সফরের বৈঠকগুলো নিয়ে তারা যে বিবৃতি দিয়েছেন, এর বাইরে বলার মতো কোনো বিষয় তার কাছে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ, জাতিসংঘ যা বলল

অনলাইন ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকায় নিজ বাসভবনে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রশিদ খানকে আশ্রয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ অবস্থায় জাতিসংঘের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য আছে কি? এমন জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর দণ্ডিত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কিনা, তা ‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়’ এই বিষয়ে জাতিসংঘের কোনো মন্তব্য নেই।

সোমবার (৭ আগস্ট) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক।

প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করেন, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকায় নিজ বাসভবনে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রশিদ খানকে আশ্রয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সেই হত্যাকারীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এ অবস্থায় জাতিসংঘের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য আছে কি?

উত্তরে ফারহান হক বলেন, প্রথমত, আমি বিশ্বাস করি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে এটি একটি দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। তা ‘দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়’ এই বিষয়ে জাতিসংঘের কোনো মন্তব্য নেই।

উল্লেখ্য, দুদফায় ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাকি পাঁচ খুনি এখনো রয়েছে অধরা। তারা হলেন— আব্দুর রশীদ, শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এ বি এম এইচ নূর চৌধুরী। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ বারবার দাবি জানালেও তাকে ফেরত পাঠায়নি যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

এদিকে আগামী ১৮ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হবে ৭৮তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এর অংশ হিসেবে ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর হবে ‘এসডিজি সামিট’। জাতিসংঘ উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বিভিন্ন দেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে কীভাবে আরও ত্বরান্বিত করা যায় সে বিষয়ে বিশদ দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে সেই বৈঠকে।

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দেশের মানুষের মাঝে হারানো বাবা-মা ভাইবোনকে খুঁজে পেয়েছি। আমার তো আর কিছু পাওয়ার নেই। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি। দরিদ্র্য অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ভূমি ও নতুন ঘর করে দিচ্ছি।

বুধবার (৯ আগস্ট) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ২২ হাজার ১০১টি ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর মধ্য দিয়ে আরও ১২টি জেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, সারা বাংলায় ঘুরছি। দেখেছি মানুষের কষ্ট। দুর্ভিক্ষ, মঙ্গা, ঝড়, বন্যায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। ‌‘যাদের জীবনে কোনো আশা ছিল না, ভবিষ্যৎ ছিল না, একটি ঘর তাদের জীবনটাই পাল্টে দিয়েছে। কৃতজ্ঞতা এ দেশের মানুষের প্রতি যে, আপনারা আস্থা ও বিশ্বাস রেখে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।’

এ সময় সরকারের দেওয়া ঘরের যত্ন নিতে এবং সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নয়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নিজেরা ধীরে ধীরে আরও সক্ষম হবেন, জীবন-জীবিকার উন্নয়ন হবে। দেশে একটি মানুষও অবহেলিত থাকবে না। এটা জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সন্ত্রাস, বোমা-গুলি, আগুনসন্ত্রাস ছাড়া কিছু বোঝে না। মানুষের জন্য তাদের কোনো চিন্তা নেই। ক্ষমতায় থেকে লুটপাট, অস্ত্র চোরাকারাবারি, এতিমের অর্থ লুটপাট; তারা এটাই করে। এখনও তারা এটাই করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষকে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা করে জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ থেকে ১৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এ দেশে হতদরিদ্র থাকবে না। হতদরিদ্রের হার ৫ ভাগে নামিয়ে এনেছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আস্থা-বিশ্বাস রাখবেন। একটানা ক্ষমতায় আছি বলেই সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি। নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছে, এখন নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই গৃহহীন মানুষ ঘর পেলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৯৭ সালে ঘূর্ণিঝড় হয়। তখন কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে দ্বীপে ৭০টি পরিবার পাই যাদের জমি ও ঘর ছিল না। সেন্টমার্টিনে আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের জমি এই ক্ষতিগ্রস্তদের দান করেন। সেখানে আমরা তাদের জন্য ঘর তৈরি করি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় জায়গাগুলোতে যাওয়াও মুশকিল ছিল। নৌবাহিনী তাদের জন্য ঘর নির্মাণের দায়িত্ব নেয়। সেই থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের যাত্রা শুরু। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ, ৫৫ হাজার ৬১৭টি পরিবারকে ঘর দিতে পেরেছি।

অনুষ্ঠানে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আরও ২২ হাজার ১০১টি পরিবারের মাঝে নতুন ঘর তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে এসব ঘর দেওয়া হলো। একই সঙ্গে দেশের ১২৩টি উপজেলাকে সম্পূর্ণ ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যে ১২টি জেলার সব উপজেলা ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হলো।

জাতীয় নির্বাচনের তপশিল কবে, জানালেন ইসি

অনলাইন ডেস্ক:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল আগামী নভেম্বরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনিছুর রহমান। বুধবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

আনিছুর রহমান বলেন, নভেম্বরে ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামে একটি অ্যাপ চালু করা হবে। এর পরেই তপশিল ঘোষণা করা হবে।

সাংবাদিকরা অ্যাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাটা ডিজিটাল করতেই অ্যাপ চালু করা হবে। যেখানে মনোনায়নপত্র জমা থেকে ভোটের সব তথ্য থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবার ভোটের আগের দিন নয়, ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্যালটের নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানের আইনজীবী নাঈম হায়দার পাঞ্জোথাকে গ্রেফতার

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আইনজীবী নাঈম হায়দার পাঞ্জোথাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)।

জিয়ো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নাঈম হায়দার পাঞ্জোথা তদন্তের জন্য এফআইএ সদর দফতরে গিয়েছিলেন। ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা মামলার শুনানিকারী বিচারক হুমায়ুন দিলাওয়ারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিষয়ে তদন্তের জন্য তাকে ডেকেছিল এফআইএ।

সূত্র জানায়, তদন্তের জন্য এফআইএ সাইবার ক্রাইমস উইংয়ে গিয়েছিলেন নাঈম হায়দার পাঞ্জোথা।

তেহরিক-ই-ইনসাফের আইনজীবী শের আফজাল মারওয়াত নিশ্চিত করেছেন, নাঈম হায়দার পাঞ্জোথাকে এফআইএ গ্রেফতার করেছে।

এর আগে গতকাল সোমবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন তার আইনজীবী নাঈম হায়দার পাঞ্জোথা।

জেলখানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সে বিষয়ে ব্রিফ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নাঈম হায়দার অভিযোগ করেন, পিটিআই চেয়ারম্যানকে কারাগারে ‘সি-ক্লাস’ (তৃতীয় শ্রেণির) সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অ্যাটক জেলের অবস্থা খুবই নিম্নমানের।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইমরান খানের আইনজীবী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একটি ছোট ঘর দেওয়া হয়েছে, যেখানে একটি খোলা ওয়াশরুম রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই প্রধানকে যে সেলটিতে রাখা হয়েছে তার খারাপ অবস্থার বিশদ বিবরণ দিয়ে আইনজীবী নাঈম হায়দার বলেন, সেলটিতে মাছি ও পোকা-মাকড়ের উৎপাত রয়েছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ওষুধ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মোঃ ইয়াকুব নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের বসকরা গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র।

মঙ্গলবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ সোনালী ব্যাংকের পিছনে আবদুল হক বিল্ডিংয়ে ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। সন্ধ্যায় তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরির্শক জাহাঙ্গীর হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াকুবের সাথে তার স্ত্রী হালিমা আক্তার রিফার পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার হালিমা আক্তার রিফা ভাড়া বাসা থেকে বাবার বাড়ি খিরণশাল গ্রামে চলে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়া বাসায় ইয়াকুবের ভাইসহ আশ-পাশের লোকজন দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখে-গলায় ওড়না লাগিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে সে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইয়াকুবের ছোট ভাই আবদুর রহমান মুন্না বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভাবি হালিমা আক্তার রিফা কল করে জানায় ভাই ইয়াকুব কল রিসিভ করছে না। এ খবর শুনে আড়াইটার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের ভাড়া বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিক ও আশ-পাশের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখি-ভাই, ভাবির ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতেছে। তাৎক্ষণিক আমরা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইয়াকুবের মা রেহানা বেগম বলেন, আমাদেরকে পুত্রবধু হালিমা আক্তার রিফা সহ্য করতে পারতো না। কারণে-অকারণে আমার ছেলের সাথে পুত্রবধু হালিমা আক্তার রিফার ঝগড়া হলে ভাড়া বাসায় তার শ্বাশুড়ি এসে হুমকি-ধমকি দিতো। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার শেষে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে’।