All posts by jitu

কুমিল্লায় ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ১০১ জন তরুণ-তরুণী

কুমিল্লায় ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ১০১ জন তরুণ-তরুণী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মাত্র ১২০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন কুমিল্লার ১০১ জন তরুণ-তরুণী।

বুধবার কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন কুমিল্লা জেলার নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান। এ সময় নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পুলিশ সুপার জানায়, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ কার্যক্রমে শুরু থেকেই শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রাথমিক বাছাই শেষে কুমিল্লা জেলার যোগ্য প্রার্থীরা শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই ও পিইটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

পরবর্তীতে নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি “ফেইস ডিটেকশন” ব্যবস্থার মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৪১ জন। পরে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১২ জন প্রার্থী কৃতকার্য হন। তাদের মধ্য থেকে মেধাক্রম ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ১০১ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া আরও ১১ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণা শেষে পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি মহান দায়িত্ব। তিনি নবনিযুক্তদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে।

হোমনায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় ২৭ পিস ইয়াবাসহ উজ্জ্বল সিকদার (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে পৌনে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।

আটকৃত উজ্জ্বল সিকদার উপজেলার মুন্সিকান্দি উত্তর পাড়ার মৃত নোয়াজ আলীর ছেলে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোমনা থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে, এএসআই (নিঃ) সুজন কুমার দে সহ একটি দল মুন্সিকান্দি এলাকার কনু মিয়া মার্কেটের একটি দোকানে অভিযান চালায়। এসময় সন্দেহভাজন হিসেবে উজ্জ্বল সিকদারকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কুমিল্লায় ঘুষ ছাড়াই ৫৬ টাকায় পুলিশে নিয়োগ পেলেন ১০১ কনস্টেবল

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

কুমিল্লায় কোনো ঘুষ, তদবির বা হয়রানি ছাড়াই ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে ১০১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাত্র ৫৬ টাকার ফি দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এ নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের শহীদ আরআই এবিএম আবদুল হালিম মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ১০১ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ১১ জনকে।

ফলাফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুল চাকমা, সিনিয়র এএসপি সৈয়দ মুমিন রায়হান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) ইসতিয়াক হাসান আমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই যদি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঘুষ ছাড়া নিয়োগ দেওয়া সম্ভব আমরা সেটিই প্রমাণ করেছি। যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই মেধাবী। আমি আশা করি, তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স মাঠে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট ১ হাজার ৮২৩টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৬৯৮ জন প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১১২ জন, যাদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১০১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কাপনের কাপড় পাঠিয়ে কৃষককে মৃত্যুর হুমকি, এলাকায় আতঙ্ক

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবদুর রহমান নামের এক কৃষককে কাপনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দিয়েছে ভুয়া পরিচয়ের এক ব্যক্তি। ডাক পিয়নের মাধ্যমে চিঠি ও কাপনের কাপড় পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুমকি পাঠানো জুলাস বেপারি নামে ওই ঠিকানায় ব্যক্তির কোন অস্তিত্ব নেই। ভুক্তভোগী কৃষক আবদুর রহমান(৫৬) পৌর এলাকার চন্ডিপুর মোল্লা কোনার মোকতল হোসেনের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার পৌরসভা চন্ডিপুর মোল্লা কোনা গ্রামে।

বুধবার (৬ মে )থানায় দায়েরকৃত জিডিতে উল্লেখ করা হয়, আবদুর রহমান একজন কৃষক। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে থাকে। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তাঁর সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই। মঙ্গলবার সকালে চৌদ্দগ্রাম ডাক অফিসে পিয়নের মাধ্যমে একটি খাকি খাম ও একটি পার্সেল রিসিভ করেছেন। পরবর্তীতে খামখুলে দেখেন সাদা কাগজে লেখা-‘তোর কাপনের কাপড় রেডি, তুই ঘরে, রাস্তা ঘাটে, বাজারে বা মামলার কোর্টে মরার জন্য রেডি থাকিছ, তুই এখন গেংদের টার্গেট, তোর পাপ তোরে ছাড়বে না, সাত টুকরো হবি’।

এছাড়াও স্টার চিহ্নিত কিছু আরবি লেখা ছিল। পার্সেলটি খুলে দেখেন, কাপনের কাড়ের টুকরো। খামটির প্রেরক পাশ^বর্তী রামরায় গ্রামের কসাই বাড়ির জুলাস বেপারী। কিন্তু আবদুর রহমান পরিবারের লোকজনসহ ওই এলাকায় গিয়ে এ নামে কোন অস্তিত্ব পাননি। খামে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে কল করলেও কেউ রিসিভ করছে না। ফলে তিনি জীবন ও মালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। হুমকিদাতার পরিচয় ভুয়া। ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটিও ময়মনসিংহের এক ব্যক্তির। তবে কৃষককে ভয় দেখানোর জন্য কেউ এ কাজটি করেছে’।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী নিখোঁজ: থানায় অভিযোগ দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীতে এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার বাবা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার (১৬) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরাইশ সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। তিনি পূর্ব মাঠে নতুন বসতি, জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা আঃ করিমের মেয়ে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ০২ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আমেনা আক্তার প্রতিদিনের ন্যায় কোচিং ক্লাস করার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। তার কোচিং সেন্টারটি সংরাইশ সালেহা স্কুলের মূল গেটের বিপরীতে অবস্থিত। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি ওইদিন কোচিং ক্লাসে উপস্থিত হননি।

এরপর থেকে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ভিকটিমের পরিবার আশঙ্কা করছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা আঃ করিম কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না বসুন্ধরার বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মহানগরী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম স্পেশালইজড একটি সিটি। এখানকার নাগরিক সুবিধা ঢাকার সিটির অন্য যেকোন এলাকার চেয়ে উত্তম এবং নিরাপদ। স্পেশালাইজড এই প্রাইভেট টাউনে যেসব নাগরিক সুবিধা আছে তা ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতার অন্য এলাকায় নেই। এই কারনেই বাসিন্দরা সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চায় না।

বসুন্ধরার বাসিন্দাদের শঙ্খা, সিটি করপোরেশন বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মতো করে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। যার ফলে বাড়বে সন্ত্রাস ও মাদকের ঝুঁকি। নষ্ট হয়ে যাবে বাসিন্দাদের শান্তির নিরাপদ আবাস।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে নিরাপত্তা, রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব নাগরিক সেবা দিচ্ছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত, আধুনিক ও নিরাপদ নাগরিক সেবায় অভ্যস্ত। তাঁদের দাবি, দেশের অন্য যেকোনো আবাসিক এলাকার তুলনায় বসুন্ধরা বেশি নিরাপদ, সুরক্ষিত, পরিচ্ছন্ন এবং মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত। এসব সেবা নিশ্চিত করে আসছে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

এলাকার বাসিন্দারা তাদের আবাসিক প্রকল্পের সেবার নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাতে দিতে চান না। এসব কারনে তারা হোল্ডিং ট্যাক্সও সার্ভিসচার্জ স্থগিত রেখে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাটি সিটি করপোরেশনের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছে।

আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখমুজিবুর রহমান ইকবাল এমপি ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা ৬মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা বলেছেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চান না। তাই সম্মিলিত সম্মতি পত্রে সই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে এখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে। নিরাপত্তাও সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যাবে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সকল প্রবেশ পথে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ২৪ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। রয়েছে বিপুলসংখ্যক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার নজরদারি। একারণেই অপরাধীরা এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনা।

তারা আরও বলেন, ‘আমরা দিনের বেলায় একটি নিরাপদও আধুনিক সেবার বলয়ে যেমন শান্তিতে থাকি; তেমনি রাতের বেলায় থাকি আরও নিশ্চিন্ত। কারণ এমন নিরাপত্তাবেষ্টনী ঘেরা আবাসিক এলাকা বাংলাদেশে আর নেই। কিন্তু এটি সিটি করপোরেশনের আওতায় আসুক আমরা চাই না। কারণ এখানে সব আধুনিকসেবা বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অর্থায়নেও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সিটি করপোরেশন রক্ষা করতে পারবে না। বরং তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপরাধ বেড়ে যাবে। তখন এর মা-বাপ কেউ থাকবে না।’

বাসিন্দারা আরও জানান, এমন একটি শান্তিময় আবাসিক এলাকা সিটির আওতায় গেলে, সার্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এখন এ আবাসিক এলাকাটি যত্রতত্র চায়ের স্টল, হকার ও দোকানপাট মুক্ত। এরফলে এটি পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত। কঠিন নিরাপত্তাবলয়ের কারণে এখানে সন্ত্রাসী কিংবা মাদকসেবীরা আসতে পারে না। আর এর ব্যতিক্রমহলে- এখানে মাদকসেবীও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাবে। তাদের ঠেকাতে পারবেনা সিটি করপোরেশন। কারণ, তাদেরও ইজনবল ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নেই।

আবাসিক বাসিন্দাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রতিফলন দেখা যায়, সিটি করপোরেশনকে দেওয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ারের চিঠিতে। ওই চিঠি থেকে আরও জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন বিশেষ করে রাস্তাঘাট নির্মাণও মেরামত, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেনপরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কে বাতি স্থাপনও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সরবরাহ, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মশা নিধন, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনও তারের সংযোগ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ সামগ্রিক কাজ বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেনা বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

শুধু তাই নয়; এই সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় আবাসিক প্রকল্পটির সকল উন্নয়ন কাজ সম্ভাব্য ২০৩৪সালের মধ্যে সম্পন্ন করার অনুমতিও নিয়ে রাখা হয়েছে। এখানকার আবাসিক বাসিন্দাও সকল প্লটওফ্ল্যাট মালিকরা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন না যাওয়ার অভিপ্রায় জানিয়ে এর আগেও সিটি করপোরেশনে সম্মিলিতভাবে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠির স্মারক নং- রাজউক/বওসো/২০২৬/০১ এর আলোকে বিষয়টি অবগত করে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর পত্র দেয়া হয়েছে। একইসাথে এর অনুলিপি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসককে ও দেয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এলাকাটি শুধু সেবার মানের দিক থেকেই নয়; এখানে দেশসেরা হাসপাতাল, বেশকয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্বমানে রস্পোর্টস সিটি, গল্ফক্লাব, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, বেশকয়েকটি সুপারশপ, কমিউনিটিপার্কসহ উন্নত নাগরিক সেবার সব উপকরণই রয়েছে। এখানে যেকয়েকটি দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীরাও এখানে নিরাপদে বসবাস করে, শান্তিতে ঘুরে বেড়ায়, বসবাসের দিক থেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

এদিকে, সিটি করপোরেশনকে দেয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চিঠিতেও এসবই তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লটও ফ্ল্যাট মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হোল্ডিংট্যাক্স সার্ভিসচার্জ পরিশোধের জন্য যে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করেছে তাতে বাসিন্দাদের মধ্যে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে তাও উল্লেখ করা হয়। বাসিন্দাদের ওপর এটি যে আর্থিক বোঝার শামিল এবং তা পরিশোধে তারা অপারগ সেটিও জানানো হয়।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আশাকরে উক্ত প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকল ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্সও সার্ভিসচার্জ স্থগিত করতে হবে এবং তা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সকল প্লটও ফ্ল্যাট মালিকও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি প্রদান করবে।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাসিন্দাদের পক্ষে আশা করে উপরোক্ত সকলবিষয় সুবিবেচনায় নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের সকল প্লটও ফ্ল্যাট মালিকগণের মানসিকও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন যেন না করা হয়।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস চীনা প্রতিনিধি দলের

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শিক্ষার মানোন্নয়নে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চীনা প্রতিনিধি দল।

চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটি র প্রেসিডেন্ট জিওং ইউজি র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে বুধবার সৌজন্য সাক্ষাৎ কালে সহযোগীতার কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র রাঙ্কিংয়ে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমরা এ অবস্থান থেকে আরো উপরে যেতে চাই। এখন আমরা Technical and Vocational Education and Training (TVET) এর উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এক্ষেত্রে চীনেরও সহযোগিতার অনেক সুযোগ রয়েছে।

জিওং ইউজি বলেন, ‘আনহুই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করবে বলে প্রতিনিধি দল আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

এসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: দাউদ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা নগরীতে শশুর বাড়িতে সিসিএন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালি পট্টি এলাকায় শশুর বাড়িতে জান্নাতুল নাঈম ফারিয়া (২৩) নামের সিসিএন ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীর ঘরের সিলিং এর পাখার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মেয়ের পরিবারের অভিযোগ তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ৫ মে) রাতে নগরীর দেশ ওয়ালি পট্টি এলাকার কাসেম গার্ডেন বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে।

নিহত জান্নাতুল নাঈম ফারিয়া কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কানগাঁও এলাকার মোঃ হানিফ মিয়ার মেয়ে। বিগত ৮ মাস আগে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির মেহেদী হাসানের সাথে ফারিয়ার বিয়ে হয়।

শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানান, গতকাল বিকেলে ফারিয়া তাদেরকে ঘুমানোর কথা বলে দরজা বন্ধ করে। রাত আটটায় দরজা নক করলে ফারিয়া দরজা খোলেনি। আরো কিছুক্ষণ পরে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

ফারিয়ার পিতা মোঃ হানিফ জানান, মেহেদীর সাথে বিয়ের পর টাকার জন্য ফারিয়াকে নানা সময় নির্যাতন করা হয়েছে। মেহেদী বেকার ছেলে। কিছুটা নেশাগ্রস্ত ছিল। ফারিয়া কোচিং করিয়ে, প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা উপার্জন করে মেহেদিকে দিত। আমার মেয়েকে সে অনেক অত্যাচার করেছে। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে এটাকে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর ও পুলিশে তদন্তের শেষে বিস্তারিত বলা à