All posts by jitu

দাউদকান্দির সন্তান নূরআলম ইতালির মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইতালির ভেনিস মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচিত মুখ নূরে আলম ভূঁইয়া (আলী হোসেন)।

আসছে আগামী ২৪ ও ২৫ মে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে তিনি ফাভারো (Favaro) এলাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল পিডি (PD) মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জানাগেছে, নূরে আলম ভূঁইয়া দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। ভেনিসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী, আন্তরিক, পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে পরিচিত।

তিনি খেলাধুলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কাজে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।
কমিউনিটির সেবা এবং প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য এবার তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সরাসরি নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নূরে আলম ভূঁইয়া তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারসহ সবার কাছে দোয়া ও মূল্যবান ভোট প্রার্থনা করেছেন।

চাঁদপুর শহরে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক চাঁদপুর জেলা শহরে অভিযান পরিচালনা করে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ মোতাবেক লঙ্ঘনজনিত অপরাধে অভিযান পরিচালনা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, দই উৎপাদন এবং মেয়াদের তারিখ না দেওয়া, বিক্রয় করা ও চায়ের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি রাখার কারণসহ বিভিন্ন অপরাধে তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সেই সাথে শহরের তালতলা এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদবিহীন দই উৎপাদন করে সংরক্ষণ ও বিক্রয়, মেয়াদ বিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বোরহানি উৎপাদন সংরক্ষণ, পুরাতন মাংস পচা বাঁশি খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করার অপরাধে তালতলা এলাকার কালাম বিরিয়ানি হাউজকে ২০ হাজার টাকাসহ মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরো নিপা। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষনিকভাবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় পরিশোধ করেন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় এই ধরনের অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

এছাড়াও নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বাঙালিয়ানা হোটেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দিকনির্দেশনা দেন। ভ্রাম্যমান আদালতে সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি মোঃ বিপ্লব সরকার ও বাংলাদেশ পুলিশের একটি টিম।

জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও কারখানা সহ সেমাই কারখানা এবং হোটেল রেস্তোরায় যেখানে অনিয়ম থাকবে এ ধরনের ভ্রাম্যমান আদালত অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শহরের মমিন পাড়া ও বিপনিবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ মোতাবেক লঙ্ঘনজনিত অপরাধে ক্ষতিকর রং ও অন্যের প্যাকেট ব্যবহার এবং উৎপাদক ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ব্যতিত আইসক্রিম তৈরির করায় ফ্রেস কো আইসক্রিমকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদু্লাহ আল ইমরান।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক জসিম উদ্দিন পূণরায় এ ধরনের অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকবেন বলে অঙ্গিকার করে জরিমানার অর্থ স্বেচ্ছায় পরিশোধ করেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নীনা আক্তার এবং জেলা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত যুবক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শান্ত ইসলাম (২১) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার দুপুরে কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের ইছাপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শান্ত উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় তার নানার বাড়িতে বড় হয়েছেন। তার পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায়।

পারিবারিক সূত্র জানান, দুপুরে শান্ত মোটরসাইকেলে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ইছাপুরা মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

কুমিল্লায় স্ত্রী হত্যা মামলায় জামিন চাইতে এসে স্বামী কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় প্রধান আসামি ও ফারিয়ার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত তার পরিবারের অন্য চার সদস্য জামিন পেয়েছেন।

রবিবার কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মমিন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম।

আদালত সূত্র জানান, মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান হৃদয় ছাড়াও তাঁর বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও রীমার স্বামী জাকারিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত হৃদয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ফারিয়ার বাবা ও স্কুল শিক্ষক মো. হানিফ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফারিয়া (২৩) কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।

এজাহারে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে হৃদয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা এনে দিতে না পারায় ফারিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ জানান, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আদালত প্রধান আসামি হৃদয়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে।

রাষ্ট্রাচারের বিচ্যুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার সংকট: একটি প্রশাসনিক পর্যালোচনা

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, রাজনীতি বিশ্লেষক:

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, শাসনতান্ত্রিক অনুক্রম এবং প্রশাসনিক গাম্ভীর্যের দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল (State Protocol) কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্রাচার কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো রীতি বা শিষ্টাচার নয়; এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা বিন্যাস ও সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রতীকী রূপ। পুলিশ সপ্তাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্যালুট গ্রহণ বা অভিবাদন মঞ্চে সরকারপ্রধানের সমান্তরালে অন্য ব্যক্তিবর্গের অবস্থান গ্রহণ প্রশাসনিক বিজ্ঞান, সামরিক-বেসামরিক প্রটোকল এবং রাষ্ট্রাচারের মৌলিক নীতিমালার আলোকে গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সাংবিধানিক অনুক্রম ও স্যালুটিং ডেক প্রটোকল (Saluting Deck Protocol)

সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু এবং চিফ এক্সিকিউটিভ (Chief Executive)। রাষ্ট্রাচার এবং সামরিক-বেসামরিক কুচকাওয়াজের সুনির্দিষ্ট নিয়ম (Ceremonial Protocol) অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় স্যালুট গ্রহণের মূল মঞ্চে বা ডেক-এ সরকারপ্রধান এককভাবে অগ্রভাগে অবস্থান করবেন। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁর ঠিক পেছনে (In the Rear) নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবেন। প্রধানমন্ত্রীর সমান্তরালে বা একই লাইনে অবস্থান নেওয়া ‘এক্সিকিউটিভ প্রিমাসি’ বা নির্বাহী শ্রেষ্ঠত্বের নীতিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীকীবাদ (Institutional Symbolism) ও ক্ষমতার অনুক্রম

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রীয় মঞ্চে ব্যক্তিবর্গের শারীরিক অবস্থান বা ‘স্পেশিয়াল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (Spatial Arrangement) ক্ষমতার একটি সুনির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ড প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী পদটি কোনো একক ব্যক্তির পরিচয় নয়, এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সমান্তরালে অন্যদের অবস্থান গ্রহণ ‘প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীকীবাদ’কে বিভ্রান্ত করে। এটি দেখার পর জনমনে এবং প্রশাসনিক স্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য ও চেইন অব কমান্ড নিয়ে একটি ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য মোটেও কাম্য নয়।

জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত অবক্ষয় (Structural Decay)

রাষ্ট্রীয় স্যালুট গ্রহণের মতো সংবেদনশীল ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চে এই ধরনের দৃশ্যমান ব্যত্যয় প্রটোকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা এবং দূরদর্শিতার অভাবকে নির্দেশ করে। একে সাধারণ ভুল হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। নিয়মের এই ধারাবাহিক বিচ্যুতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা একপর্যায়ে ‘সাংবিধানিক রাষ্ট্রাচার কাঠামো’র (Constitutional Protocol Framework) প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় বা ধস ডেকে আনতে পারে।

একটি সুশাসিত রাষ্ট্রে যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, ঐতিহ্য এবং প্রটোকলের কঠোর নিয়ম সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। উদ্ভূত এই সমান্তরাল অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত অজ্ঞতা, নাকি পদ্ধতিগত ত্রুটি- তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের অনন্য সম্মান ও গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো আনুষ্ঠানিকতায় এর পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রটোকল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সময়ের দাবি। সময় থাকতেই এই প্রশাসনিক বিচ্যুতি সংশোধন করা না হলে, তা রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ভিত্তিকে দুর্বল করে তুলবে।

দেবীদ্বারে মাদক সেবন ও বিক্রির সময় ৩জন আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদক সেবন ও বিক্রয়কালে ৩ মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার ভোরে উপজেলার বড়শাঘর ইউনিয়নের ছোটশালঘর গ্রামের আলী হোসেন ব্যাপারী বাড়ির প্রবাসী কামাল হোসেন খানের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

দেবীদ্বার থানার এসআই অজয় চক্রবর্তী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক কারবারি কামাল হোসেনের ঘর ঘেরাও করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন মাদক ক্রেতা পালিয়ে গেলেও ৩ জনকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করতে সক্ষম হই। তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পূর্বক রবিবার বেলা ২টায় কোর্ট হাজতে চালান করেছি।

আটককৃতরা হলেন- ছোটশালঘর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে কামাল হোসেন খান (৪৪), একই গ্রামের আবুল কাসেম ভূঁইয়ার ছেলে মো. রনি ভূঁইয়া (২৪) এবং ইউছুফপুর ইউনিয়নের ইউছুফপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. শামিম (২৫)।

দেবীদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইমাম হাসান জানান, ‘টহল পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছি।’

হোমনায় দুর্বৃত্তের আগুনে যুবদল নেতার বাড়ি পুড়ে ভস্মীভূত

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনার রামকৃষ্ণপুরে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে ইউনিয়ন যুবদল নেতার বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর সাব বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত মো. খবির আহাম্মদ ওই এলাকার মরহুম আলী আহাম্মদের ছেলে এবং চান্দেরচর ইউনিয়ন যুবদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির নিচতলার ড্রয়িং রুমের জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে আগুন নিক্ষেপ করে সোফায় আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ড্রয়িং রুমের আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।

এ সময় খবির আহাম্মদ ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় থাকলেও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে আসেন।

খবির আহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে আসছিলেন তিনি। বিশেষ করে কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

লিখিত অভিযোগ না করার কারণ জানতে চাইলে খবির আহাম্মদ বলেন, তিনি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে বাড়ির পথে রয়েছেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

কুমিল্লায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাস থামিয়ে ৫২০ কেজি জিরা লুট, আটক ৩

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেবীদ্বার উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১৪ বস্তা বা ৫২০ কেজি জিরা লুটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে দেবীদ্বারের পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে আজ শনিবার ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দেবীদ্বারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে লুট হওয়া ওই ৫২০ কেজি জিরা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের মো. নাজমুল হাসান (২৮), মো. মাসুক ওরফে মনা (২৬) ও উপজেলার খলিলপুর গ্রামের মো. জুয়েল (৩০)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বারের পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিলেট থেকে নোয়াখালীগামী ‘লাল সবুজ’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের গতি রোধ করে ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র চক্র। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ও ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে ‘বাসে মাদক আছে’ বলে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে বাসে থাকা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ওই ৫২০ কেজি জিরা জব্দ করার নাটক সাজিয়ে তা নিয়ে চম্পট দেয়। এতে বাধা দিলে বাসের কর্মচারী ও যাত্রীদের মারধর করা হয়।
ওই জিরার মালিক নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে নামে। আটক চক্রটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ নবীনগর উপজেলার ভোলাচং বাজারে কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ওই জিরা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আজ দেবীদ্বার থানায় আটক তিনজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান।

দেবীদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেন জানান, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই জিরা উদ্ধারসহ তিনজনকে আটক করেছি।’
দেবীদ্বার সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, সম্পূর্ণ জিরার চালান উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে কুমিল্লার মেয়ের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে তাসলিমা আক্তার (২৫) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা-চট্রগ্রাম রেল পথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেল স্টেশন এলাকায় শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তাসলিমা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ (মধ্যপাড়া বড় বাড়ি) গ্রামের শানু মিয়ার মেয়ে।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরিবারের দাবি, তাসলিমা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টার দিকে মন্দবাগ স্টেশন অতিক্রম করছিল। এসময় ওই তরুণী অসতর্কতাবশত রেললাইনের ওপর চলে এলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানায়, খবর পেয়ে রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুভন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

ওসি বলেন, “নিহত তরুণী মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।”

দাউদকান্দিতে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৮ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালà