All posts by jitu

যুগপৎ আন্দোলনে নেই জামায়াত !

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও ২৪ ও ৩০ ডিসেম্বরের পর আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোসহ ১০ দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে শনিবারের সমাবেশের দিনও হাত গুটিয়ে থাকবে দলটি।

বিএনপির সঙ্গে দূরত্বের বিষয়টি জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের কথাতেও স্পষ্ট। বিএনপি আলোচনা না করে কর্মসূচি দিলে জামায়াত তাতে অংশ নেবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের আলোচনার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। বরং ‘দূরত্ব রাখার’ নির্দেশ আছে। ফলে জামায়াত তাদের কর্মসূচিতে এল কি এল না, সেটা নিয়ে তারা ‘ভাবছেন না’।

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটকে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করে বিএনপি। পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জোট ছেড়ে চলে গেলেও দলের একটি অংশ বিজেপি নামে দল গঠন করে থেকে যায় জোটে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ও পায় তারা। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবি হয় জোটের। এরপর বিএনপি জোটের আকার বাড়িয়ে ১৮ দলীয় এবং পরে ২০ দলীয় জোট গঠন করে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই জোটের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আরও একটি জোট গঠন করে বিএনপি।

এবার জোট বাদ দিয়ে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে জোট ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

গত ৮ ডিসেম্বর রাজধানীতে করা এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধির প্রশ্নে জোট ভেঙে দেয়ার বিষয়টি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন শরিক দলের কয়েকজন নেতাকে ডেকে নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হয় বলে ২২ ডিসেম্বর জানান বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। জোট ভেঙে দিলেও সাবেক শরিকরা সবাই বিএনপির দাবিতে ‘একমত’ পোষণ করে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।

শুরুতে মাঠে নামলেও পরে আগ্রহ হারায় জামায়াত:

১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠের বিভাগীয় সমাবেশ থেকে বিএনপি ১০ দফা দাবিতে কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ২৪ ডিসেম্বর। একই দিন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠায় জামায়াত। তারাও বিএনপির মতই ১০ দফা দাবি এবং ২৪ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সব জেলায় মিছিল করার সিদ্ধান্ত জানায়। তবে সেদিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের কারণে দলটির সমালোচনার মুখে ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর কর্মসূচি স্থগিত করে বিএনপি। পরদিন বিজ্ঞপ্তি আসে জামায়াতেরও। তারাও ঢাকার কর্মসূচি স্থগিত করে। ২৪ ডিসেম্বর জেলায় জেলায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতও মিছিল করেছে বলে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দলটি। ১৭ ডিসেম্বর বিএনপি জানায়, ঢাকার স্থগিত ‘গণমিছিলটি’ হবে ৩০ ডিসেম্বর। সেটি শুরু হবে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে। পরদিন আসে জামায়াতের বিজ্ঞপ্তি, তারা বায়তুল মোকাররমে জড়ো হয়ে মিছিল বের করার ঘোষণা দেয়। ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সেখানে যায়নি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। পরে মালিবাগে ঝটিকা মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় ১৫ জনকে। সেদিনের পর এখন পর্যন্ত যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে আরও চারটি। এর মধ্যে ১১ জানুয়ারি ‘অবস্থান কর্মসূচি’, ‘বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার ও ১০ দফা দাবিতে’ ১৬ জানুয়ারি ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার দিন ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সমাবেশ ডাকা হয়। চতুর্থ কর্মসূচিটি পালিত হবে শনিবার। দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই সমাবেশের এই কর্মসূচি যুগপৎভাবেই পালিত হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। তবে এই চারটি কর্মসূচির একটিতেও নেই জামায়াত।

অসন্তোষ গোপন রাখেননি জামায়াত নেতা:
বিএনপির কর্মসূচির দিন ২০ দলের সাবেক শরিক ও গণতন্ত্র মঞ্চ মাঠে নামলেও জামায়াত কেন দূরে, এই প্রশ্নে দলের প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের বক্তব্য উঠে এসেছে ‘অভিমান’ আর ‘অসন্তোষের’ সুর। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বলেছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনে আছে। কিন্তু বিএনপি আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে যেটা ঘোষণা করছে, সেটা তো যুগপৎ হল না। আমরা আলাদা দল, আলাদা কর্মসূচি আছে। বিএনপির কর্মসূচি সফল করা তো আমাদের দায়িত্ব না।”

এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত আলোচনা করেছে কি না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আলোচনার সিদ্ধান্ত আছে। কিন্তু সেভাবে আলোচনা হয়নি।”

তাহলে কি জামায়াত আলোচনার চেষ্টা করছে? এর উত্তরে মতিউর বলেন, “চেষ্টার তো কিছু নাই। বিএনপি বলেছে যুগপৎ আন্দোলন করবে। কে না বলেছেন এই কথা? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নজরুল ইসলাম খান বলেছেন। এখন তারা যদি সেটা না করে, তাহলে তো আমাদের দায় নেই।”

তাহলে কি বিএনপির সাথে কোনো যোগাযোগই হয়নি? জামায়াতের প্রচার সম্পাদকের উত্তর, “যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু সেভাবে আলোচনা হয়নি।”

মতিউর রহমান আকন্দের বিএনপিকে নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ পাচ্ছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, “কথা শক্তভাবে বললে সেটা যদি অসন্তুষ্টি মনে করেন, তাতে কিছু যায় আসে না। তবে রাজনীতিতে নামলে যেটা বাস্তব সেই কথাটা তো বলতে হবে।” যুগপৎ আন্দোলনে সমমনাদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য গত ২৬ ডিসেম্বর লিঁয়াজো কমিটি গঠন করে বিএনপি। গত ২৯ জানুয়ারি ২০ দলের পর সাবেক শরিকদের নিয়ে গঠন করা ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনাতেও বসে দলটি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মতিউর রহমান বলেন, “তারা বাংলাদেশের সকল লোকের সঙ্গে বসবে বা বসেছে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের কথা হল, অবশ্যই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তা না করে নিজেরা নিজেরা কর্মসূচি ঘোষণা করলে সেটা তো পরিপূর্ণ যুগপৎ আন্দোলন হলো না।”

বিএনপি কী বলছে?

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দের এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, জোটের ওই সাবেক শরিকের সঙ্গে তাদের দূরত্ব রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি এ প্রসঙ্গে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। ২০ দলীয় জোটে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামায়াত নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। তবে কারা যুগপৎ আন্দোলন করছেন, সেটা আপনারা দেখছেন। তারা তো মাঠেই আছে। আবার সরকারের দমন পীড়নে অনেকেই সেভাবে আসতে পারছে না, সেটাও আপনারা জানেন।”

যুগপৎ আন্দোলনে কারা:

জামায়াতের গুটিয়ে থাকার মধ্যে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে যারা সক্রিয় আছেন, তাদের মধ্যে এই মুহূর্তে বেশি আলোচিত সাতটি দল ও সংগঠনের মোর্চা ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’।
এই মঞ্চের দলগুলো হল: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

২২ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করা ১২ দলীয় জোটের দলগুলো হলো: জাতীয় পার্টি (জাফর), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় দল, এনডিপি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (একাংশ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (একাংশ), ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ), বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (একাংশ), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (একাংশ) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (একাংশ)।

২৯ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করা ১১ দলের ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের’ দলগুলো হল: ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাগপা (খন্দকার লুৎফুর), ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), বাংলাদেশ ন্যাপ, বিকল্পধারা (নুরুল আমিন), সাম্যবাদী দল, গণদল, ন্যাপ-ভাসানী, ইসলামী ঐক্যজোট, পিপলস লীগ ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি।

চার দলের জোট ‘গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য’ও পালন করছে যুগপৎ কর্মসূচি। এই জোটের দলগুলো হল: সাম্যবাদী দল (মার্কবাদী-লেলিনবাদী), সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল।

একক দল হিসেবে অলি আহমেদের এলডিপি, মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম এবং বাবুল সরদার চাখারীর বাংলাদেশ পিপলস পার্টিও বিএনপির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই দাবিতে একই কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর।

বুড়িচংয়ে কাবিলা মোটরবাইক ও ফ্রিজকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে কাবিলা মোটরবাইক ও ফ্রিজকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ ফাইনাল খেলায়  বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাক হায়দারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দ: জেলা  আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: সাজ্জাদ হোসেন (স্বপন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক  এহতেশামুল হক রুমী।

এ সময়  মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলী, মোকাম ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ফজলুল হক মুন্সী, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন, মোকাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মো: মোবারক হোসেন।

এহতেশামুল হক রুমী তার বক্তব্যে বলেন,  হাজার হাজার জনতার ঢল আবারো প্রমাণ করলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। ধন্যবাদ কাবিলা গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ, বিশেষ করে আয়োজক কমিটির সকল সদস্যবৃন্দদেরকে যারা এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে খেলাধূলায় উৎসাহিত করছেন।
তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার যে অঙ্গীকার আমরা ব্যক্ত করেছি তা সার্থক হবে ইনশাআল্লাহ্ , জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

মুরাদনগরে রাতের আধারে কৃষি জমির মাটি কাটায় ইটভাটাকে জরিমানা

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় অবৈধভাবে দিনে ও রাতের আধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে কৃষিজমি ও গোমতীর মাটি যাচ্ছে ৪৯টি ইটভাটায়। ফলে প্রতিনিয়ত কমছে ফসলি জমির পরিমান একই ভাবে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি কমে গিয়ে ফসল উৎপাদনে দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়।

রাতের আধারে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযান পরিচালনা করে চয়নিকা ব্রিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার যাত্রাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলাউদ্দীন ভূঞা জনী।

তিনি জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারায় ইটভাটায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এই জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতে কৃষি জমি রক্ষায় মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মুরাদনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা ও মুরাদনগর থানার এস আই ওমর ফারুক শাকিলসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বুড়িচংয়ে শিক্ষার্থী রায়হান হত্যার প্রধান ঘাতক জামালপুর থেকে গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে রায়হান খান (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি  হাসানকে জামালপুর থেকে গ্রেফতার করেছে বুড়িচং থানা পুলিশ।

শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান।

পুলিশ জানান, কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন (সদর সার্কেল ) এর দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং অফিসার ইনচার্জ মারুফ রহমান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামালপুর রেলস্টেশন থেকে রায়হান হত্যার প্রধান আসামি হাসানকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ আরো জানান,গত ৮ জানুয়ারি  দুপুরে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল গ্রামে কয়েকজন যুবক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রায়হানকে পিটিয়ে পাশের নদীতে ফেলে যায়। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার  পথে রায়হানের মৃত্যু হয়।

ওই কিশোর শংকুচাইল গ্রামের হাফিজ মেম্বারের বাড়ির সৌদি প্রবাসী গিয়াস খানের ছেলে এবং শংকুচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় রায়হানের মা রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত জগতপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে হাসান(২৫),অজ্ঞাত পিতার ছেলে রুহুল আমিন(২৪),রাজা মিয়ার ছেলে হৃদয় (২৫), আবুল হাসেমের ছেলে আব্দুল্লাহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানাতে মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিলেন।

গ্রেফতার হওয়া আসামি হাসান  বুড়িচংয়ের জগতপুর গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে। এর আগে আসামি আব্দুল্লাহ ও আরিফকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান জানান, রায়হান হত্যার প্রধান আসামি হাসানকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে আসামি ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী প্রদান করেন এবং তার সহযোগী আসামিদের নাম প্রকাশ করে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

নগরীর ইসলামপুর থেকে মোটরসাইকেল চুরি

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকার ডেলনি রোডের সৈয়দ ভিলা নামক বাড়ির ভিতর থেকে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুই চোরের মোটরসাইকেল চুরি করে নেয়ার ভিডিও দৃশ্য পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা নিউমাকের্টের কুয়াশা ক্রিয়েশানস এর মালিক মো: আনোয়ার পারভেজ সুমন মোটরসাইকেলটির মালিক।

শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৫০ মিনিট থেকে সোয়া ৯ টার মধ্যে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ মোটরসাইকেল উদ্ধারে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

 

কুবিতে ইংরেজি বিভাগের নবীন বরণ

কুবি প্রতিনিধি, চাঁদনী আক্তার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ইউকেন্ড প্রোগ্রামের (স্প্রিং – ২০২৩) ১৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করার পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (৩ ফ্রেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় বিভাগের ২০৮ নম্বর কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগের ১৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল মামুন ও মাহমুদা আক্তার মনির সঞ্চালনায় এসময় ইউকেন্ড প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো.হারুন,সহযোগী অধ্যাপক ড.মোহা.হাবিবুর রহমান ও সহকারী অধ্যাপক মো.আবুল হায়াৎ সদস্য হিসেবে উপস্হিত ছিলেন।

এছাড়াও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.বনানী বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক রেঁনেসা আহমেদ সায়মা, সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানাসহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা কীভাবে একাডেমিক্যালি ভালো করতে পারবে সেবিষয়ে দিক নির্দেশনামূকলক বক্তব্য প্রদান করতে গিয়ে ড.এম এম শরীফুল করিম বলেন,আমরা তোমাদের গ্রামার শিখাবো না,কিন্তু তোমাদের ইংলিশের ৪ টি বিষয় ; রিডিং, রাইটিং, স্পিকিং ও লিসনিং এ কীভাবে ইম্প্রুভ করা যায় সেবিষয়ে নজর দিবো।

প্রোগ্রামের সদস্য ড. মোহা. হাবিবুর রহমান বলেন, ইংরেজি বিভাগ হচ্ছে রয়েল ডিপার্টমেন্ট।তোমরা জানো এটি একটি গ্লোবাল ল্যাংগুঅ্যাজ। এজন্য তোমাদের ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করার জন্য। তোমাদের নিজেদের উন্নত করতে হলে অব্যশই নৈতিক শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

ড.বনানী বিশ্বাস বলেন,তোমাদের সবাইকে লার্নিং এ বেশি নজর দিতে হবে।তোমাদের রয়েলটির মাধ্যমে বিভাগের সুনাম রক্ষা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোহাম্মদ হারুন বলেন,তোমাদের অবশ্যই ইংরেজি ভাষার সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। কোয়ালিটি এডুকেশন ও বেটার ইংরেজি শেখার প্রতি জোর প্রয়োগ করতে হবে। যাতে করে আমরা এসডিজি লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করতে পারি।
সবশেষে তিনি সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সাইফের সঙ্গে দাম্পত্য জিবন কেমন কাটছে, জানালেন কারিনা

বিনোদন ডেস্ক:

দুই ছেলেকে নিয়ে দিনভর ব্যস্ততা। পরিবারকে সময় না দিলে হয় না। আবার ক্যারিয়ারের দিকেও লক্ষ্য করা লাগে। যশ-খ্যাতির সঙ্গে কিভাবে তাল মেলাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর।

ছেলেদের লালন-পালন করার মধ্যে যে আনন্দ তার সঙ্গে মিশে আছে সাইফের ঘরনী হওয়ার তৃপ্তিও। এসবের মধ্যেই নিজের অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও উপভোগ করছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কারিনা জানালেন, সাইফ আলি খানের গোটা পরিবারের সঙ্গে তার আড্ডা বেশ জমে যায়। কাপুর পরিবারের সবাই সিনেমার জগতের সঙ্গে যুক্ত। আর খান পরিবারে রয়েছে খেলা আর অভিনয়ের অনুষঙ্গ। তবে সাইফের সঙ্গে করিনার কথার মাঝে শুধুই থাকে সিনেমা আর খাবারের গল্প। সাইফের আগ্রহ আছে বই পড়া আর বেড়ানোতেও।

কারিনার কথায়- যখনই আমরা নিজেদের মধ্যে আড্ডা দিই, ঘুরে ফিরে আসে দেশ-বিদেশের গল্প। সাইফ আমায় প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন তথ্য দিতে থাকে। কত শহরের কত রকম ঘোরার জায়গা, খাবার, সব কিছু নিয়ে কথা হয়। আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ, আমায় এত কিছুর স্বাদ দেওয়ার জন্য।

শুধু সাইফই যে করিনার চালিকাশক্তি তা নয়। কারিনা জানান, তিনিও বিভিন্ন সময় সাইফকে পেশাদার হতে সাহায্য করেছেন। কারিনা বলেন, আমরা একে অপরের জীবনে অনুপ্রেরণা তৈরি করি।

ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরও নাকি হয়েছে কারিনার মতোই। ছেলেকে নিয়ে গর্বিত মা বলেন, ২ বছর হলো সবে, কিন্তু সে আমারই মতো বকবক করে। আর খেতে ভালোবাসে। সারা দিন খেলাধুলো করে।
অন্যদিকে বড় ছেলে তৈমুর খুব অন্যরকম। মাত্র ৬ বছর বয়সেই গভীর জীবনবোধ তার, ছেলেকে অনেকটাই বেশি পরিণত বলে মনে করছেন মা।

কুয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশির প্রবাসীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় আলমগীর কাজী (৩০) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত আলমগীর মাদারিপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, আলমগীর কাজী কুয়েতের জাহারা একটি কোম্পানির মাইক্রোবাস চালাতেন। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় দেশটির সীমান্তবর্তী আবদালী এলাকায় এই দুর্ঘটনার ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।নিহতের সহকর্মী বেলাল হোসেন জানান, আলমগীর কাজী পরিবারের হাল ধরতে ২০০৫ সালে কুয়েতে আসেন।

তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্যনকারী ছিলেন। ২০১৯ সালে করোনার শুরুতে দেশে ছুটিতে গিয়ে বিয়ে করেন। তার একটা ছেলে রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে ছেলে দেখতে ছুটি যাওয়ার কথা ছিল। কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ লাশ দেশে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে মরদেহটি ফরওয়ানিয়া হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ইরানের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে ইরানের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছেইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইস্পাহানের একটি সামরিক স্থাপনায় গত সপ্তাহে ড্রোন হামলা হয়। ঘটনার দিন ‘বিশাল বিস্ফোরণ’ একটি ‘অসফল’ ড্রোন হামলার কারণে হয় বলে দাবি করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে ইরানের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। আল জাজিরার খবর অনুসারে, স্থাপনার ছাদে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস স্যাটেলাইটের চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেছে, গত ২৮ জানুয়ারি হওয়া হামলায় কী পরিমাণ প্রভাব ফেলেছে মেঘলা আবহাওয়ার কারণে সেটা স্যাটেলাইটে ধরা পড়েনি।

ঘটনার জন্য ইরান ইসরায়েলকে দোষারোপ করলেও স্থাপনায় কী ধরনের অস্ত্র তৈরি করা হয়, তা নিয়ে কোনো ব্যাখা দেয়নি।

ড্রোন হামলার ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবিধ্বংসী অস্ত্রের ফায়ারিংয়ের শব্দ পাওয়া যায়। সম্ভবত ড্রোনগুলো টার্গেট করা হয়।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় আঘাত হানে, অপর দুটি প্রতিরক্ষা ফাঁদে আটকা পড়ে ও বিস্ফোরিত হয়। সৌভাগ্যবশত, ‘অসফল’ এই হামলায় কারও প্রাণহানি হয়নি এবং এটি ওয়ার্কশপের ছাদের সামান্য ক্ষতি হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বলা হয়, হামলা উল্লেখযোগ্য সফল হয়েছে। ইসরায়েল এবং তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই হামলা চালিয়েছে।

জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, ইরানের সামরিক কারখানায় এই হামলার অনেকগুলো কারণ হতে পারে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো-ইউক্রেনে হামলার জন্য রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে ইরান। আর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা।