All posts by jitu

ধামতীর ঐতিহ্যবাহি মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চাইলেন রোশন আলী মাস্টার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার  দেবিদ্বার উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ধামতী দরবার শরীফের ৭৫-তম মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ রোশন আলী মাস্টার।

দুইদিন ব্যাপি এই মাহফিলে উপস্থিত লাখো মানুষের সামনে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কামনা করেছেন আ’লীগ নেতা রোশন আলী মাস্টার।  একই সাথে নিজের জন্য ও দেবিদ্বার উপজেলার সর্বসাধারণের জন্য দোয়া চান তিনি।

দাদনের টাকা পরিশোধের চাপে কিশোর শ্রমিকের আত্মহত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে ইটভাটার দাদনের টাকা পরিশোধের মানুষিক চাপ সইতে না পেরে মো.রনি নামের এক কিশোর শ্রমিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ ওঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, ইটভাটার দুই মাঝি রনিকে মানুষিক নির্যাতন করায় সে চাপ সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দেয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের ফারুকের বাড়ি থেকে গাছের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পুলিশ নিহত রনির লাশ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এরআগে বুধবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় রনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিহত রনি উপজেলার পশ্চিম ্ওজবালিয়া গ্রামের মো. ফারুক হোসেনের ছেলে। জন্ম সনদ অনুযায়ী রনির বয়স ১৮ বছর হলেও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে রনি এখনো শিশু বয়স পার করেনি।

নিহত রনির মামা আলমগীর হোসেন বলেন, তার ভাগিনা মো.রনি অভাবের তাড়নায় ইটভাটার স্থানীয় মাঝি দুলালের কাছ থেকে ৭২ হাজার টাকা দাদন নিয়ে কক্সবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করতে যায়। সেখানে ভাটার মাঝি রনিকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করালে রনি কাজের ছাপ সইতে না পেরে তিন মাসের মাথায় ওই ইটভাটা থেকে বাড়ি চলে আসে। পরে ভাটার মাঝি দুলাল রনিকে পুনরায় তাদের ভাটায় কাজ করতে যেতে বলে। রনি রাজি না হওয়ায় তারা তাদের কাছ থেকে নেয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করার চাপ প্রয়োগ করে। রনি ওই দাদনের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় আরেক মাঝি নুরুল আমিনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পুনরায় দাদন নিয়ে দুলাল মাঝির পাওনা দিয়ে নুরুল আমিনের ইটভাটায় কাজ করতে যায়। সেখানেও রনির ওপর চলে অতিরিক্ত কাজ আদায়ে মানুষিক নির্যাতন। কাজের চাপ সইতে না পেরে গত ৫ ফেব্রুয়ারী রাতে দেড় মাসের মাথায় সেখান থেকেও পালিয়ে বাড়ি চলে আসে রনি।

আলমগীর হোসেন আরো বলেন, পরের দিন সোমবার সকালে দুলাল মাঝি রনির কাছে আরো ২২ হাজার টাকা পাওনা দাবি করে তার বাড়িতে গিয়ে ওই টাকা পরিশোধের জন্য হুমকি দিয়ে আসে। একইদিন নুরুল আমিন মাঝির ছেলে হারুনও রনিকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করে হুমকি দেয়। রনি মাঝি হারুনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে বুধবার রাতে রনি বাড়িতে ফিরে ঘরে ঘুমাতে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে রনির নানি সুজিয়া খাতুন বাড়ির পূর্ব পাশে তেঁতুল গাছের সঙ্গের রনির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহত রনির মামি মোবাশ্বেরা আক্তার বলেন, তার ভাগিনা রনি দুলাল মাঝি ও নুরুল আমিন মাঝির ছেলে হারুনের মানুষিক অত্যাচারে গলায় ফাঁস দিয়েছে। রনির মোবাইলে তিনটি রেকর্ডিং ছিল। রনি মৃত্যুর আগে তার ফোনে রেকর্ড করে বলে গেছে, ‘আমি যদি মারা যায়- মা তোমার কোন দোষ থাকবে না, আমার মৃত্যুর জন্য দুলাল মাঝি ও হারুন মাঝি দায়ী। দুই মাঝি আমাকে নির্যাতন করেছে।’ রনির মৃত্যুর পর সকালে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আবু নিয়ে গেছে। পরে শুনেছি পুলিশ ওই মোবাইল থানায় নিয়ে গেছে।

নিহত রনির স্বজনদের দাবি, দুলাল মাঝি এবং নুরুল আমিন মাঝি ও তার ছেলে হারুন মাঝির অমানুষিক নির্যাতন, দাদনের টাকা পরিশোধে হুমকি প্রদানের চাপে রনি গলায় ফাঁস দিয়েছে। তারা (মাঝিরা) রনিকে মেরে ফেলেছে। আমরা গরিব মানুষ, কে এর বিচার করবে, আমরা কার কাছে যাবো? অভিযুক্ত দুই মাঝির বিচার দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল মাঝি ও নুরুল আমিন মাঝির ছেলে হারুন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, নিহত রনি দুই মাঝির থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। তার আত্মহত্যার সাথে এ ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুধারাম মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুধন দাস বলেন, গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দাদনের টাকার জন্য মানুষিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তার পরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

বাবাকে চিরকুটে “আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন ” লিখে ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়ের আত্নহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ের মাত্র ৩ মাস বয়স। হাতে দেয়া মেহেদির রং এখনো মুছে যায়নি। হঠাৎ মরণব্যাধী ঘাতক ক্যান্সারে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হয়ে দরিদ্র মা-বাবার কষ্ট বাড়াতে না চেয়ে পরিবারের কাছে চিঠি লিখে নিজ বাড়িতে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা করেছেন সুমাইয়া আক্তার (২২) নামের গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার  (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার বুড়িচং উপজেলার ডুবাইরচর গ্রামে এঘটনাটি ঘটেছে।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ডুবাইরচর গ্রামে তাদের বসবাস। এই গ্রামের আবুল হাশেমের কন্যা সুমাইয়া। তিন মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে ঢাকার সবুগবাগ থানার নাছির উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে কাটে প্রায় আড়াই মাসেরও বেশী সময়। গত ১০/১২ দিন আগে পৈত্রিক বাড়িতে আসে। এসময় শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হলে কুমিল্লায় চিকিৎসকের কাছে এসে পরীক্ষার পর জানতে পারে মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত। এরপরই সে রিপোর্টগুলো ছিড়ে ফেলে দেয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মা সানু বেগমের সাথে পারিবারিক কাজ করে বিশ্রামের কথা বলে একটি কক্ষের ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা করে। দুপুর আনুমানিক ২ টায় তার ছোট বোন কক্ষে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমাইয়াকে দেখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানালে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

পরে বুড়িচং থানার দেবপুর ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই)  রুহুল আমিন এসে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাবা ও মাসহ পরিবারের সদস্যদের উদ্দ্যেশ্যে সুমাইয়ার লেখা চিঠি উদ্ধার করেছে। সেখানে তার ক্যান্সারে আক্রান্তের খবরসহ বাবা-মার কাছে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার টাকা স্বল্পতার কথাসহ মাকে লেখা ছিল, তার শাশুড়ির দেওয়া জিনিসপত্র ফিরিয়ে দিতে,তার নিজের জিনিসপত্রগুলো চেয়ে নিতে । ভাই সায়মন ও বোন জান্নাতকে লিখেছে , মায়ের সাথে জোর গলায় কথা না বলতে আর বাবাকে লিখেছে,আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন ,সাথে তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।

ময়নামতি ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজে ২৩-তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সেনানিবাসের ময়নামতি ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ এর ২৩-তম আন্ত: হাউস বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় জয়নুল হাউজ চ্যাম্পিয়ন ও জগদীশ হাউজ রানারআপ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ময়নামতি ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাব্বি আহসান, এনডিসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসেস ফারজানা আফরোজ।

বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতি কামনা করেন। বিদ্যালয়টি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সহ-পাঠ্য কার্যক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। এমন অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিদ্যালয়টি সারাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সেনানিবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চান্দিনায় ১০ কেজি গাঁজাসহ একজন আটক ১

 

চান্দিনা  প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় ১০ কেজি গাঁজা সহ হারুন বিশ্বাস (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ।

আটককৃত হারুন বিশ্বাস ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার হামিদ্রি এলাকার কালাম বিশ্বাস এর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলা রাস্তার মোড় থেকে চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।

চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন বলেন- ‘গোপন সংবাদ পেয়ে চান্দিনা উপজেলা রাস্তার মোড়ে অভিযান চালিয়ে হারুন বিশ্বাস কে ১০ কেজি গাঁজা সহ আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’

মুরাদনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
কুলসুম আক্তার কাকলী পড়ের পঞ্চম শ্রেণীতে রোল ৬ তার বাবা কবির হোসেন একজন অটোরিক্সা চালক, দুই কন্যা সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয় প্রতিনিয়ত। কুলসুমের সহপাঠীদের ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষক শরিফার নির্দেশে কেনা হয়ে গেছে ‘পপির’ গাইড বই, যা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বাবা কবির হোসেন অটোরিক্সা থেকে যা উপার্জন  করেন সংসার চালিয়ে ৯০০ টাকা মূল্যের ‘পপি’ গাইড বই মেয়েকে কিনে দেয়া তার কাছে বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না। এদিকে মেয়েকে সু-শিক্ষায় শিক্ষায় শিক্ষিত দেখতে চান বাবা, কি আর করার অবশেষে মেয়েকে কথা দিয়েছে ঋণ কর্জ করে হলেও কিছুদিনের মধ্যে তাকে কিনে দেয়া হবে স্বপ্নের সেই ‘পপি’ গাইড বই। এ তো গেলো কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৬৩নং নহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।

একই চিত্র উপজেলার ধামঘর পূর্ব, রাণীমুহুরী, সুবিলারচর, বোড়ারচর, নেয়ামতকান্দি, জাহাপুর, ধনীরামপুর, ১০১নং রহিমপুর, মুরাদনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।
সরেজমিনে গিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের যাঁতাকলে, ঝড়ে পরছে অনেক দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনেক আগেই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ করেছে। তার পরও কুমিল্লর মুরাদনগর উপজেলার বাজারগুলোতে দেদার বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সেই নোট ও গাইড বই।
তবে দোকানীদের দাবী শিক্ষকরা যদি গাইড বইয়ে শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করে তাহলে আমরা চাইলেও গাইড বই বিক্রি করতে পারবো না।

বরং নোট ও গাইড প্রকাশনী সংস্থাগুলোও বিদ্যালয় বা শিক্ষকদের নানা রকম সুবিধা দিয়ে গাইড বইয়ের চাহিদা ও দাম দুটোই বৃদ্ধি করে দিয়েছে। সুবিধা দেয়ার দৌড়ে যারা এগিয়ে আছে তাদের গাইড বইয়ের দাম বেশি হলেও বাজারে সেই বইয়ের চাহিদাই অনেক বেশি। যা ‘পপি’ একাই ৮০% বাজার দখল করে রেখেছে।
ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নোট ও গাইড ব্যবসা বহু বছর ধরে চলে এলেও বর্তমানে সৃজনশীল পদ্ধতির দোহাই দিয়ে তা আরও বেড়ে গেছে। এই পদ্ধতিতে পাঠদানে শিক্ষকেরা যথেষ্ট দক্ষ নন বলে শিক্ষার্থীদের নোট ও গাইডের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর লাভবান হচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফা সহ অন্যান্য বিদ্যালয় প্রধানরা বলছেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সবসময় গাইড বইয়ে নিরুৎসাহিত করি। অনেক সময় তারা নিজেদের প্রয়োজনে তা কিনে থাকতে পারে। আমরা সবসময় গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে।

মুরাদনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফওজিয়া আকতার জানান, গাইড বই পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আর গাইড বইতো এখন আর কাজেও লাগেনা কারণ মুখস্থবিদ্যার দিন শেষ। যদি কোন শিক্ষককে এ ধরনের কাজে জড়িত পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, আমাদের প্রাইমারিতে কোন গাইড বই এলাউড না। শিক্ষার্থীদের গাইড বইয়ে উৎসাহিত করা সম্পুর্ণভাবে এটি একটি অনৈতিক কাজ যা মোটেও কাম্য নয়। যদি কারো বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট প্রমান পাওয়া যায় অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন ভূঞা জনী জানান, নিষিদ্ধ নোট ও গাইডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে বৈবাহিক অবস্থা লিখতে বাধ্য করা যাবে না : হাইকোর্ট

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা লিখতে বাধ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

ধর্ষণের শিকার রাজশাহীর এক নার্সকে রাজশাহী সরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তি না নেওয়ায় তিনি ২০১৩ সালে রিট দায়ের করেন। সেই রিটেরই চুড়ান্ত নিষ্পত্তি করে আজ রায় দিলেন হাইকোর্ট। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মেয়েটি এখন কী করবে?’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন যুক্ত করে সেই বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট করেন ফারিহা ফেরদৌস ও নাহিদ সুলতানা জেনি।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৬ জুন দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ধর্ষণের শিকার হন মেয়েটি। ধর্ষকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রামের লোকজন চাপ দিতে থাকেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে এ নিয়ে সালিশও হয়। কিন্তু সেখানে অভিযুক্ত যুবক সবকিছু অস্বীকার করেন। সালিশ ভেঙে যায়। প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে মেয়ের পরিবার মামলা করতে পারে না।

এক পর্যায়ে সন্তানসম্ভবা হলে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। তখন ওসিসি থেকেই ধর্ষণ মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এরপর ওই যুবক, মেয়ে এবং তার সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রমাণ হয় ওই যুবকই শিশুটির বাবা। আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়। আদালত ওই মেয়েটিকে ‘মহিলা সহায়তা কর্মসূচি’র রাজশাহী বিভাগীয় আবাসনকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে থাকা অবস্থায় মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ওই তরুণী। আবাসনকেন্দ্রে থাকতেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.১৯ পেয়ে তিনি এসএসসি পাস করেন। পরে সেখানে থেকেই এইচএসসি পরীক্ষাও অংশ নেন।

পরবর্তীতে ওসিসির আইনজীবী আশুরা খাতুন এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী দিল সেতারার সহযোগিতায় মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে আসা হয়। এরই মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এবারও জিপিএ-৩.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে ২০১৪ সালের ৩০ মে আদালতের রায়ে ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। আদালতের রায়ে সন্তানের দায়ভার বাবাকে নিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাবার ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সন্তান হওয়ার কারণে বিবাহিত না হলেও তরুণীটিকে ফেলা হয়েছে বিবাহিত নারীর কাতারে। তিনি নার্সিং কলেজের ফরমই পূরণ করতে পারবেন না। বিয়ে না করলেও তার সন্তান রয়েছে। তাকে এখন বিবাহিত নারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অথবা ফরমে তাকে স্বামী পরিত্যক্তা লিখতে হবে। যদিও মেয়েটি কোনো দলেই পড়েন না।

রাজশাহী সরকারি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মনিজ্জা খাতুন মেয়েটির অবস্থার কথা শুনে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ করার সময় অবশ্যই অবিবাহিত লিখতে হবে অথবা স্বামী পরিত্যক্তা লিখতে হবে। তাছাড়া সন্তান হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষায় ধরা পড়বে। এই ক্ষেত্রে মেয়েটিকে স্বামী পরিত্যক্তা লিখতে হবে।’

এ অবস্থায় রিটের পর হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর রুল জারি করেন। রুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা জানতে চাওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে একটি অর্থপূর্ণ নীতিমালা কেন করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন। এছাড়াও মেয়েটিকে অবিলম্বে নার্সিং কলেজে ভর্তি করতে নির্দেশ দেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা: বাবা-ছেলের যাবজ্জীবন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী মো. গোলাম মোস্তফাকে (৪০) হত্যার দায়ে বাবা-ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা ব্যক্তিরা হলো,- সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাজাতপুর গ্রামের মো. আবদুল মান্নান (৬৫) ও তার ছেলে মো. সোহেল (৩৫)।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় ছেলে উপস্থিত থাকলেও বাবা আবদুল মান্নান পলাতক ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এমদাদ হোসেন কৈশোর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত একাধিক আসামি সদর উপজেলার ব্যবসায়ী নিহত মোস্তফার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ২০০৬ সালের ২৯ জুলাই রাত ১০টার দিকে ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা তার জনতা বেকারিতে অবস্থান করছিলেন। চাঁদার টাকা না পেয়ে আসামিরা তাকে কুপিয়ে জখম করে শ্বাসরোধ করে খুন করে।

এরপর হামলাকারীরা দোকান থেকে এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর উদ্দিন জুয়েল বাদী হয়ে ৯জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করে। মামলার প্রধান আসামি স্বাভাবিক মারা যায়। বাকী ৬ আসামিকে আদালত বেকুসুর খালাস দেয় এবং বাবা- ছেলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়।